ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
আগস্ট হত্যাকা-ঃ ‘ক্রাইম অব দি সেঞ্চুরি’
Published : Saturday, 15 August, 2020 at 12:00 AM, Count : 179
আগস্ট হত্যাকা-ঃ ‘ক্রাইম অব দি সেঞ্চুরি’মালিক খসরু ||
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। রক্তাক্ত, অভিশপ্ত দিন। জাতীয় শোকের দিন। ভোর হতে তখনও বেশ বাকী। সড়ক বাতির আলোতে রাস্তার ধারের গাছগুলো যখন প্রলম্বিত কালো ছায়া বিস্তার করে মাথা তুলে আলো-আঁধারির খেলায় মেতেছিল, তেঁজগা থানার রাত জাগা কর্তব্যরত টহল পুলিশ সদস্যরা অবাক বিস্ময়ে ট্যাঙ্ক আর সেনা-সদস্যের শহরে প্রবেশ করতে দেখে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে মেসেজ পাঠিয়ে ভাবছিল ‘এ কিসের আলামত, অমঙ্গলের কোন নতুন উপদ্রব’! বেওয়ারিশ কুকুরের বিক্ষিপ্ত দৌড়াদৌড়ি ও ঘেউ ঘেউ শব্দ, কিছু কুকুরের অদ্ভুত ক্রন্দন ধবনি, পুবান বাতাসে দূর হতে ভেসে আসা অস্বাভাবিক ঘরঘর শব্দে ভঙ্গুর নৈশ নীরবতা, অতর্কিত ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠা ঢাকাবাসীর প্রশ্ন-‘এ কিসের আওয়াজ’? শব্দ যতই নিকটবর্তী হচ্ছে ততই অজানিত অশুভ শঙ্কা তাদের বুকের মাঝে হাতুড়ির আঘাত হেনে পাজরগুলো যেন ভেঙ্গে দিচ্ছিল। আকাশ জুড়ে ‘অরোরা’র বিচ্ছুরিত ফিকে আলোতে শব্দের উৎস খুঁজতে অনেকেই তখন ব্যস্ত। এমনি পরিবেশে দল বেঁধে অস্ত্র হাতে ছুটে আসা ‘পোষাকি-সৈন্যদল’ দেখতে পেয়ে শহরবাসী প্রমাদ গোনে। সব মিলিয়ে একটা অস্বস্তিকর গুমোট আবহাওয়া! এক সময় মসজিদে আযানে উচ্চারিত ধবনি ‘আসলাতু খাইরুম মিনান নাউম’-ঘুম হতে নামাজ উত্তম এই আহবানে গাত্রোত্থান করে মুছল্লি ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে, ঘরের বাতি নিভিয়ে জানালার পর্দা ভীরু কম্পিত হাতে হালকাভাবে সরিয়ে অবাক বিস্ময়ে দেখতে পায় ‘দেশরক্ষা বাহিনীর’বেশ কিছু সদস্য নগরীর রাস্তায় ট্যাঙ্ক নিয়ে এগিয়ে আসছে! আগে পিছে একাধিক সমর যানের উপরে হেলমেট পরিহিত সৈনিকের তাক করা মেশিনগান, কারোও হাতে উদ্যত সঙ্গীন সুদ্ধ রাইফেল। সব মিলিয়ে একটা অঘোষিত যুদ্ধাবস্থা! কার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধযাত্রা? দেশের মানুষকে সংপৃক্ত না করে, তাদের ঘুমের ঘোরে, অন্ধকারে রেখে গোপন যুদ্ধাভিযান কি কশ্মিনকালে কোথাও কি কেউ দেখেছে, না কি শুনেছে? নাকি ইতিহাসে পড়েছে কেউ কখনও? তবে কেন, কিসের এই গোপনাভিযান? আজকের ভোর অন্য সব দিনের মত নয়। নিয়ম ভঙ্গের প্রতিযোগিতায় ওরা যেন মেতেছে!
রবির আলো দিক চক্রবালে প্রস্ফুটিত হতে তখনও কিছু বাকী। একদল রুদ্র মূর্তি-হার্মাদ সমরাস্ত্র, ট্যাঙ্ক নিয়ে ভোরের শান্ত-সুন্দর, সমাহিত পরিবেশ খান খান করে ভেঙ্গে ধানম-ির দিকে এগিয়ে চলেছে। চোখে মুখে জিঘাংসার ছাপ! নগরবাসী ঘুর্ণাক্ষরে জানতে পারেনি কোন গন্তব্যে ওরা কেন চলেছিল!
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রকৃতিও যেন স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ভিন্ন অবয়বে অশুভ বার্তার ইঙ্গিত দিয়ে নত মস্তকে, ম্লানমুখে দ-ায়মান! এহেন অবস্থায় কিছু দাঁড়কাক, পাতি কাক  দালানের কার্ণিশে বসে তারস্বরে ডাকাডাকি করে ভোরের আগমনী আহবান শুনিয়ে শহরবাসীর মনে অজানিত অমঙ্গলের অশুভ বার্তা ছড়িয়ে তাদের মনে ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিল! মোট কথা  সব মিলিয়ে ঢাকা শহরবাসীর মনে একটা অজানিত আশঙ্কা, ভয় বাসা বাঁধে। বেলা বাড়তেই রাতের অন্ধকারে যে সব দানবরূপী পশু সেনা নিয়ম ভঙ্গ করে ছাউনী হতে বেরিয়ে আসে তাদের পরিচিতি ও ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধের ফিরিস্তি দিনের আলোতে দৃশ্যমান ও জানাজানি হতে খুব একটা সময় নেয় নি! বিদ্যুৎ বেগে এ কান থেকে সে কান হয়ে সারা দেশবাসীই শুধু নয় বিশ্ববাসী জানতে পারে বিশ্ব ইতিহাসের মহা শোচনীয় মর্মান্তুদ লোমহর্ষক হত্যাকা-ের কথা। ক্যান্টনমেন্ট হতে ট্যাঙ্ক, কামান-সজ্জিত নর পশু জল্লাদরা বেরিয়ে এসে হত্যা করে শতাব্দীর মহামানব, জাতির পিতা, হাজার বছরের সবশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও পরিবারে সদস্যদের!
ঘটনাটি অন্য দশটি ঘটনার কাতারে পড়ে না। দেশপ্রেমী মানুষের মুখে উচ্চারিত হয়,--‘৭১ এর ২৫ মার্চে বাঙালি নিধনের ঘাতক ইয়াহিয়া খানের প্রেতাত্মা ও বিশ্বাসঘাতক দেশীয় নব্য মীরজাফরের পুনোরুত্থান ঘটেছে!’ ওরা স্বাধীনতার শত্রু। ওরা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে গ্রাস করে গিলে ফেলতে চায়! ওরা গোলামীর জিঞ্জির গলায় পরা পাকি প্রভু-ভক্ত, অনুরক্তের দল! ওরা পরাজিত পাকিপন্থী খাস খাদেম। কেনা ভাড়াটিয়া গোলাম। ফিফথ কলামিষ্ট! ওরা মানুষের শত্রু। মানবতার শত্রু। যে মহামানব বাঙালি জাতিকে শত বছরের গোলামীর শৃঙ্খল ছিড়ে ফেলে আত্মকে চিনে বিশ্বের দরবারে মেরুদ- সোজা করে মাথা তুলে দাঁড়াবার ডাক দিয়েছেন, যে মানুষটি তিলে তিলে পরাধীন বাঙালি জাতিকে নিয়ে গিয়েছেন মুক্তির মোহনায়, যে মানুষটি উদাত্ত কন্ঠে ঘোষণা করেছেন ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’, যাঁর আহবান ও নেতৃত্বে আবালবৃদ্ধবনিতা ১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে দুর্বার গতি নিয়ে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে শত্রু হননে, সন্মুখ সমরে, ২৩ বছর বয়সের ওহাবি ধর্মরাষ্ট্র পাকিস্তানের অপমৃত্যু ঘটিয়ে মাত্র নয় মাসে ছিনিয়ে এনেছেন স্বাধীনতা সেই মহান নেতা, যুগস্রোষ্টা মহামানবকে হত্যা করে সদ্যপ্রাপ্ত স্বাধীনতা বিকিয়ে দিতে ঘটিয়েছে ইতিহাসের এক নির্মম, মর্মান্তুদ ঘটনা।
এমন একটি অভাবনীয় ঘটনায় হতবিহবল দেশবাসীর সম্বিত ফিরিয়ে আনতে দশ দিক প্রকম্পিত করে মানবতাবাদী খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়ের (১৯০৪-২০০২) কন্ঠে উচ্চারিত হয়,--'কাঁদো, প্রিয় দেশ। কাঁদো মুক্তিদাতা মুজিবের জন্যে। তাঁর সেই পরিচয়টাই ইতিহাসে অমর হবে। কাঁদো তাঁর সহমৃতা সহধর্মিণীর জন্যেও, বালক পুত্রের জন্যেও। কাঁদো, কাঁদো, প্রিয় দেশ’। ‘মুক্ত বঙ্গের স্মৃতি’গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, ‘আমি কাঁদতে কাঁদতে একটি প্রবন্ধ লিখি। নাম রাখি ‘কাঁদো প্রিয় দেশ’। এটি ‘ঙনরঃঁধৎু’ প্রবন্ধ। কান্না ও প্রতিবাদের জন্য এমন আকুতি কবে, কোথায় কে দেখেছে বা শুনেছে?
অন্নদাশঙ্কর রায় ‘মুক্ত বঙ্গের স্মৃতি’ গ্রন্থের ‘কাঁদো প্রিয় দেশ’ প্রবন্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-কে চিহ্নিত করেছেন ‘ক্রাইম অব দি সেঞ্চুরি’ হিসাবে। ঘাতকরা ব্যক্তি মুজিবকে হত্যা করে ভেবেছিল মুক্তিসংগ্রামে বিজয়ী বাংলাদেশে ’৪৭ সাল পরবর্তী ২৩ বছরের ধর্মীয় উন্মাদনা ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তানি ষ্টাইলের রাজনৈতিক শাসন শোষণ, কতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে! বাঙালি চেতনা ধংশ করে স্বাধীন সত্তার বিলুপ্তি ঘটাবে। মুক্তবুদ্ধি-বাঙ্গালি সংস্কৃতির ইতি টানবে, মুজিবের নাম ফেলবে মুছে! হত্যাকা-টি ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ঘৃন্য পরিণতি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় হত্যা করে সাময়িক হতাশা, অস্থিরতা সৃষ্টি করা গেলেও আদর্শিক অবস্থান, দেশপ্রেম, জাতি-সত্তা বা জাতীয় চেতনা কখনও লুপ্ত করে দেয়া যায় না।
মৈত্রেয়ী দেবীর আকাদেমী পুরস্কারে সন্মানিত এ কালের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘ন হন্যতে’ (হন্য মানে শরীর) উচ্চারণ করে তাঁরই কথার প্রতিধবনি করে বলা যায়, ‘আত্মা জন্মরহিত শাশ্বত পুরাতন শরীরকে হনন করিলেও ইনি নিহত হন না।’ বঙ্গবন্ধুর মুজিব নিহত হন নি। মৃত্যু নয়, ধংস নয়---তিনি নিজেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে সমার্পন করে নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করেছেন মাত্র। তিনি ভূমি থেকে ভূমায় উত্তোরণ করেছেন। মৃত্যু সম্পর্কে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি উদ্ধৃত করে বলা যায়, ‘‘উবধঃয রং হড়ঃ বীঃরহমঁরংযরহম ঃযব ষরমযঃ, রঃ রং ড়হষু ঢ়ঁঃঃরহম ড়ঁঃ ঃযব ষধসঢ় নবপধঁংব ঃযব ফধহি যধং পড়সব’’. নশ্বর মুজিব অমরতা সুধা পান করে প্রাকৃতিক নিয়মে অবিনশ্বরলোকে প্রস্থান করেছেন। মুজিব আছেন, মুজিব ‘আজি হতে শতবর্ষ পরে’ ও বিরাজ করবেন বাঙালি জাতির ভাগ্যাকাশে দিগন্ত প্রসারী আভা ছড়িয়ে। এখন অন্নদাশঙ্কর রায়ের ‘কাঁদো প্রিয় দেশ’ প্রবন্ধটির প্রকাশ নিয়ে সে সময় যে জটীলতার উদ্ভব হয়েছিল তা পাঠকের অবগতির জন্য সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। দক্ষিন আফ্রিকা নিয়ে এলেন প্যাটেনের লেখা বই, ‘ঈৎু, ঞযব নবষড়াবফ ঈড়ঁহঃৎু.’ এর অনুসরণে অন্নদাশঙ্কর রায় প্রবন্ধের নামকরণ করেন ‘কাঁদো প্রিয় দেশ’।
‘দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষ অন্নদাশঙ্কর রায়ের লিখা প্রবন্ধটি প্রকাশ না করে ফেরৎ দিয়েছিলেন। লিখাটি প্রকাশে কম টানাপোড়েন হয় নি! সে সময় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সিদ্ধান্তে লেখাটি শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে পাঠান হলে ভারত সরকার ‘উদ্ভুত বিব্রতকর পরিস্থিতি’ এড়াতে প্রবন্ধটি প্রকাশে অসম্মতি জ্ঞাপন করে! তিনটি চিঠি পাঠিয়ে সিদ্ধার্থশংকর রায়ের জবাব না পেয়ে বর্বরতার বিরুদ্ধে মানবতাবাদী অন্নদার প্রতিবাদ কি তাই বলে থেমে যাবে? তিনি থেমে থাকার পাত্র নন। প্রকাশক নিতাই মজুমদার এগিয়ে এসে জানান মূল প্রবন্ধের সাথে আরও কয়েকটি প্রবন্ধ একত্রিত করে বই আকারে প্রকাশ করলে সেন্সরশীপ এড়িয়ে এটি প্রকাশ করা সম্ভব। অন্নদাশঙ্কর রায় তাতে রাজি হন। এভাবে প্রকাশিত হয় ‘কাঁদো, প্রিয় দেশ' শিরোনামের বিখ্যাত গ্রন্থটি।
এর আগে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেবার আয়োজন সম্পন্ন হলে সে সময়ও অন্নদাশঙ্কর রায়ের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। তিনি লিখেছিলেন অমর ছড়া,--‘যতকাল রবে পদ্মা  যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবর রহমান।’
আমার সৌভাগ্য হয়েছিল এই মহান ক্ষণজন্মা মানুষটির সাথে সপরিবারে দেখা করার। হয়েছে পত্রালাপ। বার্ধক্যের কারণে যখন ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে তিনি ডিকটেশন দিতেন এবং কম্পিত হাতে কোনমতে স্বাক্ষর করতেন সে সময়ে আমাকে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির প্যাডে লিখেছেন জীবনের শেষ চিঠির একটি। কন্যা তৃপ্তি রায় আলাপচারিতার মাঝে বলেন, ‘‘বাবা স্নেহের টানে অনেক কষ্ট করে স্বহস্তে আপনাকে চিঠিটি লিখেছেন। এটা কি করে যে হলো? বাবার মুখে শুনেছি আপনি খুব দুঃসাহসী কজ করেছেন। আপনি ভাগ্যবান। বাবার মুখে আপনার নাম বহুবার শুনে আপনাকে আমাদের খুব কাছের মানুষ, আপন জন মনে হয়েছে।‘‘’ আমার ও পরিবারের জন্য এ এক দুর্লোভ প্রাপ্তি।
একইভাবে বাংলাদেশের বিখ্যাত সাহিত্যিক ষাটের দশকে ঢাকা কলেজে আমার প্রিয় শিক্ষক সাহিত্যিক শওকত ওসমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যার আকস্মিকতায় বিহবল ও গভীরভাবে ব্যাথীত হয়ে লিখেছিলেন,---'১৫ আগস্টের এলিজি’। সেটির উল্লেখ করে অগাষ্ট-প্রবন্ধ ‘ক্রাইম অব দি সেঞ্চুরি’র ইতি টানব। তিনি এলিজিতে লিখেছেন,---
‘‘ইতিহাস নয়
অদৃষ্টের পরিহাস,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
তোমার ঘাতকেরা আজ
নিজেদের সেবকরূপে জাহির করে।...
কিন্তু যারা প্রগতিশীল বলে দাবী করে থাকেন তাঁদের কেউ কেউ দশভাগ প্রগতিশীল, পঞ্চাশ ভাগ সুবিধাবাদী, পনেরো ভাগ কাপুরুষ, পাঁচ ভাগ একেবারে জড়বুদ্ধি-সম্পন্ন।"
পরিশেষে বলতে চাই, মুজিব ব্যক্তি নন তিনি আদর্শ। মুজিবের আদর্শ চির অমর, অমলীণ, অম্লান হয়ে জাতিকে মুক্তির পথে চির দিন পরিচালিত করবে। ঘাতকরা ভেবেছিল রাষ্ট্রীয় আশ্রয়, প্রশ্রয় পেয়ে তারা দাপিয়ে বেড়াবে মুজিবের বাংলাদেশে! অগনতান্ত্রিক সামরিক শাসকচক্র ঘাতকদের ‘ইনডেমনিটি’ দিয়ে ‘রাজপুত্র’বানিয়ে পুরস্কৃত করে রাজ প্রতিনিধির মর্যাদা দিয়েছিল! উড়ে আসা জুড়ে বসা ব্রুটাস চরিত্রের শাসক শ্রেণী ‘সীজার-বঙ্গবন্ধুকে’ হত্যা করে ভাবতেও পারেনি ইতিহাস কথা কইবে। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লীগ সরকার জনগণের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে ‘ইনডেমনিটি’ আইন শুধু বাতিল করে নি পরবর্তীকালে ঘাতকদের বিচার করে জাতি বুঝিয়ে দিয়েছে এই বাঙ্গাদেশে ক্ষমতালোভী ঘাতক ব্রুটাসদের রক্ষা নেই। ব্রুটাসরা ধিকৃত হয়ে শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। পাপের বিচার ইহ জগতেই হয়।
পরিশেষে অন্নদাশঙ্কর রায়ের সাথে সুর মিলিয়ে আসুন সমস্বরে বলি,--‘‘কাঁদো, প্রিয় দেশ। কাঁদো মুক্তিদাতা মুজিবের জন্যে।’’ এটা হউক জাতীয় শোক দিবসে বাঙালি জাতির শ্লোগান। এ ক্রন্দনে নব-উত্থানের আবাহন ধনিত হউক। ষড়যন্ত্রকারীদের ভীত থরথর করে কেঁপে উঠুক। জাতি আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে, প্রেরণার অগ্নি মশাল জ্বেলে ছুটে চলুক পদ্মা যমুনা গৌরি মেঘনার প্রবল স্রোতধারার মত। উচ্ছিষ্ট জঞ্জাল নিক্ষিপ্ত হউক বঙ্গোপসাগরের গভীর লোণা জলে।
এই শোকের মাসে আমাদের দাবীঃ ‘১৫ অগাষ্ট কালো দিবস’ ঘোষিত হউক ‘বিশ্বাসঘাতক মুশতাক গং এর বিরুদ্ধে ‘জাতীয় ধিক্কার দিবস’ হিসাবে। প্রজন্ম হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ করুক ধিক্কার।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আছেন বাঙ্গালির চেতনায়, আমাদের ধমনীতে। কালের কোলে তব কীর্তি রবে চির অম্লাণ। তিনি দেশকে, মানুষকে ভালবেসেছিলেন। সেই ভালবাসা তাঁকে দিয়েছে অমরত্ব। অক্ষয় গৌরব-ধন্য জ্যোতির্ময় পুরুষ মুজিব তাই বাঙালি হৃদয়ে চির দীপ্যমান।                                                          
তাঁর দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে। মুক্তির স্বর্ণোদ্বারে। তিনি অবিনশ্বর। দেশ, জাতি মুজিবের জন্য কাঁদবে, চোখের পানি ফেলবে একথা যেমন সত্য ততোধিক সত্য শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ’৭১ এর যাত্রীরা গনতন্ত্র বিরোধী, দেশ বিরোধি-ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক, ষড়যন্ত্রকারী, অগনতান্ত্রিক, অপশক্তিকে পরাস্ত করে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ‘মুক্তির সংগ্রাম’ বাস্তবায়নের কারিগর হিসাবে দৃপ্তপদভারে উন্নতির সোপান বেয়ে মুক্তির পথে দৃঢ়পদে এগিয়ে যাবে। জয়তু মুক্তিদাতা মুজিব। জয় বাংলা।
লেখকঃ মালিক খসরু, পি পি এম। সাবেক এ আই জি, বাংলাদেশ পুলিশ। রম্য লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ।








« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft