ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
করোনাকাল ও জটিলতা
Published : Saturday, 8 August, 2020 at 12:00 AM, Update: 08.08.2020 2:35:49 AM, Count : 337
করোনাকাল ও জটিলতাহালকা রোগে ভুগে যারা সেরে গেলেন বা যাদের সংক্রমণ হলেও উপসর্গ তেমন হল না ,তাদের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়না। মাঝারি রোগীদের কিছুটা হয় ।বেশি হয় যারা প্রায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরেন তাদের। কারণ প্রায় ৮০-৯০ ভাগ ক্ষেত্রে রোগ মৃদুই হয়। ১০-১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তার মধ্যে মাত্র কয়েক জনকেই আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়। যে সমস্ত কোভিড রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তার মধ্যে মোটামুটি ৪৫ শতাংশ রোগীর বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরও কিছুটা চিকিৎসা লাগে। মাত্র এক শতাংশ মানুষকেই কেবল কোভিডের ধকল বয়ে বেড়াতে হবে জীবনভর ।
১.ফুসফুস
কোভিড থেকে সেরে ওঠার দেড় দু’মাস পরও কিছু রোগীর শুকনো কাশি থেকে যায় ।থাকে বুক জ্বালা ভাব ,গভীরভাবে শ্বাস টানতে,শ্বাস ধরে রাখতে ও ছাড়তে কষ্ট হয় ।এর প্রধান কারণ সংক্রমণ ও প্রদাহের ফলে ফুসফুসের কিছু অংশের স্থায়ী ক্ষতি হয় ।যত বেশি নিউমোনিয়ার বাড়াবাড়ি ক্ষতি হয় তত বেশি। সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ে ধূসর প্যাচ ।যাকে বলে গ্রাউন্ড গ্লাস ওপাসিটি ।হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৭০ জন জটিল রোগীর মধ্যে ৬৬ জনেরই ফুসফুসের ক্ষতি হয়েছে ।এদের অর্ধেকের মধ্যে পাওয়া গেছে ধূসর প্যাচ ।এমনকি উপসর্গহীন কোভিড রোগীদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা গেছে ।এবং তার কিছুদিন পরই জাঁকিয়ে বসেছে কোভিডের ভয়াল থাবা ।এই ক্ষতি সহজে নিরাময়যোগ্য নয় তার প্রমাণ আছে অতীতে ।একটি গবেষণা থেকে জানা যায় ,২০০৩-২০১৮ পর্যন্ত ৭১ জন সার্স রোগীর উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে এক তৃতীয়াংশের মধ্যে ফুসফুসের ক্ষতচিন্হ রয়েছে এবং তার হাত ধরে দৌড়ঝাপ করার ক্ষমতা কমেছে তাদের ।৩৬ জন মার্স রোগীকে পরীক্ষা করেও এই একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে ।এই দুই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল একটি ফুসফুস ।কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছে দুটি ফুসফুসেই ।কোভিড সমস্যা আরও বেশি হবে কীনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না ।তবে এইটুকু বলা যায় যে জটিল নিউমোনিয়া এবং এআরডিএস এ ভুগে ওঠলে ফুসফুসের যে ক্ষতি হয় ,তা সারতে ৬-১২ মাস সময় লাগে ।তারপরও পুরোপুরি ঠিক হবে কীনা তা বলা যায়না। এর উপর যদি সিওপিডি হাঁপানি বা ইন্টারস্টিশিয়াল লাঙ ডিজিজ থাকে তাহলে ফুসফুসের কার্যকারিতা ফিরে আসবে বড়জোড় ৬০-৭০ শতাংশ ।
করোনাকাল ও জটিলতা২.হ্রদযন্ত্র
আগে থেকে হ্রদরোগ না থাকলেও আইসিইউতে ভর্তি কোভিড রোগীদের প্রায় ১৯ শতাংশের হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।হার্ট ফেইলিওর ,অ্যারিদমিয়া ,হার্ট এটাক সবই হতে পারে ।ভবিষ্যতে হার্ট এটাক ,
স্ট্রোক এর আশংকা বাড়ে ।হার্টের পেশী দূর্বল হয়ে রক্ত সরবরাহের ঘাটতি হয় অনেকের ।ভাইরাসের প্রভাবে যাদের পেশীতে সরাসরি প্রদাহ বা মায়োকার্ডাইটিস হয় ।সেই ক্ষতির রেশ থেকে যেতে পারে দীর্ঘদিন ।ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে ধুমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দিলেও চিকিৎসক না বলা পর্য়ন্ত পরিশ্রমের কাজ না করলে ৬-৮ সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয় ।
৩.কিডনি ও লিভার
কোভিডের জটিল পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় কিডনি ও লিভারের ।স্বাভাবিক হতে সময় লাগে কমপক্ষে ৩-৪ সপ্তাহ ।কখনও কখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়না ।বিশেষ করে যদি আগে থেকে জটিলতা থাকে ।
৪.রক্তের সমস্যা
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জটিল কোভিড রোগীর শরীরে প্রচুর পরিমাণে রক্তের দলা জমতে থাকে ।এবং এথেকে নানা সমস্যা হয় ।
ক.জমাট রক্তের দলা ফুসফুসে জমলে পালমোনারি এমবলিজম নামের প্রাণঘাতী সমস্যা হতে পারে ।আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের ২৩-৩০ শতাংশের এই সমস্যা হয় ।সেরে ওঠার পরও অনেকের কান্তি, বুক ধড়ফড় ,শ্বাসকষ্ট থেকে যায় ।চলাফেরা ও কাজকর্মে প্রভাব পড়ে ।
খ.কারও জমাট রক্তের দলা পৌছে যায় মস্তিস্কে ।হয় স্ট্রোক ।
গ.জমাট রক্তের দলা হ্রদযন্ত্রের ধমণীতে জমে কারও কারও হার্ট এ্যাটাকের কারণ হয় ।
ঘ.কিডনিতে জমলে কিডনির ক্ষতিতো হয়ই ।ডায়ালায়সিস করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে ।সেরে ওঠার পরও কিডনির কার্যকারিতা কমে যায় ।
ঙ.পায়ের শিরায় জমে দেখা দিতে পারে ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস নামের জটিল অসুখ ।বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরও দেখা দিতে পারে এটি ।
এইসব কারণেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরও চিকিৎসকের পরামর্শ মতো বেশ কিছুদিন রক্ত তরল রাখার ওষুধ খেয়ে যেতে হবে অনেক সময় ।সুতরাং করোনা সেরে যাওয়ার পরও শ্বাসকষ্ট ,অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা ,বুকে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দীর্ঘদিন রয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।ধুমপান এবং মদ্যপান বর্জন করুন ।নিয়মিত ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন ।ধীরে ধীরে শারীরিক ফিটনেস বাড়ান ।পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন ।
সচেতন হোন সতর্ক থাকুন ।স্বাস্থ্যবিধিসমূহ যথাযথ ভাবে মেনে চলুন ।এবং সুস্থ থাকুন ।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft