ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
ভারতের একটি কুয়া থেকে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার
Published : Sunday, 24 May, 2020 at 1:21 AM, Count : 392

ভারতের একটি কুয়া থেকে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধারঅনলাইন ডেস্ক: 
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে একটি কুয়া থেকে এক পরিবারের ছয় জনসহ নয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ  বৃহস্পতিবার কুয়া থেকে চারটি লাশ উদ্ধার করে, পরে শুক্রবার আরও পাঁচটি লাশ তুলে আনে। তদন্তের প্রয়োজনে সব পানি সরিয়ে কুয়াটি খালি করে ফেলা হয়েছে। 
ছয় জনের ওই পরিবারটি বাঙালি এবং বাকি তিন জনের মধ্যে দুই জন বিহার থেকে ও অপর একজন ত্রিপুরা থেকে তেলেঙ্গানায় গিয়েছিলেন বলে পুলিশের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি।
তারা সবাই রাজ্যটির ওয়ারাঙ্গাল রুরাল জেলার গোরেকুন্টা গ্রামে থাকতেন। এদের মধ্যে ছয়জন একটি জুটমিলে চটের ব্যাগ সেলাইয়ের ইউনিটে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বিহার থেকে আসা দুই জন অন্য একটি কারখানায় কাজ করতেন। 
ভারতজুড়ে চলা লকডাউনের কারণে তারা সবাই দুই মাস ধরে বেতন পাননি বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
মৃতদেহগুলোর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। এ ঘটনার বিষয়ে সন্দেহজনক মৃত্যুর একটি মামলা হয়েছে।
ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওয়ারাঙ্গালের পুলিশ প্রধান ভি রাভিন্দের।
মৃত্যুর আগে ওই শ্রমিকদের একজনের নাতির তৃতীয় জন্মদিন উপলক্ষে রাতে সবাই একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই নাতিরও লাশ পাওয়া গেছে।
রাজ্যের পঞ্চায়েত বিষয়ক মন্ত্রী এরাবেল্লি দয়াকর রাও হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহগুলো দেখার পর বলেছেন, কী হয়েছে তা পরিষ্কার হওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, একে ‘গণআত্মহত্যার’ ঘটনা বলে সন্দেহ করছেন তারা। দুই মাস ধরে বেতন পাননি ওই শ্রমিকেরা, ফলে নিজ নিজ এলাকায়ও ফিরে যেতেও পারছিলেন না।
আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় ঘটনাটি হত্যার ঘটনা হওয়ার ‘সম্ভাবনা কম’ বলে মনে করছে পুলিশ।
আশ্রয়হারা হওয়ার পর নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে না পারার পাশাপাশি আর্থিক সঙ্কটে তারা সবাই অত্যন্ত চাপে ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তাদের মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ বের হবে বলে পুলিশের ভাষ্য।
কর্মকর্তারা বলছেন, খাবারে বিষ মিশিয়ে তাদের হত্যার পর লাশ কুয়ায় ফেলে দেওয়া হয়েছে কি না, তাও সন্দেহের খাতায় রেখেছেন তারা।
পশ্চিমবঙ্গের মকসুদ আলম ২০ বছর আগে ওয়ারাঙ্গাল রুরালে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। সেখানে গোরেকুন্টার এক জুট মিলে কাজ করছিলেন তিনি। জুট মিল সংলগ্ন দুটি ঘরে পরিবার নিয়ে থাকতেন।
কিন্তু লকডাউনের কারণে চাকরি, আশ্রয় দুটোই হারান তিনি। তখন স্থানীয় এক দোকানদার নিজের গুদামে তাদের আশ্রয় দেন। যে কুয়ায় তাদের লাশ মিলেছে সেটি এই গুদামের কাছেই।
৪৮ বছর বয়সী মকসুদ ছাড়াও তার স্ত্রী নিশা, দুই ছেলে সোহেলে ও শাবাদ, কন্যা বুশরা খাতুন এবং তিন বছরের নাতি শাকিলের দেহ কুয়া থেকে উদ্ধার হয়।
ত্রিপুরা থেকে আসা শাকিল আহমেদ জুটমিলের গাড়িচালক ছিলেন। আর বিহারের শ্রীরাম ও শ্যামা অন্য একটি কারখানায় চাকরি করতেন। তবে মকসুদদের মিল প্রাঙ্গণেই একটি ঘরে থাকতেন তারা।       
মৃতদের পরিবারের সদস্যরা চাইলে তাদের সবার শেষকৃত্যের ব্যবস্থা ওয়ারাঙ্গালেই করা হবে, আর না চাইলে সবার লাশ যার যার গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী দয়াকর রাও।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft