ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
করোনা আতঙ্কে ফাঁকা
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোগীশূন্য
হাসপাতালে যথাসময়ে ডাক্তারদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ পরিচালকের
বশিরুল ইসলাম:
Published : Sunday, 29 March, 2020 at 6:59 PM, Update: 29.03.2020 7:51:19 PM, Count : 1366
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোগীশূন্য কুমেক  হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে কোনও রোগী পাওয়া যায়নি। পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড  রোগীশূন্য। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের রুম বন্ধ। মেডিসিন বিভাগে একই দৃশ্য। ডাক্তার নেই। সেবিকারা বসে আছেন। সারি সারি বেড খালি পড়ে আছে। শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডেও গুটি কয়েকজন। । ওয়ার্ডগুলোতে আগের মত অসুস্থ শিশু ও নবজাতক নেই । সার্জারি, গাইনি এবং ক্যাজুয়ালটি বিভাগের একই দৃশ্য।
করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে  পিঠে এলার্জি সমস্যা নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পারভেজ আলম সরকার নামে এক রোগী আসেন। দীর্ঘক্ষন ঘুরাঘুরি করার পর হাসপাতালের ১২৪ নং  কক্ষে (চর্ম বহি: পুরুষ) ডাক্তার দেখান। সেখানে উপস্থিত ডাক্তারও আতঙ্ক নিয়ে রোগী দেখছেন। দূর থেকে জিজ্ঞেস করেই  তিনি টিকেটে কিছু ঔষধ লিখে দিলেন। হাসপাতালে তেমন রোগী নেই বহি:বিভাগে পুরো অংশ ফাঁকা। কিছু কিছু কক্ষের সামনে ওয়ার্ডবয়দের দাড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।   
২৯ মার্চ সকাল ১১টায় কুমেক হাসপাতালের  গিয়ে এসব দৃশ্য চোখে পড়ে।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়,  হাসপাতালে প্রতিটি ওয়ার্ডে শুনশান পরিবেশ। রোগীর সংখ্যা একেবারেই নেই। যেখানে রোগীদের নির্ধারিত বেড ছাড়াও অতিরিক্ত বেডে জায়গা দেওয়া যেতনা সেখানে অধিকাংশ বেড গুলো ফাঁকা। হাসপাতালে নার্সদের উপস্থিত দেখা গেলেও ডাক্তারদের উপস্থিতি একেবারেই কম।
এক নার্সকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, রোগী কম এজন্য ডাক্তার বেশী একটা আসে না। তাছাড়াও কোন সমস্যা হলে ফোন করলে স্যার কি করতে হবে কি ঔষধ লাগবে তা জানিয়ে দেন।  তাছাড়াও হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় ডাক্তার ভয়ে ডিউটিতে আসতে চায়না। ডাক্তারদের মাঝেও করোনা আতংক কাজ করছে।
তিনি আরো জানান, এই ওয়ার্ডে ৬০/৭০টি বিছানা রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন মাত্র তিন জন। করোনা আতঙ্কের আগে এই ওয়ার্ডে দুশতাধিক  রোগী থাকতো। এই ওয়ার্ডে সব সময় বেড নিয়ে যুদ্ধ করতো রোগীরা। অনেক  নেতা, পুলিশ, সাংবাদিক এই বেডের জন্য ফোন দিত রোগীর জন্য ফোরে হাঁটা যেত না। আর এখন রোগী নেই বল্লেই চলে।
এদিকে রবিবার সকালে চর্ম ও যৌন ওয়ার্ডে সকালে ডাক্তার থাকলেও ১২টার পর আর তাকে পাওয়া যায়নি। ঐ কক্ষে দায়িত্ব থাকা সুলতানা নামে এক মহিলা জানান, রোগী নেই তাই ডাক্তার চলে গিয়েছে।  
চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কক্ষে গিয়ে দেখা যায় তিনি চলে গিয়েছেন। তার পাশের রুমে একজন সিনিয়র চক্ষু ডাক্তারকে  (ডা. জাহাঙ্গীর) চক্ষু দেখালাম। তিনি দাড়ানো অবস্থায় দেখে বল্লেন বর্তমানে তেমন বেশি সমস্যা নেই বেশি সমস্যা হলে অথবা ব্যথা অনুভব হলে আসবেন।  কিছুণের মধ্যে তিনি  চলে যাওয়ার মুহূর্তে জানতে চাইলে এই চিকিৎসক জানান, রোগী দেখার মতো সুরা নেই। করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য হাসপাতাল তাদের কোনো সুরা সরঞ্জাম দেয়নি। তাই ঝুঁকি নিয়ে রোগী দেখতে হচ্ছে তাদের।
চর্ম ও যৌন এবং চুক্ষু বিভাগের মতো ঠিক একই অবস্থা দন্ত, ডেন্টাল সার্জন, শিশু, গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, শৈল্য, ক্যাজুয়ালটি এবং কার্ডিওলজি বিভাগেও। বেশিরভাগ ডাক্তারের রুম বন্ধ। হাতেগোনা কয়েকজন মেডিকেলে আসলেও মুখ দেখিয়ে চলে যান। ওয়ার্ডবয়দের  বলে যান ঘন্টা খানিক পর বন্ধ করে চলে যাওয়ার জন্য।
বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরত  আবুল কাশেম বলেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্ক তৈরির পর থেকে চিকিৎসকরা নিয়মিত না আসায় আস্তে আস্তে রোগীর সংখ্যা কমছে বহির্বিভাগে। প্রতিদিনের সেই লম্বা লাইন আর নেই।
অথচ কয়েকদিন আগেও ৫০০ বেডের এ হাসপাতালের ওয়ার্ড, ওয়ার্ডের ফোর ও খোলা বারান্দা, সিঁড়ির নিচ ভরে থাকত দেড় হাজারের বেশি রোগী। এমন বিপরীত চিত্রের কারণ করোনা আতঙ্ক।
কুমিল্লা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে ২৪০জন রোগী ভর্তি রয়েছে। শনিবার বহি: বিভাগে ১শ ৮০জন ও রবিবার প্রায় ২শ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।  করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হাসপাতালে রোগী আসতে পারছে না। মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক কাজ করছে। আমাদের ডাক্তারদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম আগামী দুই দিনের মধ্যে দেওয়া সম্পন্ন হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের সকলকে সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হবে। যেহেতু রোগী আসতে পারছে না তাই কুমেক হাসপাতাল রোগীদের টেলি মেডিসিন সেবা দিচ্ছে। বাড়িতে বসে রোগীরা ফোন করেই সেবা নিতে পারবে ।  রবিবার থেকে হাসপাতালে সকল ডাক্তার, নার্স যথা সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার থেকে এ নোটিশ কার্যকর করা হবে। রোগীদের সঠিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অঙ্গীকার বদ্ধ।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft