ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লা গাইড লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার


সাহসকে পুঁজি করে সুন্দর আগামীর স্বপ্নে বিভোর


ঢাকার বাইরের সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের অঙ্গনে নতুন ধারার সূচনা করে যেসব সাংবাদিক-সম্পাদক ব্যাপকভাবে পাঠকপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন তাদের অন্যতম কুমিল্লার আবুল কাশেম হৃদয়। স্থানীয়ভাবে আবুল কাশেম হৃদয় সাহসী সাংবাদিক-সম্পাদক হিসেবে সমাদৃত। জাতীয় সংবাদ বর্জিত স্থানীয় রাজনৈতিক সংবাদনির্ভর ভিন্ন ধারার সংবাদপত্রের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয়, আঞ্চলিক সংবাদপত্রবিমুখ পাঠকদের মাঝে আঞ্চলিক পত্রিকা পড়ার মানসিকতা তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর সম্পাদিত দৈনিক কুমিল্লার কাগজ বিপুল সংখ্যক পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এর নিউজ ট্রিটমেন্ট, শিরোনামের আধুনিকতা ও চমক, মেকআপ, গেটআপ সব নতুন, আলাদা, দৃষ্টিনন্দন। কুমিল্লার কাগজকে অনুসরণ করে নতুন অনেকগুলো পত্রিকা প্রকাশের পাশাপাশি পুরনো কয়েকটি সংবাদপত্রও দৈনিক কুমিল্লার কাগজের আঙ্গিকে প্রকাশিত হয়ে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। সেই সাথে স্বনামধন্য জাতীয় সম্পাদকও ঢাকার বাইরে আঞ্চলিক সংবাদপত্র প্রকাশে আগ্রহী হয়েছেন এবং করেছেন। ঢাকার বাইরের সাংবাদিকতায় এ এক ব্যতিক্রমী ব্যাপার। আঞ্চলিক সংবাদপত্র হয়েও সময়ে সময়ে অসাধারণ সাহসী সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক কুমিল্লার কাগজ উঠে আসে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

আর্থিক বিবেচনায় অফসেট কাগজে চাররঙা ছাপা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আবুল কাশেম হৃদয় তাতে সফল হয়েছেন। সংবাদপত্রের ইতিহাসে কুমিল্লার ইতিহাস অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং উজ্জ্বল। কুমিল্লা কাগজ সেই ঐতিহ্যের ধারায় নবতর সংযোজন, নতুন বৈশিষ্ট্য, নতুন ইতিহাস। এর জন্য কুমিল্লার কাগজ নি:সন্দেহে পথিকৃৎ। শুধু সংবাদপত্র হিসেবেই এর সাফল্য নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ভিন্ন ভূমিকায় উপস্থিত কুমিল্লার কাগজ। পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবস, কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, জিপিএ৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা, ফুটবল ও ক্রিকেট বিশ্বকাপে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখানো, মেঘা পুরস্কারের আয়োজনসহ নানা দিবসে আয়োজন করেছে বড় মাপের অনুষ্ঠান। এছাড়াও প্রতিবছর পাঁচটি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য দেশের বিশিষ্টজনদের পুরস্কৃত করে আসছে। কুমিল্লার কাগজেই সীমাবদ্ধ নেই সাহসী তরুণ আবুল কাশেম হৃদয়। জাতীয় দৈনিক জনকন্ঠ ও চ্যানেল আইয়ে সাহসী অনুসন্ধানী রিপোর্ট করে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছেন। এ সাহসী রিপোর্টের জন্য তিনি হামলার শিকার হয়েছেন কয়েকবার। নানাভাবে নিগৃহীত হয়েছেন, মামলা হয়রানীর শিকার হয়েছে। দৈনিক কালের কণ্ঠে যোগ দিয়ে তিনি দেশব্যাপী আলোচিত রিপোর্টের জন্য প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু থেমে নেই তাঁর অগ্রযাত্রা। সাহসকে পুঁজি করে সুন্দর আগামীর স্বপ্নে বিভোর তিনি।

১৯৯২ সালে এসএসসি পাশের পার স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ, ফিচার লিখে সাংবাদিকতা জীবনের শুরু আবুল কাশেম হৃদয়ের। ‘নাইচ্চা খান বাদাম, গাইয়্যা খান বাদাম’ শিরোনামে জীবনযুদ্ধে পরাজত এক সংগ্রামী মহিলার বেঁচে থাকার লড়াইয়ের সংবাদ দিয়ে শুরু। সেটি প্রকাশিত হয়েছিল সাপ্তাহিক নিরীক্ষণে। এরপর কিছুদিন দৈনিক কুমিল্লা বার্তায় কাজ করেন। এইচএসসি পরীক্ষার দেয়ার জন্য কিছুদিন বিরতির পর যোগ দেন সাপ্তাহিক অভিবাদনে। এসময় রিপোর্টিং, সম্পাদনা, পেস্টিং, প্রেসে ছাপা, পত্রিকায় ডাক টিকেট লাগানোসহ সব কাজই তদারক করতেন তিনি। ১৯৯৭ সালে যোগ দেন প্রাচীন সংবাদপত্র সাপ্তাহিক আমোদে। সে সময় তার বেশ কিছু রিপোর্ট ব্যাপক আলোচিত হয়। ১৯৯৮ সালে দৈনিক রূপসী বাংলায় যোগ দেন বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও নারী বিষয়ক পাতা সম্পাদনা করেন তিনি। নানা কারণে কয়েক দফা চাকুরিচ্যুতি ও পুনরায় যোগদানের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বিএ অনার্স (বাংলা) ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০০ সালে যোগ দেন দৈনিক জনকন্ঠের কুমিল্লা জেলার নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে। ২০০১-এ সেই রাজাকার কলামে লেখা অনুসন্ধানী রিপোর্টের পর সৃষ্টি হয় ব্যাপক তোলপাড়। যুদ্ধাপরাধ বিরোধী আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লা। মামলাসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হন তিনি। শতশত মুক্তিযোদ্ধা মিছিল করে আদালত পর্যন্ত যান হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধারা।

ফতোয়া সম্পর্কিত জনকন্ঠে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঢাকা ও কুমিল্লায় মিছিল সমাবেশ করেন নারীনেত্রীরা। ডা. নীলিমা ইব্রাহিমসহ ঢাকার নারীনেত্রী ও নারীরা মিছিল করেন। ঢাকা থেকে অসংখ্য নারী, নারীনেত্রী কুমিল্লায় এসে মিছিল সমাবেশ, প্রতিবাদ করেন ফতোয়ার বিরুদ্ধে। ফতোয়াবাজরা গ্রেফতার হয়ে বিচারের মুখোমুখি হন।

চ্যানেল আই সংবাদের প্রথম দিন থেকে কুমিল্লা প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন হৃদয়। ২০০৪-এর অক্টোবর নিজের সম্পাদনায় প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক কুমিল্লার কাগজ। এতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় রাজনৈতিক সংবাদকে। হৈ চৈ ফেলে দেয়া সংবাদ বুকে নিয়ে প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার পাঠকের হাতে পৌঁছে যেত রঙিন পজেটিভ করা ঝকঝকে ছাপার কুমিল্লার কাগজ। প্রতি সপ্তাহে রাজনৈতিক সংবাদগুলো প্রকাশে অসাধারণ সাহসের পরিচয় দেন তিনি। পর্দার আড়ালের খবর পত্রিকার সংবাদপত্রের পাতায় তুলে ধরে হয়ে ওঠেন জনপ্রিয়। কুমিল্লার কাগজের সংবাদ প্রকাশে ভিন্নতা-জনপ্রিয়তা অনুসরণ করে কুমিল্লার কাগজের আঙ্গিকে প্রকাশিত হতে শুরু করে পুরনো কয়েকটি আঞ্চলিক সাপ্তাহিক।

২০০৫ সালের ডিসেম্বরে জামাতুল মোজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিদের কুমিল্লার ৯টি মসজিদে প্রশিক্ষণের অনুসন্ধানী রিপোর্টে চ্যানেল আইয়ের লিড নিউজ হিসেবে প্রতিটি খবরে প্রচারিত হওয়ার পর দেশব্যাপি ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানে আরো সক্রিয় হয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তাঁর রিপোর্টের সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে ময়মনসিংহের ভালুকায় জঙ্গি প্রশিক্ষণের চাঞ্চল্যকর তথ্যও। ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ কুমিল্লার কালিয়াজুড়িতে জেএমবি জঙ্গি-র‌্যাব বন্দুক যুদ্ধে জঙ্গি নেতা মোল্লা ওমরসহ ৪জন নিহত ও জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমানের পুত্র নাবিল রহমানের গ্রেফতারের খবরটি আবুল কাশেম হৃদয় যেভাবে তুলে ধরেছেন তা দর্শক, পাঠক মহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। বিশেষ করে ঢাকার সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়া যখন তাদের সিনিয়র রিপোর্টাররা রিপোর্টটি কাভার করেন সেখানে একমাত্র ব্যতিক্রম চ্যানেল আই। শুধু চ্যানেল আইই রিপোর্টটি মূল রিপোর্ট হিসেবে প্রচার করে।

২০০৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গেলে কুমিল্লার দুই ব্রিটিশ নাগরিক আবুল কাশেম হৃদয়কে জিম্মি করে। পরে সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে। এ নিয়ে প্রতিটি জাতীয় পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দুই ব্রিটিশ নাগরিক নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে।

হামলার শিকার হন ২০০৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। কুমিল্লার দেবীদ্বার বিএনপির গডফাদার ও সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ক্যাডার বাহিনী তাকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ কুমিল্লার সাংবাদিকরা মিছিল সমাবেশ করে।
২০০৬-এর ২২ অক্টোবর সাপ্তাহিক কুমিল্লার কাগজ দৈনিকে রূপান্তর হয়। ১/১১’র পর সংবাদপত্র শিল্পে যে বিপর্যয় নেমে আসে তার শিকার হয় কুমিল্লার কাগজও। সপ্তাহে একদিনের বদলে সাতদিনই রঙিন দৈনিক কুমিল্লার কাগজ পাঠকের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হলেও মঙ্গলবার পাঠকরা তাদের প্রিয় রঙিন দৈনিক কুমিল্লার কাগজই হাতে পেতে থাকেন। সেই সঙ্গে চলছে বাকি ৬ দিন এর সাদাকালো কুমিল্লার কাগজ পাঠক প্রিয় করে তোলার চেষ্টা চলে কিছুদিন। এর আবার প্রতিদিন কুমিল্লার কাগজ রঙ্গিন ও ব্যাতিক্রমী সংবাদ নিয়ে প্রকাশিত হতে শুরু করে। যা অব্যাহত আছে আজও। পাঠকের প্রতিদিনকার সঙ্গী হয়ে দৈনিক কুমিল্লার কাগজ পৌঁছে যাচ্ছে কুমিল্লার পাঠকদের ঘরে ঘরে।

সাংবাদিকতায় অন্যন্য অবদানের জন্য দৈনিক কুমিল্লার কাগজ সম্পাদক জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকটি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে এশিয়ান জার্ণালিষ্ট এ্যাওয়ার্ড, জিনিয়াস এ্যাওয়ার্ড, বৈশাখী পদক, আঞ্চলিক রোটারেক্ট সম্মাননা।

সাংবাদিকতা ছাড়াও আবুল কাশেম হৃদয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণার কাজ করছেন বিশ বছর বয়স থেকে। তাঁর গবেষণা গ্রন্থ ‘মুক্তি সংগ্রামে কুমিল্লা’ ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। তিনি একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক। জাতীয় কবিতা পরিষদ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছিলেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা ফটোসাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া সামাজিক নানা সংগঠনের সাথে যুক্ত তিনি।

আবুল কাশেম হৃদয় ইতিমধ্যে ইংল্যান্ড, ইতালী, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক, মরক্কো, মালয়েশিয়া, ভারতসহ
বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। ইংল্যান্ডে ও বাংলাদেশে নিয়েছেন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft