ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
1435
স্কুলে ভর্তিযুদ্ধের কী হবে এবার
তানভীর দিপু ||
Published : Monday, 23 November, 2020 at 12:00 AM, Update: 23.11.2020 1:01:47 AM
স্কুলে ভর্তিযুদ্ধের কী হবে এবার* পরীক্ষা কবে, কোন পদ্ধতিতে কেউ জানে না
* ডিসম্বরের শুরুতে সিদ্ধান্ত দিতে পারে সরকার
* প্রস্ততি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ শিক্ষকদের

কুমিল্লা জিলা স্কুল ও নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ কুমিল্লা জেলার শিক্ষাঙ্গনে প্রতি বছরের আলোচিত বিষয়। এই দুই স্কুলেই প্রতিবছর ৬০০ সিটের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় অন্তত ৭ হাজার শিক্ষার্থী। এ ছাড়াও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, মডার্ন স্কুল, কালেক্টরেট উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুলেও ভর্তির জন্য যথারীতি ফিবছর ডিসেম্বর মাসেই  ‘যুদ্ধে’ অবতীর্ণ হয় শিক্ষার্থীরা। ভর্তি নিয়ে বছরব্যাপী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবকরাও যেন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গলদঘর্ম থাকেন। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবছর যেখানে স্কুলই খুলছে না, সেখানে পরীক্ষার পদ্ধতি ও সময় নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা আর সে কারণে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন ভেন্যুতে লিখিত, অনলাইনে জুম অ্যাপসে নাকি লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে- এসব নিয়ে কানাঘুষা চলছে অভিভাবক মহলে। ওদিকে শিক্ষকদের কাছেও পরীক্ষা কবে হবে তা নিয়ে কোনো তথ্য নেই। তবে স্কুলপ্রধানরা বলছেন, সিদ্ধান্ত এলেই খুব কম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেয়া শুরু হবে। অভিভাবকদের কেউ কেউ পরীক্ষা হবে না ধরে নিয়ে সন্তানের প্রস্তুতিও থামিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।  
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ও নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোখসানা ফেরদৌসী মজুমদার জানান, সর্বশেষ চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশিত হয়। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা কবে হতে পারে, তা জানা যায়নি।
কুমিল্লা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মজিদ কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ‘আগামী (ডিসেম্বর) মাসের শুরুতে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সরকারি সিদ্ধান্ত পেলেই আমরা সবাইকে জানিয়ে দেবো। সিদ্ধান্তহীনতা বা অনিশ্চয়তার কিছু নেই; পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিতে থাকবে।’
কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা আক্তার জানান, তার স্কুলে প্রতি বছর পঞ্চম শ্রেণীতে ১২০ জনের এবং ষষ্ঠ শ্রেণীতে ২৪০ জনের বিপরীতে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে। অন্যান্য স্কুলেও এ রকম হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবার ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ। স্কুল বন্ধ থাকায় তারা ঘরে বসেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। যত দ্রুত পরীক্ষার সময় জানতে পারবে, ততই তাদের উপকার হবে। তবে পরীক্ষা যখনই হোক, সবাই যেন প্রস্তুতি নেয়।
জানা গেছে, ফয়জুন্নেছা স্কুলেও ফিবছর তৃতীয় শ্রেণীতে ১২০ এবং ষষ্ঠ শ্রেণীতে ১২০ জনের বিপরীতে ২ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেয়। এছাড়া শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ৮৫টি এবং ৯ম শ্রেণীতে খালি সিটের বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এবার স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও কুমিল্লার অভিভাবকদের মধ্যে রয়েছে নানান জল্পনা-কল্পনা ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কেউ বলছেন, এবার ভর্তি পরীক্ষা হবে অনলাইনে স্কুলভিত্তিক; আবার কেউ বলছেন অনলাইনে সামগ্রিকভাবে জুম অ্যাপসে পরীক্ষা নেয়া হবে। কোথাও আবার শোনা যাচ্ছে, লটারির মাধ্যমে পিএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যম লটারি করে নেয়া হবে। এমন নানান তথ্যের ভিড়ে হাবুডুবু খাচ্ছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবক কালীপদ দেবনাথ বলেন, ‘কত রকম কথা কত দিক থেকে শুনছি আর অবাক হচ্ছি। আমার ছোট ভাই পরীক্ষা দেবে। তবে যেহেতু সবাই ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেবে, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভেন্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হলে সেটাই ভালো হবে।’
অরেক অভিভাবক কামরুন্নেছা বলেন, ‘আমার মেয়ে ফয়জুন্নেছা স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা দেবে। অন্যান্য বছর তো সময়ের টার্গেট নিয়ে বাচ্চারা পড়তে পারে। এবার সময়ই জানতে পারছি না; কবে যে পরীক্ষা হবে তাও বুঝতে পারছি না। সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত দিলে খুব ভালো হবে।’
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ কে এম এমদাদুল হক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, খুব শিগগিরই ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত আসবে। পরীক্ষার্থীরা যেন বিগত বছরের পদ্ধতিতেই প্রস্তুতি নিতে থাকে। নতুন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন হলে সেটা অবশ্যই জানানো হবে। এ নিয়ে অভিভাবকদের সন্দিগ্ধ হবার কিছু নেই।’
প্রতি বছরেই যেসব স্কুল ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে আগ্রহী হয়, তাদের পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করে থাকে জেলা প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে গত বছরও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ বছরও সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একটি নীতিমালায় পরীক্ষা পদ্ধতি সংক্রান্ত তথ্যে ৬-এর ২ ধারায় বলা হয়েছে, ২য়-৮ম শ্রেণীর শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নবম শ্রেণীর ক্ষেত্রে জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের প্রস্তুতকৃত মেধাক্রম অনুসারে নিজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পর অবশিষ্ট শূন্য আসনে অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য কমিটি কর্তৃক বাছাই করতে হবে। অবশ্য গ্রুপ গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারবে।  
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, কুমিল্লা জিলা স্কুল, নবাব ফয়জুন্নেছাসহ যেসব স্কুল ভর্তি পরীক্ষায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চায়, আমরা সেগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের চেষ্টা করি। এবার যেহেতু এখনো পর্যন্ত স্কুলই বন্ধ, তাছাড়া কোনো সরকারি সিদ্ধান্তও এখনো আসেনি, তাই নিশ্চয়তা দিয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।








সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};