ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
358
ইউরোপের মোহে এক বিস্ময়কর যাত্রা!
Published : Saturday, 24 October, 2020 at 6:04 PM
 ইউরোপের মোহে এক বিস্ময়কর যাত্রা!প্রবাস ডেস্ক ||
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার যুবক মো. শহীদ তাঁতের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু যে আয় তাতে পরিবারের দুঃখ-কষ্ট যেন শেষ হয় না।

অবশেষে দালালের প্রলোভনে পড়ে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রথমে মালয়েশিয়ায়, পরে ইরাক। কোথাও ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো না তার। ইরাকে আরেক বাংলাদেশি দালাল তাকে স্বপ্ন দেখালেন ইউরোপের। জীবনের সব সাফল্য নাকি সেখানেই। শুরু হলো এক বিস্ময়কর যাত্রা। তুরুস্ক-গ্রিস-ক্রোয়েশিয়া-সার্বিয়া-অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানি পৌঁছালেন শহীদ। কিন্তু সেখানে গিয়েই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার। আড়াই বছর আগে দেশে ফিরলেও ঘোর কাটেনি শহীদের।

কুমিল্লার চান্দিনার মো. শাহীনের গল্পটাও একই রকম। সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ওমান-ইরান-তুরস্ক-গ্রিস-মেসিডেনিয়া-সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া-হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানি গিয়েছিলেন।

নাটোরের আবু বকর ২০০৭ সালে গিয়েছিলেন দুবাই। সেখান থেকে ওমান-ইরান-তুরস্ক হয়ে গ্রিস। সেখানে ভাগ্য বদলাতে না পেরে সার্বিয়া-হাঙ্গেরি-অষ্ট্রিয়া হয়ে জার্মানি। কিন্তু হঠাৎ একদিন পুলিশ তাদের ধরে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

ক্রোয়েশিয়া হয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে বসনিয়ার জঙ্গলে কয়েকশ’ বাংলাদেশির আটকা পড়ার খবর দেখে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া হয়ে শহীদ-বকরদের জার্মানি পৌঁছানোর গল্পগুলো পড়ছিলাম। শহীদ-বকর-শাহীন তিনজনই জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা-আইওএম ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহায়তায় ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বাংলাদেশে।

বসনিয়ায় আটক মানুষের গল্পগুলো ঠিক তাদেরই মতো। আরও কতো শত মানুষ যে ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্নে কতো জায়গায় এভাবে আটকা পড়ে আছেন কে জানে!

ডয়চে ভেলের সাক্ষাৎকারগুলো শুনছিলাম। গল্পগুলো ভীষণ চেনা। আবার পাহাড়ের ঢালের কয়েকশ’ বাংলাদেশির অবস্থান, তীব্র শীত, খাবারের অভাব, পানির সংকটে অমানবিক জীবনযাপন সেগুলোও অচেনা নয়। শুধু যে ইউরোপে এমনটা হচ্ছে তা নয়, এই তো বছর পাঁচেক আগে ২০১৫ সালে সাগরপথ দিয়ে হাজারো মানুষ একইভাবে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে গিয়ে একই সংকটে পড়ে৷ উদ্ধার করা হয় গণকবর৷ সাংবাদিক হিসেবে সেসব দেখার স্মৃতি ভুলবো কী করে।

বিদেশে যাওয়ার জন্য এমন প্রাণহানি বা বন্দিদশা তো নিয়মিত ঘটনা। এই তো এ বছরেরই ২৮ মে লিবিয়ার মিজদায় মানব পাচারকারীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন ২৬ বাংলাদেশি যারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। মাসখানেক পরেই জুলাইতে জানা গেল, মেসিডোনিয়ায় গ্রিস সীমান্তের কাছে পুলিশ একটি ট্রাক থেকে ২১১ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে যার মধ্যে ১৪৪ জনই বাংলাদেশি।

না এখানেই শেষ নয়। সেপ্টেম্বরে আরেক খবর। মধ্য ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়াতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ১১৩ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে যার মধ্যে ৫২ জনই বাংলাদেশি। এই তালিকার সর্বশেষ খবর, বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসার একটি জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েকশো বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শরণার্থীরা।

ডয়চে ভেলে তাদের সাক্ষাৎকারসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেগুলো দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, এই যে বন-জঙ্গল, সাগরপথ দিয়ে ইউরোপের স্বপ্নে বাংলাদেশিদের ভয়ঙ্কর এক যাত্রা, এগুলো কি কোনদিন শেষ হবে না?

সাংবাদিকতায় একযুগেরও বেশি সময় ধরে অভিবাসন ও মানবপাচার নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন করতে হয়েছে। গত চার বছর ধরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নিয়মিতই ইউরোপ ফেরতদের এইসব ঘটনা শুনতে হচ্ছে। একটা নয়, দুটো নয়, শত শত ঘটনা। প্রাণহাণির খবর তো আছেই।

এই তো গত বছরের মে মাসেই ইউরোপে যাওয়ার সময় ৩৯ বাংলাদেশি সাগরে ডুবে মারা গেলেন। এর এক মাস পরেই জানা গেল, ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় ৬৪ জন বাংলাদেশি ১৪ দিন ধরে তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকায় ভাসছেন। এসব খবর কি কখনো বন্ধ হবে না?

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর দিয়ে যত মানুষ ইউরোপে প্রবেশ করার চেষ্টা করছেন, সেই তালিকায় গত চার বছর ধরে সবসময় শীর্ষ দশে থাকছে বাংলাদেশ। এ বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এই সময়ে অন্তত তিন হাজার ৪৫৫ জন বাংলাদেশি এভাবে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা বাকি দেশগুলোর নাম শুনবেন? বাংলাদেশের আগে আছে তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া। এরপরে আছে আফগানিস্তান, সিরিয়া, মরক্কো, মালি, আইভরি কোস্ট ও গায়ানা। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন আফ্রিকা বা যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান বা সিরিয়ার নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশিরাও এভাবে সাগর পাড়ি দিচ্ছেন? বাংলাদেশে তো কোন যুদ্ধ নেই, অর্থনৈতিক অবস্থাও এতো খারাপ নয়। তাহলে কেন এমন যাত্রা?

লিবিয়া থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে ধরা পড়ে গ্রেপ্তার হয়ে নানা সময় দেশে ফিরেছেন এমন অনেক বাংলাদেশিদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা প্রত্যেকেই বলেছেন, ইতালি বা ইউরোপে যাবার স্বপ্নে তারা এভাবে সাগর পাড়ি দিয়েছেন। কারণ তারা ভেবেছিলেন, ইউরোপে গেলেই তাদের জীবনের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করে ফ্রন্টেক্স নামের একটি সংগঠন। ২০১৫ সাল থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। তাদের তথ্য বলছে, ইউরোপে এখন যেসব দেশের লোকজন বেশি ঢোকার চেষ্টা করছে তার মধ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলদেশি রয়েছেন। তারা বলছে, মোট নয়টি রুট দিয়ে লোকজন ইউরোপে প্রবেশ করে। এর মধ্যে বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে সেন্ট্রাল মেডিটেরিয়ান রুট, মানে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালি।

ফ্রন্টেক্স-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সেন্ট্রাল মেডিটেরিয়ান রুট দিয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে ৩২ হাজার ৬৭৪ জন বাংলাদেশি গ্রেফতার হয়েছেন। এছাড়া ইস্টার্ন মেডিটেরিয়ানের স্থলপথ রুট দিয়ে ১২ হাজার ৩৮০ জন এবং সাগরপথ দিয়ে চার হাজার ৮৪৪ জন এবং পশ্চিম বলকান দিয়ে ৬ হাজার ১৭৬ জন ইউরোপে প্রবেশ করেছেন।

বাংলাদেশিরা মূলত ইউরোপে যাওয়ার জন্য ভূমধ্যসাগর বা সেন্ট্রাল মেডিটেরিয়ান রুটই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। এই রুটে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি গিয়েছেন ২০১৭ সালে, নয় হাজার। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এই প্রবণতা বেশ কমে আসলেও চলতি বছর আবার এই পথে লোকজন ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করছে। গতবছর যেখানে এই পথে ৬৯১ জন বাংলাদেশি এসেছে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত সেখানে আড়াই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবেশ করেছেন।

কিন্তু কেন সবাই লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে চায়? এর কারণ লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিলেই ইউরোপ। আর গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে যুদ্ধ যে অস্থিরতা চলছে সেটাই ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারীরা। বর্তমানে লিবিয়ায় একদিকে জাতিসংঘ স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সেরাজ, আরেকদিকে জেনারেল খলিফা হাফতারের বিদ্রোহী বাহিনী।

নতুন করে হাজার হাজার মানুষ মরেছে। বাস্তুহারা হয়েছে আরও প্রায় দেড় লাখ মানুষ৷ ফের চারিদিকে সংঘাত শুরু হওয়ায় হাজার হাজার অভিবাসী লিবিয়া উপকূল ব্যবহার করে ইউরোপে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশিরাও আছেন সেই মিছিলে।

অবশ্য এই ঘটনা নতুন নয়। গত এক দশক ধরেই চলছে। এই তো ২০১৭ সালের ৫ মে ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট সংবাদ প্রকাশ করল, যার শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশ ইজ নাও দ্য সিঙ্গেল বিগেস্ট কান্ট্রি অব অরিজিন ফর রিফিউজিস অন বোটস এজ নিউরুট টু ইউরোপ এমারজেস’। ওই সংবাদে লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়াসহ ইউরোপে কীভাবে অবৈধ বাংলাদেশিরা প্রবেশ করছে, তার তথ্য তুলে ধরা হয়।৷

অবশ্য লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিবাসী অনুপ্রবেশের উপর নজরদারি চালানোর জন্য ইউরোপের কড়াকড়ির পর এভাবে যাওয়া কিছুটা কমে। কারণ মাঝসমুদ্রে কোনও শরণার্থীদের নৌকা নজরে এলেই সেটিকে আটক করার নির্দেশ পায় লিবিয়ার বাহিনী। কিন্তু ফ্রন্টেক্স বলছে, সমুদ্রপথ দিয়ে ইউরোপে যাওয়া যখনই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলে তখন বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা স্থলপথ দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন। আর এক্ষেত্রে এখন জনপ্রিয় হচ্ছে বলকান রুট।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, বলকান দেশগুলোকে ঘিরে বর্তমানে ইউরোপে মানবপাচারের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। পায়ে হেঁটে, ঘন বন-জঙ্গল পাড়ি দিয়ে কিংবা পাহাড় বেয়ে এমনকি, খরস্রোতা নদীতে সাঁতার কেটে রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারের সীমানা ডিঙিয়ে অনেকে স্বপ্নের ইউরোপে পা রাখতে চান।

আলবেনিয়া, বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনা, মেসিডোনিয়া, মন্টিনিগ্রো, গ্রিস, কসোভো, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া ও হাঙ্গেরির সামান্য অংশ নিয়ে বলকান অঞ্চল। এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গমস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এটিকে ইউরোপের প্রবেশদ্বার বলা হয়।

উদ্ধার হয়ে গত কয়েক বছরে দেশে ফিরে আসা লোকজন বলছেন, মানবপাচারকারীরা এখন গ্রিস থেকে মেসিডোনিয়া হয়ে কিংবা গ্রিস থেকে আলবেনিয়া- কসোভো, মন্টেনেগ্রো, বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনা হয়ে সার্বিয়াতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সার্বিয়া থেকে ইটালি, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ শেনজেনের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা চলে। আবার হাঙ্গেরির সঙ্গে সার্বিয়ার সীমান্ত রয়েছে। সার্বিয়া থেকে ক্রোয়েশিয়া হয়ে স্লোভেনিয়া যাওয়া যায়। এছাড়াও, বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনা কিংবা মন্টেনেগ্রো থেকে ক্রোয়েশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া থেকে স্লোভেনিয়া হয়ে অনেকে শেনজেন রাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করেন।

সাগরপথে হোক কিংবা স্থলপথে, ঝুঁকি নিয়ে এভাবে ইউরোপে যাওয়াকে পাচারকারীরা বলে থাকেন ‘গেম’। এই গেমের জন্য লিবিয়ায় রীতিমত প্রশিক্ষণ চলে কীভাবে সাগরপড়ি দিতে হবে। যাওয়ার আগে আবার দিতে হয় টাকা। এই টাকা আদায়ে জিম্মি করা বা নিপীড়নের ঘটনা ঘটে নিয়মিত। আর প্রাণহাণি তো আছেই।

এই তো ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট সমুদ্র পাড়ি দিয়ে লিবিয়া যাওয়ার পথে ২৪ জন বাংলাদেশিসহ ১১৮ জনের মৃত্যু হয়। কোস্টগার্ড একটি ট্রলারের পাটাতনের নিচ থেকে উদ্ধার হয় অর্ধশত লাশ। ইঞ্জিনের গরমে ও শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছিলেন ওই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া রুবেল শেখ।

সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বা অবৈধভাবে ইউরোপে এসে বাংলাদেশিরা যেমন কাজ করছেন তেমনি আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যাও কম নয়। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য বলছে, গতে দুই যুগে লাখখানেকেরও বেশি বাংলাদেশি ইউরোপে আশ্রয় চেয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আশ্রয়প্রার্থী ফ্রান্সে। এরপর ইতালি, গ্রিস, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি।

ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান দফতর ইউরোস্ট্যাট-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ইউরোপের দেশগুলোতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। এই বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে না নিলে ভিসা বন্ধের হুমকিও দিয়েছিল ইউরোপ। পরে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং ইইউ-র অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী ইউরোপ থেকে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

ফেরত আসা এই মানুষগুলোর জীবন যেন থমকে না যায়, সেজন্য দেশে ফেরত আসার পর তাদের পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগও নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আইওএম-এর সঙ্গে বাংলাদেশে সেই কাজটি এখন করছে ব্র্যাক। অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান হিসেবে ফিরে আসা এই মানুষগুলোর জীবনের গল্প শুনছি অব্যাহতভাবে। সাংবাদিক হিসেবে যে গল্প শোনার শুরু সেটা যেন আর শেষ হওয়ার নয়।

ইউরোপে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে ফেরত আসা হাজারখানেক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছি আমরা। এদের বেশিরভাগই গিয়েছেন জার্মানি, ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, সাইপ্রাস কিংবা অষ্ট্রিয়াতে। আর ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে লিবিয়ায় গ্রেফতার এমন আরও অন্তত সাড়ে পাঁচশো মানুষের গল্প আমাদের কাছে আছে।

যারা এভাবে ইউরোপ পাড়ি দেয় তাদের বয়স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখেছি ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি থাকে। এদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ। এরপর থাকে ৩৬ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা। এদের সংখ্যা ২১ শতাংশ। এরপর থাকে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা যাদের সংখ্যা ১৭ শতাংশ এবং ৪১ থেকে ৪৫ বছর বয়সীরা ১৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ থেকে প্রথমে আকাশপথ, এরপর কখনো স্থলপথ কখনো বা সমুদ্রপথ ব্যবহার করে তারা ইউরোপে প্রবেশ করে। এভাবে ইউরোপে যাওয়ার জন্য তিন থেকে ২০ লাখ টাকা পযর্ন্ত খরচ হয়। কিন্তু কেন এত লোক এভাবে ইউরোপে যাচ্ছেন? শুধুই কি ভাগ্য অন্বেষণ, নাকি যে কোনোভাবে বিদেশে যাওয়ার নেশা?

ইউরোপ ফেরত প্রত্যেককে এই প্রশ্নটা করেছি। প্রায় সবাই বলেছেন, প্রথমত বিদেশ এবং এরপর ইউরোপ। দালালদের প্রলোভন, ইউরোপে থাকা স্বজনদের আশ্বাস তাদের মোহগ্রস্ত করে ফেলে। এর মধ্যে অনেকেই আছেন যারা মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে সফল হতে পারেননি। তারা তখন আরও মরিয়া হয়ে ইউরোপ যান। প্রত্যেকেই ভাবেন, ইউরোপে গেলেই ভাগ্য ফিরবে।

এই প্রবাসীরা বলছেন, যারা গ্রেফতার হন তারা কেউ দেশে আসতে চান না। কারণ তারা মনে করেন দেশে ফিরলে পরিবার তাদেরই দায়ী করবে কারণ তারা একেকজন অনেক টাকা খরচ করে বিদেশে গেছেন। ফলে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনাও কঠিন। বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে যোগ দিতে যাওয়া নতুন শ্রম কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২১ অক্টোবরের বৈঠকেও এই চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক নজরুল ইসলাম।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম তরুণদের মধ্যে যে জরিপ করেছে, তাতে দেখা গেছে আরও ভালো জীবনযাপন এবং পেশার উন্নতির জন্য বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৮২ শতাংশ তরুণই নিজের দেশ ছেড়ে চলে যেতে চান। এসব তরুণ মনে করেন না যে নিজের দেশে তাদের ভবিষ্যৎ আছে। অবশ্য বাংলাদেশ থেকে লোকজনের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা নতুন নয়।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর, এই সময় এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি বৈধভাবে বিদেশে গেছেন যার ৭৫ শতাংশই আছেন মধ্যপ্রাচ্যে। বছরে এখন ১৮ বিলিয়িনেরও বেশি ডলারের প্রবাসী আয় আসছে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের ধারণা, বিদেশ গেলেই ভাগ্য বদলে যায়। এ কারণেই লোকজন আরও বেশি বিদেশে যাচ্ছেন। কিন্তু তাই বলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে?

এই যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে, যাদের জিডিপি বাড়ছে সেই বাংলাদেশের লোক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান বা সিরিয়ার লোকদের সঙ্গে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে মরছে সেটা এক জটিল প্রশ্ন। অভিবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো বৈঠকে গেলেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আসেন সবাই।

এই তো এ বছরের মার্চেই অনিয়মিত পন্থায় প্রবেশ বন্ধসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কীভাবে দেশে ফেরত পাঠানো যায় তা নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোর বৈঠক হয়ে গেল। ইউরোপের সব দেশের প্রতিনিধিরা সেখানে ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমিও ছিলাম সেই বৈঠকে।

ওই বৈঠকে অনেকেই জানতে চায়, বাংলাদেশিরা কেন এভাবে মরিয়া হয়ে ইউরোপে আসছে? কেন এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে? উত্তর বোধহয় একটাই, ইউরোপের মোহ। ইউরোপের পাগলামি। কোভিড মহামারির সংকটে কারণে স্বাভাবিকভাবে বৈদেশিক কর্মসংস্থান যেখানে বাধাগ্রস্ত সেখানে সামনের দিনগুলোতে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে।

এখন কথা হলো কী করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব? তিনটি উপায় হতে পারে৷ প্রথমত, আমার দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি যারা এভাবে ইউরোপে যাচ্ছেন তারা জেনেশুনে যাচ্ছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও জেনে শুনে টাকা দিচ্ছেন। দালালদের লোভনীয় প্রস্তাবে তারা রাজি হয়ে যান। এরপর তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে বড় মাপের মুক্তিপণ আদায় করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পাচার চক্র৷ বারবার ভূমধ্যসাগরে সলিলসমাধি অথবা পাচারকারীদের হাতে মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও আমাদরে টনক নড়ে না।

অথচ, সবার আগে ব্যক্তিকেই সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে এটি কোন স্বপ্নযাত্রা নয়, বরং মরণযাত্রা। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে যেতে গিয়ে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। আর বেঁচে থাকলেও ধরা পড়ে যেতে হবে জেলে। কাজেই সবার আগে মানুষগুলোকে সচেতন করতে হবে।

কেউ কেউ ভাবতে পারেন ইউরোপে পৌঁছে গেলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। অনেক বাংলাদেশিরই জানা নেই, ইউরোপের পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। ইউরোপ এখন আর অবৈধভাবে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিতে রাজি নয়। কাগজপত্রহীন মানুষগুলোকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে।

কাজেই ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৌঁছাতে পারলেও প্রাপ্তি শূন্য। এই তো এ বছরের মার্চের বৈঠকে ইউরোপের দেশগুলো পরিস্কার করে বলেছে, কেউ যদি মনে করে অবৈধভাবে প্রবেশ করা তার অধিকার তবে তার মনে রাখা উচিত অবৈধভাবে আসাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটাও প্রতিটা রাষ্ট্রের অধিকার৷ কাজেই সবার সচেতন হওয়া জরুরি।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো রাষ্ট্রের। ব্যক্তি ও পরিবারকে যেমন সচেতন হতে হবে তেমনি রাষ্ট্রকেও দেশের ভেতর গড়ে ওঠা মানবপাচার চক্রগুলোকে ভাঙতে হবে। দেশের সব জেলার লোক এভাবে মরিয়া হয়ে ইউরোপ যায় না। মূলত বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ একটা এলাকা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি এলাকা এবং মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকার লোকজন এভাবে ইউরোপে যায়। কাজেই এই এলাকার স্থানীয় দালাল ও মানবপাচার চক্রকে চিহ্নিত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বাংলাদেশকেই।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ার ঘটনার পর ২৬টি মামলায় প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সিআইডি ছাড়াও মানবপাচারকারীদের গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে থানা-পুলিশ, র্যাব ও ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ পর্যন্ত ৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’একজন ছাড়া বাকি সবাই দেশীয় দালাল চক্রের সদস্য। মুক্তিপণ আদায়কারীদের মদদপুষ্ট বা নেপথ্যে থেকে মানবপাচারকারীদের যারা সাহায্য করছে তারা সবসময়ই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের ধরতে হবে।

তৃতীয় বিষয়টি হলো আন্তর্জাতিক। বাংলাদেশ থেকে আরম্ভ করে এশিয়া কিংবা দুবাইতে একটি আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র গড়ে উঠেছে যাদের রয়েছে সুবিশাল নেটওয়ার্ক। লিবিয়ায় একটি পাচারকারী চক্র রয়েছে যেখানে অনেক বাংলাদেশিও রয়েছেন। তাদের নামগেুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জানা। তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে আন্তর্জাতিকভাবে। আবার লিবিয়া হোক কিংবা বলকান অঞ্চলের দেশগুলা, এখানে স্থানীয় প্রশাসনের দুর্নীতিপরায়ণতার কারণেই মানব পাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবেই সক্রিয় হতে হবে।

লেখাটা শেষ করতে গিয়ে মনে পড়ছে মোহাম্মদ সাইদুলের কথাগুলো। ঢাকার কেরানীগঞ্জের তরুণ সাইদুলের বহুদিনের ইচ্ছে বিদেশে যাবেন। রাজমিস্ত্রির কাজ নিয়ে ২০১১ সালে তিনি দুবাই যান। সেখান থেকে ওমান হয়ে ইরান। ইরান থেকে তুরস্ক যাওয়ার পথে অপহৃত হন। তুরস্ক থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় চোখের সামনে তিনি অনেককে সাগরে ডুবে যেতে দেখেন।

বহুদিন সেই দুঃসপ্ন তাকে তাড়া করে বেড়াত। গ্রিস থেকে মেসিডোনিয়া-সার্বিয়া-বসনিয়া হয়ে ক্রোয়েশিয়া-অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানি গিয়ে গ্রেফতার হন। সাইদুল আমাকে বারবার বলছিলেন, ‘সাগরপথ বা পাহাড়-জঙ্গলে আমি অনেক বাংলাদেশিকে চোখের সামনে মরে যেতে দেখেছি। উদ্বাস্তু শিবিরে শত শত বাংলাদেশি। সবার কাছে আমার আকুতি এভাবে যেন আর কেউ ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা না করেন।’

ইউএনএইচসিআরের তথ্য দিয়েই শেষ করি। তারা বলছে, ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২১ লাখ মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছেন। এভাবে সাগরপথ পাড়ি দিতে গিয়ে এই সময়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে অনেক বাংলাদেশি রয়েছেন।

শুধু সমুদ্রপথ নয়, দুর্গম মরুপথে, তুষারপথে ও বনজঙ্গল পার হয়ে এভাবে ইউরোপে যেতে গিয়ে অনেকে বন্দি হন। প্রাণ হারান। কাজেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে বিদেশে যাওয়া বন্ধ করতেই হবে। প্রশ্ন হলো কবে থামবে? আর কত মানুষের প্রাণ গেলে হুঁশ ফিরবে আমাদের? এই মরণযাত্রা আমাদের থামাতেই হবে। বসনিয়ার জঙ্গল হোক কিংবা ভূমধ্যসাগরে, সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশিদের এই বিপদজনক যাত্রা বন্ধ করতেই হবে।

সূত্র: ডিডাব্লিউ





সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};