ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
2527
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি
খন্দকার মোশাররফ, ছেলে মারুফ এমনকি প্রার্থীও ভোট দিতে যাননি!
Published : Thursday, 22 October, 2020 at 12:00 AM, Update: 22.10.2020 2:17:49 AM
খন্দকার মোশাররফ, ছেলে মারুফ এমনকি প্রার্থীও ভোট দিতে যাননি!নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেখা মেলেনি বিএনপির শীর্ষ ও স্থানীয় নেতাদের। ভোট দিতেও আসেননি তারা। এমনকি কর্মীদেরও দেখা মেলেনি দাউদকান্দির কোনো ভোটকেন্দ্রে। বিএনপির শীর্ষ ও স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, কাজের ব্যস্ততায় এবং অসুস্থ থাকার কারণে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যেতে পারেননি তারা। নেতাদের কেউ বলেছেন, ভোট দিতে যাওয়ার পথে শুনেছেন বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, সে কারণে ভোট দিতে যাননি। সেই সাথে তারা অভিযোগ করেছেন, আগের দিন রাতে গ্রামে গ্রামে গিয়ে কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই দাউদকান্দিতে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থীকে হারাতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে।বিএনপি নেতারা আরো অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাচনে দাউদকান্দির প্রতিটি কেন্দ্রই ছিল ফাঁকা অথচ ভাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৪৯৩ ভোটের মধ্যে গৃহীত ২৯০০ ভোটের ২৯০০টিই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মেজর অব. মোহাম্মদ আলী সুমন পেয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী একটি ভোটও পাননি।
বিএনপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেজর অব. মোহাম্মদ আলী সুমন বলেছেন, ‘বিএনপি জানতো আমিই পাস করবো। ভোটাররাও জানে বিএনপির প্রার্থী দুর্বল। বিএনপির নেতাকর্মীরাও তাই আমার পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। করোনার সময়ও বিএনপির কেউ মাঠে ছিল না। তাই ভোটাররা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। সবচেয়ে বড় কথা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে তৃণমূলের নেতৃত্বের বড় দূরত্ব রয়েছে। সেটিই আমারর বিজয়ের অন্যতম কারণ।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিতে আসেননি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ভোট দিতে আসেননি তাঁর ছেলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও একই এলাকায় বিএনপির ভবিষ্যৎ কা-ারী ব্যারিস্টার ড. খন্দকার মারুফ হোসেনও। এমনকি এলাকায় আসেননি দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম সামছুল হক, সাধারণ সম্পাদক মো: আবুল হাসেম। এছাড়াও সদ্য ঘোষিত উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো: শাহ আলম সরকারসহ দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের সময় পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে বিস্ময়ের হচ্ছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মো: সাইফুল আলম ভূঁইয়া নিজেও কোনো কেন্দ্র পরিদর্শনে যাননি। তবে সুনিদিষ্ট ও দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ ছাড়া দুপুর ১২টায় তিনি নির্বাচন বর্জন ঘোষণা করেন। ওই সময়ে দলীয় কোনো নেতাকর্মী ছিল না তার সাথে। অনেকটা গোপনেই তিনি ঢাকায় চলে যান।
জানা গেছে, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: রুহুল আমিনকেও প্রচার প্রচারণায় তেমন দেখা যায়নি। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা যুবদল থেকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার ছিলেন। সম্প্রতি উপজেলা যুবদলের কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল। নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিনসহ বিএনপির তিন প্রার্থী একেবারেই নীরবে কিছুটা লোক দেখানো গনসংযোগ করেছেন। পাশে ছিলেন না দলের সিনিয়র কোনো নেতা।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন আহমেদকে আহবায়ক এবং দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি মো: জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্য সচিব করা হয়। তারা কিছু স্থানে গণসংযোগ করেছেন মাত্র।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বাদে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মাঝে কোনো আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রই ছিল ফাঁকা। যারা ভোট দিতে এসেছিলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন দাউদকান্দির বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী। ভোট চলাকালে বেলা ১২টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী সাইফুল আলম ভূঁইয়া ‘কারচুপি’র অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
নির্বাচনে মালিগাঁও ও বাজারখোলা কেন্দ্রে দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীদের কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারা ও ব্যালট ছিনতাইসহ নানা অভিযোগে এ ২টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার এজেন্ট ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তবে উপজেলার ১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেছেন, দুটি ভোটকেন্দ্র ছাড়া অন্য কেন্দ্রে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।
জানা গেছে, দাউদকান্দির ভাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ৩৪৯৩ ভোটের মধ্যে ২৯০০ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ২৯০০ ভোটই বিজয়ী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মেজর অব. মোহাম্মদ আলী সুমন পেয়েছেন।
এটি কিভাবে সম্ভবÑ প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম মিয়াজী ২৯০০ ভোটের মধ্যে নৌকা ২৯০০ পেয়েছে স্বীকার করে জানান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থী ৩ ভোট পেয়েছে।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন অবশ্য বলছেন, নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর তিনি এমন একটি কথা শুনেছেন। কিন্তু কেউ তার কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। ফলাফল ঘোষণা হয়েছে গেছে; এখনও এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে ভাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রদত্ত ২৯০০ ভোটের মধ্যে ২৯০০ ভোটই নৌকা পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে নির্বাচন কেমন হয়েছে তা বুঝে নিতে বলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। কুমিল্লার কাগজকে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টে তিনি প্র্যাকটিস করেন। মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ছিল। সে কারণে তিনি ভোট দিতে আসেননি। কিন্তু ভোট দিতে আসার ইচ্ছা ছিল।’
তাঁর পিতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কেন আসেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে তিনি (ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন) বের হন কম। যেহেতু তিনি ৭৫ বছর বয়স্ক, সেহেতু তার ঝুঁকি বেশি। চিকিৎসকের নির্দেশনার কারণে তিনি বের হননি। চিকিৎসক বলেছেন, জনগণের ভিড় যেখানে বেশি সেখানে না যাওয়ার জন্য।
নামে মাত্র নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মারুফ জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন করার জন্য অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনের দিন দাউদকান্দির প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। রাতে থেকে বিভিন্ন গ্রামে বাড়িঘরে গিয়ে হুমকি ধমকি দেওয়া হয়েছেÑ কেউ যেন কেন্দ্র উপস্থিত না হয়। ভোটারদের হুমকি ধমকি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে ভোটারই ছিল না।
ব্যারিস্টার ড. খন্দকার মারুফ হোসেন আরো অভিযোগ করে বলেন, ভাউরিয়া ভোট কেন্দ্রে ২৯০০ ভোট পড়েছে সেই ২৯০০টি ভোটই নৌকা পেয়েছে। বিষয়টা তো এমন না; গত সংসদ নির্বাচনে ৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬০ কেন্দ্রে বিএনপি পাস করেছে। ভাউরিয়া কেন্দ্রেও অনেক ভোটে পাস করেছে বিএনপি। ভোট ডাকাতির নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে যায়নি। এ ভোটের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই। যেখানে ভোটারই যায়নি সেখানে ২৯০০ ভোটের সবগুলো ওরা পায় কিভাবে?
দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম সামছুল হক জানান, তিনি  ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। চলাফেরায়ও সমস্যা আছে। তারপরও ভোট দিতে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথে শুনেছেন, বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছে, সে কারণে আর ভোট দিতে যাননি।
একই কথা বলেছেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আবুল হাসেমও। তিনি জানান, তিনি অসুস্থ। ঢাকায় আছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা কেন ভোট দিতে যায়নিÑ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু তিনি অসুস্থ ছিলেন, সে কারণে তিনি তা বলতে পারছেন না।
চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মেজর অব. মোহাম্মদ আলী সুমন দৃঢ়তার সাথে বলেন, তার বিজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি মাঠে নামেনি। তারা পোলিং এজেন্টও দেয়নি। কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তৃণমূলের নেতাদের অনেক দূরত্ব। তাদের কারো প্রতি কারো আস্থা নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে মানুষ কম গেছে তা স্বাভাবিক। কারণ মানুষ জানে মেজর অব. মোহাম্মদ আলী সুমন পাস করবে। বিএনপির প্রার্থী খুবই দুর্বল প্রার্থী। বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার পক্ষেই ভোট দিয়েছে। ভোট তো খারাপ হয়নি। ৬০ ভাগ ভোট হয়েছে। আমেরিকায় ভোট হয় ৪০ ভাগ। দাউদকান্দিতে ৬০ ভাগ ভোট হয়েছে, তা তো খারাপ না।
তিনি জানান, ধানের শীষের প্রার্থী নিজেও ভোট দেয়নি। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নিজের কেন্দ্রে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর কেন্দ্রেও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এর কারণ করোনার সময়ে তারা কেউ এলাকায় ছিলো না। মানুষ তাদের উপর ক্ষুব্ধ। বিএনপির অর্ধেক কর্মী সমর্থক আমার সাথে চলে এসেছেন। বাকি অর্ধেকও চলে আসবে।
ভাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ২৯০০ ভোট পাওয়া নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আমার জানা নেই।
অপর দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো: সাইফুল আলম ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ভোট দিয়েছেন কি না তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি সাংবাদিকদেরও এড়িয়ে চলেছেন নির্বাচনের সময়ে।





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};