ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
159
ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি চান কুমিল্লাবাসী
Published : Thursday, 1 October, 2020 at 12:00 AM
তানভীর দিপু: একের পর এক ধর্ষণকা- ঘটেই চলছে কুমিল্লায়। গত ১৫দিনে অন্তত ৩টি রোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে জেলের বিভিন্ন উপজেলায়। এসব ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে। দাবি উঠেছে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার। গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কুমিল্লায় চলন্ত বাসে এক তরুণীকে গণধর্ষণ, চাকরির প্রলোভনে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে তিনদিন হোটেলে আটকে রেখে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ এবং সবশেষ বরুড়ায় এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। 
পরপর ধর্ষণের ঘটনায় আতংকিত অভিভাবকরা। সমাজকর্মীরা মনে করেন, অভিযুক্তরা পুলিশের হাতে ধরা পরলেও দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় এধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটেই যাচ্ছে। এছাড়া ধর্ষকদের সাথে সাথে যারা ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তারা।
কুমিল্লায় তিশা পরিবহনের চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণ ও চাকরির প্রলোভনে তিনদিন হোটেলে আটকে রেখে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বরুড়া উপজেলায় আরো একটি ধর্ষণকা-ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লার বরুড়ায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিবন্ধী এক তরুণী। আর ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিশের নামে তরুণীর বাবার কাছ থেকে ¯ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে ইমাম হোসেন নামে একজনকে আসামি করে বরুড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ইমাম হোসেন বরুড়া উপজেলার শীলমুড়ি উত্তর ইউনিয়নের লগ্নসার গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে মামলা দায়ের হলেও বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার কিংবা তরুণীর বাবার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়া স্ট্যাম্পটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
এর আগে চাকরির সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে ফেরার পথে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে চলন্ত বাসে গণর্ধষণের শিকার হন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার এক তরুণী। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে মামলা করলে ‘তিশা’ পরিবহনের চালক ও এক সহকারীকে আটক করে পুলিশ। অভিযুক্ত আরেকজন (বাসের সুপারভাইজার) পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনার তিনদিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলার নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে কক্সবাজারে নিয়ে তিনদিন হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ২০ সেপ্টেম্বর অসুস্থ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ি পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ধর্ষক। এ ঘটনায় মামলা হলে অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিন নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বরুড়ার শীলমুড়ি উত্তর ইউনিয়নের লগ্নসার গ্রামের ইমাম হোসেন বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে আসছিলো। গত শনিবার রাতেও ইমাম হোসেন তরুণীর বাড়িতে ঢুকলে তার বাবা ইমাম হোসেনকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এলাকার কতিপয় ব্যক্তি সালিশের নামে অর্থের প্রলোভনে তরুণীর বাবার কাছ থেকে ¯ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে ওই তরুণীর বাবা থানায় গিয়ে ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
বরুড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল বাহার জানান, ‘মামলা দায়েরের পর রাতেই ওই তরুণী ও তার বাবার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে টাকা দিবে বলে খালি ¯ট্যাম্পে তরুণীর বাবার কাছ থেকে স্বাক্ষর আদায় করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে এ ঘটনায় কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের (সালিশদার) বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে বরুড়া থানার ওসি সত্যজিত বড়–য়া কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ‘প্রতিবন্ধী বৌদ্ধ তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনাটি সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ট হয়েছে বলে জেনেছি; মামলায়ও তা উল্লেখ আছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। ভিকটিমের ডাক্তারি সম্পন্ন হয়েছে।’
‘অভিযুক্ত ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার ও স্বাক্ষর নেয়া স্টাম্প উদ্ধারের চেষ্টা চলছে’ বলেও জানান তিনি।
কুমিল্লায় পর পর ধর্ষণের ঘটনায় আতংক বিরাজ করছে জনমনে। সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মী এ্যাডভোকেট শহীদুল হক স্বপন জানান, ধর্ষকদের পরিচয় তুলে ধরতে হবে। কোন দোহাই দিয়ে তাদের আড়াল করা যাবে না। ধর্ষনের মত অপরাধকে যারা আড়াল করার চেষ্টা করে সেটাও অপরাধ। যারা সালিশ বা মীমাংসার নামে ধর্ষণ ঢাকার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে আরো সোচ্চার হতে হবে। আর কন্যা সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে।
তিনি আরো জানান, ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণের মত ফৌজদারী অপরাধ নারী নির্যাতন আইনে বিচার ও শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইনগুলোর সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে ধর্ষকের দ্রুত বিচার ও শাস্তি দেয়া গেলেই এই অপরাধ কর্মকান্ড থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
কলেজ শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সাবধানে পথ চলতে হবে। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ধর্ষকরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও অসহায় তরুণী বা নারীদের টার্গেট করে। কোথাও কারো পিছু নেয়ার বা অনিরাপদ মনে করলে এখন জরুরি পরিষেবা নাম্বার ৯৯৯-এ কল করে সহযোগিতা চাইতে পারে। তবে ধর্ষকদের দৃষ্টান্ত মূলক বিচারই সবার কাম্য।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুলকারনাইন জাকি জানান, ধর্ষণ একটি সামাজিকব্যাধি। এসব ধর্ষণের ঘটনা থেকে বাঁচতে তরুণ সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে। তবে যারাই ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকুক তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়ে প্রচার করতে হবে। তাহলে কেউ আর এধরনের অপরাধ করতে সাহস পাবে না। আর কুমিল্লাসহ সারাদেশের সব ধর্ষকদের কঠিন শাস্তি চাই।
সাংস্কৃতিককর্মী ও চাকরিজীবী  আয়শা সিদ্দিকা সুমা জানান, নারীরা আজ কোথায় নিরাপদ? এই নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে? একজন নারী ঘর থেকে বের হয় একটা আতংক নিয়ে। কর্ম েেত্রও নারীরা নিরাপদ না সেখানেও অনেকেই তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে। আমরা চাই নিশ্চয়তা। আজ কিছু হলে আন্দোলন হবে- কতকিছু হবে; কিন্তু সঠিক বিচার কি কেউ পাচ্ছে? এর অন্তরালে এই ধর্ষকদের বাঁচানোর জন্য কেউ কেউ মরিয়া হয়ে উঠে







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};