ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
110
উ-ধা-ও
Published : Tuesday, 15 September, 2020 at 12:00 AM
উ-ধা-ওশান্তিরঞ্জন ভৌমিক ||
আজ থেকে দু’শত বছর আগে (১৮২০) হরিদাস ভূঁইয়া তাঁর বিধবা মাকে নিয়ে দয়াগঞ্জ পিসিমার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। এতদিন পিতার মৃত্যুর পর মামাবাড়িতে থেকেছেন, সামান্য পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু পিতার অঢেল সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও শরিকদের প্রতিহিংসায় নিজ বাড়িতে তেমন যাতায়াত করতে পারেননি। সে যা-হোক দয়াগঞ্জ গ্রামটি হরিদাস ভূঁইয়ার পছন্দ হয়েছে। পিসেমশায় ছিলেন স্কুল শিক্ষক ও গ্রামের মাতব্বর। তাঁর সহায়তায় নিজ বাড়ির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দয়াগঞ্জে বাড়ি নির্মাণ করেন হরিদাস ভূঁইয়া।
   প্রথমে জমি কিনে দুটি পুকুর খনন করেন। পুকুর দুটির মাঝখানে বিস্মৃত জায়গায় মাটি ফেলে উঁচু করে ঘর-দোর নির্মাণ করেন। বাড়ির উত্তর দিকে বনায়ন করেন, পুকুর দুটির পাড়ে ফলাফলাদি গাছ এবং অনেক ধানি জমি ক্রয় করে হরিদাস ভূঁইয়া মাকে নিয়ে সংসার পাতেন। ততদিনে বয়সও প্রায় ত্রিশের কোঠায়। মা উদ্যোগী হয়ে পিসেমশায়ের সহযোগিতায় পুত্রকে বিয়ে দেন। বলতে গেলে সুখের সংসার। দয়াগঞ্জে হরিদাস ভূঁইয়া তখন একজন মান্যিগণ্যি ব্যক্তি।
   হরিদাস ভূঁইয়ার দু’ছেলে-রামচন্দ্র ভূঁইয়া ও কৃষ্ণচন্দ্র ভূঁইয়া, মেয়ে হরসুন্দরী। বয়োক্রমে একসময় হরিদাস ভূঁইয়ার মা স্বর্গবাসিনী হয়েছেন, তিনি (হরিদাস) জীবিত অবস্থায় দু’পুত্রকে বিয়ে দিয়ে সংসার আলাদা করে দেন এবং একসময় পরিণত বয়সে মৃত্যু বরণ করেন।
   রামচন্দ্র ভূঁইয়ার পাঁচ ছেলে-ধনঞ্জয় ভূঁইয়া, গোবিন্দ ভূঁইয়া, বনমালী ভূঁইয়া, ভগবান ভূঁইয়া ও জ্ঞানেন্দ্র ভূঁইয়া। এক মেয়ে বিন্দুবাসিনী বিয়ের পর শ^শুরবাড়ি। ধনঞ্জয় মাধ্যমিক পাশ, শিক্ষক। গোবিন্দ সামান্য পড়াশোনা, কৃষক। বনমালী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে হোমিওপ্যাথ ডাক্তার। ভগবান সামান্য পড়াশোনা, বিয়ে করে ঘরজামাই, শ^শুর বাড়ি। জ্ঞানেন্দ্র মাধ্যমিক পাশ ও গুরুট্রেনিং নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
   ধনঞ্জয় মাস্টারের তিন ছেলে-অবনীমোহন, রাসমোহন ও প্যারীমোহন এবং দু’কন্যা। গোবিন্দের দুই ছেলে-মহানন্দ ও ভাস্করানন্দ এবং তিন কন্যা। বনমালী ডাক্তারের চার ছেলে-প্রমোদ, ধীরেন্দ্র, নিগমানন্দ ও পুলিন এবং এককন্যা। ভগবানের দু’কন্যা। জ্ঞানেন্দ্র মাস্টারের দু’ছেলে-নিখিল ও পবিত্র এবং তিন কন্যা। অবনী মোহনের চারপুত্র ও এককন্যা, রাসমোহনের তিন পুত্র ও দুই কন্যা, প্যারীমোহন সংসারত্যাগী সন্ন্যাসী। মহানন্দের তিন ছেলে, ভাস্করানন্দের দু’ছেলে ও ছয় মেয়ে। প্রমোদের চার ছেলে ও এক মেয়ে, ধীরেন্দ্রের দু’মেয়ে, নিগমানন্দের দু’পুত্র, পুলিনের দু’ছেলে ও এক মেয়ে। নিখিলের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। পবিত্রের এক ছেলে ও এক মেয়ে।
   অপর দিকে কৃষ্ণচন্দ্র ভূঁইয়া মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়লেও এলাকায় যথেষ্ট সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্রেসিডেণ্ট। তাঁর দু’পুত্র-রাধাকান্ত ভূঁইয়া ও গিরিশ ভূঁইয়া এবং একটি কন্যা। রাধাকান্ত লেখাপড়া করে নাই, অতিকষ্টে নামটি লিখতে পারে। গিরিশ চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে, তবে কালক্রমে মাতব্বর, বিচার-আচার করে। রাধাকান্তের দু’ছেলে-সচীন্দ্র ও মহেন্দ্র। তেমন লেখাপড়া করেনি। এছাড়া দু’কন্যা। গিরিশ ভূঁইয়ার তিন ছেলে-ইন্দুভূষণ, অবিনাশ ও সুনীল এবং দু’কন্যা। ইন্দুভূষণ বি,এ পাশ, অবিনাশ মেট্রিক ফেল, সুনীল দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। ইন্দুভূষণের পাঁচ ছেলে ও তিন কন্যা। ছেলেরা উচ্চশিক্ষিত, কন্যারা একজন মেট্রিক পাশ, অন্য দু’জন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। অবিনাশ ও সুনীলের ছেলেমেয়েরা ততটা পড়াশোনা করেনি।
   অবনীমোহন বি,এ পর্যন্ত পড়েছে, তাঁর সন্তানরা উচ্চ শিক্ষিত। এছাড়া অন্যান্য যারা তারা অনেকে মেট্রিক বা এসএসসি পাশ করেছে। কিন্তু তুলনায় মেয়েদের লেখাপড়া উল্লেখ করার মতো নয়। যাঁরা এ বাড়িতে বউ (বধূ) হয়ে এসেছেন, তাঁদের লেখাপড়াও তেমন নয়। কারণ অনেক। বিদ্যালয়ের স্বল্পতা, বাল্যবিবাহ এবং মেয়েদের শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অনীহা। প্রথম প্রজন্মের স্ত্রীদের অক্ষরজ্ঞান তেমন ছিল না, তবে কেউ নাম লিখতে পারতেন, একশত পর্যন্ত শতকিয়া বলতে পারতেন, বানান করে বা সময় নিয়ে সাধারণ বাংলা বই পড়তে পারতেন। দেখা গেছে-সন্তানরা যখন স্কুলে যাওয়া-আসা করছে, তখন মাঝে মাঝে তাদের বইগুলো গুছাতে গিয়ে আদর করে হাত বুলিয়ে অতৃপ্ত আকাক্সক্ষাকে স্পর্শ করতে চেয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ নি:শ^াসও ফেলতেন।
   উপর্যুক্ত হলো আমার লেখার ভূমিকাংশ। যে কথা বলতে চাইছি, তাহলো একসময় দেখা গেলো হরিদাস ভূঁইয়ার বাড়িতে যখন তাঁরা মা ও পুত্র-দু’জন সদস্য ছিলেন, একশ বছর এবং তারও পরে বাড়ির সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০/৭৫ জন। জনসংখ্যায় এক ভরাট বাড়ি, কিন্তু হরিদাস ভূঁইয়া যতটুকু জমির মালিক ছিলেন, পরে এক খ-ও কেউ ক্রয় করে সম্প্রসারিত করেনি। তাই বাড়িতে লোকসংখ্যা বেড়ে যেন ঠাঁই কুলাচ্ছিল না। প্রতি বছর জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে, সাথে চাহিদা এবং কিছুটা অভাবগ্রস্ততা। এবং এক সময় দেখা যায়-এই বাড়িটি ‘ভূঁইয়া বাড়ি’র পরিবর্তে ‘মাস্টার বাড়ি’ নামকরণ হয়ে যায়। এবাড়িতে তখন ৫/৬ জন স্কুল মাস্টার। প্রতি বছর ২/১জন মেট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তাই ধনসম্পদের বাহুল্য না থাকলেও সম্মানের দিক দিয়ে ‘মাস্টারবাড়ি’ হয়ে উঠে দয়াগঞ্জের সম্ভ্রান্ত বাড়ি।
   তারপর মাস্টার বাড়ির শিক্ষিত ছেলেরা চাকরির সুবাদে বাড়ি ছাড়া হতে থাকে। কিন্তু বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। বছরে ১লা বৈশাখ, দুর্গাপূজা, অন্যকোনো উৎসব-আয়োজনে ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে সকলেই বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। এসব উপলক্ষে যখন বাড়ির ছেলেরা, বিবাহিত মেয়েরা স্বামী-সন্তানসহ জড় হতো, তখন ঘুমানোর জায়গা পাওয়া যেতো না। কে কোথায় কার ঘরে কীভাবে থাকছে, তার যেন হিসেব নেই। তবে ঐতিহ্যগতভাবে যে বিষয়টি ছিল খুবই মনোমুগ্ধকর, তাহলো একত্রে রান্না হতো, উৎসব-অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে অতিথিঅভ্যাগতদের নিয়ে বাড়ির সবায় উঠোনে বসে খাওয়া-দাওয়া করত। সকল পরিবার থেকে পরিবারের সদস্যদের আন্দাজে চাল-ডাল ইত্যাদি একত্রে জমা হতো, চাকরিজীবীরা হাটবাজারের দায়িত্ব নিতেন। প্রায় দু’শত লোকের খাওয়া-দাওয়া। বছরে ২/৩ বার হরিদাস ভূঁইয়ার পরিবার একত্র হওয়ার দুর্লভ সুযোগ লাভ করত।
   ১৯৪৭ সালে যখন দেশভাগ হলো, হরিদাস ভূঁইয়ার পরিবার পূর্ববাংলার অধিবাসী হলো অর্থাৎ পাকিস্তানের একটি প্রদেশের অধিবাসী হলো এবং পাকিস্তান হলো কেবলমাত্র মুসলমানদের জন্য এ বোধ-বিশ^াস যখন মুসলমানদের মনের মধ্যে হঠাৎ জেগে উঠল, তখন অল্পসময়েই তাদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ, ব্যক্তিসম্পর্কের ধারা অনেকটা পাল্টিয়ে গেলো। প্রথম কানে বাজল-সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু কথা দুটি এবং কানে কানে কে জেনে বলে গেলো-পাকিস্তান হিন্দুদের বসবাসের জন্য নয়। হিন্দুরা বাস করবে হিন্দুস্থানে। হরিদাস ভূঁইয়ার বৃহৎ পরিবার মাথায় হাত দিয়ে ভাবতে শুরু করল-এখন উপায়? বাড়ি-ঘর নিজের থাকবে না, মাতৃভূমি বা জন্মভূমি বলে কি হিন্দুদের আর পাকিস্তানে থাকবে না? তা কি বিশ^াসযোগ্য? ‘ভূঁইয়া পরিবার’ তথা মাস্টার বাড়ির মাথাব্যথা শুরু হলো। এ নিয়ে কোনো পরামর্শ বা সভার আয়োজন হলো না। প্রতিটি পরিবার নিজ নিজ আদলে চিন্তা ভাবনা করল। তখন থেকে এ বাড়ির কোনো কোনো সদস্য হিন্দুস্থানমুখী হতে শুরু করল। এমনিতেই অনেকে চাকরিসূত্রে বাড়ি ছাড়া। তখন থেকে মাস্টার বাড়ির সদস্যসংখ্যা কমতে শুরু করে। পারিবারিকভাবে সংখ্যা বাড়লেও বাড়ির লোকসংখ্যা কমতেই থাকে। জমিগুলো বিক্রি হতে থাকে, বাড়িটা অটুট থাকে, একসময় বাড়ির বাড়তি অংশও বিক্রি করে দেয় যার যার প্রয়োজন ও সুবিধা অনুসারে, কিন্তু মূলবাড়ি কেউ বিক্রি করেনি। এই অবস্থায় ইন্দুভূষণ ভূঁইয়ার বড়ছেলে শানু ভূঁইয়া ২০২০ সালে খাতাপত্র নিয়ে বসেছে পারিবারিক হিসাব মিলাতে অর্থাৎ যদি এখন পর্যন্ত ভূঁইয়া বা মাস্টারবাড়িটি আগের মতো থাকত, তাহলে লোকসংখ্যা কত হতো? পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা জানা না গেলেও ২৭১ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে শানু ভূঁইয়া।
   পরিতাপের বিষয় হলো-দয়াগঞ্জের লোকেরা এখন এ বাড়িটি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলে-এটা ‘মাস্টারবাড়ি’। অথচ এ বাড়িতে এখন একজনও হরিদাস ভূঁইয়ার পরবর্তী প্রজন্মের কেউ থাকে না। বাড়ির সদস্য বাংলাদেশে আছে, অধিকাংশ হিন্দুস্থানে-বিভিন্ন স্থানে। কারোর সাথে কারোর যোগাযোগ নেই, কেউ যেন কাউকে চিনেও না। শানু ভূঁইয়ারা বাংলাদেশে আছে, তাই কেউ কেউ পিতৃভূমি দেখতে এসে শানু ভূঁইয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, মিলিত হয়, অনেক কথা হয়, স্মৃতিচারণ হয়, দীর্ঘনি:শ^াস পড়ে, চোখের জলও পড়ে, আনন্দে আপ্লুত হওয়ার সাময়িক সুযোগ ঘটে।
   হরিদাস ভূঁইয়ার বাড়ির প্রায় তিনদিকে মুসলমানদের বাস। তারা প্রতিবেশী। এ যুগের লোকেরা প্রতিবেশী কি তা বুঝে না, চিনেও না। এখন ভাবে প্রতিবেশী অর্থ হলো প্রতিদ্বন্দ্বী এবং প্রতিহিংসা যাপনের বিরোধীপক্ষ। কিন্তু যে সময়ের কথা বলছি, তখন প্রতিবেশী ছিল রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ের চেয়েও আপন এবং নিকটজন। আপদে-বিপদে-উৎসবে সর্বাবস্থায় সহায়ক সহযোগী। আপনঘরের বাপ-কাকা-মা-বোনদের মতোই পরস্পরের সম্বোধন ও আচরণ ছিল প্রতিবেশীদের সঙ্গে। এখানে কোনো আভিজাত্য বা অর্থের গরিমা ছিল না। হরিদাস ভূঁইয়ার বাড়িতে যে মুসলমান কাজ করে, তাকে কেউ বলে দাদা, কেউ বলে কাকা ইত্যাদি। এধারা গ্রামবাংলার শাশ^ত সংস্কৃতি। এখন কল্পনাও করা যাবে না। তাই দায়িত্ব ও গর্বের সঙ্গেই বলতে পারি-এ পর্যন্ত হরিদাস ভূঁইয়ার কোনো প্রজন্মকে কেউ বা কোনো মুসলমান বলেনি যে তোমরা হিন্দু, তোমরা হিন্দুস্থানে চলে যাও। বরং কেউ চলে গেলে চোখের জলও ফেলেছে। এ হলো প্রতিবেশী।
   কেবলমাত্র এরশাদ সরকার যখন বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলামধর্মকে ‘রাষ্ট্র’ ধর্ম বলে স্বীকৃতি দিলো, সেসময় দয়াগঞ্জের সাদেক মিঞা একদিন ইন্দুভূষণ ভূঁইয়াকে নানা কথার পরে বলেছিল-‘মাস্টার ভাই, এখন কী করবেন?’ ইন্দুভূষণ ভূঁইয়া বললেন, ‘কী ব্যাপারে?’ সাদেক বলছে-‘এই যে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলো?’ ইন্দুভূষণ ভূঁইয়া বললেন-‘তাতে ক্ষতি কি? যে দেশে শতকরা নব্বইজন মুসলমান সে দেশের ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য সংবিধানে উল্লেখের কি প্রয়োজন ছিল?’ সাদেক তা মানতে রাজী নয়। সে বলে-‘যে দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, এদেশে তো শুধু মুসলমানই বাস করবে। অন্য কোনো ধর্মের লোক থাকতে গেলে তো মুসলমান হয়েই থাকতে হবে।’ ইন্দুভূষণ ভূঁইয়া সাদেকের সঙ্গে তর্ক করতে চাননি। তবে মনে মনে দুঃখ পেয়েছিলেন। কারণ, ছাদেকের এখন অনেক টাকা হয়েছে। দু’ছেলে বিদেশে থাকে, প্রচুর টাকা পাঠায়, নতুনবাড়ি করেছে। পুকুর-বাগবাগিচা সমেত পুরানো বাড়ি কিনতে পারত, সে কিনে নাই। কারণ, পুরানো বাড়ির একটি পরিচিতি রয়েছে। তাই সাদেক মাঠে জমি কিনে পুকুর কেটে ইটের দেয়াল ও টিনের ঘর তুলে বাড়ির সামনে গেইট তৈরি করে লিখেছে-‘সাদেক ভিলা’, মালিক: মৌলভী জনাব মো: সাদেকুর রহমান।’ লোকেরা যেন ‘সাদেক ভিলা’ নামটি উচ্চারণ করে সাদেককে স্মরণ করে এজন্য।
যে কথাটি সর্বশেষ বলছি-মানুষও আসলে যাযাবর শ্রেণির জীব। এক জায়গায় চিরস্থায়ী পুরুষানুক্রমিক কেউ থাকে না। মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান হলেও আজ অনেক মুসলমানই ভিটে ছেড়ে শহরবাসী বা বিদেশবাসী, কারো পূর্বতন ঠিকানা আছে, অনেকের নেইও। এ এক অমোঘ রহস্য। হরিদাস ভূঁইয়া যখন বাড়ি তৈরি করেন, তিনি নিশ্চয়ই ভেবেছিলেন যে অনন্তকাল তাঁর প্রজন্মরা এ বাড়িতে বাস করবেন। সেজন্যই পুকুর খনন করেছেন, ঘর নির্মাণ করেছেন, বাগবাগিচাসহ ধানি জমি প্রস্তুত করেছেন, আজ ২৭১ জন সদস্যের অস্তিত্বের তথ্য সংগ্রহ করার পর দেখা গেলো হরিদাস ভূঁইয়ার ভিটায় এখন কেউ বাস করেন না। কেবল আঙ্গুল তুলে বয়স্ক কেউ কেউ বলেন-এটা ভূঁইয়া বা ‘মাস্টার বাড়ি’। তাহলে তারা কোথায় গেলেন? তারা আছেন, তবে ভূঁইয়া বা ‘মাস্টার বাড়ি’তে নয়, তারা এখান থেকে উধাও হয়ে গেছেন। তার যেমন নানা কারণের ফিরিস্তি দেয়া যাবে, কিন্তু আসল সত্যটা হলো-মানুষও যাযাবর জীব, তারা পুরুষানুক্রমিক এক ঠাঁয় থাকেন না, থাকতে পারেন না, তাদের কোনো না সময়ে উধাও হতেই হয়। হয় স্থানান্তরে উধাও, অথবা ইহকাল ছেড়ে উধাও। এটাই জগতের নিয়ম, মানি আর না মানি। যদি মানি-তবে দুঃখ কম পাওয়া যাবে, যদি না মানি তবে বদ্ধজীব হিসেবে পরাধীন থাকতে হবে। অর্থাৎ
যাত্রী আছে নানা।
নানা ঘাটে যাবে তারা, কেউ কারো নয় জানা।





সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};