ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
698
গোমতী খননে ৭৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার
ভারতের সঙ্গে নৌবাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা---
Published : Thursday, 10 September, 2020 at 12:00 AM, Update: 10.09.2020 1:36:10 AM
গোমতী খননে ৭৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার
গোমতী নদী দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সঙ্গে পরীক্ষামূলক নৌবাণিজ্য শুরু করা হয়েছে। কিন্তু নাব্য সঙ্কট থাকায় গোমতী খনন ছাড়া এ বাণিজ্য সফলতার মুখ দেখবে না।
এ কারণে নদী খননের জন্য ৭৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্পের ২০ শতাংশ ব্যয় বহন করবে ভারত। বাকি ৮০ শতাংশ দেবে বাংলাদেশ।
গত ৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার গোমতী নদী দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল শুরু করা হয়। এদিন কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া বন্দরে সিমেন্টবাহী একটি ট্রলার পৌঁছে।
গোমতী নদীর নাব্য সংকট ও কয়েকটি কম উচ্চতার সেতুর কারণে ট্রলারটি সোনামুড়া বন্দরে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ে।
এ অবস্থায় নৌপথটি খনন করা গেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি রাজ্যে সিমেন্ট ও ভোজ্যতেলসহ পণ্য পরিবহন সহজ হবে। খরচও কম পড়বে বলে অভিমত ব্যবসায়ীদের।
বাংলাদেশের অধিকাংশ সিমেন্ট ফ্যাক্টরি মেঘনা নদীর তীরে। দাউদকান্দিতে মেঘনার ব্রিজ ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় নারায়ণগঞ্জ বা পার্শ্ববর্তী মোক্তারপুর থেকে ট্রাকে করে ২০ টন সিমেন্ট নিয়ে নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা হয়ে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিবির বাজার স্থলবন্দরে পৌঁছাতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। গোমতী দিয়ে নৌপথটি চালু হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে সোনামুড়ার দূরত্ব হবে মাত্র ১২৫ কিলোমিটার।
কলকাতা, দিল্লি বা অন্যান্য অঞ্চল থেকে এ সব রাজ্যে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘ সময় ও অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জল, স্থল ও রেলপথ ব্যবহার করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহন করা হলে সময় ও ব্যয় দু’টোই সাশ্রয় হয়। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে নৌপ্রোটোকল ও কানেক্টিভিটির আওতায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে জলপথে পণ্যপরিবহন হয়ে আসছে স্বল্প পরিসরে।
সীকম গ্রুপের পরিচালক ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল শুরু হয়েছে। এর জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। নৌ চলাচলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের নব দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে। নৌপথে আমরা সহজেই ভারতের সাতটি রাজ্যে সিমেন্ট ও ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে নানা পণ্য রফতানি করতে পারবো। সড়ক পথের চেয়ে নৌপথ সব সময় সাশ্রয়ী। এ কারণে নৌপথে স্বল্প খরচে বিপুল পরিমাণে পণ্য আমদানি-রফতানি করা যায়। তবে নাব্য সঙ্কটসহ এই নৌপথের কিছু সমস্যা আছে।
তিনি আরও বলেন, নাব্য বৃদ্ধি করা জরুরি। এর পাশাপাশি নৌরুটে কিছু সেতু রয়েছে এর ফলে বড় বড় জাহাজ যেতে পারবে না। সুতরাং নৌপথ খননের পাশাপাশি কিছু সেতু উঁচু করে দিলে পথটি মসৃণ হবে এবাং আমাদের বাণিজ্যও বাড়বে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারতের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে ব্যবসা–বাণিজ্য প্রসারে গোমতী নদী খনন করা হবে। খনন কাজে ভারত ব্যয় করবে ২০ শতাংশ বাকি ৮০ শতাংশ ব্যয় করবে বাংলাদেশ সরকার। গোমতী নদীর ৯৫ কিলোমিটার খননে ৭৯৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়।
 গোমতী নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অমরপুর, উদয়পুর, সোনাইমুড়ী নামক স্থানের পাহাড়িয়া এলাকায়। গোমতী নদীপথে ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়া থেকে বাংলাদেশের কুমিল্লার দাউদকান্দি পর্যন্ত নদীপথটি ৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ নৌপথের ৮৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি পথ ভারতে। বর্তমানে সর্বোচ্চ নৌপথে ৫০ টন পণ্যবাহী নৌযান চলতে পারে। নৌপথটি খনন করা হলে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানি-রপ্তানির অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই পথে ২০০ থেকে ৪০০ টনের বড় বড় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে বলে দাবি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের। 
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ভোলা নাথ দে বাংলানিউজকে বলেন, সড়ক পথের চেয়ে নৌপথ সব সময় পণ্য পরিবহনের জন্য ভালো। ভারতের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারে বিআইডাব্লিটিএ এই পথে ড্রেজিং করবে। এর ফলে ৩০০ থেকে ৫০০ টনের জাহাজ সহজে যাতায়াত করতে পারবে। গোমতী নদী খননের কাজ হাতে নিয়েছি। ভারতের সঙ্গে আমাদের একটা চুক্তি আছে। নৌরুট খননে বাংলাদেশ দেবে ৮০ শতাংশ ও ভারত দেবে ২০ শতাংশ ব্যয়। আমরা আরও দুটি নৌ রুট খনন করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এই নৌরুটে কিছু সেতুও রয়েছে। তবে রাতারাতি পরিবর্তন করা যাবে না। এখন ছোট ছোট জাহাজে পণ্য রফতানি হবে। নদী পথটি খনন হলে বড় বড় জাহাজ আমদানি রফতানির জন্য যাতায়াতের পাশাপাশি পথটি অনেক সহজ হবে।







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};