ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
140
কুম্লিল্লার সুখেন্দু চক্রবর্তী
Published : Wednesday, 9 September, 2020 at 10:29 PM
কুম্লিল্লার সুখেন্দু চক্রবর্তী " বহুত আচ্ছা গায়া " ... ইন্দিরা গান্ধী আবেগ আপ্লূত হয়ে । তিনি ছিলেন গণসঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত-পরিচালক। জন্মেছিলেন কুমিল্লা শহরের ঠাকুরপাড়ায়, ১৯২৮ সালে । পরিচিত ছিলেন তিনি খোকা চক্রবর্তীনামে সর্বমহলে। পিতা নলিনী চক্রবর্তী, মাতা হরসুন্দরী দেবীতাঁর কণ্ঠ ছিল যেমন দৃপ্ত, তেমনি মাধুর্যময়। সামাজিক দায়বদ্ধ এই শিল্পী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন সহ বিভিন্ন গণ আন্দোলন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, এবং একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ নিয়েছিলেনসুখেন্দু চক্রবর্তী সঙ্গীতে তালিম গ্রহণ করেন বড় ভাই সত্য চক্রবর্তীর কাছে। পরে কুম্লিল্লার সঙ্গীতশিক্ষক সমরেন্দ্র পাল ও ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরুর কাছে উচ্চাঙ্গসঙ্গীত চর্চা করেন। পাশাপাশি তিনি এস্রাজ, সেতার ও তবলাবাদনে পারদর্শিতা অর্জন করেনসুখেন্দু চক্রবর্তী ১৯৪৩ সালের ২৯ জুন রেডিওর একটি অনুষ্ঠানে প্রথম অংশগ্রহণ করেন। পরে রেডিও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গীত-প্রযোজক নিয়োজিত হন। ফেরদৌস হোসেন ভূঁইয়ার লেখা ডিম পাড়ে হাসে খায় বাঘ ডাসেজনপ্রিয় এ গানটির মধ্য দিয়ে ষাটের দশকে বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। অপরদিকে তিনি উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সূচনালগ্ন থেকে নানা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন গণমুখী-সাংস্কৃতিক দলের সঙ্গেও তিনি ঘনিষ্টভাবে কাজ করেনসুখেন্দু চক্রবর্তী সভাসম্মেলনে বহু সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তিনি যেসব জনপ্রিয় গান গেয়ে খ্যাতি লাভ করেন, তার মধ্যে বাংলার বুকে ওই মৃত্যুর কালো দূত’, ‘অন্ধকার থেকে আলোর পৃথিবী হাতছানি মেরে ডাকছে’, ‘আমাদের হাতের মুঠি তাদের পিষে দলবে’, ‘ওরা নাকি আমাদের ক্ষেত আর খামারের সবুজের স্বপ্ন কেড়ে নিতে চায়’, ‘মানিক তোমার যুদ্ধে যাবে মাগো বিদায় দাওপ্রভৃতি উল্লেলখযোগ্য। বলা বাহুল্য যে , উল্লেখিত অনেক গান তখন লিখেছিলেন একুশে পদকে ভূষিত প্রখ্যাত কথাশিল্পী ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক রাহাত খান , আর তাতে সুরারোপ করেছিলেন সুখেন্দু চক্রবর্তী কুম্লিল্লার সুখেন্দু চক্রবর্তী এছাড়া জনপ্রিয় লোক সঙ্গীত শিল্পী আব্দুল আলীমও উনার সুর করা গানে গান গেয়েছেন । তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক কাগমারী মহাসম্মেলনে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত যুবসম্মেলনে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মহাসম্মেলনে , এবং শহরের টাউন হল সহ বিভিন্ন স্থানে সঙ্গীত পরিবেশন করে ব্যাপক সাড়া জাগান। কাগমারী মহাসম্মেলনে উনি এবং উনার বন্ধু কুমিল্লা ঠাকুরপাড়া নিবাসী গনসঙ্গীত এবং নজরুলগীতি শিল্পী কুলেন্দু দাস তাঁদের দল নিয়ে গনসঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন পাকিস্তান সরকারের বঞ্চনা ও অসংগতির বিরুদ্ধে এমনকি মওলানা ভাসানীর নির্দেশে সুখেন্দু চক্রবর্তী এবং কুলেন্দু দাস তাঁদের গানের দল নিয়ে উত্তর বংগের পথেঘাটে ঘুরে ঘুরে গান করেছেন মানুষকে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তুলার জন্য এইসব কর্মকাণ্ডের কারণে উনারা গ্রেফতারও হয়েছিলেন ১৯৫৮ এর সামরিক শাসন আমলে ৯২ ( ক ) ধারায় এছাড়া সুখেন্দু চক্রবর্তী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ত্রিপুরার উদয়পুরের বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্পে গিয়ে উনার গানের টিম নিয়ে গান শুনাতেন , স্বাধীনতাকামীদেরকে উজ্জীবিত করার জন্য । উনার এই গানের টিমে ছিলেন কুমিল্লা শহরের নিপেন চক্রবর্তী , মাহবুব চৌধুরী , মায়া সাহা , পিনাক সাহা , কুমিল্লা নিমসারের শাকিলা চৌধুরী , চট্টগ্রাম শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী সহ আরও অনেকেতিনি খবরের কাগজওয়ালা, ফেরীওয়ালা, জেলে, কামার, কুমার, ছুতার ইত্যাদি পেশাজীবী মানুষের জীবনসম্পৃক্ত গান করেন। তবে সুখেন্দু চক্রবর্তী গণসঙ্গীত-শিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও অন্যান্য গানেও তাঁর সুরেলা কণ্ঠ ছিল। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তাঁর পারদর্শিতা এবং চিরায়ত বাংলা গানের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগ, দুইই তাঁকে সঙ্গীতগুরুর মর্যাদা দান করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুননাহার হলে দীর্ঘদিন তিনি সঙ্গীত বিষয়ে শিক্ষকতা করেনসুখেন্দু চক্রবর্তী ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্দীপ্ত ছিলেন। ঊনষত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগ্রামী চেতনার গান পরিবেশন করেন। এ চেতনার স্বতস্ফূর্ততা তাঁকে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করে। জনসাধারণকে সংগ্রামী চেতনায় উজ্জ্বীত করা ছিল তাঁর সঙ্গীত-সাধনার এক প্রধান দিক। একটি কথা না বললে আর্টিকেলটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে; যুদ্ধ চলাকালীন সময় ইন্দিরা গান্ধী এসেছিলেন ত্রিপুরার উদয়পুরে। সেখানকার এক বিশাল জনসভায় স্টেজে গান করেছিলেন সুখেন্দু চক্রবর্তী তাঁর দলবল নিয়ে । উনাদের কয়েকটি গানের মধ্যে একটি গান ছিল; ‘মুজিব বাইয়া যাওরে...নির্যাতিত দ্যাশের মাঝেজনগণের নাওরে... এই গানটি শুনে ইন্দিরা গান্ধি এতই আবেগ আপ্লূত হয়েছিলেন যে, কাছে এসে তাকে বলেছিলেন বহুত আচ্ছা গায়া এই বরেণ্য শিল্পী মৃত্যুবরন করেন ১৯৮০ সালের ৭ জুলাই কুমিল্লা শহরে । ধন্যবাদ ( কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বীর মুক্তিযোদ্ধা Najmul Hassanপাখীভাইকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে আর্টিকেলটিকে সমৃদ্ধশালী করার জন্য । এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি Nita Roychowdhury
'কে , উনার বাবার ছবিটি পাঠিয়ে আমাকে সহায়তা করার জন্য । )




 লেখক                
কুম্লিল্লার সুখেন্দু চক্রবর্তী এম কে জাকারিয়া
নির্বাহী পরিচালক
পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড





সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};