ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
2891
কুমিল্লার কারা ছিলেন খুনি মোশতাকের সাথে ঘনিষ্ঠ
Published : Saturday, 15 August, 2020 at 12:14 AM, Update: 15.08.2020 12:18:01 AM
কুমিল্লার কারা ছিলেন খুনি মোশতাকের সাথে ঘনিষ্ঠআবুল কাশেম হৃদয়।। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। কলঙ্কের কালিমায় কলুষিত বিভীষিকাময় এক ভয়ঙ্কর দিন। এ দিন ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার ধানমন্ডিস্থ নিজ বাসভবনে উচ্চভিলাষী বিশ্বাসঘাতক কয়েক সেনা অফিসারদের হাতে নিহত হন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুননেছাসহ ১৬ জনকে ঘাতকরা হত্যা করে। যে হত্যার ষড়যন্ত্রের সাথে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কুমিল্লার তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক আহমদ, কুমিল্লার চান্দিনার লে. কর্নেল অব. খোন্দকার আবদুর রশিদ, বাবার চাকুরির সুবাদে কুমিল্লায় বসবাসকারী লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম। কিন্তু কুমিল্লাকে কলঙ্কিত করা এ ঘটনার পর কুমিল্লার কোন কোন নেতার খোন্দকার মোশতাকের সাথে ঘনিষ্ঠতা, যোগাযোগ ও সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি আওয়ামীলীগ প্রেমিদের ব্যাথিত করে, করে ক্ষুব্ধও। অনেকে ধিক্কার জানালেও সময়ের ব্যবধানে সব হয়ে গেছে একাকার। কিন্তু ইতিহাসের একটা দায় থেকে যায়। সে দায় শোধ করতেই অনুসন্ধান করে জানা যায় ১৫ আগস্টের পর খুনি খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সাথে কুমিল্লার কারা ঘনিষ্ঠ ছিলেন। জাতির জনককে হত্যায় শোক যখন স্তব্ধ দেশবাসী তখন কারা মোশতাকের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সভা সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে তার নানা তথ্য প্রমাণ। খুনি মোশতাক মাত্র ৮৩ দিনের জন্য প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এই ৮৩ দিনে মধ্যে মাত্র দুইবার কুমিল্লার দাউদকান্দির দশপাড়ায় নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। প্রথমবার এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৫০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার আগে বাবার কবর জিয়ারত করতে। তার আগমন উপলক্ষে মাত্র তিন দিনে একটি পুকুর ভরাট করে হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছিল। পরের বার আসেন ঈদ উপলক্ষে তিন দিনের জন্য। মোশতাকের এই বাড়িকে ঘিরে তার অনুসারীদের যাতায়াত বেড়ে যায়। কুমিল্লা শহর থেকে দাউদকান্দির দশপাড়ায় বেবিটেক্সী সার্ভিসও চালু হয়।
কুমিল্লার কারা ছিলেন খুনি মোশতাকের সাথে ঘনিষ্ঠগবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭৫ সালের ১৭ জুলাই ঔপনিবেশিক আমলের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটিয়ে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেশের ৬১টি জেলায় গভর্নর নিয়োগ দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কুমিল্লা জেলার জন্য গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তৎকালীন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো: খোরশেদ আলম। তিনি পূর্ব থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে ২০ বছর শিক্ষকতা জীবন শেষ করে ১৯৭০ সালের ৯ আগস্ট সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ শুরু করেন। ১৯২৯ সালে তৎকালীন কুমিল্লা জেলার কসবার খরেরা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী অধ্যাপক খোরশেদ আলম নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে তিনি ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ছিলেন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খোরশেদ আলম ২নং সেক্টরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লিয়াজোঁ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি খসড়া শাসনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে ১২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন কুমিল্লা জেলা সবুজ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। এসব বিবেচনায় অধ্যাপক খোরশেদ আলমকে কুমিল্লা জেলার গভর্নর হিসেবে মনোনীত করা হয়। ১৯৭৫ সালের ২১ জুলাই থেকে ঢাকায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ৬১ জেলার গভর্নরদের ২১ দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ শুরু হয়। ১২ আগস্ট প্রশিক্ষণ শেষ হয় এবং এই গভর্নরদের ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর স্ব-স্ব জেলার দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা ছিল। সে সময়ের রাজনীতিতে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ ও আগস্টের প্রথম ২টি সপ্তাহ ছিল অনেকের রুদ্ধশ্বাসের সময়। কেন না সে সময় বাকশাল গঠন, গভর্নর নিয়োগ, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর বৈঠক, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন-কমিটি গঠন ইত্যাদি নানা বিষয়ে জেলা পর্যায়ের সব শীর্ষ নেতার অবস্থান ছিল তখন ঢাকায়।
১৯৭৫ সালের ২ আগস্ট ঢাকার ইসলামিক একাডেমী মিলনায়তনে ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সমিতির আয়োজনে চাঁদপুর জেলার নবনিযুক্ত গভর্নর আবদুল আওয়ালের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর খুনি খোন্দকার মোশতাক আহমদ। মঞ্চে অন্যতম অতিথি ছিলেন কুমিল্লার গভর্নর অধ্যাপক খোরশেদ আলম।
১৯৭৫ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জেনারেল প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলী রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুমোদনক্রমে ৬১টি জেলার বাকশালের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক করা হয় সংসদ সদস্য কাজী জহিরুল কাইয়ূমকে। আর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন ৫ জন। এরা হলেন- এডভোকেট আহমদ আলী, আবদুল আজিজ খান, অধ্যাপক আবদুর রউফ, মাইনুল হুদা দুলাল ও মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ। বাকশালের এই সম্পাদকদের ৬ দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয় বঙ্গভবনে। ১১ আগস্ট এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। ১৬ আগস্ট এ প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার কথা। সেদিন বিকাল ৫টায় এই সম্পাদকদের দেখা করার কথা ছিল বঙ্গবন্ধুর সাথে। জেলা গভর্নর হওয়ার পর প্রশিক্ষণে অধ্যাপক খোরশেদ আলম সামনের সারিতে থাকলেও ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বপরিবারে নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি হওয়া খোন্দকার মোশতাকের সাথে আরো সামনের কাতারে চলে আসেন অধ্যাপক খোরশেদ আলম।
জানা গেছে, অধ্যাপক খোরশেদ আলম ও অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদারের বাসায় তখন হট লাইনের টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং বাড়ির বাইরে সেনা পাহাড়া বসানো হয়। অন্য দিকে কুমিল্লা শহর থেকে দাউদকান্দির দশপাড়ায় বেবিট্যাক্সী সার্ভিস চালু হয়। প্রায় কুমিল্লা থেকে খোন্দকার মোশতাকের অনুসারীরা সেখানে যাতায়ত করতেন।
বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার ২৪ দিনের মাথায় ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে খোন্দকার মোশতাক প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা সবুজ প্রকল্পের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক খোরশেদ আলম। আর সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য, বেতার, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুর। ঐ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডেন্ট মোশতাকের মূখ্য সচিব ও ঐ প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা মাহবুব আলম চাষী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল আজিজ, আইআর ডিপি’র মহাপরিচালক আইআর খান।
১৯৭৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে দুই দিনব্যাপি ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করেন খুনি খোন্দকার মোশতাক। সে সম্মেলনে ভিআইপিদের মর্যাদায় অংশ নেন অধ্যাপক খোরশেদ আলম। ছিলেন সবুজ কমিটি গোমতী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদারও। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে তথ্য মন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুর স্বনির্ভর বাংলাদেশের জাতীয় কমিটি ঘোষণা করেন। তাতে চেয়ারম্যান করা হয় খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী আবদুল মমিনকে। দ্বিতীয় ভাইস চেয়ারম্যান করা হয় কুমিল্লার অধ্যাপক খোরশেদ আলমকে। এই জাতীয় কমিটির সদস্যরা প্রেসিডেন্ট মোশতাকের সাথে সাক্ষাত করেন। ছবিতে খোরশেদ আলমকে খুনি মোশতাকের খুব কাছে দেখা যায়। ঐ ছবি সে সময় দৈনিক বাংলা ও ইত্তেফাকে লিড ছবি হিসেবে প্রকাশিত হয়।
কুমিল্লার কারা ছিলেন খুনি মোশতাকের সাথে ঘনিষ্ঠশুধু তাই নয়। অধ্যাপক খোরশেদ আলমকে প্রধান করে একটি বিভাগীয় কমিটিও করা হয়। তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা সফর করেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রক্তে রঞ্জিত হয়ে প্রেসিডেন্ট হওয়া খোন্দকার মোশতাক প্রথম তার নিজ বাড়িতে আসেন ১৯৭৫ সালের ৩ অক্টোবর শুক্রবার। মোশতাক আসেন জুম্মার নামাজের পর। এদিন তার প্রেসিডেন্ট পদের ৫০দিন পূর্ণ হয়। এ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার পূর্বে তিনি হেলিকপ্টারে করে দাউদকান্দির দশপাড়ায় আসেন তার বাবা আলহাজ্ব হযরত খন্দকার কবির উদ্দিন আহমদ ও মা বেগম রাবেয়ার কবর জিয়ারত করার জন্য। বিকালেই মোশতাক ফিরে যায় এবং সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়।
জানা গেছে, খুনি মোশতাকের আকস্মিক এই আগমনের সিদ্ধান্তে মাত্র ৩দিনে তার বাড়ির পাশে বিশাল পুকুর ভরাট করে হেলিপ্যাড বানিয়েছিলেন দাউদকান্দি থানার ওসি ফজলুর রহমান। খুনি মোশতাককে সে সময় স্বাগত জানান, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ হারুন পাশা, পুলিশ সুপার ইসমাইল হুসেন, কুমিল্লা সেনানিবাসের ব্রিগেড কমান্ডার মশিরুল হক, পুলিশের এএসপি মালিক খসরু, কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খোরশেদ আলম, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার প্রমুখ। হঠাৎ প্রেসিডেন্টের আগমনের খবরে অনেকটা বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলো প্রশাসন। কেননা দাউদকান্দিতে তখন হেলিপ্যাড ছিল না। একটি কলেজ মাঠকে তখন নির্বাচন করা হলেও দূরে হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। ফলে মোশতাকের বাড়ির কাছেই একটি বড় পুকুর তিন দিনে ভরাট করা হয় দাউদকান্দি ঘাটের বালু ও পাথর দিয়ে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস সে সময় খবর দিয়েছিল এই বলে যে, এক বিরাট (বিপুল) উৎফুল্ল জনতা প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানানোর জন্য তার গ্রামের বাড়িতে যায় এবং প্রেসিডেন্টের সাথে তার বাবা-মা’র কবরে ফাতেহা পাঠে শরিক হয়।
খুনি মোশতাক ১৯৭৫ সালের অক্টোবর বুধবার তিন দিনের সফরে তার নিজ গ্রাম দাউদকান্দির দশপাড়ায় আসেন। এবার তিনি হেলিকপ্টারে না এসে আসেন স্টিমারে করে। কিন্তু একটি হেলিকপ্টার তার স্টিমারের উপরে টহল দিতে দিতে আসে। আর সে হেলিকপ্টারে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি কর্নেল ফারুক। আর স্টিমারে পাহাড়া দেন কর্ণেল খোন্দকার আবদুর রশিদ ও বঙ্গবন্ধুকে গুলি করা রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন। খোন্দকার মোশতাক দাউদকান্দি লঞ্চ ঘাটে আসলে তাকে স্বাগত জানায় কুমিল্লার তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ হারুন পাশা ও পুলিশ সুপার ইসমাইল হুসেইন। এসময় তাদের সাথে যান মোশতাকের আত্মীয়, সাপ্তাহিক আমোদের সম্পাদক প্রয়াত ফজলে রাব্বী। খুনি মোশতাক এ সময় ফজলে রাব্বীকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খান।
খুনি মোশতাককে নিয়ে ৬টি গাড়ি বহর দশপাড়ায় তার বাড়িতে যায়। স্টিমার থেকে নামার পর কর্নেল খোন্দকার আবদুর রশিদ গাড়ি না পেয়ে সাধারণ গাড়িতে করে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে তখন প্রকাশ্যেই প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে গালি দিয়ে বসেন। খুনি মোশতাক
সেখানে তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। প্রেসিডেন্ট মোশতাককে সেদিন অধ্যাপক খোরশেদ আলম, অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদারসহ আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। খুনি মোশতাক ৮ অক্টোবর সকালে দশপাড়ায় দাউদকান্দি থানাধীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাথে বৈঠক করেন। পরদিন শুক্রবার বিকালে মোশতাক ঢাকায় ফিরে যায়।
১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর খুনি মোশতাক প্রেসিডেন্টের পথ থেকে পদত্যাগ করে প্রধান বিচারপতি এ এম সায়েমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ৭ নভেম্বর রাতে পুরান ঢাকার আগামসিলেনের বাসায় ফিরে যায়।
পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় কুমিল্লা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক খোরদেশ আলম সাক্ষী হন। তিনি তার সাক্ষ্যে বলেন-
স্বাধীনতার পরে ১৯৭৪ সনের বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা হয়। খাদ্যশস্য বিনষ্ট হয়। খাদ্যাভাব দেখা দেয়ার উপক্রম হয়। তখন কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (যা সংক্ষেপে বার্ড নামে পরিচিত) বন্যা উত্তর কর্মসূচি নেয়া হয়। মাহবুব আলম চাষী বার্ড- এর পরিচালক হিসেবে ছিল। খন্দকার মোশতাক সাহেব তাহাকে এই পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।
সেই বন্যা উত্তর কর্মসূচি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পায় এবং সেই কর্মসূচি স্বনির্ভর বাংলাদেশ কর্মসূচি হিসেবে চালু হয়।
আমি এই স্বনির্ভর কর্মসূচি কমিটির একজন সহ-সভাপতি ছিলাম। এই কর্মসূচির মিটিং বার্ড- এ হত।
কুমিল্লার কারা ছিলেন খুনি মোশতাকের সাথে ঘনিষ্ঠ১৯৭৫ সনের মার্চের শেষের দিকে কুমিল্লা (বিএআরডি) এ খন্দকার মোশতাক এবং মাহবুব আলম চাষীর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলন হয়। সেই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মোশতাক, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, মাহবুব আলম চাষী এবং আমি নিজেসহ আরো অনেকে। সেই সম্মেলন তিন দিন চলে। দ্বিতীয় দিনের বিকালে বার্ডের (বিএআরডি) রেস্ট হাউজের লাউঞ্জে বসে তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, দুইজন এমপি, আমি নিজে বসিয়া চা-পান করেছিলাম। তখন দেখলাম একটি আর্মি জিপে করে সিভিল ড্রেসে খন্দকার মোশতাক সাহেবের আত্মীয় মেজর খন্দকার আবদুর রশীদ এবং আরো একজন সামরিক অফিসার (বিএআরডি) রেস্ট হাউসে মোশতাক সাহেবের কক্ষে যান।
মাহবুব আলম চাষী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে নিয়ে ঐ কক্ষে যান। সেখানে প্রায় ৩০/৪০ মিনিট কাটান। তারপর মাগরিবের আগে ঐ সামরিক অফিসাররা চলে যান। ঐ সনের মে/জুন মাসে খন্দকার মোস্তাকের গ্রামের বাড়ি এলাকায় একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট দেয়া হয়। ঐ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় মোশতাক সাহেবের আমন্ত্রণে শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ আলী, চিফ-হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, আলী আশরাফ এমপি এবং আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। খেলা শেষে মোশতাক সাহেবের বাড়িতে চা-চক্রে যোগদান করি। চা-পানের সময় খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, শাহ মোয়াজ্জেম, বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন পলিসি ও কর্মসূচির সমালোচনা করেন। সেই সমালোচনায় শাহ মোয়াজ্জেমকে অত্যন্ত উৎসাহী এবং সোচ্চার দেখা গেল। মাঝে মাঝে বিভিন্ন সময়ে খন্দকার মোশতাককে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন পলিসির ব্যাপারে বিদ্বেষমূলকভাবে কটাক্ষ করতে দেখা যায়।
তারপর ঐ সনের জুন/জুলাইতে দাউদকান্দি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সম্মেলন হয়। সেই সম্মেলনে মোশতাক সাহেব, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর এবং আমি নিজে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। আলী আশরাফ এমপিও উপস্থিত ছিলেন। পরে মাহবুব আলম চাষীও আসেন।
সেই সম্মেলন চলাকালে আর্মির জিপে মেজর খন্দকার আঃ রশীদ, মেজর ফারুক, মেজর শাহরিয়ার এবং আরো কয়েকজন সামরিক অফিসার আসেন। সম্মেলন শেষে খন্দকার মোশতাক, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, মাহবুব আলম চাষী, মেজর রশীদ, মেজর ফারুক, মেজর শাহরিয়ার খন্দকার মোশতাকের বাড়িতে চলে যান। আমি সেখান থেকে কুমিল্লা চলে যাই।
১৯৭৫ সনের আগস্টে আমি কুমিল্লা জেলার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাই। আমাদের শপথ নেয়ার কথা ছিল ১৫/১৬ তারিখে। ১৪ আগস্ট বিকালে আমি আমার আব্বার টেলিফোন পেয়ে কুমিল্লা চলে যাই। আমার কুমিল্লার বাড়িতে রাত কাটাই। পরদিন ১৫ আগস্ট সকালে মেজর ডালিমের ঘোষণা রেডিওতে শুনি। মেজর ডালিম তার ঘোষণায় বলে- শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে, খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে।
পরে বিভিন্নভাবে জানতে পারি, মেজর খন্দকার আঃ রশীদ, মেজর ফারুক, মেজর ডালিম, মেজর শাহরিয়ার, মেজর বজলুল হুদা, মেজর নূর, মেজর রাশেদ চৌধুরী, মেজর আবদুল আজিজ পাশাসহ অন্যান্য সামরিক বাহিনীর অন্যান্য কিছু সদস্য খন্দকার মোশতাক, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও মাহবুব আলম চাষীর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে, তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গকে, আঃ রব সেরনিয়াবাত ও তার পরিবারে সদস্যবর্গকে, শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেসহ আরো কিছু ব্যক্তিকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে (ডিফেন্সের আপত্তি সহকারে রেকর্ড)। তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, মেজর আঃ রশীদ, মেজর ডালিম আমার ছাত্র ছিল। তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, মেজর ফারুক এবং মেজর শাহরিয়ার এখন কাঠগড়ায় আছেন (সঠিকভাবে শনাক্ত)।











© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};