ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
963
সুদের ফাঁদে নিঃস্ব শত শত পরিবার
Published : Thursday, 23 July, 2020 at 12:00 AM, Update: 23.07.2020 12:06:19 AM
সুদের ফাঁদে নিঃস্ব শত শত পরিবারশাহীন আলম, দেবিদ্বার ||
কুমিল্লার দেবিদ্বারে সুদ ব্যবসায়ীদের (দাদন ব্যবসায়ী) ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে গ্রামের সহজ সরল সাধারণ মানুষ। সুদের টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কখনো সাদা কাগজে কখনো অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর/টিপসহি রেখে টাকা দেয়ার পর ফাঁদে আটকানোর অভিযোগ রয়েছে। সময় মতো সুদের টাকা পরিশোধ না করলে কারও কারও জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয়।  উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে এমন অনেক ব্যবসায়ীর খোঁজ পাওয়া গেছে। অনেকেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ফেলে রাতের আধাঁরে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই সুদ ব্যবসায়ীদের হুমকীর কারণে থানায় অভিযোগ করারও সাহস পাচ্ছে না। তবে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিব হাসান বলেছেন অভিযোগ পেলে এসব অবৈধ ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  
অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যবসা টিকিয়ে রাখা ও জীবিকার প্রয়োজনে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন অভাব অনটনে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, দিনমজুর, শিক্ষকসহ শত মত মানুষ। এসব মানুষদের কষ্টের আয়ের প্রায় সবটাই চলে যায় সুদি (দাদন) ব্যবসায়ীদের পকেটে। তবে একাধিক সুদি কারবারি বলেন, আমরা কাউকে জোর করে টাকা দিই না। নিজেদের প্রয়োজনে আমাদের কাছে এসে তাঁরা টাকা নেন। সারা দেশের মতো একই নিয়মে আমরাও টাকা আদায় করি। ক্ষতিগ্রস্থরা বলছেন, বিপদে পড়ে চড়া সুদে নগদ টাকা নিতে বাধ্য হই। এভাবে সারা মাসে ব্যবসার অর্ধেক টাকা তাদের পকেটে চলে যায়। দিনরাত পরিশ্রম করেও সংসারের অভাব-অনটন লেগেই থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার রাজামেহার ইউপি’র মরিচা গ্রামের পিকআপ চালক শাহজাহান স্থানীয় এক দাদন (সুদ) ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গত দেড় বছর আগে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা সুদ দিবেন এ শর্তে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে একটি পিকআপ কেনেন। গত একবছরে তিনি দিন-রাত পিকআপ চালিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সুদ দেন। সংসারের খরচ চালিয়ে ও সুদের ঋণ পরিশোধ করে তিনি প্রতি মাসে কিছু কিছু টাকা জমিয়ে আসল টাকার ১লক্ষ ২০হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আসল ৩০ হাজার টাকার সুদ প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে পরিশোধ করে আসছিলেন তিনি। হঠাৎ করোনার প্রকোপে কর্মহীন হয়ে পড়েন শাহাজাহান। বন্ধ হয়ে যায় সুদের দেনা পরিশোধ। এভাবে ৩০ হাজার টাকায় গত ৫ মাসে তার সুদ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার। ৪৫ হাজার টাকার জন্য গত ২জুলাই শাহজাহানের পিকআপটি আটক করেন সুদি কারবারী মহসিন। পিকআপ আটকে রাখায় স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করতে থাকেন শাহজাহান। পরে ওই পিকআপটি ছাড়ানোর জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা গিয়েও সুদি মহসিনের কাছ থেকে পিকআপটি ছাড়াতে পারেননি। সবশেষ শাহজাহান স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি জানালে তারা থানা পুলিশের সহযোগিতায় সুদি মহসিনের বাড়ি থেকে পিকআপটি উদ্ধার করে শাহজাহানের কাছে ফেরত দেন। শাহজানের মত এ রকম শত শত পরিবার দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দাদন ব্যবসায়ীর ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে। হারাচ্ছেন ভিটে, বাড়ি আর সাজানো সংসার। প্রশাসনিক কোন পদক্ষেপ না থাকায় দিনের পর দিন পুরো দেবিদ্বারে সুদ কারবারীদের দাপট বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শিক্ষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুরসহ সাধারণ মানুষ।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, দেবিদ্বার উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দাদন ব্যবসা এখন জমজমাট। শিক্ষক, হোটেল, ক্ষুদ্র ব্যবসা, দিনমজুর, ভ্যান ও রিকশা চালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সংসার চালাতে গিয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। মরিচা গ্রামের অপর এক ভুক্তভোগী মৃত আ: মতিন ভূঁইয়ার ছেলে আবু তাহের এ রকম অসহায়দের মধ্যে একজন। সুদি কারবারীদের অত্যাচার আর নির্যাতনে পড়ে তিনি জায়গা জমি ও সবশেষ ভিটে বাড়ির দুটি ঘরসহ সাড়ে ৯শতাংশ মাত্র ৭ লক্ষ টাকা বিক্রি করে সুদের দেনা পরিশোধ করেন। এখন বোনের এক টুকরো জায়গায় একটি ছাপড়া ঘর তুলে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে থাকেন।
স্থানীয়রা বলছেন, দাদন বা সুদ ব্যবসা আইন সম্মত বা বৈধ না হওয়া সত্ত্বেও এই ব্যবসার সাথে জড়িতদেরও নানা কুট কৌশলের কারণে সমাজে এদের বিরুদ্ধে ‘টু’ শব্দটি পর্যন্ত করা হচ্ছে না। কিন্তু দিনে দিনে এর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিটি গ্রামে সুদের ব্যবসা ভয়াবহ বিষের ন্যায় ছড়িয়ে পরেছে। সুদ ব্যবসায়ীদের এখনই থামানো না গেলে এর ভয়াবহতা আরও বাড়বে। দাদনের ফাঁদে পড়ে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, দাদন ব্যবসায়ীরা টাকা দেওয়ার সময় জমির দলিল, ব্যাংকের ফাঁকা চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখেন। যখন কেউ টাকা ফেরত দিতে না পারে তখন ওই চেক স্ট্যাম্পে ইচ্ছেমত টাকা বসিয়ে পাওনাদারের নিকট দাবি করে। অনেক সুদি ব্যবসায়ী অন্য ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার আশায় এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন।
তারা আরও বলছেন, তাদের বেঁড়া জালে বন্দী হয়ে অনেক সহজ সরল সাধারণ মানুষ জমি, ঘড়-বাড়ি থেকে শুরু করে সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। অনেক এলাকায় দাদন ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে মানুষ ঘড়-বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে তাদের অত্যাচারে বাড়ি ফিরতে পারছেনা। কেউ কিছু বলতে পারে না। ফলে সুদের বোঝা টানতে না পেরে নিরবেই কাঁদছে অনেকে। ঋণের দেনা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যার মত ঘটনাও ঘটছে।  এ রকম দাদন ব্যবসায়ী দেবিদ্বারের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে রয়েছে। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ভিটেমাটি বিক্রি করে সুদের চক্রবৃদ্ধির কয়েক গুণ টাকা শোধ করতে গিয়ে পথে বসেছেন। এসব দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পর থেকে বাঁচতে নানা পেশার মানুষ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ওমানী বলেন, এলাকায় সুদি কারবারীদের কবলে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে অনেক মানুষ। তারা টাকা ধার দেওয়ার নামে নিরীহ মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। লাখে প্রতি মাসে ১৫/২০ হাজার টাকার সুদ দিতে না পেরে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে । টাকা দিতে না পারলে তারা অত্যাচার নির্যাতন এমনকি মামলাও করেন। ফাঁকা স্ট্যাম্প বা চেকে স্বাক্ষর রেখে টাকা দিতে না পারলে মূল টাকার দ্বিগুণ বাড়িয়ে অথবা স্বাক্ষর করা ফাঁকা স্ট্যাম্পে জায়গা-জমি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দখলে নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, ‘সুদ ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পড়ে যারা নিঃস্ব হচ্ছে তাদের কাছ থেকে লিখিত কোন অভিযোগ পেলে সাথে সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ একটি ব্যবসা।’







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};