ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
472
দেবিদ্বার করোনা মহামারীতে সংকটে বেসরকারি স্কুল শিক্ষকরা
Published : Tuesday, 7 July, 2020 at 12:00 AM, Update: 07.07.2020 12:07:01 AM
দেবিদ্বার করোনা মহামারীতে সংকটে বেসরকারি স্কুল শিক্ষকরাশাহীন আলম, দেবিদ্বার ||
মহামারী করোনার ভাইরাসের কারণে ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেবিদ্বার উপজেলার প্রায় আড়াইশো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা। এ অবস্থায় সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে না হলেও মহাসংকটে পড়েছেন দেবিদ্বারের বেসরকারী বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক/কর্মচারী। গত চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না তারা। সেই সঙ্গে প্রাইভেট-টিউশনিও বন্ধ হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। যদিও তাদের জন্য সরকারি প্রণোদনার ঘোষণাও এসেছে। তবে  সেই প্রণোদনা যেন তৃষ্ণার্ত কাকের কাছে এক ফোঁটা পানির মতো অবস্থা। ওই প্রণোদনায় বেসরকারি শিক্ষকদের এককালীন মাত্র ৫ হাজার টাকা আর কর্মচারীদের আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
দেবিদ্বারের বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ব্যাপারে খুব বেশি সাড়া দিচ্ছেন না অভিভাবকরা। ফলে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই গত মার্চ মাস থেকে বেতন দিতে পারছে না শিক্ষক-কর্মচারীদের। অনার্স-মাস্টার্স কলেজের এমপিওহীন শিক্ষকরাও বেতন পাচ্ছেন না নিজের কলেজ থেকে। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছে না। আবার কেউ কেউ দিচ্ছে অর্ধেক বেতন।
বেসরকারী বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকরা জানান, প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক বেতনের বাইরে তাদের আয়ের অন্যতম উৎস ছিল টিউশনি। কিন্তু করোনার কারণে এখন সেই পথও বন্ধ। ফলে বেতন না পেয়ে ও টিউশনি হারিয়ে তারা গত চার মাসে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অবস্থা এমনই যে অনেকে বাসা ভাড়াও দিতে পারছেন না।  শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর শতভাগ নির্ভরশীল উপজেলার কিন্ডারগার্র্টেন স্কুলগুলোও এখন প্রায় বন্ধের উপক্রম।
দেবিদ্বারে আরিফুল ইসলাম নামে বেসরকারি এক স্কুলের শিক্ষক নিমসার কাঁচাবাজারে কাঁচামালের বস্তা উঠা নামানোর কাজ করেন। অর্থের অভাবে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন তার মত অনেকেই। জেসমিন আক্তার নামে আরেক শিক্ষক বাসা ভাড়া দিতে না পেরে মালপত্র রেখেই চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে।    
এ বিষয়ে দেবিদ্বারের একজন শিক্ষক নেতা বলেন, একজন শিক্ষককে মাত্র ৫ হাজার টাকা আর কর্মচারীকে মাত্র আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ টাকা দিয়ে একজন শিক্ষকের পরিবার কতদিন চলতে পারবে? দেবিদ্বারে অনেক বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে। এ পেশায় কেউ ইচ্ছে করেই আসতে চাইছে না। চোখের সামনে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বেসরকারী শিক্ষকরা। দেখার যেন কেউ নেই।
জানাগেছে, দেবিদ্বারে প্রায় আড়াইশো বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই চলে ভাড়া বাড়িতে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া টিউশন ফি’র টাকাতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ বাড়িভাড়া, নানা ধরনের বিল ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে থাকেন। বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বকেয়া পড়েছে বাড়িভাড়া, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন।
দেবিদ্বার মেরিট হোম স্কুলের প্রধান শিক্ষক একেএম মোর্শেদ আলম জানান, শিক্ষকদের অবস্থা খুব খারাপ। অভিভাবকরাও স্কুলে আসছেন না, বেতনও দিচ্ছেন না। আমরাও শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে বেসরকারি শিক্ষাখাত ধ্বংস হয়ে যাবে। দেবিদ্বার ক্যাডেট স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম মোর্শেদ জানান, কয়েকদিন আগেও বেসরকারি একজন শিক্ষকের ঘরে বাজার নেই বলে আমার কাছে দুইশত টাকা ধার চেয়েছেন আমি তাকে ৫শ টাকা দিয়েছি। আমার স্কুলের কিছু শিক্ষক বাসা ভাড়া দিতে না পারায় ভাড়া বাসায় মালপত্র রেখেই গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। অসুস্থ এক শিক্ষক ওষধ কেনার জন্য এক হাজার চেয়েছেন। এ মহামারিতে বেসরকারি শিক্ষকরা মহাদুর্যোগে দিনাতিপাত করছেন। সরকার এসব শিক্ষকদের দু:খ-কষ্ট আর কবে বুঝবে।     
এ বিষয়ে দেবিদ্বার কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘অভিভাবকরা টিউশন ফি দিচ্ছেন না, তাই  অনেক স্কুল শিক্ষকদের বেতন, বাড়িভাড়া দিতে পারছেন না। গত দুই মাস আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের কাছে সরকারি ভাবে আর্থিক প্রণোদনা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও আমাদেরকে কোন সহায়তা দেওয়া হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবক স্কুল ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ থাকবে না। অপরদিকে, করোনার মধ্যে করুণ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন বেসরকারী নূরানী, হাফেজি, ক¦াওমি মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষকরাও। দেবিদ্বার উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় ১৫০টি বেসরকারি হাফেজি মাদারাসা রয়েছে। করোনার প্রকোপে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মহাসংকটে পড়েছেন এসব মাদরাসার শিক্ষক কর্মচারীরাও। ইউএনও রাকিব হাসান বলেন, মহামারিতে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা কষ্টে আছেন। উপজেলা প্রশাসন থেকে তাদের অনেককে বিভিন্ন সময়ে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে তাদের আর্থিক সহযোগিতাও করা হবে।  
 








© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};