ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
288
দেবিদ্বার বিদ্যুতের আপগ্রেডেশন কাজ চলছে ধীরগতিতে
Published : Tuesday, 30 June, 2020 at 12:00 AM, Update: 30.06.2020 1:06:12 AM
দেবিদ্বার বিদ্যুতের আপগ্রেডেশন কাজ চলছে ধীরগতিতে শাহীন আলম, দেবিদ্বার ||
কুমিল্লায় বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় দেবপুর-বাঞ্ছরামপুর ফিডার’র দেবিদ্বার অংশের ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) শক্তিসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন আপগ্রেডেশনের কাজ চলছে ধীরগতিতে। বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে বিদ্যুতের উন্নয়নমূলক এ কাজের অগ্রগতি মেলেনি গত দেড় বছরেও। ৩৩ কেভি লাইন আপগ্রেডেশনের এ প্রকল্পের কাজটি সিলিকন জেবি ইঞ্জিনিয়ারিং নামে এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গেল শীতে শেষ করার কথা। কিন্তু চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমেও তারা তা সম্পন্ন করতে পারেনি। সঞ্চালন লাইন আপগ্রেডেশন কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়তে হয় হাজার হাজার গ্রাহককে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপগ্রেডেশন লাইনটি ফসলি জমির ওপর দিয়ে যাওয়ার কারণে কাজ করতে যেয়ে ফসলী জমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, বিভিন্ন বাঁধা, করোনা পরিস্থিতি, বৃষ্টির মৌসুম ও বিভিন্ন সমস্যায় পুরাতন চলমান লাইন বন্ধ না করার কারণে আপগ্রেডেশন কাজ ধীরগতিতে চলছে।
এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঠিক কত কোটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে তার কোন হিসাব দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, এই আপগ্রেডেশন লাইনটি দেবপুর গ্রিড থেকে শুরু হয়ে ৯টি লট এর মাধ্যমে দেবিদ্বার, মুরাদনগর হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছরামপুর উপজেলা পর্যন্ত যাবে।
দেবিদ্বার বিদ্যুতের জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা পবিস-১’র আওতায় দেবিদ্বার উপজেলায় মোট ৭০হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন দেবিদ্বার জোনাল অফিস। উপজেলার ভুষণা ও জাফরগঞ্জের দুটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৮০০ কি.মি. বিদ্যুৎ লাইন দিয়ে এই উপজেলার ৮০শতাংশ পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বাকি ২০ শতাংশ পরিবারকে পাশ^বর্তী উপজেলা চান্দিনা ও মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ থেকে ধার করা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। দেবিদ্বারে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ২২ মেগাওয়াট যা দেবপুর গ্রীড হতে সরবরাহ করা হয়। ১৪ কি.মি. দৈর্ঘ্যের দেবপুর-বাঞ্ছরামপুর ফিডাররে দেবিদ্বার অংশের ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) এই লাইনটি খুবই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এটির দ্রুত আপগ্রেডেশন কাজ সম্পন্ন হলে দেবিদ্বারে মোট ৭০ হাজার গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।   
সূত্রে জানা গেছে,  ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে দেবপুর-বাঞ্ছরামপুর ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট)  লাইনটির উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিলিকন জেবি ইঞ্জিনিয়ারিং সময়মত কাজটি না করার কারণে এখনও ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) লাইনটির আধুনিকায়নের অগ্রগতি হয়নি। চলতি বৃষ্টি মৌসুমে তাদের কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। আপগ্রেডেশন কাজ শেষ না হওয়ায় দেবিদ্বারে চান্দিনা উপজেলার ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সমস্যায় জরার্জিণ রয়েছে চান্দিনা-দেবিদ্বার ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) লাইনটিও। যার কারণে প্রায় প্রতিদিনই আট থেকে দশবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একবার বন্ধ হলে চালু হতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। বর্তমানে দেবিদ্বার উপজেলায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা প্রায় ২০-২২ মেগাওয়াট। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিলিকন ইঞ্জিনিয়ারিং যদি কাজটি গেল শীত মৌসুমে সম্পন্ন করত তাহলে দেবপুর গ্রীড হতে দেবিদ্বার উপজেলায় প্রায় ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হতো। যা চাহিদা পূরণ করে আরও ৬/৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উদ্ধৃতি থাকে। পাশাপাশি চান্দিনা ও মুরাদনগর থেকে ধার করা বিদ্যুৎ সরবরাহ করার প্রয়োজন হত না।
দেবপুর-বাঞ্ছরামপুর ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) এর প্রজেক্ট ম্যানেজার হাসান আল মামুন কুমিল্লার কাগজকে  বলেন, ফসলি জমি, লাইন বন্ধ করা, করোনা পরিস্থিতি, লাইন টানতে বিভিন্ন বাঁধা ও বৃষ্টির মৌসুমের কারণে আপগ্রেডেশন কাজ আপাতত ধীর গতিতে চলছে। আমাদের কাজ মূলত শুরু হয় জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে যখন মাঠে কোন ফসল থাকে না। তবে আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে পুরো প্রজেক্টের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে দেবিদ্বার অংশের কাজটি ১৫/২০ দিনের মধ্যে শেষ করা হবে। এছাড়াও বিভিন্ন  
দেবিদ্বার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি চৌধুরী কুমিল্লার কাগজকে বলেন, দুটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে আটটি ১১ কেভি এবং দুটি ৩৩ কেভি লাইনের মাধ্যমে উপজেলার ৭০ হাজার পরিবারকে  বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দেবিদ্বারে মোট বিদ্যুৎ এর চাহিদা রয়েছে ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট। দেবপুর গ্রীড থেকে দেবিদ্বার ৩৩ কেভি লাইন দ্বারা বর্তমানে সর্বোচ্চ ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। চাহিদার ঘাটতি বাকি আরও ৮/১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চান্দিনা ও কোম্পানীগঞ্জ থেকে ধার করে সরবরাহ করা হয়। চাহিদা পূরণ ও বিতরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস হতে দেবপুর গ্রীড-দেবিদ্বার ৩৩ কেভি লাইনের আপগ্রেডেশন কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনও আপগ্রেডেশন কাজটি সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিলিকন জেবি ইঞ্জিনিয়ারিং। বর্তমানে এই গ্রীষ্ম মৌসুমে কাজ চলমান থাকায় চাহিদার পুরো বিদ্যুৎ চান্দিনা এবং কোম্পানীগঞ্জ থেকে সরবরাহ করতে হচ্ছে। যার  কারণে  দেবিদ্বারে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। দেবিদ্বারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে কাজের গুনগতমান ঠিক রেখে দ্রুত দেবপুর গ্রীড থেকে দেবিদ্বার পর্যন্ত  ১৪ কি.মি. ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) শক্তিসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ করা প্রয়োজন।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর জিএম মো. মোস্তাফিজুর রহমান কুমিল্লার কাগজকে বলেন, আগামী ১৫/২০ দিনের মধ্যে  ৩৩ কেভি লাইনের কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে। ঠিকাদার করোনা পরিস্থিতির কারণে ধীরগতিতে কাজ করছেন। দেবিদ্বারে একটু একটু বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে তবে একেবারে নাজুক নয়, আমরা চান্দিনা ও কোম্পানীগঞ্জ থেকে আপাতত বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করছি। ৩৩ কেভি লাইন চালু হলে এ সমস্যাটা আর থাকবে না।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ তত্ত্ববধায়ক মো. আতাউর রহমান কুমিল্লার কাগজকে বলেন, দেবপুর-বাঞ্ছরামপুর ফিডার’র দেবিদ্বার অংশের ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট)  আপগ্রেডেশনের কাজটি ঢাকা থেকে টেন্ডার করা হয়েছে। আমরা দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে বলেছি।







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};