ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
143
পিংপং
Published : Thursday, 4 June, 2020 at 12:00 AM
পিংপংআনোয়ারুল হক ||
বন্ধুদের মধ্যেই কে যেন তাকে বললো, এই ডাক্তার তোমার রোগের ওষুধ দিতে পারবে। তাই রামপুরা থেকে মালিবাগ চৌধুরি পাড়ায় ডাক্তারের চেম্বারে কোন কিছু না ভেবে চলে আসা।
মধ্য বয়সী ডাক্তারের চেম্বারে তেমন কোন ভিড় ছিল না সেদিন। কম্পাউ-ার ঢোকার আগে কোন বাধাই দিল না।
এবং সে একবারও তার মুখের দিকে তাকালো না। পাশাপাশি চেয়ারে বসে শুকনো বেত গাছের লাঠির মতো ছিপছিপে তার সহকর্মী মহিলা নার্সের সঙ্গে নিচু স্বরে ফিসফাস করে কথা বলছিলো। হাতের ইশারায় বললো,
যান যান, নম্বর লাগবো না। ডাক্তার সাব অবসর আছে।
মোলায়েম হাতে সাদা পর্দা সরিয়ে ভিতরে ঢুকে সাব্বির দ্রুত ডাক্তারের সামনের খালি চেয়ারে চুপচাপ বসে পড়লো।
যদিও ডাক্তার তাকে বসতে বলেনি। আর সেও কিছু না বলে বসে পড়ে এখন ভাবছে, পারমিশন না নিয়ে ঢুকাতে ডাক্তার যদি তাকে বলে, বেরিয়ে যান। সিরিয়াল নিয়ে আসেন, তখন ?
ওদিকে গোমরো মুখো ডাক্তার পাঁচ ফিট বাই তিন ফিটের একটা টেবিলের ওপাশে পাওয়ারফুল গ্লাশের পিছনে কুতকুতে দুটি চোখ নিয়ে তার ড্রয়ারে কি যেনো খুঁজছিলো। তাকে বিরক্ত মনে হচ্ছিলো।
যা খুঁজছিলো তা না পেয়ে টেবিলের ওপর রাখা মোবাইলের দিকে হাত বাড়াতে গিয়ে ডাক্তার সাব্বিরকে দেখলো। এই সময় তার টেবিলের উপর রাখা স্যামসং মোবাইল বেজে উঠলো। উল্টো দিকে বসা সাব্বির স্পষ্ট দেখলো, মোবাইলের স্কৃণে একটি সুন্দরী মহিলার সাজুগুজো ছবি ভেসে উঠলো।
মনে মনে আশ্চর্য হলো সে, বাহ! এই মহিলার চেহারার সাথে আমার ফেসবুক প্রেমিকার চেহারার বেশ মিল আছে তো ! মুখের গড়ন, চুলের ভাঁজ, হাসি..
ডাক্তার সাব্বিরের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে মোবাইলের বুকের বোতামে চাপ দিলো।
ফোনটা কানে চেপে ধরে ‘চেম্বারে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলবো’ বলে সেটটা সাইড টেবিলে সরিয়ে রেখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে এবার সাব্বিরের দিকে নজর দিলো। নজরটা নিস্পৃহ, ঠা-া।
টেবিল লেম্পের ছায়া মাখা আলোতে ডাক্তারকে চুপচাপ দেখছিলো সাব্বির। কিছু বলতে যাবে তখন ফ্যাঁসফ্যাসে একটা স্বর বেরিয়ে এলো ডাক্তারের মুখ থেকে,
-নতুন না পুরনো ?
প্রশ্নটা বুঝতে না পেরে সাব্বির হাসিমুখে সরল জবাব দিলো,
-নতুন ।
জবাব শুনে ডাক্তার ভ্রু কুঁচকালেন। গলার স্বর মোটা হলো,
-রোগ না রুগী ?
ডাক্তারের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে সাব্বিরও সংক্ষিপ্ত জবাব দেয়,
-দুটোই।
যেন পিংপং বল লুফালুফি হচ্ছে দুজনের মধ্যে। ডাক্তার বললো,
-নতুন রোগী ও রোগ পাঁচশ টাকা, ভিজিট দিয়েছেন ? রিসিটটা দেখান।
-আপনার কম্পাউ-ার তো ভিজিট চাইলো না। দেখলাম, ও  আপনার নার্সের সঙ্গে জরুরী আলাপে ব্যস্ত আছে। ফিরে   
 গিয়ে দিয়ে আসবো ?
সাব্বির চেয়ার ছাড়ার উপক্রম করতেই হাতের ইশারায় বসিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
-কী অসুখ আপনার ? সাব্বির কাচুমাচু করে জবাব দিলো,
-মন খারাপ। আমার খুব মন খারাপ।
ডাক্তার সাব্বিরের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন কয়েক সেকে-। বিরক্ত কণ্ঠেই বললেন,
-আমি কি মেেনারোগ চিকিত্সা করি নাকি ?  সাইনবোর্ড দেখে আসেন নি আমি মেডিসিনের ডাক্তার ? কে আপনাকে আমার কাছে আসতে বললো ? প্রশ্ন শুনে সাব্বির মুখ কাচুমাচু করে বিনীত জবাব দিলো,
-আমার এক বন্ধু, আপনার পেশেন্ট। সেই বললো। ঠিক আছে, আমি কি তাহলে চলে যাবো ডাক্তার সাহেব ?
ডাক্তার হাত তুলে সাব্বিরকে থামালেন। চলে গেলে পাঁচশত টাকা যাবে ভেস্তে। কাজটা ঠিক হবে না। বললো,
-ঠিক আছে। রোগের ইতিহাস বলুন। কতদিন ধরে মন খারাপ ?
সাব্বির কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। মাথা নিচু করে একটা কিছু কী যেনো ভাবলো। তারপর বললো,
-মাস খানেক ধরে চলছে এমন। যতক্ষণ মোবাইলে ওর সাথে কথা বলি ততক্ষণ ভালো থাকি। ফোন রেখে দিলে তারপর থেকে মন খারাপ লাগতে শুরু করে। তখন খেতে পারি না, ঘুমাতে পারি না। কিচ্ছু ভাল্লাগে না।
- ও, ফেসবুক বন্ধু, না বান্ধবী ?
- বান্ধবী।
- সারা রাত ধরে চলে ?
- না । সারা রাত না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার বান্ধবীর স্বামী ঘরে না ফিরে আসে ততক্ষণ পর্যন্ত।
- তাই নাকি ? বিবাহিতা মহিলা। স্বামী আছে তাহলে আপনার ফেসবুক বন্ধুর ?
- হ্যা। আছে তো। ওর স্বামীও ডাক্তার। নাম বলে নাই আমাকে। বলে, সে নাকি একটা লুইচ্চা, বদমাস, লম্পট-
- বলেছে আপনাকে ?
- সব কথাই তো সে আমাকে বলে। জানেন ডাক্তার, ও খুব অসুখী মেয়ে। ওর মন খারাপের কথা শুনে আমারও মন
  খুব খারাপ হয়ে যায়।
ডাক্তার তার প্যাডে কিছু নোট করলেন। তারপর বললেন,
-ওর দুখে আপনার মন খারাপ হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু অস্বাভাবিক হলো, আপনার ওকে নিয়ে বেশি বেশি
 ভাবেন। কেন ?
- করবো না, বলুন ? একটি বিবাহিতা মেয়ে যদি জানে, তার স্বামী তাকে ফেলে অন্য মেয়ে নিয়ে রাত কাটায় তাহলে
  তার কষ্ট হয় না ? আর যে শুনে তারও তো কষ্ট হয়। নাকি ? দিনের পর দিন এমন লম্পটকে নিয়ে সংসার করাও  
  তো ভীষণ মুসকিল তাই না ?
ডাক্তার এবার সাব্বিরকে সমাধান দেবার মতো বললো,
- তা আপনি এক কাজ করুন না, ডাক্তারকে ছেড়ে দিতে বলুন। তারপর তাকে বিয়ে করে ফেলুন।
- বলেছিলাম। সে বিয়ে করতে রাজি হয় না। ও বলছে অন্য কথা।
- কি বলেছে ? প্রশ্ন শুনে সাব্বির তাড়াতাড়ি জবাব দিলো,
- সে কথা আপনাকে বলা যাবে না।
ডাক্তার পিংপং বলটাকে ছুড়ে দিলেন সাব্বিরের দিকে। বললেন,
-ডাক্তারের কাছে রোগী সব কথা খুলে না বললে ডাক্তার রোগের চিকিত্সা করবে কি করে ? সব খুলে বলুন।
সাব্বির যেনো কাউকে গোপন কোন কথা বলছে তেমন স্বরে বললো,
- সে চায়, প্রতিশোধ নিতে।
- প্রতিশোধ ? ওরে বাবা, খুনোখুনি নাকি ? ডাক্তারকে আশ্বস্থ করে সাব্বির,
- না না, খুনোখুনি না। অন্যকিছু।
- অন্যকিছু ! তো কী করতে চায় আপনার বান্ধবী ?
প্রশ্ন শুনে আবারও সাব্বির চুপচাপ ডাক্তারের মাথার পিছনে সাদা দেয়লের দিকে তাকিয়ে থাকলো। তারপর বললো,
-সে চায়, সে চায়, ওর স্বামী যা করে, ও তা করতে চায়।
ডাক্তার এবার সাব্বিরকে প্রশ্ন করা থামিয়ে চোখ থেকে তার ভারী পাওয়ারের চশমাটা খুলে চশমার খাপ থেকে মখমলের রুমালটা বের করে কাঁচ দুটো মুছে আবার চোখে দেয়। তারপর ঘরের ভিতরের ডেটলের গন্ধটাকে নাক মুখ দিয়ে যেনো টেনে নেয়। তারপর আবার কিছুটা সাব্বিরের দিকে ঠেলে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
- মেয়েটির স্বামী যা করে, কি করে সে ?
- ডাক্তারী করে।
- সে কথা না, বললেন, মেয়েটি প্রতিশোধ নিতে চায়। ওর স্বামী যা করে ও তা করতে চায়। ওর স্বামী কী করে ?
সাব্বির মুখ গোমরা করে ডাক্তারকে বললো,
-আমার বান্ধবীর ধারণা, ওর ডাক্তার স্বামী রোগী দেখার কথা বলে, হাসপাতালে নাইট ডিউটি আছে, চেম্বারে ব্যস্ত থাকবো এইসব বলে রাতের পর রাত সে তার বান্ধবীদের সঙ্গে রাত কাটায়। এজন্যে সেও চায় প্রতিশোধ নিতে।
ডাক্তার তার দুচোখ গোল গোল করে প্রশ্ন করেন,
- তার স্বামীকে সে লোক ভাড়া করে মেরে ফেলতে চায় ? এইতো ?
- না, না। তার স্বামী অন্য মেয়েদের সঙ্গে যা করে সেও এইসব করতে চায়।
- তো ? আপনার তাতে কি ? করুক না ?
- মুসকিল তো এখানেই। ও চায়, আমি যেনো ওর বাসায় যাই। প্রায় রাতে, যেদিন ওর স্বামী বাসায় থাকে না সেদিন
  সে আমাকে তার বাসায় যেতে ডাকে। কান্নাকাটি করে। আমার মন খারাপ হয়।
-আপনি তার বাসা চিনেন ?
-চিনি। জিগাতলায়। পেট্রলপাম্পের পিছনে।
জবাব শুনে ডাক্তারের তলপেটে শক্ত একটা কিছু যেনো মোচড় দিয়ে ওঠে। সব্বির এটা টের পায় না।
ডাক্তার একটু থম ধরে। আলো ছায়ায় যুবক দেখতে পায় ডাক্তারের গোলগাল মুখটা আমাশা রোগির মুখের মতো ফ্যাকাশে। পোকায় কাটা থুতনীটা কেমন ঝুলে আছে। ডাক্তার মাথা নাড়ালে সাব্বির বললো,
-সে চায়, যেদিন ওর স্বামী রাতে বাসায় থাকে না সেই রাতে আমি যেনো ওর বাসায় যাই। ওর সঙ্গে লিভ টুগেদার
 করি।
- লিভ টুগেদার করতে বলে ? আচ্ছা। তা কী ধরণের কথা বেশি হয় আপনাদের মধ্যে ?
এই প্রশ্নে সাব্বির আবার চুপ করে থাকে। মাথা নিচু করে থাকে কিছুক্ষণ। ভাবে, কী করে বলা যায় এইসব!
রুমার সঙ্গে তার কথাবার্তা প্রথমে সাধারণ থাকে কিন্তু একসময় তা আর সাধারণ থাকে না। সাব্বিরকে আকর্ষণ করার জন্য উপেক্ষিত যৌবনা যা করার তখন তাই করে। ছবি পাঠায় ম্যাসেঞ্জারে। আর সেই ছবিগুলো এমন যে, দেখে সাব্বিরের গা শিরশির করে।
বিবাহিত নারী পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে তার আজন্ম সংস্কারে ধাক্কা লাগে। পারিবারিক শিক্ষা ওর মনের লাগাম টেনে ধরে। মরিয়া হয়ে সে তার ফেসবুক নারীকে সাবধান করে। ওদিক থেকে রুমা তাকে বলে,
- এসব স্বাভাবিক। আজকাল বিয়ে করে, না করে বিছানায় শোয়া নাকি ডালভাত ! বিয়ের পরে বলে আরও নিরাপদ। না হলে ওর স্বামী দিনের পর দিন ওকে ছেড়ে অন্য মহিলাদের সঙ্গে রাত কাটায় কী করে ? এইসব শুনে সাব্বির ঘোরের মধ্যে পড়ে যায়। তার মন সায় দেয় না রুমার আহ্বানে সাড়া দিতে।
ডাক্তার নিরবতা ভেঙ্গে আবার সাব্বিরকে প্রশ্ন করে,
-বললেন না কী ধরণের কথা হয় আপনাদের মধ্যে ?
সাব্বির এবার বলে ফেলে, এই আর কি, নারী পুরুষের ওইসব নিয়ে কথাবার্তা।
-সেক্স ? আই মিন, যৌনতা ?
-হ্যা। সাব্বির উপরে নিচে মাথা নাড়ে।
-ছবি পাঠায় সে আপনাকে ? বা আপনি দেন আপনার বান্ধবীকে ?
-আমাকে দিতে হয় না। সে-ই প্রতিবার পাঠায়। গায়ে কোন কাপড় থাকে না এমন সব ছবি।
- ও। মুখ ফসকেই যেনো ডাক্তার বলে বসে, ছবিগুলো দেখানো যাবে ?
- দেখবেন ? কেন ? ডাক্তার সাথেসাথে যুক্তি দেয়,
- রুগীর চিকিত্সা করতে হলে রোগের উত্স তো জানতেই হবে। নাকি ?
- তা ঠিক। তা ঠিক। বলে সাব্বির পকেট থেকে মোবাইলটা নিয়ে ম্যাসেঞ্জার খুললো। রুমার পোস্ট বের করে ডাক্তারের হাতে দিতে দিতে সে সরল ভাবে জিজ্ঞেস করলো,
- ডাক্তার সাহেব, কিছু যদি মনে না করেন, তাহলে একটা কথা জিজ্ঞেস করি আপনাকে ?
- করুন।
- আমি আসার পরে আপনার মোবাইলে যে রিং হলো আর স্কৃণে একজন মহিলার ছবিটা দেখলাম উনি কি আপনার   
  ওয়াইফ ?
ডাক্তার একটু দ্বিধা নিয়ে থেমে জবাব দিলো,
- হ্যা। কেন বলুন তো ?
- আমার বান্ধবীর চেহারাও ঠিক ওনার মতো, খুব সুন্দর দেখতে। বোন বলে চালিয়ে দেওয়া যাবে। হা হা হা।
ডাক্তার এবার মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,
-কী নাম যেন আপনার বান্ধবীর ?
-রুমা।
যে পিংপং বলটা নিয়ে এতক্ষণ দুজনে লুফালুফি খেলছিলো সেই বলটা নিমেষে চাপ খেয়ে এখন চলে গেলো ডাক্তারের কোর্টে! সাদা বলটা ব্যাটের ঘায়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে মাটিতে দেয়ালে।
নিরবে পিন পতন স্তব্ধতায় ডাক্তার সাব্বিরের মোবাইলের স্কৃণে থাকা রুমার সবগুলো ছবিই কাঁপা কাঁপা হাতে ধীরে ধীরে সরিয়ে সরিয়ে দেখলো। ভাবনাটা এড়ানো গেলো না,
রুমাকে সে এভাবে কতদিন আগে দেখেছে সে মনে করতে পারলো না। একের পর এক নগ্ন ছবিতে ওকে তার অচেনা মনে হচ্ছে। আশ্চর্য ! তবে, কোন রাগও হচ্ছে না রুমার প্রতি ওর ! বরং একটা অপরাধ বোধ তার নিজের মনকে ঘিরে ডালপালা বিস্তার করতে চাইছে।
ডাক্তারের গলা শুকিয়ে কাঠ। বুকের কাঁপন টের পেলেন অবসন্ন হয়ে আসা শরীরে চেয়ারটায় হেলান দিতে গিয়ে। এসবের কিছুই বুঝতে দিলেন না টেবিলের অপর পাশে বসে থাকা যুবককে।
সাব্বির হাত বাড়িয়ে সেলটা ফিরিয়ে নিলো। ডাক্তার তাকে জিজ্ঞেস করলো,
-বিয়ে করেছেন ?
-নাহ। সহসাই করবো। মা তাগাদা দিচ্ছেন খুব।
-তাই করুন। বেশি দেরি করবেন না। আর শুনুন, আপনার অসুখের প্রথম চিকিত্সা হলো, ঐ ছবিগুলো মোবাইলের স্কৃণ থেকে মুছে ফেলুন। এক্ষুনি। পারবেন ?
মাথা নেড়ে সাব্বির ডাক্তারের কথামত মেসেঞ্জার থেকে রুমার নগ্ন ছবিগুলো টিপে টিপে ডিলিট করলো।
এবার ডাক্তার ঝট করে উঠে দাঁড়িয়ে সাব্বিরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
-বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্কটা চুকিয়ে দিয়ে বাড়ি গিয়ে বিয়ে করুন। মন ভালো হয়ে যাবে। যান। আর আপনার ফিস লাগবে না। আসুন এবার।
সাব্বির বের হয়ে যেতেই ডাক্তার দ্রুত হাতে চেম্বার গুছালো। বাকী রোগীদের অন্যদিন দেখবে বলে এটে-ণ্টকে চেম্বার বন্ধ করতে বললো। তারপর টেবিল ল্যাম্পের ছায়ালোতে নিজের চেয়ারে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলো সে। দুইহাতে দুইদিক থেকে মাথাটা চেপে ধরে টেবিলের ওপর ঝুকে সাদা কাঁচের নিচে রুমা আর নিজের বিয়ের যুগল ছবিটার দিকে বেশ কিছু সময় ধরে তাকিয়ে থাকলো। অনেক অনেক বছর পর বুঝি ঝাপসা হয়ে আসছে তার দৃষ্টি।
একাকী ঘরে এয়ারকুলারের শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দও নেই।
ডান হাতের দেয়ালের এক কোণে তখন মেটে রঙের দুটো টিকটিকি অনুরাগে পরস্পরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে একটা আরেকটাকে ডাকলো, টিক টিক টিক। এই সময়ে সরীসৃপের ডাকটা ডাক্তারকে ভীষণ চমকে দিলো।
ঘোলা চোখে ওদের অনুরাগ পর্ব দেখতে দেখতে ভাবলো সে,
এমনও হয় ! মন খারাপের ওষুধ চাইতে আসা যুবক উল্টো বুঝি তারই মনকে নাড়া দিয়ে গেলো ! নাকি ভবিষ্যতের খাদে পড়ে যাওয়ার হাত থেকে ওকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেলো !
পাদটিকা : এই গল্প পড়ে কেউ ভাববেন না, আজ বাড়ি গিয়ে একটা কুরুক্ষেত্র হবে। সবসময় এমন হয় বটে। তবে  
             উল্টোটাও হতে পারে !  
১৭.৫.২০২০
মহাখালি, ঢাকা।   





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};