ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
178
জীবনে-মরণে বাতিঘর
Published : Friday, 22 May, 2020 at 12:00 AM
(আনিসুজ্জামান স্যারকে নিবেদিত গল্প)
জীবনে-মরণে বাতিঘরআনোয়ারুল হক ||
আজ শুক্রবার।
জুম্মার নামাজের ঘন্টা খানেক পর কিছুক্ষণ আগে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁর বাবার কবরের উপরে শায়িত করা হলো দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ জাতীয় অধ্যাপক, আমৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমিরেটাস, বাংলা একাডেমির সভাপতি আনিসুজ্জামানকে।
কবর হয়ে যাওয়ার পর এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষাকারী পোশাক পরিহিত একটি মানুষ দু:খ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দেশ বরেণ্য জাতীর বিবেক, বাতিঘর বলে সম্মানিত প্রয়াত শিক্ষকের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
ছয়-সাত জনের একটা দল মিলে জুম্মার  নামাজের পর জানাযা পড়ে কবর দিয়ে গেছে তাঁকে। ছোট দলটির সবাই বিদায় নিয়ে যাওয়ার পর মানুষটি এখানে এসেছে। তারপর থেকে সে নিরিবিলি এখানে দাঁড়িয়ে আছে।
ভাবছে সে, যে ভাবনা তার মন থেকে সরে যায় না। গেঁথে আছে।
তার মধ্যে একটি ভাবনা তো অবশ্যই এই, এমন একটি মহৎ মানুষের এমন নিরবে প্রস্থান কি মেনে নেওয়া যায়! আপনজন, বন্ধু, আত্মীয়, শুভাকাঙ্খী, সারাজীবনের ছাত্র-ছাত্রী কেউ থাকলো না পাশে! অমোঘ মৃত্যু জীবন থেকে মানুষকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় ঠিকই, তাই বলে এভাবে, একাকী !
আর যে কথাটি সবকিছু ছাড়িয়ে তার মগজে গেঁথে আছে তা হলো, একজন নিবেদিত প্রাণ মানবদরদী মহৎ প্রাণ মানুষ, জীবনে যেমনি হৃদয়বান মরণের পাড়ে দাঁড়িয়েও তিনি তেমনি থেকে যান। যা ভাবেন তা হৃদয় দিয়েই ভাবেন। ভাবেন বলে বুঝি তা স্রষ্টার কাছে কবুল হয়। নতুবা, তিনি যে এমনই ভাবছেন তা তাঁর মৃত্যুর চব্বিশ ঘন্টা আগেও কেউ কল্পনা করেনি, যা হয়েছে তা  আনিসুজ্জামানের শেষ ইচ্ছে মতনই হয়েছে !
গত দুই মাস ধরে বাংলাদেশেও সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মহামারি করোনা আক্রান্ত কাল চলছে। প্রতিদিন এর সংক্রমণ জ্যামেতিক হারে বেড়ে চলছে। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সব সরকারি নির্দেশে বন্ধ। তার একটাই কারণ, যেনো সংক্রমণ রোধ করা যায়। সামাজিক বিধি-নিষেধ, সতর্কতা মেনে মৃত মানুষের দাফন কাফন পর্যন্ত সাবধানের সঙ্গে করতে হচ্ছে। ভীষণ ছোঁয়াচে রোগ এই করোনা, কোভিড-১৯।
সে কারণে কোন মৃত্যু যাত্রায় শেষবারের মতো প্রিয়জনেরও মৃতের কাছে এসে মুখ দেখবারও কোন উপায় থাকছে না! কী ভীষণ হৃদয় বিদারক একটা পরিস্থিতি !
আর এই সময়ে সবার প্রিয় শিক্ষক, বাংলাদেশের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক যিনি, তাঁর মৃত্যুর পর তিনি নির্বান্ধব এভাবে শেষ যাত্রায় যাবেন, কেউ কি ভাবতে পেরেছিলো! শুধু কি তাই, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন স্নেহের আনিসুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কুদরত-ই খোদা কমিশনের সদস্য, বাংলা ভাষার বাংলাদেশ সংবিধানের সংকলক, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সোচ্চার ও অকুতোভয় সাক্ষীদাতা, দেশে বিদেশে অনুনমেয় ছাত্র-ছাত্রীর জ্ঞানপিতা, যিনি ছিলেন শিক্ষকের শিক্ষক তাঁর শেষ যাত্রা হবে এমন সাদামাটা অনানুষ্ঠানিকতার, মামুলি একদল বন্দুকধারীর গার্ড আব অনার প্রদানের মধ্য ততোধিক দায়সারা গোছের মুক্তিযোদ্ধার সম্মান দেখানো বিদায় কল্পনা করা যায় !   
সাবাই জানলো, দেশবরেণ্য জনপ্রিয় এই শিক্ষাবিদ করোনা মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ফলে তার শোক মিছিল, শেষ যাত্রায় জনসমাবেশ ঠেকানো গেলো।  
শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, টিএসসি ফাঁকা পড়ে রইলো! সবাই গৃহে অন্তরীণ থেকে তাদের প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানালো। চোখের জর ফেললো।
যদি তা না হতো তাহলে সারা দেশ থেকে উপচে পড়া মানুষের ঢল শহীদ মিনারে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নামতো। মহামারির দোহাই দিয়ে সামলানো যেতো না। করোনার কথাটা কেউ মনেই করতো না। আনিসুজ্জামান, এই একটি মাত্র মানুষ. কোন মহলে যার কোন শত্রু ছিলো না।
তার উপরে বাঙালি আবেগ প্রবণ জাতি। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে তাদের জনপ্রিয় মুফতির জানাজায় যেমন শোকার্ত মানুষ উপচে পড়েছে আনিসুজ্জামানের শেষ যাত্রায়ও নিশ্চিত তেমনি তাঁর গুণমুগ্ধ মানুষের ঢল নামতো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আনিসুজ্জামান দলীয় কেউ নন। তিনি সারা বাংরাদেশের আলোক বর্তিকা।
এই আবেগ থামিয়ে দিল কে ? করোনা।
কথাটা ভাবতেই আনিসুজ্জামানের শেষ ঠিকানার নরম কাদামাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি মুচকি হাসলো।
করোনা ! তা কি করে হয় !
কেউ জানে না, আনিসুজ্জামান করোনার কাছে হেরে যায়নি বরং করোনা আনিসুজ্জামানের কাছে হেরে গেছে ! চলে যাওয়ার আগে তাঁর ইচ্ছেটাও যে এই রকমের সেই কথা জানিয়ে তিনি এই মহামারিকে হারিয়ে দিয়ে গেছেন।
যারা মানব কল্যাণকামী তারা জীবনের শেষ সময়েও নিজের স্বার্থের দিকে তাকায় না। নিজের কথা ভাবে না।
মানুষের কথাই ভাবেন তাঁরা আমৃত্যু।
এই যে মানুষটি, সদ্য কবরের পাশে আপাদমস্তক করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধী পোশাক পড়ে দাঁড়িয়ে বিষণ্নতায় ডুবে আছে, সেও শেষ নিদ্রায় শায়িত শিক্ষকের শিক্ষক আনিসুজ্জামানের ছাত্র বলে মানে নিজেকে। যে হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন সেই হাসপাতালেরই সিনিয়র কনসালটেন্ট, দেশি বিদেশি ডিগ্রিধারি নামকরা ডাক্তার সে। কার্ডিয়ালজিস্ট ডাক্তার আশফাক।  অন্যদের সঙ্গে শেষ সময় পর্যন্ত চিকিৎসক হিসেবে তাঁর শিক্ষকের পাশেই ছিলো ডাক্তার আশফাক।
কেবল হৃদয়ের টানেই আজ সে কাউকে কিছু না বলে সবার অলক্ষে তাঁর স্যারের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
বিকেল হয়ে গেছে। একে তো মহামারি কাল, তার উপর রোজার দিন। ঘরমুখো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষ যা ছিল রাস্তায়, এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই। ইফতারের সময় হয়ে আসছে।
তবুও এখান থেকে সরে যেতে মন চাইছে না আশফাকের। সকালে ঢাকার আকাশে এক পশলা ভারি বৃষ্টি হয়ে গেছে।
মনে পড়লো, আনিসুজ্জামান স্যার শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে।
তার দুইদিন আগে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। নানা রোগের জটিলতায় তিরাশী বছরের মানুষটি তখন প্রায় কাবু।
ডাক্তার আশফাকের ভাবনায় এ সময় ছেদ পড়লো।
আপাদমস্তক নিরাপদ এপ্রোণে আচ্ছাদিত, মুখে মাস্ক লাগানো আশফাকের গাড়ির ড্রাইভার কবরের পাশে নরম ভেজা মাটিতে দাঁড়ানো ডাক্তারের পাশে এসে দাঁড়ালো। ড্রাইভারের পায়ের মৃদু আওয়াজে পিছন ফিরে তাকে দেখলো আশফাক। আপাদমস্তক করোনা বিরোধী পোশাকের জন্য আজকাল কাউকে বাইরে থেকে চেনার কোন উপায় নেই।
গাড়ির ড্রাইভার আশফাককে বললো,
-স্যার, বৃষ্টি আবার শুরু হয়ে যেতে পারে। যাবেন না ?
অনিচ্ছা সত্বেও হাতের ইশারায় তাকে যেতে বলে আশফাক মোনাজাতের করার জন্য হাত তুললো।
গাড়িতে যেতে যেতে চোখ বন্ধ করতেই আবার গত দুই দিনের দৃশ্যপট ফিরে এলো ডাক্তার আশফাকের চোখের সামনে। আশির দশকে তার এক বন্ধুর বিয়েতে পরিচয় হয়েছিলো এই আলোকিত মানুষটির সঙ্গে। প্রথম পরিচয়ে ভালো লেগে গিয়েছিলো স্যারকে। কথা বলেন শুদ্ধ উচ্চারণে ধীরে ধীরে। এই ভঙ্গীটা সারা জীবন এক রকমই ছিলো। আর এইসব আলোকিত মানুষগুলো যে কী প্রচ- ধী শক্তি ধারণ করেন তা পরিচয় না থাকলে বুঝা যাবে না!
গত তিরিশ বছরে যেখানে যতবার দেখা হয়েছে, দেখা হলে নাম ধরে ডাক দিয়েছেন।
কী করে এত এত পরিচিতের ভীড়ে তাঁরা নাম মনে রাখেন। কাছে গেলে আদরটা টের পাওয়া যায়।
সেদিনও, তিনদিন আগে বৃষ্টির মধ্যে বিকেলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলো। প্রোস্টেট, কিডনি ফাংশন, প্রেসার সহ কিছু বয়স জনিত রোগ ছিলো স্যারের। আসার সাথে সাথে মেডিক্যাল বোর্ড বসে করণীয় নির্ধারণ করে চিকিৎসা শুরু হয়ে গেছিলো। সর্বক্ষণ মনিটর করার দায়িত্বে ছিলো আশফাকই।
সন্ধ্যার একটু পর তাকে বেডের পাশে দেখেই আনিসুজ্জামান স্যার তাকে চিনতে পারলেন। নাম ধরেই ডেকে বললেন,
-আশফাক, তুমি এখানে নাকি ? কেমন আছো ?
সেই তিরিশ বছর আগের জলজ কন্ঠস্বর, স্নেহার্দ্রতা ঝরে পড়লো ডেটলের বাতাসের রেণুতে।  
প্রেসার, পালস্ সহ আনুষঙ্গিক রিপোর্ট দেখতে দেখতে ডাক্তার আশফাক স্যারের ডাকে অনুরাগে বিগলিত হলো। কিছু কিছু মানুষ আছে না যাদের সংস্পর্শে গেলে একটা শুদ্ধ নান্দনিক উপলব্ধি হয়। তেমনি হলো।
হেসে সালাম বিনিময় করে, কয়েকটি রুটিন কথা বলে সেই রাতের চিকিৎসা শেষে এ্যাটেন্ডেন্ট দুজন নার্সকে দায়িত্ব দিয়ে ডরমেটরিতে ফিরে গিয়েছিলো।
জটিলতা দেখা দিলো বুধবার সকাল থেকে।
বয়স একটা ফ্যাক্টর তো বটেই। আনিসুজ্জামান স্যারের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। সারভাইভ করার জন্য যতটুকু স্টেমিনা দরকার ততটুকু ধরে নেয়া যায় তাঁর ছিলো না। ধীরে ধীরে কোমায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনাকে বোর্ডের কেউই উড়িয়ে দিতে পারছিলো না। নিবিড় পরিচর্যায় রেখে আনিসুজ্জামান স্যারকে দুই হাতের শিরার ভিতর দিয়ে স্যালাইন সহ সব ঔষধ দেওয়া হচ্ছিলো সারাদিন ধরে। দিনে টুকটাক কথা বললেও সন্ধ্যা থেকে আছেন তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায়।
হাসপাতালে আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিএসের মাধ্যমে এই নিয়ে তিনবার স্যারের খবর নিয়েছেন। সবাই জানে আনিসুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি শিক্ষক।
রাত দশটার পর আনিসুজ্জামান ঘুম ঘুম ঘোর লাগা অবসন্নতায় ভারি হয়ে যাওয়া চোখ খুললেন।
সেই সময় অন্যদের সরিয়ে দিয়ে আশফাকই তার স্যারের বেডের পাশে বসেছিলো। আনিস স্যারকে চোখ খুলতে দেখে আশফাক একটু উবু হয়ে তাঁর মুখের কাছে মুখ নিতেই তিনি ডাক্তারকে অবাক করে দিয়ে খুব মৃদু স্বরে বললেন,
-তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। তোমার মোবইলের টেপটা ওপেন করো।
 আশফাক কিছু বলতে চাইছিলো। আনিস স্যার তাকে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিয়ে বললেন,
-আমি যা বলছি তা করো। আমার সময় ফুরিয়ে আসছে। কথা শোনো, আর যা বলবো তাই করো। প্রধানমন্ত্রীকে বলো, এটা আমার শেষ ইচ্ছে।
এমন কথা শুনে আশফাকের সমস্ত শরীর তখন কাঁপতে শুরু করেছে। সে কাঁপা কাঁপা হাতে তার মোবইলে টেপ ওপেন করলো। তারপর স্যারের মুখের কাছে নিয়ে ধরে বললো,
-স্যার, বলেন স্যার।
 আনিস্জুামান স্যার চোখ বন্ধ করে আছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি যেনো তাঁর তিরাশি বছরের জীবনের অতীত বর্তমান ঘুরে এলেন। মৃদু শ্বাসে তাঁর ভারি বুক উঠানামা করছে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় শরীরটা বুঝি বেশ কান্ত। চোখ খুলে আশফাকের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন,
-ঘোষণা করে দিও, আমার করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে।
আশফাক বিহ্বল অবিশ্বাস্য বিস্ময়ে কিছুটা জোরেই বলে উঠলো,
-এ কী করে সম্ভব স্যার ! আপনার তো তা হয়নি। এখনও পরীক্ষার রিপোর্ট আমাদের হাতে আসেনি !
আনিসুজ্জামান মৃদু স্বরে আস্তে আস্তে, গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বললেন,
-আমার মৃত্যু সংবাদ শুনে যখন মানুষের ঢল নামবে তাদের কেউ লাঠিপেটা করে ঠেকাতে পারবে তোমরা ?
এই মহামারি সময়ে আমার প্রতি অনুরাগ শ্রদ্ধা ভালোবাসা দেখাতে এসে যারা করোনায় আক্রান্ত হবে, ঘরে ফিরে পরিবারের অন্যদেরও অসুখের কারণ হবে তাদের দায় কার হবে ? সারা জীবন যে মানুষের মঙ্গল এবং কল্যাণ চেয়ে গেলাম, সেই মানুষকে মরে গিয়ে বিপদে ফেলবো আমি ?
কথাগুলো বলে কান্ত বিষণ্ন আনিসুজ্জামান আবার চোখ বুজলেন।
আই সি ইউ’র ঠা-া ঘরটিতে স্যারের অপ্রত্যাশিত কথাগুলি ডাক্তার আশফাককে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে ফেলেছে।
সে কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। আনিস স্যার আবার চোখ খুললেন। ধীরে ধীরে বললেন,
-তোমরা তো আমাকে কিছু বলছো না। আর যদি আমার করোনা সংক্রমণ হয়েই থাকে তাহলে আমি খুব খুশি।
সারা জীবনে আমি আনুষ্ঠানিক খুব একটা ধর্ম কর্ম করিনি। তা সত্বেও আল্লাহ যদি আমাকে হাজারো মানুষের মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দায় ভাগী না করেন, পাপী না করেন, তাহলে আমার চেয়ে খুশি আর কেউ হবে না।
আবার দম নিলেন আনিসুজ্জামান। তারপর বললেন,
মাওলানা রুমীর মৃত্যুর পর যেখানে জানাযা হয়নি সেখানে আমার কত বড় জানাজা হলো কি না হলো তা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই। মানুষের ভালোবাসা আমি টের পাই। পেয়েছি। ওটুকুই আমার শেষ সম্বল।
মনে হচ্ছে, আগামিকাল আমি যখন যাবো তখন আমার মনে থাকবে,
‘গোস্তাকী ম্যায় করুঙ্গী একবার / যব সব পায়দল চলেঙ্গে / ম্যায় কান্ধেপে সাওয়ার।’
এরপর আনিসুজ্জামান স্যার আর কথা বললেন না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর আধ বোজা চোখ তিনি আর খুলেন নি।
যেনো ‘যাই’ বললেন তো- চলে গেলেন। মহমানবের প্রস্থান বুঝি এমনই হয়।
(গল্পের বিষয়বস্তু কাল্পনিক)
১৯. ০৫. ২০২০






© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};