ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
169
রবে নিরবে হৃদয়ে মম
Published : Thursday, 21 May, 2020 at 12:00 AM
রবে নিরবে হৃদয়ে মমআনোয়ারুল হক ||
জীবনের পড়ন্ত বেলায় না হলেও সবার বয়স পঞ্চাশের এদিক সেদিক তো বটেই।
মেঘমালা করবী আর আতিক সুমন এই দুজন ছাড়া দশ জোড়া দম্পতি যাচ্ছে কক্সবাজার ভ্রমণে। এদের পরস্পরের মধ্যে বহু বছরের জানাশোনা। কুমিল্লা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ৈ তাদের বাস। সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের একের সাথে অপরের প্রায়ই দেখা হয়। তারা আজ সূর্য ডোবার আগে ঘন্টা খানেক আগে কক্সবাজারের সী বিচে ‘সমুদ্র বিলাস’ নামের এই রাত্রিবাসে এসে উঠেছে।
আতিক সুমনের বড় মেয়েটির এসএসসি পরীক্ষা চলছে তাই তার গিন্নি দুইদিনের জন্য মেয়েকে বাসায় একা ফেলে আসতে পারেনি। আর মেঘমালা করবীর স্বামী রশিদ উদ্দিন তার ব্যাবসার কাজে সিংগাপুর গেছেন সে জন্যে এ যাত্রায় তাদের সঙ্গে নেই। অবশ্য এই দুই পরিবারে কর্তা গিন্নি পরস্পরের পরিচিত তাদের বিয়ের আগে থেকেই যা আজও টিকে আছে।
বাকীদের মধ্যে শিখা দত্ত আর তার ব্যবসায়ী স্বামী বরুণ সোম, কেতকি রাণি আর তার সঙ্গীতজ্ঞ স্বামী নিখিলেশ চৌধুরী দুজনেই ভাল গান গায়, কুমিল্লা শহরে কান্দিপাড়ে পৈত্রিক মনোহারি ব্যবসা আছে তাদের, অধ্যাপক জসীমউদ্দিন ম-ল আর তার সংসারি দুই ছেলের মা গিন্নী মমতা বেগম, রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী নাজিমউদ্দিন আর তার স্কুল শিক্ষিকা বউ মাসুদা বেগম কল্পনা ছাড়াও এই আড্ডায় আছে আরও তিনটি পরিবার, মেডিসিনের ডাক্তার মকবুলের আহমেদ আর ওর বউ সুরাইয়া বেগম মালতি গাইনোর ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট নজরুল আর তার বউ হাউস ওয়াইফ ইয়াসমিন, স্বামী স্ত্রী দুজনেই শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. খোকন এবং রুমা, মহিলা কলেজের অধ্যাপক নাজমা আর তার আবসরপ্রাপ্ত সচিব স্বামী আব্দুল রহমান, দুই ব্যাচেলর বান্ধবী নয়না এবং শ্যামলী। পরস্পর বান্ধবী দুজনের একজন মনোবিজ্ঞানের এবং অন্যজন ইংরেজিতে অধ্যাপনা করে সরকারি কলেজে। দলটি রিজার্ভ করা দুটো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দুটো মাইক্রোতে দুইদিনের জন্য এখানে বেড়াতে এসেছে।
হোটেলে চেক ইন করে যার যার কক্ষে একটু বিশ্রাম নিয়ে সবাই এখন দল বেধে সী সোরে বালির ওপরে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখেছে। হোটেলের গায়ে লাগা সি-সোর। হোটেলের দোতলার ব্যালকনিতে বসেও সুর্যাস্ত দেখা যায়। কিন্তু এই সময় কেউ বালিয়ারি ছাড়া ঘরে বসে থাকে না।
একসাথে এখানে নেমে এলেও আতিক সুমন সবার থেকে একটু দূরে সরে এসে দাঁড়িয়েছে জলের কাছাকাছি। সে দিগন্তে ডুবন্ত সূর্যের লাল রঙ মুছে যাওয়ার আয়োজনে চোখ রেখে আনমনা। মেঘমালা করবীও যেহেতু একা, স্বামী সঙ্গে নেই, ওদিকে অন্যরাও যার যার বন্ধন আঁকড়ে ধরে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে তখন সে হেঁটে এসে আতিকের পাশে দাঁড়িয়ে চুপচাপ একমনে জল-সমূদ্রে সূর্য বিদায়ের রূপ দেখতে লাগলো।
মেঘমালা এই বয়সেও দূরন্ত সুন্দরী। পটল চেরা চোখ, দীঘল শরীর, শ্যামলা কমনীয় গায়ের রঙ। একাধিকবার ফিরে তাকাবার মতো রমণী। সে পাশে এসে দাঁড়াতে আতিক মনে মনে খুশি হলো। গোধূলির মৃদুমন্দ তিরতির বাতাসের দোলায় মেঘমালার শাড়ির আঁচল থেকে মিস্টি একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে।
খুব ভালোলাগার মতো জীবনের একটি সন্ধ্যা থির দাঁড়িয়ে থাকে ওদের দুজনের মাঝখানে।
আজকাল নাগরিক জীবনে শহরে সন্ধ্যা নেমে আসাটা কখনোই অনুভব করা যায় না। শহরে দরদলানের ফাঁক দিয়ে ঝুপ করে নেমে আসা সন্ধ্যাটা এই সাগর তীরে নামছে খুব ধীরে ধীরে। যেনো মেঘরঙ একটা আঁচল দূর থেকে এসে কাছ দিয়ে চলে গেলো। বেশ সময় নিয়ে ওরা দুজন দাঁড়িয়ে থেকে পুরো সন্ধ্যাটা উপভোগ করলো।
কেউ কোন কথা বললো না অথবা বলতে ইচ্ছে হলো না কারো। আর কথা না বললেও যে কত কথা বলা হয়ে যায় অধ্যাপনা পেশার মানুষ আতিক কথাটা খুব ভালো করে জানে। স্থানীয় সরকারি কলেজে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক সে। চাকুরিজীবন হয়ে এসেছে তার প্রায় শেষের দিকে। প্রকৃতিগত ভাবে সে ভাবুক।  ওদিকে মেঘমালাও কম নয়। সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স। প্রয়োজন নেই, তাই কোন চাকুরি করে নি। ঝুট ঝামেলা নেই। বাবা শহরের নামকারা ডাক্তার। গত হয়েছেন আজ প্রায় দশ বছর আগে। সাত ভাইবোনের মধ্যে মেঘমালা সবার ছোট। ভাইবোনের দেশের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আবসরে সেও এক আধটু লেখালেখি, গান-বাজনা চর্চা করে। ইতিমধ্যে মেঘমালার দুটো উপন্যাস পাঠকের নজরে এসেছে।
দুজনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বুদ হয়ে ছিলো সামুদ্রিক প্রায়োন্ধকারে শান্তিময় ভালোলাগায়। পিছনে রিসোর্টের উন্মুক্ত উঠোনে দাঁড়িয়ে সঙ্গীরা সবাই যখন হৈচৈ করে ওদের দুজনকে ডাকলো তখন তারা ফিরে এলো সবার কাছে।
ফিরে এসে শুনলো, একটু পরে ফায়ার ক্যাম্প হবে। ফায়ার ক্যাম্পের জায়গাটাকে ঘিরে সবাই মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো বসবে। জোড়ায় জোড়ায়। যাদের জোড় নেই তারা ইচ্ছে করলে যার পাশে খুশি তার পাশে বসতে পারবে। দারুণ একটা মজার খেলা হবে। এই ঘোষণা দিলো ডা. খোকন এবং ডা. রুমা।
রুমা এবং খোকন এই দলে সকলের চেয়ে কম বয়সী। ডাক্তার খোকন মধ্যবয়সী আর একটু ছোট ডাক্তার রুমা একটি কন্যা সন্তানের মা। মেয়েটি কলেজে পড়ে। এখানে এসে প্রকৃতির কারণে শুধু রুমা নয়, সবাই যেনো বয়সটাকে ভুলতে বসেছে। রুমা প্রায় তার মেয়ের মতোই হাত নাচিয়ে সবাইকে বসতে বলছে, খুশিতে হাসছে, অযথাই জোরে কথা বলছে।
ক্যাম্প ফায়ার করার জন্য কাঠের স্তুপ করে রাখা জায়গাটাকে ঘিরে হোটেল থেকেই চেয়ার এনে সাজিয়ে দেওয়া হলো। প্রবল উত্সাহে রুমা সকলে বসার পর নতুন খেলাটি কি তা জানিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলো।
সকলেই যার যার জোড়া পাশে নিয়ে বসলো। অগত্যা আতিক আর মেঘমালা বসলো পাশিপাশি। আর পাশাপাশি বসলো দুই আজীবন ব্যাচেলর বান্ধবী নয়না ও শ্যামলী।
গলা খাকড়ি দিয়ে, ডান হাতটাকে রোল করে মুখের সামনে ধরে রুমা ঘোষণা দিল। দারুণ রোমাঞ্চিত বোধ করছে সকলেই। ডাক্তার খোকন আর রুমাই শুধু জানে, খেলাটা কি ? ওরাই এই খেলার আবিষ্কারক, উদ্যোক্তা।
রুমাকে জলপরির মতো লাগছে। এই প্রশংসা শুনে সমুদ্রতীরের মৃদুমন্দ সমীরণে পুলকিত হতে হতে সে বললো,
-প্রিয়জনেরা, আমরা এখানে সবাই প্রায় মধ্যবয়েস পার হয়ে এসেছি।
এই কথা শুনে মহিলারা ‘না না’ ধ্বনি দিল। পুরুষরা রুমাকে বলতে তাগাদা দিল। রুমা আবার বললো,
-আমরা স্বামী-স্ত্রী যে যার সংসার নিয়ে মনে করি, সবাই সুখি। এখানে আমরা সবাই আনন্দে করতে এসেছি।
এই খেলাটি আমাদের আনন্দেরই অংশ। আমাদের সবারই একটি অতীত আছে। সেই অতীতের প্রেম সবার জীবনে একবার না একবার এসেছে। কেউ যদি বলে তার জীবনে প্রেম আসেনি, তাহলে লতা মঙ্গেশকরের কালজয়ী গান মিথ্যে হয়ে যাবে। যা আমরা হতে দিতে পারি না, পারি না, পারি না।  
এই কথা শেষ করার সাথে সাথে সবার মধ্যে বেহুদা খুশিতে চেঁচামেচি লেগে গেলো।
তার ভিতরেই রুমা বললো,
-সেই প্রেমিক প্রেমিকার নাম আমারটা আমার স্বামী জানে না, আমার স্বামীরটা আমি জানি না। তাই আজ, এই পবিত্র প্রকৃতিকে সামনে রেখে আমরা স্বামী স্ত্রীর কানে আর স্ত্রী স্বামীর কানে কানে তার অতীতের প্রেমিকের নামটা বলে দেবে। তারপর একে অপরের প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে কেউ গান, কবিতা, যে যা পারে উত্সর্গ করে গাইবে, আবৃত্তি করবে।
শ্যামলী আর নয়না একসাথে চেঁচিয়ে উঠলো,
-আর যাদের বিয়ের পরে চলমান প্রেমিক প্রেমিকা থেকে থাকে তাহলে ? কোনটা বলবে সে ?
শিখা দত্ত লাফিয়ে দাঁড়িয়ে গেল, নিখিলেশ ওর হাত ধরে তাকে বসাতে চাইছে। ওদিকে হা হা হি হি হাসির রোলে শিখা কী বলতে চাইলো শোনা গেলো না।
রুমার এই ঘোষনার পর না না না চিত্কার, অনীহার মোড়ামুড়ি আর হাসাহাসির রোল পড়ে গেলো সবার মধ্যে। ডাক্তার খোকন উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
-আমরা লক্ষ্য করছি, আতিক সাহেব আর মেঘমালা ভাবি এই দুজনের একজনের স্বামী আর একজনের স্ত্রী আসেন নি। খুব ভালো হয়েছে তারা পাশাপাশি বসেছেন। এবং ওনারা দুজন ইচ্ছে করলে পরস্পরের কানে কানে তাদের প্রেমিকের নাম বলে দিতে পারেন।
এই ঘোষণা শুনে আবার আরেকদফা হাসির রোল পড়লো।
খেলা শুরু হলো দুই ব্যাচেলর বান্ধবী নয়না আর শ্যামলীকে দিয়ে। এই খেলায় কথার চেয়ে হাসি বেশি। হাসির চেয়ে চেঁচামেচি আরও বেশি। যত হাসি চেঁচামেচি তত আবার পরস্পরকে কটাক্ষ করে একসাথে কথাবার্তা। কেউ কারোর কথা শুনে না। এভাবে চলতে চলতে আতিক আর মেঘমালার কাছে গিয়ে খেলাটা থমকে গেলো কিন্তু সবার অজান্তে পরিণতি হলো ভিন্নরকম।
খেলাটা মেঘমালার কাছে গেলে সে যথারীতি সে হাসতে হাসতে আতিকের কানে রশিদের নামই বললো। সবাই জানে মেঘমালা আর তার ব্যবসায়ী স্বামী রশিদ পরস্পর প্রেম করেই বিয়ে করেছে। আতিক ঠিক নামটিই শুনলো মেঘমালার কাছ থেকে। শুনে সে পরিবেশের সঙ্গে মানায় এমন একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইলো।
সবাই হৈ হৈ করে হাততালি দিলো। ওয়ান মোর, ওয়ান মোর বলে চেঁচালো।
এমন সময় দূরে সাগরের বুকে উপকূল থেকে একটু দূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রচুর আলো জ্বালিয়ে, ভেঁপু বাজিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে যাচ্ছিলো। এই দৃশ্য দেখার জন্য সবাই হুড়মুড় করে সৈকতের দিকে দৌড় দিল।
আতিক মনে মনে ভাবলো, বেঁচে গেলাম।
আতিক আর মেঘমালা দৌড়ালো না। পাশাপাশি চেয়ারে বসে থাকলো। আশেপাশে দমকা হাওয়া, লনে ফুটে থাকা কামিনী ফুলের সৌরভ, একদলা জোনাকি আর ঝিঁ ঝিঁ পোকা ছাড়া কেউ নেই।
ওদিকে সবাই আলো-আঁধারিতে বিদেশী জাহাজটির চলে যাওয়া দেখতে ব্যস্ত।
মেঘমালা মৃদু স্বরে আতিককে বললো,
-আপনার প্রেমিকার নামটা শোনা হলো না।
আতিক মেঘমালার চোখে চোখ রেখে বললো,
-শুনবে তুমি ?
-শুনি।
বলার আগে আতিক এক ঝলক ভাবলো। ভাবলো এই, বলবে কি !
তারপর সে মেঘমালার কানের কাছে মুখ নিয়ে মৃদু স্বরে তার প্রেমিকার নামটি বললো।
অস্ফুট একটা আর্তনাদ বের হয়ে এলো মেঘমালার মুখ থেকে। তার নিজের কানকেই যেনো ওর বিশ্বাস হচ্ছে না। নামটা শুনে বিহ্বল আতিকের মুখের দিকে মেঘমালা বোবার মতো তাকিয়ে থাকলো। কী কী বললো এতদিনের চেনা মানুষটা! আর এত এত কাল পর!
একটা মধুর যন্ত্রণার আঘাতে বুকের ভিতরে ওঠা কাঁপন মেঘমালা সামলালো লাগলো অতি কষ্টে।
তারপর সে দুই হাতে মুখ ঢেকে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো।
যে কান্নার জল মেঘমালার বুকে অজানা এক পাথরের মতো জমে থাকা প্রস্রবণের গলে পড়া জলরেণু
আর আতিকের বহুবছরের পুষে রাখা বুকের পাথর নেমে পড়া যার জন্য মেঘমালাকে আজ জানিয়ে দেওয়া গেলো, ‘তুমি রবে নিরবে হৃদয়ে মম’।
শেষ।
১২.০৫.২০২০





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};