ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
697
করোনাযুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে দেবিদ্বারের ডা. ফরদৌস
Published : Friday, 15 May, 2020 at 11:28 AM
করোনাযুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে দেবিদ্বারের ডা. ফরদৌসশাহীন আলম ||
পৃথিবীর মহাদূর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উজ্জ্বলতম উদাহরণ তৈরি করেছেন নিউইয়র্কের খ্যাতিমান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস খন্দকার। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বাকশার গ্রামের সন্তান তিনি। কুমিল্লার গর্ব ডা. ফেরদৌস এখন পৌঁছে গেছেন বিশ্বমঞ্চে। বাবা ফয়েজ আহমেদ খন্দকার ছিলেন বিমান বাহিনীর (অব:) কর্মকর্তা। ডা. ফেরদৌস খন্দকার বর্তমানে স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে নিউইয়র্কে থাকেন। তবে প্রায়ই তিনি বাংলাদেশে আসেন। যখনই তিনি বাংলাদেশে আসেন নিজ এলাকায় যেতে একেবারেই ভোলেন না। বরং দেবিদ্বারের মানুষের সেবায় তিনি অনেক আগে থেকেই তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। নিজ গ্রাম বাকশারে প্রতিষ্ঠা করেছেন ফয়জুননেসা ফাউন্ডেশন। ওই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি শিা, স্বাস্থ্য, নারীর মতায়নসহ বিভিন্ন েেত্র কাজ করে যাচ্ছেন। করোনার এই সময়টায় তিনি নিজ এলাকার ছয় হাজার পরিবারকে দেড় মাসের জন্যে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। করোনায় সংক্রমিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই সাথে মাস্ক, গ্লাভসসহ সুরা সামগ্রী দিয়েছেন। করোনা মহামারীর এই সময়ে তিনি কেবল নিউইয়র্কে নয়, দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের পাশেও। যেখানে চাইলেও এখন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো অনেক কঠিন সেখানে সব বিপদ ও ঝুঁকি মাথায় নিয়েই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এমনকি নিউইয়র্কে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পর্যন্ত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যা অসংখ্য মানুষের মনোবলকে চাঙা করেছে। কমিউনিটিতে তৈরি হয়েছে এক ধরণের আস্থার পরিবেশ। পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রে। তার মধ্যে অর্ধেকই আবার নিউইয়র্কে। গোটা নিউইয়র্কে চলছে লকডাউন। একান্ত প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া সবকিছু বন্ধ। এই শহর যেনো একটি ভূতুরে নগরী। অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সহজ জিনিসও এই মূহুর্তে হয়ে উঠেছে দুর্লভ। চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসকও অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। অনেকে কার্যত অফিস বন্ধ রাখছেন। এমন সময়ে মানবতার বাতিঘর হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিউইয়র্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকার। নিউইয়র্কে তার রয়েছে তিনটি ব্যক্তিগত অফিস। তার মধ্যে জ্যাকসন হাইটসের ওয়েস্টার্ন কেয়ার এর ১৫ সদস্যদের দলটিকে নিয়ে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর প্রায় দশদিন অফিস খোলা রেখেই চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। তখনো অসংখ্য মানুষ এসেছে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে। এক পর্যায়ে যখন সবকিছু লকডাউন করে দেয়া হয়েছে, তখন এই দলটি বাসায় থেকেই চিকিৎসা দেয়া শুরু করে। কখনো ফোন কল, কখনো ভিডিও কলের মাধ্যমে দু’জন চিকিৎসক বাড়ি থেকেই সেবা দিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠানো, রিফিল দেয়া ইত্যাদি কাজ চলছেই। অনেকে কেবল সংযুক্ত হন একটু শান্তনা পাওয়ার জন্যে। এরমধ্যে যেসব রোগীর অবস্থা খারাপ, অথচ হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতেই রয়েছেন, তাদের বাসায় গিয়ে দেখে আসছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার নিজে। কেবল চিকিৎসাসেবা দেয়াই নয়, সাথে সামাজিক ও মানবিক নানা সেবা নিয়ে সবসময়ই পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। অন্য কয়েকজন চিকিৎসক যেহেতু অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন, তাদের রোগীরাও ফোন করছেন। সেই সাথে বিভিন্ন অসুবিধার কথা জানিয়েও শত শত ফোন আসছে ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকারের কাছে। অনেক ফোনের উত্তর দিচ্ছেন তিনি। চেষ্টা করছেন নিজের মতো করে সমস্যার সমাধান করার। এছাড়া বয়স্ক এবং শিশুদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তিনি। বয়স্কদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য পৌঁছে দিয়েছেন। সেই সাথে তার অফিস থেকে বিনামূল্যে গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। নিউইয়র্কে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাগজপত্রহীন। তাদের মধ্যে অনেক বাংলাদেশিও রয়েছেন। এসব কাগজপত্রহীন মানুষের জন্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প থেকে কোন ধরণের প্রণোদনা নেই। ফলে বিরাটসংখ্যক মানুষ সীমাহীন দূর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। নগদ অর্থ এবং খাদ্য সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। সেই সাথে বাংলাদেশি ও নেপালি শিার্থীদের নানা ধরণের সহায়তা দিয়েছেন। দাঁড়িয়েছেন নিউইয়র্কে বসবাসকারী দণি আমেরিকার জনগোষ্ঠীর পাশেও। নিউইয়র্কের অলাভজনক সংস্থা দি অপটিমিস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। সেই সংস্থার প থেকে অ্যালমহার্স্ট, জ্যামাইকা এবং ফাশিং হাসপাতালে মাস্ক, গ্লাভসসহ প্রয়োজনীয় নানা চিকিৎসা সরঞ্জাম তার নেতৃত্বে অনুদান হিসেবে দেয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে কাউকে দাফন করা অনেক ব্যয়বহুল। ডা. ফেরদৌস খন্দকার ঘোষণা দিয়েছেন, তেমন বিপদে কেউ পড়লে পাশে পাওয়া যাবে তাকে। এরই মধ্যে কয়েকজনের দাফনের খরচও বহন করেছেন তিনি। হাসপাতালে কোন রোগী ভর্তি হওয়ার পর এই মূহুর্তে তথ্য জানা অনেক কঠিন একটি কাজ। অনেক পরিবারকে নিজ উদ্যোগে রোগীর খোঁজ খবর এনে জানিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট যে চিকিৎসক টিম গঠন করেছে, তাতেও যুক্ত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এদিকে বিশ্ব মা দিবসেও কর্মজীবী মায়েদের জন্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এন্টিবডি পরীা করিয়েছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। কার্যক্রমটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “মায়েরা যেনো নিরাপদে কাজে ফিরতে পারেন, তার ব্যবস্থা করাই এর উদ্দেশ্য। এর মধ্য দিয়ে মায়েদের প্রতি সম্মান জানানো হবে। সেই সাথে কমিউনিটির মানুষের মনে আস্থা তৈরি হবে”। ফেসবুক, ডাক্তারবাড়ী ইউটিউব, নিজের গড়ে তোলা ডিটিভি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি বাংলাদেশি এসব অনুষ্ঠান নিয়মিত দেখছেন। এদিকে, এবিসি চ্যানেল সেভেন, পিক্স এলিভেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যম এরই মধ্যে তার উপর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশের ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খুলনা, পাবনা, জামালপুরসহ কয়েকটি জেলায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের ১৫ দিনের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। নিজস্ব অর্থায়নে এন৯৫ মাস্ক, গ্লাভসসহ বাংলাদেশেও কয়েক হাজার সুরা সামগ্রী অনুদান হিসেবে দিয়েছেন। ডাক্তার এবং পুলিশ বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, তাদেরকে উৎসাহিত করতে, তাদের জন্যে ইফতার দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে তার প্রতিষ্ঠিত করোনা সেবা ডট কম এবং দেবিদ্বার ফয়জুননেসা ফাউন্ডেশন মানুষের জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, “এটাই সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। আল্লাহর  কাছে প্রার্থণা করি, মানুষের এই দূর্যোগ কেটে যাক”। অন্ধকার সময়ে এভাবেই মানবতার বাতিঘর হয়ে আলো জ্বালানোর কাজটি করে যাচ্ছেন একজন ডাক্তার।
 










সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};