ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
721
দেবীদ্বারে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েক শত লোকের বিক্ষোভ মিছিল
Published : Wednesday, 15 April, 2020 at 7:39 PM
দেবীদ্বারে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েক শত লোকের বিক্ষোভ মিছিলএবিএম আতিকুর রহমান বাশার ঃ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কর্মহীন ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য ত্রাণের তালিকা তৈরী করায় ১০ নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক যুবককে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মারধরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি জনরোষের কারনে মঙ্গলবার ইউপি কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছেন। ওইদিন চেয়ারম্যান পক্ষ উপস্থিত থাকেননি। বুধবার স্থান পরিবর্তন করে দেবীদ্বার ইউএনও’এর কার্যালয়ে সকাল ১০টায় উভয় পক্ষকে হাজির থাকার নোটিশ করলেও এলাহী পক্ষ উপস্থিত থাকেননি।

প্রথমদিন নির্যাতিত আশেক এলাহীর স্বাক্ষ্য গ্রহন করলেও দ্বিতীয় দিন ১০ নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খান সহ এক চৌকিদার ও পাঁচ মেম্বারের সাক্ষ্য গ্রহন করেছেন তদন্ত কমিটি।

মঙ্গলবার বিকেলে ওই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তদন্ত কমিটি উভয়পক্ষকে নোটিশে উল্লেখিত লোকদের উপস্থিতিতে তদন্ত কার্যক্রম করার কথা থাকলেও, তদন্তকালে ভূক্তভোগী যুবক আশেক এলাহী এবং প্রতিপক্ষের হোসেন চৌকিদার ছাড়া চেয়ারম্যান সহ তার পক্ষের আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

মঙ্গলবার তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে করোনা’র ভয়াবহতা রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার কথা থাকলেও ওই নিয়মকে উপেক্ষা করে কয়েকশত লোক ইউপি কার্যালয় ঘেড়াউ করে রাখেন। এসময় তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কার্ড ও ত্রানের চাউল আত্মসাত সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে মিছিল দিতে দেখা যায়।
দেবীদ্বারে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েক শত লোকের বিক্ষোভ মিছিল
দেবীদ্বার থানার একদর পুলিশ, স্থানীয় মাতব্বর ও তদন্ত কমিটির লোকজন জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে একটি কক্ষে তদন্ত কমিটির লোকজন নির্যাতিত আশেক এলাহীর বক্তব্য শোনেন এবং তার বক্তব্য রেকর্ড করে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে আগামী দিন অর্থাৎ বুধবার সকল ১০টায় ইউ্নও’র কার্যালয়ে উভয় পক্ষের ৫/৬জন করে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়ে চলে যান।

দেবীদ্বার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু তাহেরকে প্রধান করেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মাওলা ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রহমানকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি’র বাহিরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ,কে,এম আলী চিন্নাহ ও উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত কালে অভিযুক্ত হোসেন চৌকিদার এবং ইউপি’র কয়েকজন সদস্যকে নিরাপত্তার স্বার্থে একটি কক্ষে পুলিশ আটক রাখেন। পরে আটক কৃতদের এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উদ্ধার করে নিরাপদে বাড়ি পেঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

গত মঙ্গলবার নিজ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রমে উপস্থিত না থাকার কারন জানতে চাইলে ১০নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খান জানান, একটি মহলের উস্কানীতে প্রায় দুই আড়াই হাজার লোক দিয়ে ইউপি কর্যালয় ঘেড়াউ করে রাখে। সেখানে আমার বিরুদ্ধে নানা আপত্তিকর শ্লোগান দিতে থাকে। করোনা পরিস্থিতিতে এত লোক জড়ো করাটাও ছিল ঝুকিপূর্ণ। তাছাড়া আশেক এলাহী নামে আমার গ্রামের এক যুবক ১০৭জনের তালিকা তৈরী করে তাদের ত্রাণ দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আমি তাকে বুঝাবার চেষ্টা করেছি, সরকারী সাহায্য এখনো আসেনি, আসলে পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেব। তার পরও সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি ও আমার ইউপি সদস্যরা রিলিফের চাউল আত্মসাৎ করেছি বলে নানা মিথ্যে অপপ্রচার করে আমাদের সম্মান হানী ঘটায়। সে ঘটনায় তাকে গালমন্দ করায় তদন্ত কমিটি তদন্তে এসেছে। এখানে চাউল আত্মসাৎ বা অন্য কোন ঘটনা নিয়ে জনগন এসে ইউপি কার্যালয় ঘেড়াউ করার বিষয়টি রহস্যজনক এবং আমি মনে করি একটি বিশেষ মহল এঘটনায় যুক্ত রয়েছে। আজ উপজেলা সদরে নিরাপত্তা বেষ্টুনিতে আমরা উপস্থিত হয়ে স¦াক্ষ্য প্রদান করেছি।
 
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমার ইউনিয়নের জন্য মাত্র ৫শত কেজী চাউল এসেছে, দ্বিতীয় ধাপে ১হাজার কেজি পেয়েছি যা দিয়ে পুরা ইউনিয়নের সর্বোচ্চ ১শত জনকে দিতে পারব। সেখানে এলাহী তার নিজ বাড়ির ১০৭ জনের তালিকা দিয়েছে। এ নিয়ে তাকে আমি ডেকে এনে গালমন্দ করেছি, মারিও নাই। এঘটনায় ইউএনও সাহেব একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আজ আমাদের উপস্থিতিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার কথা ছিল, কিন্তু শতশত লোকজন কার প্ররোচনায় এলো, তা খতিয়ে দেখার বিষয়। শত শত লোকজনের উপস্থিতিতে তদন্ত কর্যক্রম চলেই বা কিভাবে ? এছাড়া আমাদের নিরাপত্তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সেখানে আমি উপস্থিত থাকি কিভাবে ?

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু তাহেরকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট প্রদান করার জন্য নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার ওই ইউনিয়নের মাশিকারা গ্রামের মোঃ আশেক এলাহী নামের এক যুবক ব্যাক্তিগত ভাবে এলাকার ১১০ জন গরীব ও দু:স্থ মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় কর্মহীন অনেকে তার নিকট ত্রানের জন্য ছুটে আসেন। তখন তিনি নিজ উদ্যোগে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫৯ জনের একটি তালিকার তৈয়ী করে তাদের ত্রাণ দিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খাঁনকে অনুরোধ করেন। তখন চেয়ারম্যান তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

পরে এ বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করার অভিযোগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে চেয়ারম্যান তার চারজন গ্রাম পুলিশ দিয়ে ওই যুবকের বাড়িতে পাঠিয়ে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে চেয়ারম্যান ওই যুবককে গালাগালি করে এবং তাকে প্রায় ৪ঘন্টা আটকে রেখে তিন তার গ্রাম পুলিশ দিয়ে দফায় মারধর করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওইদিন বিকাল ৪ টার দিকে ওই যুবক ছাড়া পায়। ওইদিন রাতে চেয়ারম্যান কর্তৃক যুবককে গালাগাল ও হুমকী দেওয়া, কক্ষে আটকে রাখার ভিডিও এবং পরে বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে ভুক্তভোগী আশেক এলাহী লাইভে পুরো ঘটনার বর্ননা করার কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েলে, ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

ঘটনাটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি গোচর হলে রোববার বিকালে দেবীদ্বার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু তাহেরকে প্রধান করেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মাওলা ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রহমানকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ঘঠন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান। কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট প্রদান করার জন্যেও নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্যাতিত আশেক এলাহী নামের ওই যুবক বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমি জীবনের নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছি। হোসেন (হুসু) চৌকিদারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে যাচ্ছে এবং আমাকে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট বানানোর অপপ্রচার চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, চেয়ারম্যান আমাকে হয়রানী করতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মিথ্যে অভিযোগ সম্পাদনে বিভিন্ন জনকে বাদী করে আমার বিরুদ্ধে ৫০টি মামলা করার হুমকী দিয়েছে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানী থেকে বাঁচতে প্রশাসন সহ সকলের সহযোগিতা চাই। প্রথম তদন্তে কমিটি আমার স্বাক্ষ্য গ্রহন করেছেন, তাই দ্বিতীয়বার তদন্ত কমিটির সভায় উপস্থিত হইনি। উপস্থিত না হওয়ার পেছনেও কারন আছে। মঙ্গলবার রাতে আমার বাড়ি সহ আমার এলাকার কয়েকজনের বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল, সে ভয়ে আমি দেবীদ্বার সদরে ডাকা তদন্ত কমিটির সভায় থাকি নাই।

এব্যপারে পদ্মকোট গ্রামের অধিবাসী ‘আমর মুক্তি যোদ্ধার সন্তান’ কেন্দ্রীয় কমিটির সবাপতি আলহাজ¦ হুমায়ুন কবিরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টা শোনেছি। রোক সমাবেশ বেশী হচ্ছে তা শেনে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের ফোনে জানিয়েছি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রেখে তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে। ঘটনর সাথে সংশ্লিষ্ট এমন লোজনের বাহিরে অন্য কেউ যেন গেদারিং না করে। পরে শোনেছি হোনে চৌকিদার সহ কয়েকজনের প্রতি এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেয়ারওব্যবস্থা করেছি।

তদন্ত কমিটির আহবাষক উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্ত মোঃ আবু তাহের বলেন, আমরা মঙ্গলবার একটি ঘটনার তদন্তে গিয়েছি। সেখানে এতো লোকজনের সমাবেশ হয়েছে, যে পরিবেশে তদন্ত কার্যক্রম চলেনা। তারপরও স্থানীয়দের বলেছি, আমরা সুষ্ঠভাবে তদন্ত করব, আমাদের একটা পরিবেশ করেনি। ওনারা ব্যর্থ হয়েছেন। তদন্ত কার্যক্রমে অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তদের  দিয়েছি। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও গুলো পেয়েছি। খুব দ্রুত তদন্ত পূর্বক রির্পোট প্রদান করতে হবে। কিন্তু জনগন কারোর কথাই শোনলেননা। তাই পুরনায় আজ (বুধবার) সকাল ১০টায় উভয় পক্ষের লোকদের ইউএনও’র কার্যালয়ে ডেকেছি। যদি এখানেও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে আশেক এলাহী পক্ষ উপস্থিত থাকেনি। চেয়ারম্যান পক্ষের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খান, ১জন চৌকিদার ও ৫জন ইউপি সদস্য উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত রিপোর্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করব।






© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};