ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
15865
কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত আরো তিনজন।। এদের একজন মারা গেছেন
আবুল কাশেম হৃদয়,কুমিল্লা।।
Published : Saturday, 11 April, 2020 at 3:59 PM, Update: 16.04.2020 10:41:10 PM
কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত আরো তিনজন।।
এদের একজন মারা গেছেনকুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরো তিনজন। এদের মধ্যে দেবীদ্বারের জীবন কৃষ্ণ সাহা নামে ৫৫ বছর বয়সী একজন মারা গেছেন। আক্রান্ত অপর দুই জনের মধ্যে ঢাকায় মারা যাওয়া কুমিল্লার বুড়িচংয়ের জিয়াপুরের মহিলার আরেক মেয়ে ও কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আরেক ব্যক্তি রয়েছেন। দেবীদ্বারের করোনা আক্রান্ত জীবন কৃষ্ণ সাহার চিকিৎসা দেওয়া দেবীদ্বার মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. হাবিব ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৫ জন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন তিনজন আক্রান্ত ও একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান তার হাসপাতালের ৫ জন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির দেবীদ্বার মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. হাবিবের হোম কোয়ারেন্টানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এনিয়ে কুমিল্লার মোট ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন।
কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ও ফোকাল পার্সন ডা. শাহাদাত হোসেন ও দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির জানান, কুমিল্লার দেবীদ্বারের নবীয়াবাদের জীবন কৃষ্ণ সাহা (৫৫) নারায়ণগঞ্জে চাকুরি করতেন। সেখানে লকডাউনের পূর্বে তিনি কুমিল্লার দেবীদ্বারের নবীয়াবাদে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। এরপর তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। গত ৪ এপ্রিল তিনি কুমিল্লার চান্দিনা বাজারে একজন মেডিক্যাল প্রাক্টিশনারের চিকিৎসা নেন। ৬ এপ্রিল তিনি দেবীদ্বারের মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. হাবিবের চিকিৎসা নেন। ৯ এপ্রিল সকালে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠান। ৯ এপ্রিল রাতে তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কুমিল্লা শহর থেকে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঐ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) পড়ে নিরাপদ দুরত্বে থেকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে নিতে বলা হয়। পরে তাকে ঢাকায় প্রেরণের জন্য বলা হলে অপর একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে নেওয়ার পথে ১০ এপ্রিল সকালে তিনি মারা যান। নারায়ণগঞ্জে তাঁকে দাহ করা হয়।
সংক্রমকব্যাধী বিশেষজ্ঞ ও কুমিল্লা জেলার সমন্বয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানান, আমরা মারা যাওয়া ব্যক্তির কনাক্ট ট্রেসিং করার চেষ্টা করছি। তবে যে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় এবং যে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয় তা খুঁজে পাচ্ছি না।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ২ জন কর্মী ও মেডিসিন বিভাগের ৩ জন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। জরুরি বিভাগে মারা যাওয়া ব্যক্তির চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও মেডিসিন বিভাগে ঐ রোগী গিয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হতে পারি নি। সে সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম তাঁকে জানান কোন পূরুষ রোগী তাঁর ওয়ার্ডে আসে নি। মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিমও একই তথ্য দিয়েছেন। রবিবার সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি জানান, অনেক সময় রোগীর আত্মীয় স্বজন ফাইল নিয়ে চলে যায়, এ জন্য যাচাই হচ্ছে। তবে এটুকু স্বস্তি যে রোগীটি মেডিসিন ওয়ার্ডে যায় নি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে ওই বিভাগের তিনজন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে অবশ্যই থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ও ফোকাল পার্সন ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, কুমিল্লার বুড়িচংয়ের জিয়াপুরের যে মহিলা ঢাকায় মারা গেছেন তার দুই নাতির পর তার মেয়ে (৫০)এর নমুনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ এসেছে। যদিও তাঁর তেমন উপসর্গ নেই। এছাড়া তিতাসের আরেকজন ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ এসেছে।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মীর হোসেন জানান, ঢাকায় মারা যাওয়া ঐ মহিলার(সাহেদা বেগম) মেয়ে (৫০) মঙ্গলবার বুড়িচংয়ের জিয়াপুরে আসে, আমরা বুধবার তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পাঠাই। তার ফলাফল পজেটিভ এসেছে। তাঁকে সে বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, লেবু ও মাল্টা দেওয়া হয়েছে এবং খাদ্যপণ্য দেওয়া হয়েছে।
তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সফররাজ হোসেন খান জানান, উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের মৌটুসি গ্রামে ঢাকার পলওয়েল মার্কেট থেকে আসা খোকন ভূইয়া নামে একজনের খোঁজে তার বাড়িতে যাই। সেখানে তার সাথে কথা বলার সময় পাশে থাকা এক যুবক কাশি দেয়। তখন আমাদের সন্দেহ হয়। পরদিন ঐ বেকার যুবকের নমুনা সংগ্রহ করি। তার পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসে।
তিনি জানান, ঐ যুবক বেকার। সে বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা দিয়েছে। সেসব জায়গাগুলিতে কন্টাক্ট ট্রেসিং করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে।







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};