ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
612
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় 
Published : Thursday, 27 February, 2020 at 12:00 AM, Update: 27.02.2020 2:17:09 AM
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়  এবিএম আতিকুর রহমান বাশার ||
কুমিল্লার দেবীদ্বারের এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাৎ, খাল ভরাট, খাস জমি দখলসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। আর এ নিয়ে তদন্তে নেমেছে দুদক ও জেলা প্রশাসন। ওই অভিযোগগুলো উঠেছে  দেবীদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের বিরুদ্ধে। নানা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান  আবু তাহের বলেছেন, জনস্বার্থে সব কাজ নিয়ম মেনে হয়না, কিছু অনিয়মের আশ্রয়ে প্রকল্প আনতে হয়। সকল ইউনিয়নে এরকম কিছু অনিয়মে কাজ হয়। তার জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে বিভিন্ন দপ্তরে নানা অনিয়মের এ অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।  
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবু তাহের সরকারের বিরুদ্ধে ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ইং অর্থবছরে এলজিইডি, এডিপি, এলজিএসপি, ১%, কাবিখা ও ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় রাস্তা সংস্কার, ব্রীজ- কালভার্ট নির্মাণ, মাঠ ভরাটসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ এনে কাজ না করে ওই অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় ভূঁয়া দিনমজুররের নামের তালিকায় বরাদ্ধ দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ জাল স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে উত্তোলনকৃত লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা, একই অর্থবছরে একই প্রকল্পের শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন করে ৩- ১১ বার বরাদ্ধ দেখিয়ে উত্তোলনকৃত টাকা কাজ না করে আত্মসাৎ করা, সরকারী খাল ভরাট, খাস জমি দখল, হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্মনিবন্ধন, জন্ম-মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, রসিদ বই সরবরাহে কোন ধরনের ব্যাংক লেন-দেন ছাড়াই তহবিল তছরুপ, ন্যায্যমূল্যের চাউল আত্মসাতসহ নানা  অভিযোগ এনে দূর্নীতি দমন কমিশন ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন একই ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস, মোঃ আলাউদ্দিন, ওয়াহেদপুর গ্রামের মুকুল ভূাঁইয়া ও ৪০ দিনের কর্মসূচীর ২৪জন দিনমজুর। এছাড়াও নারায়নপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস তার অভিযোগ পত্রে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার কাজী শাহ আলম’র বিরুদ্ধেও সরকারী খাস জমি ভরাট করে পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্থ করা নিজ বাড়ির সীমানা বৃদ্ধি করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
এরই মধ্যে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তাগন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক প্রতিনিধি গত জানুয়ারী এবং চলতি ফেব্রুয়ারী মাসে ৩ দফা সরেজমিনে এসে তদন্ত করে যান। চলতি বছরের গত ২০ ও ২২ জানুয়ারী দিনব্যাপী দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুমিল্লা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ও অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা আহমেদ ফরহাদ’র নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধানী দল দু’দফা তদন্ত করে যান। তদন্তকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিদর্শক মোঃ মোফাজ্জল হায়দার, সড়ক ও জনপদ বিভাগ গৌরীপুর শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাফরুল হায়দার, দেবীদ্বার উপজেলার সাবেক প্রকল্প কর্মকর্মা ইউনুছ মিয়া, কুমিল্লা ময়নামতি শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আল আমিন, দেবীদ্বার উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলাম, সার্ভেয়ার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসাইন, এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবু তাহের সরকার, অভিযোগকারী সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম সারোয়ার মুকুল ভূঁইয়া, মোঃ আলাউদ্দিন ও আব্দুল কুদ্দুস প্রমূখ। অপর এক অভিযোগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া’র নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল তদন্ত করে যান।
অভিযোগকারী আ’লীগ সুবিল ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম সারোয়ার মুকুল ভূঁইয়া বলেন, চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার ৪নং সুবিল ইউনিয়ন বিএনপি’র দু’বারের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন। বিতর্কিত এ চেয়ারম্যান ২০০৪ সালে ১৫ আগষ্ট কাঙ্গালি ভোজের গরু জবাইয়ে বাঁধাদানসহ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের হামলা মামলায় নানাভাবে হয়রানী করে আসছে। ২০১৬ সালে রাজনৈতিক প্রভাবে বর্তমানে আওয়ামীলীগের সমর্থক বনে গিয়ে ইউপি নির্বচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার পর লাগামহীনভাবে অনিয়ম- দূর্নীতি করে আসছেন। নিজের ছোটভাই কাউছার আহমেদ সরকারকে তার ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির সাধারন সম্পাদকের পদটি হস্তান্তর করে আওয়ামীলীগের কিছু লোকের সহায়তায় ২০২০সালে ৪নং সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
তিনি জানান, চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার এসময়ে বিশাল অর্থবিত্তের মালিক বনে যান। নিজ ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর গ্রামের মৃত: ফজলু মিয়ার ছেলে ইকবাল হোসেন’র কাছ থেকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকার সাবেক ৪৭৩/৭৪, বিএস- ১৩০২দগের ২তলা রেডিমেড বাড়ি ৬৫ লক্ষ টাকা বায়নামূলে ক্রয় করেন। ঢাকা তার ছোট ভাই খায়েরের সাথে টঙ্গী এলাকায় শেয়ারে গার্মেন্টস ব্যবসায় ১কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। দেবীদ্বার নিউমার্কেট এলাকার ডাঃ সেলিম ভূঁইয়ার মার্কেটটি শেয়ারদারদের সাথে ব্যক্তিগত ২ কোটি টাকার জমি ক্রয় করেন। দেবীদ্বার কলেজ রোডের নিউমার্কেট এলাকায় সরকার টাওয়ার একটি ফাটবাড়ি ক্রয় করেন। এছাড়াও প্রায় এক একরের উপর আবাদি জমির মালিক বনে যান।
৪০দিন কর্মসূচী সম্পর্কে ২৪ অভিযোগকারীদের মধ্যে ওয়াহেদপুর গ্রামের মমতাজ বেগম, রেহেনা বেগম, নারায়নপুর গ্রামের ইসমাইল হেসেন, জামাল হোসেন,  আব্দল্লাহপুর গ্রামের মিজান, সুলতা মোল্লা বলেন, তারা এ বিষয়ে অবগত ছিলেননা, তারা কেউ কাজ করেন নাই, টাকাও নেননি কিন্তু তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ জাল স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তলন হয়ে গেছে বলে জানতে পারেন।
তারা বলেন, ৪০দিন কর্মসূচীর আওতায় দিনমজুরদের প্রতি অর্থবছরে জনপ্রতি ৮হাজার টাকা করে ৩ অর্থবছরে ২৪ হাজার টাকা করে ২৪৮ জনকে ৫৯ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা দেয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান আবু তাহের ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ইং অর্থবছরে টাকা আত্মসাৎ করে ফেলেছেন। ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দিন মজুরের তালিকায় আছেন ওয়াহেদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাজী মামুনুর রশীদ এবং একই বাড়ির সিএনজি চালক কাজী জহিরের নামও রয়েছে।
অপর অভিযোগকারী সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম সারোয়ার মুকুল ভূঁইয়া বলেন, ৪০দিনের কর্মসূচীর আওতায় গত ৩ অর্থবছরে কোন কাজ হতে দেখি নাই। কোন মেম্বারও কাজ করেন নাই, দুদক এবং জেলা প্রশাসকের বরাবরে অভিযোগের পর চলতি বছরে কিছু কাজ দিলেও তাও সঠিক ভাবে হচ্ছেনা। তাছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের ভয়ে ইউপি মেম্বার কেন, এলাকার সাধারন মানুষজন মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা। এ যেন যে যেমন করে লুটের রাজত্ব কায়েম করছে।
সুবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি অর্থ বছরে ৪০দিনের কর্মসূচীর কিছু কাজ পেলেও ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের কোন কাজ চেয়ারম্যান দেন নাই। গত বছর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবীন্দ্র চাকমা আমাদের ডেকে নিয়ে বললেন, আপনাদের ৪০দিনের কর্মসূচীর কাজের কি অবস্থা, তখন বললাম স্যার আমরাতো কোন কাজ পাইনি, কাজ করিও নাই, কাজের অবস্থা বলব কিভাবে ? তখন ইউএনও স্যার কাগজপত্র বের করে বলেন, এই প্রজেক্টের চেয়ারম্যান আপনি, কাজ করেন নাই বলেন কেন ? তখন বললাম স্যার আপনার কাছেই এ বিষয়ে জানলাম। এ অভিযোগ আরো কয়েকজন ইউপি মহিলা ও পুরুষ মেম্বার নাম না প্রকাশের শর্তে স্বীকার করে বলেন,- আমরা কঠিন চাপে আছি।
এব্যাপারে সাবেক দেবীদ্বার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইউনুছ মিয়া বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কিছু কাজ আমার প্রকল্পের মাধ্যমে হয়। বিশেষ করে ৪০দিনের কর্মসূচীর কাজের বিষয়ে দুদকে অভিযোগকারী ২৪ দিনমজুর তারা কাজও করে নাই, টাকাও নেয়নি, অথচ তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ জাল স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তলন হয়ে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প আসে সেগুলো অনুমোদন দিয়ে ব্যাংকে পাঠাই, একজনের টাকা অন্যজনকে দেয়া বা জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর সহ জাল স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি ব্যাংক সংশ্লিষ্টরাই বলতে পারবেন।
দুদকে অভিযোগকারী নারায়নপুর গ্রামের মো: আলাউদ্দিন বলেন, একই রাস্তা একবার পূর্ব থেকে পশ্চিমে ‘রাঘবপুর পাকা রাস্তা হতে রাজা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রিকেট দ্বারা মেরামত দেখিয়ে ২০১৬-২০১৭ইং অর্থবছরে শতকরা ১ভাগ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার  টাকা এবং আরেকবার পশ্চিম থেকে পূর্বে বুড়িরপাড় হতে রাঘবপুর লোহার ব্রীজ পর্যন্ত প্রিকেট রাস্তা মেরামত দেখিয়ে ২০১৬-২০১৭ইং অর্থবছরে শতকরা ১ভাগ থেকে ১লক্ষ টাকা উত্তোলন করলেও কাজ করেনি। বর্তমানে ওই সড়কটি ২০১৮- ২০১৯ইং অর্থবছরে এলজিআরডি’র আওতায় পাকাকরণ হয়ে গেছে।
একই মাঠ ভরাটে ৩ প্রকল্প  ঃ ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বুড়িরপাড় পান্ডব সরকার বাড়ির খেলার মাঠ ভরাট ১% থেকে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ এবং একই অর্থবছরে রাঘবপুর খেলার মাঠ উন্নয়ন এডিপি থেকে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। একই মাঠের জন্য ২০১৮-২০১৯ইং অর্থ বছরে রাঘবপুর খেলার মাঠ উন্নয়ন এডিপি থেকে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্ধসহ মোট ৯লক্ষ টাকা আনেন চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার। কিন্তু দুদকে অভিযোগের পর কিছু মাটি ফেলার কাজ করলেও চাঁদা তুলে করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান। এছাড়া ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ‘যুব-ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য বুড়িরপাড় উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং যুব-ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য ওয়াহেদপুর খেলার মাঠ উন্নয়ন নামে দু’মাঠের জন্য এডিপি থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ এনে কাজ না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
২০১৮-২০১৯ইং অর্থবছরে বুড়িরপাাড় উচ্চ বিদ্যালয় হতে জনাব মোঃ আবু তাহের সরকার ইউপি চেয়ারম্যান বাড়ির সেতু নির্মান এডিপি থেকে ২লক্ষ টাকা বরাদ্ধ। যা দুদক তদন্ত চলাকালীন অবস্থায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারী নির্মান কাজ করেন। ২০১৭-২০১৮ইং অর্থ বছরে বুড়িরপাড় হাজীবাড়ি হতে ঘোষঘর মূন্সী বাড়ি পর্যন্ত কাবিখা’র ৮ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্ধ নিলেও কাজ করেন নি।
এ ছাড়াও চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের বিরুদ্ধে ২টি সড়কের ৪টি প্রকল্প বরাদ্ধ নিয়ে তাতে কমিশন নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।  
দুদকে অভিযোগকারী নারায়নপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বলেন, রাঘবপুর খেলার মাঠের দক্ষিণ পাশে ইউড্রেন নির্মাণে (১লক্ষ ৯৯হাজার ৯শত টাকা) এবং কালভার্ট নির্মাণে ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা বরাদ্ধ নিয়ে (২০১৭-২০১৮ইং অর্থবছরে) এডিপির ২টি প্রকল্পের ১টি ইউড্রেন করলেও কালভার্ট করেননি কিন্তু দু’টির বিলই উত্তোলন করে ফেলেন। তিনি ক্ষোভের সাথে আরো জানান,  মরজরা নদীর মোহনা এবং রামপ্রসাদ খালের মোহনাখ্যাত বুড়িরপাড় রাঘবপুর খালের প্রায় ৩ শত মিটার খাল চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার ভরাট করে ফেলেন। যে খালটি অত্র অঞ্চলের কৃষি জমির আবাদে পানি ব্যবহার এবং মৎস জীবীদের একমাত্র উপার্জন নির্ভর ছিল। খালটি ভরাট করায় এ এলাকার দরিদ্র আয়ের মানুষদের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।
ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার কাজী শাহআলম’র নিজ বাড়ির উত্তর সীমানা বৃদ্ধি ও বাড়ির রক্ষায় বাড়ি সংলগ্ন খালের পাশে রিটানিং ওয়াল নির্মাণের (২০১৮-২০১৯ইং অর্থবছরে) এডিপি থেকে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ আনেন এবং বাড়ি রক্ষার স্বার্থে বাড়ির পশ্চিম পাশের পানি চলাচলের একটি ড্রেন ভরাট করে বাড়ির সীমানা বৃদ্ধি করেছেন।
ওই কাজ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও আ’লীগ দেবীদ্বার উপজেলা কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান লুৎফর রহমান বাবুল ভূঁইয়া বলেন, আমার তত্ববধানে এডিবি’র অর্থায়নে ওয়াহেদপুর খেলার মাঠ ভরাটে ৫লক্ষ টাকা এবং ওয়াহেদপুর কাজীবাড়ি সংলগ্ন খালের পাশে সড়ক রক্ষায় রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণে ৫লক্ষ টাকা সহ দুই প্রকল্পে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ পাই। মাঠ ভরাটের ৫ লক্ষ টাকার প্রকল্পটি আমি করিনি। এবিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। অপর ৫লক্ষ টাকার প্রকল্পটি জনস্বার্থে সড়ক রক্ষায় খালের পারে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের কথা থাকলেও ওই ইউপি মেম্বার কাজী শাহ আলম তার নিজ বাড়ির সীমানা বৃদ্ধিতে খালের পাড় রিটার্নিং ওয়াল করতে চায়, যেহেতু জনস্বার্থে না হয়ে প্রকল্পটি ব্যক্তি স্বার্থে করা হচ্ছে তাই পুন: বিবেচনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি।
তবে এসব বিষয়ে স্থানীয় সাধারন মানুষ মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননা। শুধু তাই নয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি মেম্বারও অনিয়ম- দূর্নীতির সত্যতা স্বীকার করলেও মুখ খুলে কিছু বলতে সাহস পাননি। তারা বলেন, কাগজে কলমে বিভিন্ন প্রজেক্টের নামে বরাদ্ধ আসলেও তাদের মাধ্যমে কোন কাজ করা হয়না। সবই চেয়ারম্যান করেন। শুধু প্রজ্কেট ও অর্থ বিলে স্বাক্ষর নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে দেবীদ্বার উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহ্ আলম বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম -দূর্নীতির বিষয়ে তদন্ত চলছে। সব প্রজেক্ট আমার নয়, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনায় ২৫টি খাতে ভিন্ন ভিন্ন দপ্তর রয়েছে। দুদক কর্মর্কাদের তদন্তকালে আমার দেয়া এলজিইডির ৪ প্রজেক্টের ৩টিই সঠিক ছিল ওয়াহেদপুর মাঠ ভরাট ও ওয়াহেদপুর খালের রিটার্নিং ওয়াল নির্মানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লুৎফর রহমান বাবুলের মাধ্যমে ২টি প্রজেক্টে ৫ লক্ষ টাকা করে ১০লক্ষ টাকার কাজ ছিল। ওই কাজগুলো নিয়ে কিছু কথা শুনছি। যার সমাধান ঠিকাদারই দিতে পারেন।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত সুবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার বলেন, ৪০ দিনের কর্মসূচী প্রকল্পের স্ব স্ব ইউপি মেম্বারগন প্রকল্প চেয়ারম্যান, তাদের এলাকার উন্নয়নে তাদের লোক দিয়ে কাজ করেন। এখানে কাজ না করে দিনমজুরের ভোটার নম্বর দিয়ে জাল স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করার বিষয়টি আমার নয়। সকল ইউনিয়নের দিনমজুর চেনার কথাও নয়, তবে অনেকের নাম তালিকাভূক্ত থাকলেও তারা কাজ করেননা, বিকল্প লোক দিয়ে কাজ করাতে হয়। খাল ভরাটের বিষয়টি সরকারী নয়, ব্যক্তি মালিকানাধীন খাল, ডোবা, পুকুর, নালা মালিকদের মতামত নিয়েই জনস্বার্থে ভরাট করে সড়ক নির্মান করেছি। এক্ষেত্রে সরকারী সামান্য টাকায় কিছু হয়না, আমার ব্যক্তিগত ২০লক্ষ টাকাসহ ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সড়কের উন্নয়ন করছি।
একই সড়ক ২ অর্থবছরে ১১ বার প্রকল্প দেখিয়ে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছরই সড়কের মাটি, ইটের আদলা, সুরকী সরে যায়। বার বার সংস্কার করতে হয়, জনস্বার্থে এসব কাজ নিয়ম মেনে হয়না, কিছু অনিয়মের আশ্রয়ে প্রকল্প আনতে হয়। সকল ইউনিয়নে এরকম কিছু অনিয়মে কাজ হয়।
মাঠ ভরাটের বিষয়ে বলেন, এমন অনেক কাজ আছে যেগুলো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান করে থাকেন, ইউপি মেম্বাররাও প্রজেক্ট চেয়ারম্যান হয়ে করেন। সব দোষ আমার উপর চাপিয়ে দিলে হবেনা। টেন্ডার ছাড়াই আমার ইউনিয়নের উঁচু ব্রীজটি ভেঙ্গে সমতল কালভার্ট করেছি, যা সংশ্লিষ্টদের মতামতেই করেছি। ব্রীজের পুরনো রড, ইট বিক্রি করে কালভার্টে গোড়ায় মাটি ফেলেছি। তাছাড়া গত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত মুকুল ভূঁয়ার নেতৃত্বে একটি মহল আমার জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে বিভিন্ন দপ্তরে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে অভিযোগ করেছেন।  







© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};