ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
765
কুমিল্লায় ডোমদের মানবেতর জীবন
Published : Thursday, 16 January, 2020 at 12:00 AM, Update: 16.01.2020 2:24:11 AM
কুমিল্লায় ডোমদের মানবেতর জীবনবশিরুল ইসলাম।
কুমিল্লায় ডোমরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।  সরকারি ভাবে নিয়োগ না হওয়ায় এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগবন্ধের কারণে তাদের এ অবস্থা। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামসহ জেলার ১৭টি থানায় প্রায় ২০জন ডোম কাজ করে। এদের প্রত্যেকেই আশায় থাকে কখন একটি লাশ আসবে। লাশ আসলে কিছু পায় না আসলে পায়না। বেওয়ারিশ লাশ আসলে তেমন কোন খরচ পাওয়া যায়না। কিন্তু কাজ করতে হয় রাত-দিন। অনেকেই এ পেশায় কাজ করছেন অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রমের মত।
২০জনের মধ্যে কথা হয় কয়েকজনের সাথে। তাদের একজন মাছুম মিয়া। তিনি কুমিল্লা মহানগরীর মোগলটুলী এলাকার মোঙ্গল মিয়ার পুত্র।
তিনি জানান,  ২৫বছর আগে এই কাজে যোগ দিয়েছেন । তখন ৩০০টাকা বেতনে কাজ করেছেন। এখন বেতন পান আড়াই হাজার টাকা। নেই এক তোলা জমি । মাথাগোজার জন্য ভাড়া বাসায় থাকেন। কোনরকম মাস শেষ করে বাসা ভাড়া দিতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। আশায় থাকেন কখন একটা লাশ আসবে। যদি  লাশ আসে তাহলে টাকা পান, নয়তো পাননা। কিন্তু খানাতো (খাওয়া দাওয়া) বন্ধ থাকেনা। পেটতো বুঝেনা। কাজ না থাকলে খানা কিন্তু বন্ধ নাই।
এরকম রেলস্টেশনের কামাল, চৌদ্দগ্রামের আলী, চান্দিনার ফজর আলী, মুরাদনগরের আলী মিয়া, বুড়িচংয়ের জাহাঙ্গীর, লাকসামের আবুল, কোতয়ালী থানার আয়ুব আলী, ফারুক, সুলতান, দাউদকান্দির সরফত আলী বরুড়ার হোসেন, হোমনার নবী, তিতাসের জয়নাল, নাঙ্গলকোটের আলী,  জয়নাল। এদের প্রত্যেকের একই কথা আর ভাল্লেগেনা। কিন্তু পেটের দায়ে ছেড়ে দিতেও পারছিনা। এছাড়া অন্য কাজতো শিখিনি।
মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে ডোম হান্নান মিয়া জানান, পঁচা গলা পোকামাকড় থাকে অনেক লাশের গায়ে । কবর থেকেও মাঝে মাঝে লাশ তুলতে হয় । অনেক সময় দুগর্ন্ধের কারণে লাশের আত্মীয় স্বজনও কাছে যায়না। তখন আমরা ঐ লাশটা কোলে তুলে নিয়ে আসি। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে শরীয়া মোতাবেক আবার দাফন কাফন করি। এত কিছুর পরও আমরা অবহেলিত। আমাদের প্রতি সরকার সুদৃষ্টি দিলে সমাজে সম্মানের সাথে বাঁচতে পারতাম। আমরাতো আর দশটা মানুষের মত মানুষ। আমাদের কথা কেউ শুনেনা। আমাদের কোন রাত নেই, দিন নেই যখনই ডাক আসে তখনই ছুটে যাই।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের ডোম মাহে আলম জানান, আমি এখানে যোগদানের পর থেকে দেখছি এরা সকলে এখানে লাশ আনা নেওয়ার কাজ করে। এদের কোন নির্ধারিত বেতন ভাতা নেই। বিভিন্ন জনের সহযোগীতায় তারা চলে। এই সহযোগীতায় চলা অত্যন্ত কঠিন। তারা যে পরিমান পরিশ্রম বা কষ্ট করে সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক পায়না। তাদের প্রতি সরকার সুদৃষ্টি দিলে তাদের জীবনযাপন একটু সহজ হবে।
এ বিষয়ে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কুমিল্লা শাখার সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন জানান, ডোমদের জন্য সরকারি কোন বেতন নেই। আমাদের অফিসে সরকারি কোন অনুদান আসেনা। আর্থিক তহবিল খুবই সীমিত। আমাদের এখানে বহুতল ভবন হবে। তখন হয়তো আর্থিক সংকট কিছুটা কেটে যাবে। আর্থিক সংকটের কারণে কাউকেই বর্তমান বাজার অনুযায়ী বেতন দেওয়া যাচ্ছেনা। এটা একটা স্বেচ্ছাশ্রমের মত।








© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};