ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
231
মামলা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণ চিহ্নিত করার দাবি পুলিশ কর্মকর্তাদের
Published : Wednesday, 8 January, 2020 at 1:32 AM
মামলা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণ চিহ্নিত করার দাবি পুলিশ কর্মকর্তাদেরপুলিশকে দায়ী না করে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণ ও কারা দায়ী তা আগে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। পুলিশ সপ্তাহের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে এই দাবি তুলে ধরেন  র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। বৈঠকে আরও ১০ পুলিশ সুপারসহ ১৯ কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। জেলায় জেলায় গঠিত ২২ থেকে ২৩টা কমিটি নিয়েও সমালোচনা করেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, নিম্ন আদালতে সারাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ মামলা মুলতবি আছে। আগে জানতে হবে মামলার নিষ্পত্তি কেন হচ্ছে না। মামলার দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণ কী, কে দায়ী, কোন ব্যবস্থা দায়ী। তা না জেনে কমিটি করলে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য সফল হবে না।

উল্লেখ্য, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন নাশকতামূলক কার্যক্রম প্রতিরোধ ও মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য ‘জেলা আইন-শৃঙ্খলা রিভিউ কমিটি’ গঠন করে সরকার। ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এই কমিটি গঠন করে পরিপত্র জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সম্মেলনে এই কমিটির সমালোচনা করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

বেনজীর আহমেদ বলেন, বিচার ব্যবস্থার তিনটি অংশ। ইনভেস্টিগেশন, প্রসিকিউশন ও জুডিশিয়ারি। গত ১০ বছর ধরে আমরা শুধু ইনভেস্টিগেশন করি। আমাদের কাছে প্রসিকিউশনের সামান্য একটা অংশ ছিল। তাও নেই এখন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিবের উদ্দেশে র‍্যাব প্রধান বলেন, বাংলাদেশে প্রসিকিউশন কোন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন? সর্বশেষ যে সার্কুলারের মাধ্যমে পুলিশের কাছ থেকে প্রসিকিউশন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তা করা হয়েছে আইন মন্ত্রণালয় থেকে। এর অর্থ হচ্ছে প্রসিকিউশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় নয়। আবার দেশের প্রধান যে আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নয়। তাহলে শুধু আছে ইনভেস্টিগেশন। বিচার ব্যবস্থার দুটো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া আমাদের কাছে নেই। ফলে এসব কমিটি বানিয়ে লাভ নেই।

বেনজীর আহমেদ বলেন, মানুষ বিচারের জন্য কোর্টের বারান্দায় ঘুরে। বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকে। পুলিশের পক্ষ থেকে যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও মামলা ঝুলে থাকায় জনমনে অসন্তুষ্টি বিরাজ করছে। বর্তমান ব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তি হতে ১২ থেকে ১৫ বছর লাগে। এ সময়ে মামলার আলামত কোথায় থাকবে? নিয়ম অনুযায়ী এসব আদালতের মালখানায় মজুদ রাখবে। কিন্তু কয়টা আদালতে তা আছে?

বেনজির আরও বলেন, ‘আইন অনুসারে সাক্ষী প্রথম হাজির করলে টাকা পাবে। কিন্তু ফাঁকফোকরে সেটাও সাক্ষী পাচ্ছে না। কিন্তু সাক্ষী হাজির করতে হয় পুলিশকে। সেই সাক্ষীকেও কেউ নেয় না। আবার সাক্ষী নিরুৎসাহিত হলে দোষ যায় পুলিশের ঘাড়ে। পুলিশ সাক্ষী নিয়ে আসবে। এই ব্যবস্থা করেন আপনারা। আর গোড়ায় হাত না দিয়ে কমিটির পর কমিটি ও মিটিং করলে কোনও লাভ হবে না’।

তিনি বলেন, ‘মাদক, আইসিটি ও নারী নির্যাতনের মামলার মেয়াদ নির্ধারিত। কিছু মামলার তদন্তে বিলম্ব হচ্ছে, কিন্তু সেগুলোর মোটিভ ভিন্ন’।

অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আবুল কাশেম বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। সেটি বাংলাদেশ পুলিশের অভিজ্ঞতার প্রমাণ। সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সাইবার ক্রাইম। সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে হবে। আমাদের কী কী দরকার- সেটির একটা প্রস্তাবনা রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তা দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি’। তিনি আরও অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি দাবি করেন।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, ‘জেলায় ২২ থেকে ২৩টি কমিটি আছে। সবগুলো কমিটির সভাপতি হচ্ছেন জেলা প্রশাসক। মাত্র একটি কমিটি আছে যার সহসভাপতি হচ্ছেন পুলিশ সুপার। সেটি হচ্ছে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি। আমরা জানি, জেলা প্রশাসক না থাকলে একজন জুনিয়র এডিসি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সভাপতিত্ব করেন। এখানে একটি নির্দেশনা থাকা দরকার। সভাপতি না থাকলে সহসভাপতি সভাপতিত্ব করবেন। আর কিছু কমিটি আছে যেখানে পুলিশ সুপার শুধু সদস্য। কিছু কমিটিতে পুলিশ সুপারের না গেলেও হয়। সেগুলোতে পুলিশ সুপার বা পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি লেখা থাকলে ভালো হয়।’

খুলনার পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা ভালো রেজাল্ট করেও ভালো স্কুলে ভর্তি হতে পারে না। আমাদের কয়েকটি জেলায় ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। অধিকাংশ জেলায় ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই’। তিনি এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।






সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};