ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
126
৯ তলা ভবনের পুরোটা জুড়েই সম্রাটের রাজত্ব
Published : Monday, 7 October, 2019 at 12:00 AM
বিডিনিউজ: ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর কাকরাইলের যে ভবনটি ছিল নগরবাসীর কৌতূহলে, সেই নয় তলা ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অফিস ছাড়া আর কারও কিছু নেই।
এখনও নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া ওই ভবনের চতুর্থ তলায় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দেিণর সভাপতি সম্রাটের অফিস, পাশেই খাবারের ক্যান্টিন। পাঁচ তলায় পাওয়া যায় আদা, আলু ও রান্নার সরঞ্জাম।
ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ছোট ছোট অফিস আর সম্রাট এবং সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। তবে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলার দেিণর অংশ নির্মাণাধীন, ওই ফ্যাটগুলোতে কোনো কাজ করা হয়নি। বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর আবর্জনা পড়েছিল সেখানে।
ষষ্ঠ তলার একটি কে একটি বিশেষ ধরনের চেয়ার দেখতে পাওয়া যায়। সেটি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপস্থিত একজন র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, এই চেয়ার সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।
ভবনের ছাদের দণি দিকে তৈরি করা হয়েছে একটি মনোরম বাগান; সেখানে রয়েছে কলাগাছসহ বিভিন্ন ছোট ছোট গাছ। দণি-পশ্চিম কোণে একটি কৃত্রিম পাহাড়ি ঝর্ণাও রাখা হয়েছে।
উত্তর পাশে একটি ক দেখতে পাওয়া যায়। ওই কে একটি বেড, এটাচড বাথরুম রয়েছে। তার পাশে আরেকটি কে একটি টেবিলে রয়েছে। বাগানের পূর্বপাশে রয়েছে একটি বড় হল রুম।
ছাদে ওঠার সিঁড়িও ভিন্ন, ভবনের পশ্চিম কোণে একটি সরু সিঁড়ি দিয়ে এখানে উঠতে হয়। ছাদের এই পুরো আয়োজনকে ‘সম্রাটের বাংলো’ বলেন সেখানে অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাব সদস্যরা।
ছাদসহ পুরো নয়তলা ভবনই ছিল সম্রাটের দখলে। সেখানে অন্য কারও বসবাস বা কারও অফিস ছিল না।
এই ভবনটি কার জানতে চাইলে রমনা থানার ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, “আশরাফ ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি এর মালিক।”
তবে আশরাফ সম্পর্কে আর কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি। অন্যান্য ফোর ভাড়া দেওয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আশরাফ ভূঁইয়া কখনও থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।”
পুরো ভবনটি সম্রাট তার কাছ থেকে ‘ভাড়া’ নিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তবে ওই অফিসের বিষয়ে সম্রাটের স্ত্রী শারমিন চৌধুরী বলেছেন, “যে ফোরে সম্রাটের অফিস সেটিই শুধু তার। ওই ভবনে ঢুকতে যে কড়া চেকের মধ্যে পড়তে হয়, সে কারণে সেখানে আর কেউ ওঠেনি।”
ওই অফিসের বিষয়ে একজন যুবলীগ কর্মী নাম প্রকাশের না করার শর্তে বলেন, “চারতলায় ওই অফিসে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে, পাশের ক্যান্টিনে বসে খেয়েছি। কিন্তু ছাদে বাংলো আছে তা জানা ছিল না।”
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, দিনের একটি বড় সময় এই অফিসে কাটাতেন সম্রাট। তার অনুসারী যুবলীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল অন্যদের চোখে পড়ার মতো।
গত ১৮ সেপ্টেম্বরে ফকিরাপুল, গুলিস্তান এলাকায় কয়েকটি কাবে র‌্যাবের অভিযানে ক্যাসিনো চালানোর বিষয়টি ধরা পড়ার পর সম্রাটের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যুবলীগের ঢাকা দেিণর সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদা মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সম্রাটকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে গুঞ্জন ছড়ালে কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে কাকরাইলের এই কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন ঢাকায় যুবলীগের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত সম্রাট। রাতভর তার নামে স্লোগান দিতে থাকেন ওই নেতাকর্মীরা। এভাবে তিনি সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করেন; পরে আত্মগোপন করেন।
রোববার ভোর রাতে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তারের পর দুপুরে যখন সম্রাট নিয়ে র‌্যাব ওই কার্যালয়ে অভিযানে যায়, তখনও আশপাশে অবস্থান নিয়েছিলেন যুবলীগ নেতাকর্মীরা।
তাদের কখনও পামের রয়েল কিং ফটোকপির দোকানের সামনে সিঁড়িতে বসে থাকতে, কখনও ‘বিপাশা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের’ সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সে সময় পরিচয় জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান।
তবে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে যখন সম্রাট নিয়ে বের হন র‌্যাব সদস্যরা তখনই তার নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন ওই যুবলীগ কর্মীরা। ‘সম্রাট ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী। হঠাৎ করে স্লোগানে ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা তখন কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। কিছুণের মধ্যে তাদের সরিয়ে দিতে তৎপর হয় পুলিশ। ধাওয়ায় পাশের রমনা থানার সামনের সড়ক দিয়ে দণি দিকে সরে যান তারা। এ সময় যুবলীগের তিন কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তাদের পরিচয় জানতে চাইলে ওসি মাইনুল বলেন, “এরা নামধারী যুবলীগ, কিন্তু কোনো পদে নেই।”
সম্রাটের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া পেয়েছে র‌্যাব। এছাড়া সেখানে দুটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও দুটি লাঠি পাওয়া গেছে, সেগুলো নির্যাতন করার কাজে ব্যবহার করা হত বলে ধারণা র‌্যাব কর্মকর্তাদের।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা র‌্যাবের নির্বাহী মেজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, অভিযানের সময় সম্রাটের বিরুদ্ধে ‘তিন ধরনের অপরাধের আলামত’ পেয়েছেন তারা। এর একটি বন্যপ্রাণী আইনে, বাকি দুটি মাদক ও অস্ত্র আইনে।
ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে বন্যপ্রাণী (সংরণ) আইনে তাৎণিকভাবে ছয় মাসের কারাদ- দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া মাদক ও অস্ত্র পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটো মামলা করা হবে বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান।
তিনি বলেন, কুমিল্লায় অভিযানের সময় যুবলীগ নেতা আরমানকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎণিকভাবে তাকে ছয় মাসের কারাদ- দিয়ে কারাগারে পাঠায়।






© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};