ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
819
কেমন ছিল খালেদের ক্যাসিনো-সাম্রাজ্য?
Published : Friday, 20 September, 2019 at 12:00 AM, Update: 20.09.2019 3:28:25 AM
কেমন ছিল খালেদের ক্যাসিনো-সাম্রাজ্য?অবৈধ ক্যাসিনো চালানোয় গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জানতে পেরেছে র‌্যাব। এই প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ঢাকা শহরে ক্যাসিনোর সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন খালেদ।
দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের নাম বলেছেন। তাদের সহায়তায় তিনি ক্যাসিনো ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এসব করতেন খালেদ।
র‌্যাব জানিয়েছে, ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবটি ছিল খালেদের অবৈধ আয়ের সবচেয়ে বড় জায়গা। শুধুমাত্র এই ক্লাবে বসানো ক্যাসিনো থেকেই দিনে প্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি হাতবদল হতো। আর এর মাধ্যমে প্রতিদিন খালেদের এই ক্লাব আয় করে নিত প্রায় কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা। ক্লাবের প্রতিদিনের হিসাবের খাতা পর্যালোচনা করে এমন তথ্যই জানা গেছে।
ইয়ংমেনস ক্লাব ছাড়া ঢাকা শহরে আরো ১৬টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করছে খালেদের দলবল। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করা, চাঁদা না দিলে টর্চার সেলে নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি দেয়াসহ প্রকাশ্যে বিভিন্ন অপরাধ করে বেড়াতো খালেদ ও তার সহযোগীরা।
র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, খালেদকে গ্রেপ্তার করার পর আমরা কিছু সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বলেছেন তিনি, তবে তদন্তের স্বার্থে তার দেয়া সেসব তথ্য এখনই প্রকাশযোগ্য নয়। সময় হলে সবই জানতে পারবেন।
জানা গেছে, খালেদকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় হস্তান্তর করবে র‌্যাবে। সেখান থেকে তাকে আদালতে নিয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করবে থানা পুলিশ।

কেমন ছিল খালেদের সাম্রাজ্য?
টানা আট মাস ধরে ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনোর সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন যুবলীগ নেতা খালেদ। ক্যাসিনোতে জুয়া খেলার পাশাপাশি এই ক্লাবে মদ্যপান ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের ব্যবস্থা ছিল। জুয়াড়িরা এখানে এসে মদ-বিয়ার ও ইয়াবার নেশায় বুদ হয়ে জুয়া খেলতেন।
ক্লাবটিতে একটি ভিআইপি রুম রয়েছে। যেখানে ৮ জন একসঙ্গে ফাশ গেম নামের জুয়া খেলতে পারত। সেই আসরেই টাকার লেনদেনটা সবচেয়ে বেশি হতো। তাছাড়া ৮টি জুয়ার টেবিল, ৬টি ইলেকট্রনিক্স ক্যাসিনো মেশিন ছিল।
জুয়ার টেবিলে কার্ড তুলে দেয়ার জন্য এই ক্লাবে কয়েকজন নারী স্টাফকে রেখেছিলেন খালেদ। ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরে টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে কার্ড দেয়ার কাজ করতেন এই নারীরা। পুরো ক্লাবটি সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরাতে নজরদারি রাখা হতো। ক্লাব সংশ্লিষ্ট নয় এমন কেউই সেখানে সহজে প্রবেশ করতে পারত না।
দোতলাবিশিষ্ট ওই ক্লাবের নিচতলায় ছিল ক্যাসিনো। উপরে টিনশেডে তৈরি কক্ষে থাকতেন ক্যাসিনোর কর্মচারীরা। ক্লাবটিতে প্রবেশের মুখেই রয়েছে খালেদের অফিস। দিনে নির্দিষ্ট এক সময়ে খালেদ সেখানে আসতেন।

কমলাপুরে খালেদের টর্চার সেল:
যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার একটি টর্চার সেলেরও সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। চাঁদা না দেয়ায় খালেদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমলাপুর রেল স্টেশনের উল্টো দিকে ইস্টার্ন কমলাপুর টাওয়ারের চতুর্থ তলায় ওই টর্চার সেলের সন্ধান পান র‌্যাব-৩ এর কর্মকর্তারা।
র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিউল্লাহ বুলবুল পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গুলশান থেকে অস্ত্রসহ খালেদকে গ্রেফতারের পর আমরা কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তথ্য পাই যে, চাঁদা না দিলে খালেদ তাদের একটি টর্চার সেলে নির্যাতন করতেন।
র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, পরে ভুক্তভোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে এই টর্চার সেলটি আমরা খুঁজে বের করি। সেখান থেকে ইলেকট্রিক শক দেয়ার যন্ত্রপাতি, অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং অনেক লাঠিসোটা-হকিস্টিক ইত্যাদি পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় ফকিরাপুলে ইয়ংমেন্স ক্লাবে অবৈধভাবে জুয়ার আসর চালানোর অভিযোগে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গুলশানে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
একই সময় ফকিরাপুলের ওই ক্লাবে অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে দ- দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ক্লাবে পাওয়া যায় মদ আর জুয়ার বিপুল আয়োজন। সেখান থেকে জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ অর্থও।
 





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};