ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
135
বিরতিহীন হাইকোর্ট দেখা
Published : Thursday, 8 August, 2019 at 12:00 AM
বিরতিহীন হাইকোর্ট দেখামোস্তফা কামাল
সাম্প্রতিক ঘটনা ও জনস্বার্থ বিষয়ক নির্দেশনা দিয়েই যাচ্ছে হাইকোর্ট। ইদানিং হাইকোর্টের নির্দেশ, আদেশ, দিকনির্দেশনা, পর্যবেক্ষণ, মন্তব্য অনেকটাই বিরতিহীন। তা মশা, মশার ওষুধ, ডেঙ্গু, ধর্ষণ, কুপিয়ে হত্যা, বন্দুকযুদ্ধে হত্যাসহ সমসাময়িক প্রায় সব বিষয়েই। কিন্তু, সেই মাত্রায় শোনা যাচ্ছে না আদেশ-নিষেধগুলো মান্য করার খবর। তা কি ‘বাঙালকে হাইকোর্ট দেখিয়ে লাভ নেই’-এমন বাজারি কথারই নমুনা?
হাইকোর্টের জনহিতৈষী নির্দেশনার মধ্যে সর্বশেষ যোগ হয়েছে ডেঙ্গু বিষয়। হাইকোর্ট বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে চেয়েছে, রাষ্ট্রের এত মেশিনারি থাকতে এডিস মশা দূর করা যাবে না? ইতিবাচকভাবে দেখলে এটি অবশ্যই একটি বিরল ঘটনা। গুরুতর প্রশ্নও। সংশ্লিষ্ট বিচারপতি বলেই ফেলেছেন, বিশ্বের অন্য কোনো দেশে হাইকোর্টকে মশা মারার জন্য রুল দিতে হয় না।
এর আগে, বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা বিষয়েও হাইকোর্টের কিছু মন্তব্য এসেছে। বিশেষ করে ওই সময় কারো বাধা না দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখার বিষয়ে হাইকোর্টের মন্তব্য ছিল মর্মস্পর্শি। বাঙালি তো কখনো এমন নিথর ছিল না, কেন তাদের অনুভুতি এমন জায়গায় এসে ঠেকেছে- এমন বিস্ময়ভরা প্রশ্ন ছিল আদালতের।
সামাজিক নানা অঘটন ও জনস্বার্থ ইস্যুতে উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশনাগুলোর মধ্যে খাদ্যে ভেজাল, নকল-মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, অবৈধ দখল, পাস্তুরিত দুধ গবেষণা, সড়ক দুর্ঘটনার মতো বিষয় বেশ আলোচিত। ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা মামলার বিচারের প্রশ্নে নিম্ন আদালতের বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য হাইকোর্টের জারি করা সাত দফা নির্দেশনাও উল্লেখযোগ্য ঘটনা। শিক্ষাঙ্গনে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধের বিষয়ে ১০ বছর আগে হাইকোর্ট থেকে দেয়া নির্দেশনা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এমনকি এ বিষয়ে আইনও করেনি সরকার।
সচিবসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো কেন নিজ নিজ কাজ ঠিকভাবে করছেন না, কেন সবকিছুতে প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ দিতে হয়- এ প্রশ্নও ছুঁড়েছে হাইকোর্ট। এর বিপরীতে হাইকোর্টকে কেন এতো নির্দেশ দিতে হচ্ছে- এমন পাল্টা প্রশ্নও বাদ পড়ছে না। প্রশ্নটির জবাবও এসেছে হাইকোর্ট থেকে। এলপিজির দাম নিয়ে এক মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বলেছেন, ‘সবকিছু কি হাইকোর্ট দেখবেন? নির্বাহীদের সব কাজ চেক করা হাইকোর্টের দায়িত্ব নয়’।
প্রশ্নদৃষ্টে জবাবও মিলেছে। কিন্তু আদালতের নির্দেশগুলো কেন ঠিকভাবে পালন হচ্ছে না- সেই প্রশ্নের জবাব নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনের মারপ্যাঁচের কথা। সব নির্দেশ সরকারপ্রধানের দেওয়া ভালো দেখায় না। আবার যেকোনো বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা আসাও মানায় না। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোয় আদালতের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়ছে। প্রশংসা হচ্ছে। আবার কিছু ঘটনায় হচ্ছে বিপরীতটা। আদালতের ইমেজে আঁচড় পড়ছে। আদালতকে তাচ্ছিল্য করতেও ছাড়ছেন না ক্ষমতাবানরা।
অনেকের মনে থাকার কথা গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে বগুড়ার কাহালু-নন্দীগ্রাম আসনের প্রার্থী হিরো আলম হাইকোর্টে গিয়ে প্রতিকার পেয়েছিলেন। এতে মনক্ষুণœ হয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের ওই সময়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেছিলেন, ‘হিরো আলমের মতো লোকও হাইকোর্ট দেখায়, বোঝেন অবস্থাটা।’ বর্তমানে স্থানীয় সরকারে দায়িত্বরত সেই সচিব হেলালুদ্দীনও ডেঙ্গু ইস্যুতে তলবে পড়ে সেদিন হাইকোর্ট দেখে এসেছেন।
বিভিন্ন ঘটনায় গত বছর খানেকে হাইকোর্টে পুলিশ বা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তলবের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি লক্ষণীয়। কারণ, তাদের কেউ তলব বা ডাকতে পারে- এমনটা ছিল সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে। আক্রান্তরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এর সুবাদে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা ফিরছে। তবে, প্রশ্ন অন্যখানে। সাধারণরা সাধারণই। আদালতের তলব বা নির্দেশনায় আক্রান্তদের প্রায় সবাই ক্ষমতাবান। সেইসঙ্গে আইনের মারপ্যাঁচ বুঝতে পারঙ্গম। যার জেরে আদালতের নির্দেশনা না মানার পথও তাদের জানা। সুযোগ পেলে হাইকোর্টকেও হাইকোর্ট দেখিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন তারা।
পুলিশ ও প্রশাসন ক্যাডারের লোকজন প্রকাশ্যে না বললেও সরকারের শীর্ষমহলকে বোঝানোর চেষ্টা করেন আদালত ইচ্ছা করেই কখনো কখনো তাদের অপদস্থ করেন। পুলিশের ডিআইজি মিজান, ফেনীর আলোচিত ওসি মোয়াজ্জেমের ঘটনাকে তারা এর উদাহরণ হিসেবে দেখাতে চান। দুদক আইনজীবীকে আদালত থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে, ডিআইজি মিজানুর রহমান কি দুদকের চেয়ে ক্ষমতাশালী? আবার ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ ও প্রচারের মামলায় জামিন শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, কিছু ওসি- ডিসি নিজেদের জমিদার মনে করেন।
হাইকোর্টের নির্দেশনাগুলো পালন করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। মুখে বা পুঁথিগতভাবে বলা হয় আদালতের নির্দেশনা মানতে রাষ্ট্রের যে কোন প্রতিষ্ঠান বা নির্বাহী ব্যক্তিত্ব বাধ্য। এটা নিশ্চিত করা হয়েছে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে। কিন্তু, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো থেকে যাচ্ছে কাগুজে বাঘ হয়েই। তখন হাইকোর্টকেও হাইকোর্ট দেখতে হয়।
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন।





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};