ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
2211
লুট হয়ে যাচ্ছে বাখরাবাদ গ্যাস
Published : Thursday, 25 July, 2019 at 12:33 PM
লুট হয়ে যাচ্ছে বাখরাবাদ গ্যাস আবুল কাশেম হৃদয় রণবীর ঘোষ কিংকর।। লুট হয়ে যাচ্ছে বাখরাবাদের গ্যাস। লুটেরারা বাখরাবাদের প্রধান গ্যাস পাইপ লাইন কেটে গ্যাস লুটে নিচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকেই ঘটছে এ ঘটনা। ঘটছে সবার চোখের সামনেই। বাখরাবাদের তথ্য অনুযায়ি প্রতিমাসে অন্তত ১০০ কোটি টাকার গ্যাস লুট হচ্ছে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের অসাধু-দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, কর্মচারী-ঠিকাদারদের যোগসাজশে চলছে এই লুটের কারবার। যখন তখন যেখানে খুশি গ্যাসের লাইন কেটে বাসা বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে গ্রামের পর গ্রামে। এই লুটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শুধু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। অথচ এর মধ্যেই বছরের বছর লুট হয়ে গেছে বাখরাবাদের গ্যাস। লুট এমন এক পর্যায়ে পৌঁচেছে যে শুধুমাত্র কুমিল্লা জেলার ৪৭টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে ১৬টিতে বছরের পর বছর প্রকাশ্যেই অবৈধ সংযোগ দিয়ে গ্যাস লুটে নেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় প্রধান লাইন থেকে গ্যাস লাইন নিয়ে বছরের পর বছর লুটে নেওয়া হচ্ছে গ্যাস। শুধু কুমিল্লার বুড়িচংয়ে একটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে ৩ হাজার আবাসিক গ্যাস সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে লুটে নিয়েছে ২৫ লাখ টাকার গ্যাস। ৫ বছর ধরে চলা এই গ্যাস সংযোগ থেকে লুটে নেওয়া হয়েছে ১৫ কোটি টাকার গ্যাস। অথচ গ্রাহকরা বাখরাবাদের গ্যাস বিল বইয়ে প্রতিমাসে নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেছেন। অথচ এই টাকা যায় নি সরকারের কোষাগারে। ডিমান্ড নোট ও মোটা অঙ্কের টাকার তো হদিসই নেই।

জানা গেছে, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের আওতাধীন ৫টি জেলায় অন্তত ২ লাখ অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। যা থেকে প্রতিমাসে ১৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করার কথা। ১৬টি অবৈধ সিএনজি স্টেশন থেকে প্রতিমাসে ১০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সবই হয়ে গেছে লুট। অসাধুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বলতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন আর চাকুরিতে বরখাস্ত এটুকুই। কিন্তু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এক সপ্তাহ পর আবার সে সংযোগ চালু হয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার বুড়িচংয়ের ষোলনল ইউনিয়নে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের প্রধান গ্যাস সরবরাহ লাইন ১৫০ পিএস্আই পাইপ থেকে লাইন নিয়ে ২১টি গ্রামে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের কর্মকর্তাদের মতে এই লাইন থেকে গ্যাস আবাসিক এলাকায় নেওয়া মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। কোন কারণে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পেলেই তা বিষ্ফোরিত হবে। আর বিষ্ফোরিত হলে যা ঘটবে তা কল্পনাও করা যায় না। অথচ এই লাইন কেটে গ্যাস নেওয়া হয়েছে। সংযোগ দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩ শ টি।

জানা গেছে, এই ৩ হাজার ৩ শ টি আবাসিক অবৈধ সংযোগ গ্রহণকারীরা ডিমান্ড নোট জমা দিয়েছেন। সংযোগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছেন। এ সংযোগ নিয়ে প্রতিমাসে রূপালী ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে মাসিক বিল জমা দিচ্ছেন। শুধু এই একটি অবৈধ সংযোগ এলাকা থেকে কথিত ব্যাংকে জমা হয় প্রতিমাসে ২৮ লাখ টাকা। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে এই তিন হাজার ৩ শ গ্রাহকের মধ্যে সাড়ে ৮ শ গ্রাহকের গ্রাহক নাম্বারসহ বাখরাবাদের গ্যাস বিল জমা দেওয়ার বই রয়েছে। তারা ব্যাংকে মাসিক বিল জমা দেন। সে অনুযায়ী ব্যাংকে মাসে ৭ লাখ ২২ হাজার ৫ শ টাকা জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লি: এর ডিজিএম মো. হেলাল উদ্দিন সিকদার জানান, এই টাকা বাখরাবাদের কোন একাউন্টে জমা হয় না। সরকারও এ টাকা পায় না। তিনি বলেন, যে দেশে জাল টাকা তৈরি হয় সে দেশে গ্যাস জাল বই তৈরি করা কোন কঠিন কাজ নয়। দালাল ও কুচক্রি মহল নিজেরাই বিল বই তৈরি করে গ্রাহকদের প্রতারিত করছেন। আর গ্রাহকরা যে বিল জমা দিচ্ছেন সেই বিল আমাদের কোম্পানীতে জমা হয় না।

জানা গেছে, প্রতিটি বিল বইতে রয়েছে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সীল। তাহলে এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে যারা লুটে নিলো বাখরাবাদের গ্যাস তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যাবস্থা নেওয়া হলো। উত্তর হলো শুধু সংযোগ বিচ্ছিন্ন। কিন্তু বাখরাবাদের কর্মকর্তারা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর কয়েক দিন পর আবার সে সংযোগ চালু হয়ে যায়। কিন্তু কিভাবে ? সেটি বড় প্রশ্ন। কারণ ১৫০ পিএসআই চাপের প্রধান লাইন কি সাধারণ মানুষ কেটে লাইন নিতে পারে? উত্তর হলো- পারে না।
জানা গেছে, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর অসাধু- দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী ও অসাধু ঠিকাদাররা যোগসাজসে এই প্রধান লাইন কেটে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি করছে লুটে নিচ্ছে অর্থ। অল্প সময়ের মধ্যে হয়ে যাচ্ছে অগাদ সম্পদের মালিক। তারা আবার রয়েছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়।

জানা গেছে, শুধু কুমিল্লা বুড়িচংয়ের লাইনটি অন্তত চারবার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিন পর আবার সংযোগ দিয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই চলে গেছে ৫ বছর। এই পাঁচ বছরে ব্যাংকে জমা হয়েছে ৪ কোটি ৩৩ লাখ। আর যদি ৩ হাজার ৩ শ গ্রাহকের হিসাব হয় তাহলে লুট হয়েছে ১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার গ্যাস। স্থানীয়দের অভিযোগ এই লাইন নিতে তারা লেনদেন করেছেন ২ কোটি টাকা। যারা নিয়েছেন তারা বাখরাবাদের শীর্ষ পদে অসিন আছেন।

কুমিল্লায় অবৈধ গ্যাসের ছড়াছড়ি নতুন নয়। দীর্ঘ বছরের পর বছর অবৈধ গ্যাস লাইনে চলছেন অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লি: এর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নির্মিত ওই অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই এখন ঘুড়ে দাড়িয়েছেন!

ঠিকদার ও দালালদের সাথে আঁত আঁত করে ডিমান্ড নোট জমাসহ বিল বই প্রদান করলেও এখন তার দায় নিতে চায় না কেউ। আর হাজার হাজার টাকা দিয়ে গ্যাস লাইন নিয়ে বই সংগ্রহ করে মাসে মাসে গ্যাসের বিল পরিশোধ করার পরও যখন অবৈধ দাবী করে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় তখন বৈধ গ্রাহকরাও নিরুপায় হয়ে পড়েন।

আবার অনেক অবৈধ লাইনে রয়েছে বৈধ গ্রাহক! ওই গ্রাহকরা ডিমান্ড নোট জমা এবং বিল বই পাওয়ার পর প্রতি মাসে দিয়ে আসছেন গ্যাস বিল। কিন্তু ওই বিলও নাকি অফিসে জমা হয়না এমটাই দাবী বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে বাখরাবাদে অন্তত ২ লাখ ৫ হাজার বৈধ গ্রাহক রয়েছে। আর অবৈধ গ্রাহক রয়েছে দুই লাখ। এই অবৈধ গ্রাহকরা প্রতিমাসে ১৭০ কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহার করছেন। আর এ টাকা লুটে নিচ্ছেন বাখরাবাদের অসাধু কর্মকর্তা,কর্মচারী ও ঠিকাদাররা।

জেলার চান্দিনা ও দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। গ্যাস সংযোগ দাতা শাহজাহানের তথ্যমতে, ‘বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানীর লোকজনের সাথে আলোচনা ছাড়া কাজ করা যায় না। তাদেরকে ম্যানেজ করেই সব কাজ করেছি।
বাখরাবাদ জানায়, গ্যাস গ্রাহকদের বিল বই পাওয়ার আগে ডিমান্ড নোট জমা সহ অফিসিয়াল সকল কাগজপত্র ২২ টি স্থানে অনুমোদনের পর মিলে বিল বই। প্রতি মাসে সরকারি নির্ধারিত গ্যাস বিল পরিশোধও করে আসছে গ্রাহকরাও। কিন্তু বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লি: কর্তৃক ইস্যুকৃত বিল বই থাকা সত্বেও ওই সব বিল বই জাল টাকার সামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে, অভিযানে লাইন উচ্ছেদ করার পাশাপাশি ঠিকদারী প্রতিষ্ঠান বা দালালদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন ডিজিএম মো. হেলাল উদ্দিন সিকদার জানান, আমরা ঠিকদারী প্রতিষ্ঠান বা দালালদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। যেমন চান্দিনাতে যে অবৈধ লাইন উচ্ছেদ করা হয়েছে ওই লাইন কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান করেনি। শাহজাহান নামে এক লোক ওই অবৈধ লাইন নির্মাণ করায় তার বিরুদ্ধে গ্যাস আইনে আমরা থানায় মামলা করেছি।

অবৈধ লাইনের গ্রাহকরা বিল বই কোথায় পায় এমন প্রশ্নে বাখারাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লি: এর ম্যানেজার কিশোর কুমার দত্ত জানান, বিষয়টি আমি দেখি না। ওই সব বিষয় দেখেন ডিজিএম রাজস্ব বিভাগ।

ম্যানেজার (রাজস্ব বিভাগ) বায়জিদ বাবু জানান, গ্যাস লাইনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেগুলো ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কোন বইতে কে স্বাক্ষর করে তা সঠিক ভাবে বলতে পারছি না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নিমসার, কোরপাই এলাকায় এক হাজার গ্যাস সংযোগ, চান্দিনার মাধাইয়া, দেবীদ্বারের ভানী ইউনিয়ন, হোমনার গঙ্গারচর, ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বাখরাবাদ। কিন্তু রয়ে গেছে অবৈধ অন্তত দুই লাখ সংযোগ। এমন সংখ্যক অবৈধ শুধু কুমিল্লার নয়। বাখরাবাদের আওতাধীন জেলা চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষিপুরেও আছে। 

সাম্পতিককালে বাখরাবাদ গ্যাস লুটের চিত্র ফুটে উঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিশেষ অভিযান চলার পর। দেখা যায় কুমিল্লার ৪৭টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ১৬টি স্টেশনে বাখরাবাদের গ্যাস বিক্রি করে  লুট করে নেওয়া হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে মাত্র ২ মাসের সাঁড়াশি অভিযানে ১৬টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ২টি অভিজাত হোটেলের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজরা অতি অল্প সময়ে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তুললেও ব্যবস্থা নেয়া হয় নি কারও বিরুদ্ধে। শুধু দুই একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ এই ২৬টি ফিলিং স্টেশন প্রতি মাসে লুটে নিয়েছে ১০ কোটি টাকার গ্যাস। এই ২৬টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর প্রতিমাসে রাজস্ব আয় বেড়েছে ১০ কোটি টাকা।

(এই সংবাদে দুনীর্তিবাজ কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ঠিকাদারদের নাম সংবাদের স্বচ্ছতার জন্য প্রকাশ করা হলো না-বার্তা সম্পাদক)






© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};