ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
853
কুমিল্লার আদালতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা
Published : Wednesday, 17 July, 2019 at 1:47 PM
কুমিল্লার আদালতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তানিজস্ব প্রতিবেদক ।। কুমিল্লার আদালতের খাস কামরায় ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আদালতে প্রবেশের সময় সন্দেহভাজনদের শরীর ও ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে। তবে পুলিশ সুপার বলছেন নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে আইনজীবীদের তল্লাশি করতে হবে। এ জন্য নিতে হবে যৌথ সিদ্ধান্ত। এ দিকে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ঘাতক হাসান ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়ে আদালতে ফারুককে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। স্বীকারোক্তি দেওয়ায় হাসানের রিমা- চাওয়া হয় নি। আদালত হাসানকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাসান জানায়, তার নানা হাজী আবদুল করিমকে হত্যার ঘটনায় সে ও তার তিনভাই আসামি। নিহত ফারুকের কারণেই তারা অকারণে আসামী হয়েছে। আর ফারুকের বাবা পলাতক থাকায় মামলাটি শেষ হচ্ছিল না। এ কারণে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।  হাজী আবদুল করিম ছিল নিহত ফারুকের দাদা। তিনি ৫টি বিয়ে করেছিলেন। তার এই বহু পরিবারের মধ্যেই দ্বন্দ্বের জেরে হাজী করিম নিহত হন।

অপর দিকে আদালতে হত্যা মামলার আসামি ফারুকের ঘাতক হাসানের মা ও নিহত ফারুকের মা দাবি করেছেন পূর্বে খুন হওয়া হাজী আবদুল করিমের সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য তার ছেলে মমিন এসব ঘটনার নেপথ্যে।   

কুমিল্লার আদালতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা২০১৩ সালের ২৬ আগষ্ট কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের কান্দি গ্রামে সম্পত্তি বিরোধের জেরে নিজ ছেলে ও নাতীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন হাজ্বী আব্দুল করিম। ওইদিনই নিহত আব্দুল করিমের স্ত্রী সাফিয়া বেগম বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামী করে মনোহরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। সে মামলাটির বর্তমানে কুমিল্লার ৩য় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারকাজ চলছিল।

সরেজমিনে কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গন নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ঢাকা ছিলো। প্রবেশের শুরুতেই ফটকে প্রথম দফা তল্লাশি করা হয়। এজলাসে ঢুকার আগে তল্লাশি করা হয় পুনরায়। আদালত প্রাঙ্গনে কাউকে সন্দেহ হলে তাকে এবং প্রত্যেকের ব্যাগও তল্লাশি করতে দেখা হয়। তবে এ তল্লাশির বাইরে ছিলেন বিচারক ও আইনজীবীরা। সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে তাঁদের তল্লাশির বাইরে রাখা হয়।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় কুমিল্লার আদালত আবারো পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, কুমিল্লা আদালতে যথাযথ নিরাপত্তায় অন্তত সাড়ে ৩শ পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন। অথচ আদালতে বর্তমানে নিরাপত্তায় কাজ করছেন মাত্রা ৭৩ জন পুলিশ সদস্য। তিনি আরো জানান, কুমিল্লায় ২ হাজার ৫ শ ৪৫ জনের নিরাপত্তায় কাজ করেন মাত্র ১ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। পুলিশ সদস্যের এমন স্বল্পতার কারণেই আদালতের নিরাপত্তায় মাত্র ৭৩ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। তবে বিচারকের খাস কামরায় এক আসামির ছুরিকাঘাতে অপর আসামী খুনের ঘটনার পর আদালতে নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এসময় আদালতের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনার পর আমরা প্রতিটি গেইটে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছি। উকিল এবং জজদের বাইরে যে সব সাধারণ মানুষ আদালতের প্রবেশ করছেন তাদের চেক করে প্রবেশ করাচ্ছি। এর পাশাপাশি যে ২৫টি ক্রিমিনাল কোর্ট আছে তার গেইটের সামনে অস্ত্রসহ ফোর্স দিয়েছি। তারা আসামিদের চেক করে ভিতরে প্রবেশ করাচ্ছে এবং এজলাসের ভিতরেও আমরা নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। সব মিলিয়ে আদালতে এখন সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই নিরাপত্তাকে কিভাবে সবসময়ের জন্য করা যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। কুমিল্লার এ আদালতে যথাযথ নিরাপত্তার জন্য কয়েকশ ফোর্স দরকার কিন্তু আমাদের আছে মাত্র ৭৩ জন। এ বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখছি এবং আমরা শীঘ্রই সম্মানিত বিচারক এবং আইনজীবীদের সাথে মিটিং করে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করবো।

এ দিকে কুমিল্লার ৩য় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের খাস কামরায় খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশকে। মামলাটির তদন্ত করছেন পরিদর্শক প্রদীপ মন্ডল। তিনি জানান, কুমিল্লার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দিনের আদালতে গ্রেপ্তারকৃত হাসানকে সোপর্দ করা হয়। বিজ্ঞ বিচারকের কাছে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে আদালতে ফারুককে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

পরিদর্শক প্রদীপ মন্ডল জানান, ছুরিটি হাসান কুমিল্লার লাকসামে যে বাড়িতে থাকে সে বাড়ি থেকে সাথে করে নিয়ে এসেছে।
জানা গেছে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাসান জানিয়েছে তার নানা হাজী আবদুল করিমকে হত্যার ঘটনায় সে ও তার তিনভাই আসামি। নিহত ফারুকের কারণেই তারা অকারণে আসামী হয়েছে। আর ফারুকের বাবাও এ মামলার আসামি। সে পলাতক থাকায় মামলাটি শেষ হচ্ছিল না। এ কারণে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে নিহত হাজী আবদুল করিম ৫টি বিয়ে করেন। তার সন্তান ও নাতিদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে  তাকে হত্যার ঘটনা ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বোসপাড়া নতুনবাজার কান্দি হাজী বাড়ির নিহত ফারুকের মা ও অহিদুল্লার স্ত্রীর পারভীন এবং গ্রেপ্তারকৃত হাসান মা ও শহিদুল্লার স্ত্রী নয়ন বেগম জানান, হাজী আবদুল করিমকে হত্যার নেপথ্যে তার আরেক সংসারের ছেলে মমিন। মমিনকে গ্রেপ্তার করলে সব জানা যাবে। মমিনের ষড়যন্ত্রে হাসান ফারুককে হত্যা করছে। তার ষড়যন্ত্রেই হাসান আসামী।

কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম জানান, কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে তিন তলায় অবস্থিত। ওই আদালতে আসামি হত্যার ঘটনায় রক্তের দাগ এবং কিছু আলামত রয়েছে। যে কারণে ওই আদালতটি একই ভবনের নিচ তলায় সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়ে যথারীতি বিচার কাজ চলছে। এছাড়া মামলা হওয়ায় পুলিশের তদন্ত কাজও চলছে। তবে ওই ঘটনায় আইনজীবী ও বিচার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক কেটে গেছে। পুলিশি নিরাপত্তা আদালতে জোরদার করা হয়েছে।  





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};