ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
620
লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি
বন্যা মোকাবিলায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য বরাদ্দ
Published : Sunday, 14 July, 2019 at 1:52 PM
বন্যা মোকাবিলায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য বরাদ্দমৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নামা ঢলে দেশের নদ-নদীগুলোর পানি ক্রমেই বেড়ে চলছে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দেশের ৬৪টি জেলায় অতিবৃষ্টি-সৃষ্ট বন্যা মোকাবিলায় ১৭ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও দুই কোটি ৯৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছয়টি নদী ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুলাই) ২৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত দশ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এতে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তলিয়ে গেছে ফসল, গ্রামীণ সড়ক। বন্ধ হয়ে গেছে তিন শতাধিক বিদ্যালয়। এরই মধ্যে দুর্গতদের জন্য ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দুর্যোগ সম্পর্কিত তথ্যসেবার জন্য ১০৯০-তে ফোন করে সমুদ্রগামী জেলে, নদীবন্দরগুলোর সতর্ক বার্তা, দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার বিশেষ সতর্ক বার্তা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়। নম্বরটি টোল-ফ্রি।

শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সেবা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) থেকে সারাদেশে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি ১৫ জুলাই পর্যন্ত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় বন্যামোকাবিলায় ১৭ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও দুই কোটি ৯৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৬২৮টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এরমধ্যে ২৬টি পয়েন্ট অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে ৫২১টি পয়েন্টকে ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যা-উপদ্রুত জেলাগুলোতে প্রথমে ২০০ মেট্রিক টন এবং পরে ৩০০ মেট্রিক টন খাবার পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।

এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকরা মাঠপর্যায়ে ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো অর্ডিনেশন সেন্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আগামী সোমবার (১৫ জুলাই) পর্যন্ত দেশের প্রধান নদ-নদীতে পানির সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। আর রোরবার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত যমুনা নদীর জামালপুরের বাহাদুরাবাদ পয়েন্ট বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। সোমবার (১৫ জুলাই) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত থাকলেও মাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম: গত ৫ জুলাই থেকে অবিরাম ভারী বর্ষণে সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতি, জলাবদ্ধতা, পাহাইড় ঢলের কারণে এই পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ৬টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের ৫৭৫টি পরিবারকে ৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ ওবং রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা এবং ৫৭৫ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অবিরাম বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে রাংগুনিয়া, পটিয়া, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই ও চন্দনাইশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বিপুল সংখ্যক পরিবার পানিবন্দি ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ পরিবারের মধ্যে জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে ১২৯ মে.টন জিআর চাল, ৫০ হাজার টাকা এবং ২৮৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার: গত ১০ জুলাই থেকে কক্সবাজার সৈকত সংলগ্ন হোটেল সি গাল পয়েন্ট স্থানে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগর ও চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের দক্ষিণচর নাজিম উদ্দিন গ্রামের ওয়াজ উদ্দিন পিঠারের নৌকা হতে ৭ জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। গভীর সমুদ্রে ট্রলার ডুবে এ সব ব্যক্তি মারা গেছেন। আর ২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিতদের মধ্যে নৌকার মাঝি মনির ও তার ছেলে জুয়েল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গত কয়েকদিনের অতি বৃষ্টির কারণে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, চকরিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, কুতুবদিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন, মহেশখালী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং টেকনাফ উপজেলার ২টি ইউনিয়নের আংশিক প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়া পেকুয়া উপজেলার ৪ হাজার পরিবারের ও কুতুবদিয়া উপজেলার ১ হাজার ৮৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রামু উপজেলায় ১০ মে. টন জিআর চাল, চকোরিয়া ৪০ মে. টন জিআর চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, পেকুয়া উপজেলায় ২০ মে. টন জিআর চাল ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, কুতুবদিয়া উপজেলায় ৩৭ মে. টন জিআর চাল ও দেড় হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, মহেশখালী উপজেলায় ৩০ মে. টন জিআর চাল ও এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং টেকনাফ উপজেলায় ৫ মে. টন জিআর চাল ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাঙ্গামাটি: হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বর্ষণ অব্যাহত আছে। পাহাড় ধসসহ যে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। ৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২০০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে।

কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কলাবাগান নামক স্থানে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের মেরামত কার্যক্রম চলছে। রাংগামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু কিছু ভূমি ধসের ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি জেলায় বন্যা ও পাহাড় ধসে সদর উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রামে ১৯ হাজার, পানছড়ি উপজেলায় ৩টি ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের ১১শ জন এবং দিঘিনালা উপজেলায় ৫টি ইউনিয়নের ৬৮টি গ্রামের ২০ হাজার ১১০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দিঘিনালা উপজলোয় ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২২৫টি পরিবারের ১০৮২ জন লোক অবস্থান করছে এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত লোকজন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে।

ফেনী: মৌসুমী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী নদীর বাঁধের ৪টি স্থানে এবং পরশুরাম উপেজেলার মুহুরী ও কহুয়া নদীর ৬টি স্থানে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী পরশুরাম উপজেলার ১৮৯৫টি পরিবার ও ফুলগাজী উপজেলার ৬০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

সিলেট: জেলার নদ-নদীগুলোর পানি ৭টি পয়েন্টের মধ্যে ৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার সামান্য ওপরে এবং ৪টি পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত না থাকে তাহলে বন্যার আশঙ্কা কম। তবে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বিগত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে রাস্তাঘাটগুলো পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ:অতিবৃষ্টি ও পাহাড় থেকে আসা পানি তোড়ে অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার জামালগঞ্জ, শাল্লা, ধর্মপাশা, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাটে পানি উঠেছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ২ হাজার ৯৫০টি পরিবার, তাহিরপুর উপজেলার ৪ হাজার ১০০টি পরিবার, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ১ হাজার ৪০০টি পরিবার, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২ হাজার ৮৫০টি পরিবার এবং জামালগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৮০০টি পরিবার বন্যা আক্রান্ত হয়েছে। বন্যায় আক্রান্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য ৩০০ মে. টন জিআর চাল ও ৩ (তিন) লাখ জিআর ক্যাশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোণা: বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কলমাকান্দা উপজেলার একটি গ্রামীণ সড়কে অবস্থিত ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোড ভেঙে গেছে। নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় পানিবন্দি দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে ২০ মে. টন জিআর চাল ও ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট :তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা বরাবর অবস্থান করছে। জেলার ৫টি উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে।

নীলফামারী:নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নদী তীরবর্তী ৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য ডিমলা উপজেলারর জন্য ৫০ মে. টন জিআর চাল, ৫০ হাজার জিআর টাকা ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জামালপুর : যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক বাড়তে থাকায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারি বৃষ্টিপাত ও ওজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোতে দেওয়ানগঞ্জ পৌর এলাকা এবং আটটি ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ২০ হাজার পরিবার।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল থেকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড আজ শনিবার বিকেল ৩টায় দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে বলে রেকর্ড করেছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার প্রায় ৩ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পঞ্চগড় : কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে আসা পানিতে পঞ্চগড়ের তালমা রাবার ড্যামের রাবারের ছিদ্র দিয়ে পানি প্রবেশ করে আপনা আপনি রাবারটি ফুলে গেছে। এমনকি অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে ফুলতে চৌদ্দ ফুট পর্যন্ত ফুলে গেছে। এতে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উজানে থাকা এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

চা বাগানসহ ফসলের ক্ষেতে ঢুকেছে পানি। এই অবস্থা চলতে থাকলে উজানের ১০টি গ্রামের ২ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সাথে চা বাগানসহ প্রায় ২’শ একর জমির ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ধুনট (বগুড়া) : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা পাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর পানি ১৬.৭০ সেন্টিমিটার বিপদসীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি বাড়ছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যমুনার পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে নদীর কূল উপচে পানি চরাঞ্চল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে আসছে। নদীর পূর্বতীর ডুবে পুকুরিয়া, নিউসারিয়াকান্দি, বৈশাখী ও রাধানগর চরের আবাদি জমিতে পানি প্রবেশ করছে।





© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};