ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
666
মুরাদনগরে প্রধান শিক্ষক যখন দপ্তরী!
Published : Friday, 12 October, 2018 at 12:00 AM, Update: 12.10.2018 1:39:02 AM
মুরাদনগরে প্রধান শিক্ষক যখন দপ্তরী!মো. হাবিবুর রহমান :
সকাল ১০টায় ঢুকতেই চোখে পড়লো একজন ভদ্রলোক ঘন্টা বাজাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ঘন্টার শব্দ শুনে ক্লাস রুমে ঢুকছে। কিন্তু চোখে পরছেনা কোন শিক্ষক। অপর দিকে যিনি স্কুলের ঘন্টা বাজাচ্ছে তাকে দপ্তরীর মতো মনে হচ্ছেনা। মূহুর্তের মধ্যে মনে অনেক প্রশ্ন তৈরী হলো। স্কুলের ঘন্টা দপ্তরী বাজাবে সেটাই স্বাভাবিক আর শিক্ষক আছে হয়তো চোখে পরছে না। তাই মনে কোন প্রকার দ্বিধা না রেখে, ঘন্টা হাতে ব্যাক্তির কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম আপনাদের প্রধান শিক্ষক কোথায়? লোকটি বললো আমার সাথে আসেন, তিনি অফিস রুমে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে বললেন জি আমি প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন। এমনই ঘটনা ঘটছে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, বিদ্যালয় বিহীন এলাকায় বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ বিদ্যালটি স্থাপন করা হয়। কোন সহকারী শিক্ষক ও দপ্তরী না থাকায় বিদ্যালয়টি যে কারনে স্থপন করা হয়েছে তার কিছুই হচ্ছে না। আমি নিজেই পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক ও দপ্তরীর কাজসহ স্কুলের সকল কাজ করতে হচ্ছে। প্রায় সময় দাপ্তরিক কাজে আমাকে উপজেলা সদরে সময় দিতে হয়। তখন বিদ্যালটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। এতে করে স্কুলটিতে থাকা প্রায় তিন শতাধীক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, আমি কি প্রধান শিক্ষকের কাজ করব, নাকি সহকারী শিক্ষকের ক্লাস নিব? নাকি দপ্তরী হয়ে স্কুলের ঘন্টা বাজাবো? অভিভাবকরাও প্রতিদিন শিক্ষক আনার জন্য আমাকে চাপ দিচ্ছে।
তেমনি রয়েছে শ্রীকাইল ইউনিয়নের চুলুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থা। একটি মাত্র ক্লাস রুম নিয়ে চলে সেখানকার পাঠদান। কেবল ওই বিদ্যালয় গুলোতে নয়, উপজেলার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষকের সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। শিক্ষক সংকট প্রকট হওয়া ১৭টি বিদ্যালয়গুলোতে ৭৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অর্ধশত পদ শূণ্য রয়েছে। বর্তমান সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মোট জনসংখ্যার শতভাগ প্রাইমারী শিক্ষা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে কাজ করলেও সব দিকে পিছিয়ে রয়েছে এ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো। পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজে বেশি সময় দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। একটি ক্লাসে শিক্ষক গেলে অন্য ক্লাসগুলো থাকে ফাঁকা। এতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম চরম ভাবে বিঘিœত হচ্ছে। সন্তানদের স্কুলে পাঠালেও ক্লাস না হওয়ায় সামনে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবকরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চুলুড়িয়া বিদ্যালয় ও কদমতলী বিদ্যালয়ে চারটি করে সহকারী শিক্ষকের পদ থাকলেও সবকটিই শূণ্য। ভাঙ্গানগর বিদ্যালয়ে চারটি সহকারী শিক্ষকের পদ থাকলেও আছে মাত্র একজন, কাজিয়াতল দক্ষিন বিদ্যালয়ে আটটি সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে আছে দুইজন, কৈজুরী বিদ্যালয়ে সাতটি সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে আছে দুইজন, সাহেবনগর বিদ্যালয়ে চারটি সহকারী শিক্ষকের পদে আছে দুইজন, নোয়াকান্দি বিদ্যালয়ে চারটি সহকারী শিক্ষকের পদে আছে দুইজন, দৌলতপুর বিদ্যালয়ে চারটি সহকারী শিক্ষকের পদে আছে দুইজন, আন্দিকুট বিদ্যালয়ে নয়টি সহকারী শিক্ষকের পদে আছে ছয়জন, পাহাড়পুর বিদ্যালয়ে আটটি সহকারী শিক্ষকের পদে আছে চারজন, কুরুন্ডি বিদ্যালয়ে চারটি সহকারী শিক্ষকের পদে আছে দুইজন, আলীরচর বিদ্যালয়ে চারটি সহকারী শিক্ষকের পদে আছে তিনজন, লক্ষীপুর বিদ্যালয়ে চারটি সহকারী শিক্ষকের পদে আছে তিনজন ও নোয়াগাঁও বিদ্যালয়ে পাঁচটি সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে রয়েছে চারজন সহকারী শিক্ষক।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকলেও শিক্ষা অফিস কোন প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক অর্থবান অভিভাবক তাদের সন্তানদের উপজেলা সদরে নিয়ে পড়া লেখা করাচ্ছে। অপরদিকে নি¤œ শ্রেনির অভিভাকরা তাদের সন্তানদের লেখা পড়া বন্ধ করে দিয়ে কাজে পাঠাচ্ছে।
কদমতলি স্কুলের মুজাহিদুল হাসান ও আলীনূর আক্তার দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছাড়া আর কোন শিক্ষক নেই। তিনি অফিসের কাজ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণির সকল পাঠদান করতে হয়। তাই এটি শুধু নামে মাত্র স্কুল। স্কুলটি পরিচালনা করতে যেমন প্রধান শিক্ষকের হিমশিমে পড়তে হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের কোন প্রকার লেখা-পড়া হচ্ছে না।
কৈজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে ৫২৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পড়াতে অন্তত ১০ জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও আছে মাত্র দুইজন। বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে আমি যখন ব্যাস্ত থাকি ওই সময় দুইজন শিক্ষককে একসঙ্গে তিনটি শ্রেণিতে পড়াতে হয়।
বিষয়টির ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও টনকি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজীউল হক চৌধুরী দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে জানান, উপজেলা সদর থেকে তুলনা মূলক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় কোনো শিক্ষকই এখানে বেশি দিন থাকে না। অপর দিকে প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সভা, প্রতিবেদন তৈরি ও দাপ্তরিক কাজে ব্যাস্ত থাকতে হয়। সহকারী শিক্ষকেরা পড়ান। প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয় গুলোতে সহকারী শিক্ষকেরা এ দায়িত্ব পালন করে। ফলে তাঁদের একসঙ্গে পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ ছাড়াও বিভিন্ন সভায় যোগ দিতে হয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।’
মুরাদনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ওই বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষকের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করি অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বিদ্যালয় গুলোতে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করব।   



Loading...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};