ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
935
দেবীদ্বার সরকারী হাসপাতালে নবজাতকের খন্ডিত অঙ্গ-পতঙ্গ ছড়িয়ে ছিটিয়ে
এলাকায় তোলপাড়, তদন্ত কমিটি গঠন
Published : Sunday, 23 September, 2018 at 6:54 PM
দেবীদ্বার সরকারী হাসপাতালে নবজাতকের খন্ডিত অঙ্গ-পতঙ্গ ছড়িয়ে ছিটিয়ে এবিএম আতিকুর রহমান বাশার ঃ দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা নবজাতকের খন্ডিত দেহের অংশ  নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। রোববার সকাল ৯টায় পথচারীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র প্রশিক্ষণ ভবনের পাশে এক নবজাতকের খন্ডিত হাত-নাড়ী-ভূড়ি সহ দেহের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রচার হলে শত শত লোকজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করতে থাকেন।

ওই ঘটনা অনুসন্ধানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহাম্মদ কবীর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মজিবুর রহমান’র সাথে যোগাযোগ করে উপজেলা কমপ্লেক্সের গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসাল্টেন্ট ডাঃ তামান্না আফতাব সোলাইমানকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মঞ্জুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ডাঃ আহসানুল হক মিলু। ওই কমিটি ৩দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শি ও রোগীর স্বজনেরা জানান, উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের রিকসা চালক সেলিম মিয়ার স্ত্রী প্রসূতী ফাতেমা বেগম(৩০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডাঃ নীলা পারভীনের তত্বাবধানে মুন ডায়গনেষ্টিক (প্রাইভেট)’র নিয়মিত রোগী ছিলেন। শনিবার বেলা দেড়টায় ওই চিকিৎসকের নিকট আসলে তিনি আলট্রাসহ নানা পরীক্ষা রিনীক্ষা করে জানান রোগীর অবস্থা ভালো নয়, ভালো কোন হাসপাতালে তার জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন। পরে রোগীর স্বজনেরা বেলা আড়াইটায় দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র ইমার্জেন্সীর দায়িত্বে থাকা ডাঃ রোমানা পারভীনের তত্বাবধানে প্রসূতীকে ভর্তী করান। রাতে দায়িত্বরত দু’জন সিনিয়র নার্স আছিয়া আক্তার ও ঝরনা বেগম এবং আয়া জেসমিন আক্তার ডলি’র নেতৃত্বে প্রসবের চেষ্টা করে নবজাতকের হাত-নারী-ভূড়ি ছিড়ে বের করে আনলেও মাথা বের করতে পারেনি। পরে বিষয়টি গোপন রেখে রাত্রীকালীন ডিাউটিরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ আহসানুল হক মিলু’র কাছ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানন্তরের কাগজে সই করিয়ে নেন। পরে ওই নার্স ও আয়াদের চেষ্টায় শিশুটির ছিন্ন ও ক্ষত-বিক্ষত দেহ প্রসব করাতে সামর্থ হলেও বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ধামা চাঁপা দেয়ার চেষ্টা চালায় কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র প্রশিক্ষণ ভবনের পাশে নবজাতকের হাত, নাড়ী-ভূড়ি পড়ে থাকায় বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়। ওই ঘটনায় প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স, আয়া সহ কেহউ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেননি। পরে দায়িত্বরত নার্স ও আয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা বেড়িয়ে আসে এবং ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

রাত্রীকালীন ডিাউটিরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ আহসানুল হক মিলু জানান, রোগীর আশংকাজনক অবস্থার কথা তাকে না জানিয়েই কর্তব্যরত নার্সরা কুমেক হাসপাতালে স্থানান্তরের কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।

একই কথা জানালেন তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান ও গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসাল্টেন্ট ডাঃ তামান্না আফতাব সোলাইমান। তিনি বলেন, তারা চিকিৎসকের সহযোগীতা ছাড়াই গোপনে ডেলিভারী করার চেষ্টা করেন, সমস্যা দেখা দেয়ার পরও চিকিৎসকদের না জানিয়ে ঘটনা ধামা চাঁপা দেয়ার চেষ্টা চালান। ৭মাসের অসপূর্ণ বাচ্চাটির জন্মগত ত্রুটি ছিল। শিশুটির ‘গ্যাসট্রো চুসিস’ ছিল, অর্থাৎ এক্ষেত্রে বাচ্চার পেটের সামনের পেশী যা ভেতরের অঙ্গকে ঢেকে রাখে তা তৈরী হয় নাই, ফলে তার নাড়ী-ভূড়ি বেড়িয়ে আসে। এছাড়া কুড়িয়ে পাওয়া খন্তিত হাতের অংশটি ও পূর্ণ নবজাতকের মনে হচ্ছে যা তদন্ত শেষ হওয়ার পূর্বে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাচ্ছেনা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডাঃ নীলা পারভীন জানান, সে তার নিয়মিত রোগী ছিল, আলট্রাসনোতে শিশুটি মৃতঃ মনে হওয়ায় রোগীর অভিভাবককে কুমেক হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছি। তবে ব্যবস্থাপত্রে রেফারের বিষয়টি উল্লেখ করিনি।

এ ব্যপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহাম্মদ কবীর বলেন, নার্সদের আয়ত্বের বাহিরে থাকার পরও ডেলিভারীর চেষ্টা করেছে, কারোর সহযোগীতা চাওয়া বা না জানিয়ে ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করেছে, যা কোন ভাবেই পেশাগত দায়িত্বে পড়েনা। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মজিবুর রহমান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবজাতকের খন্ডিত দেহের অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকার বিষয়ে বলেন, টিএইচও’কে নির্দেশ দিয়েছি তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক ৩দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে। এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম-দূর্নীতি, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।



Loading...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};