ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
746
মুরাদনগরে ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট
ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
Published : Thursday, 20 September, 2018 at 4:55 PM
মুরাদনগরে ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট# দুইটি স্কুলে নেই কোন সহকারি শিক্ষক।
# একটি স্কুলে সহকারি শিক্ষক একজন।
# ছয়টি স্কুলে সহকারি শিক্ষক দুইজন করে।


মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা ঃ কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোন সহকারি শিক্ষক। স্কুলটিতে রয়েছে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। প্রধান শিক্ষক নিজেই পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ চালাচ্ছেন। এত করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তেমনি রয়েছে চুলুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থা। আবার সেখানে একটি মাত্র কাস রোম নিয়ে চলে সেখানকার পাঠদান।

কেবল ওই বিদ্যালয় গুলোতে নয়, উপজেলার ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। এসব স্কুল গুলোতে ৭৩টি সহকারি শিক্ষকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অর্ধশতটি পদ শূণ্য রয়েছে। বর্তমান সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মোট জনসংখ্যার শতভাগ প্রাইমারী শিক্ষা নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে কাজ করলেও সব দিকে পিছিয়ে রয়েছে এ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো। পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজে বেশি সময় দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। একটি কাসে শিক্ষক গেলে অন্য কাসগুলো থাকে ফাঁকা। এতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম চরম ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সন্তানদের স্কুলে পাঠালেও কাস না হওয়ায় সামনে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিার্থীসহ অভিভাবকরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চুলুড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪টি করে সহকারি শিক্ষকের পদ থাকলেও সবকয়টিই শূণ্য রয়েছে। ভাঙ্গানগর ৪টি সহকারি পদে আছে একজন, কাজিয়াতল দক্ষিনে ৮টি সহকারি পদে আছে ২ জন, কৈজুরী ৭টি সহকারি পদে আছে ২ জন, সাহেবনগরে ৪টি সহকারি পদে আছে ২ জন, নোয়াকান্দিতে ৪টি সহকারি পদে আছে ২ জন, দৌলতপুরে ৪টি সহকারি পদে আছে ২ জন, আন্দিকুটে ৯টি সহকারি পদে আছে ৬ জন, পাহাড়পুরে ৮টি সহকারি পদে আছে ৪ জন, কুরুন্ডিতে ৪টি সহকারি পদে আছে ২ জন, আলীরচর ৪টি সহকারি পদে আছে ৩ জন, লক্ষীপুরে ৪টি সহকারি পদে আছে ৩ জন ও নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫টি সহকারি পদের মধ্যে রয়েছে ৪ জন শিক্ষক রয়েছে।
কদমতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় প্রধান শিক্ষক অফিস কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করছেন। শ্রেণি কক্ষে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা লেখা-পড়া না করে মঠে খেলাধূলা করছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকলেও শিক্ষা অফিস কোনও প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক অর্থবান অভিভাবক তাদের সন্তানদের উপজেলা সদরে নিয়েও পড়া লেখা করাচ্ছেন। অপরদিকে নিম্ন শ্রেনির অভিভাকরা তাদের সন্তানদের লেখা পড়া বন্ধ করে দিয়ে কাজে পাঠাচ্ছে।

এ সময় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুজাহিদুল হাসান ও আলীনূর আক্তার বলে, তাদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছারা আর কোন শিক্ষক নেই। তিনি অফিস কাজ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণির সকল পাঠদান কাজ করতে হয়। তাই এটি শুধু নামে মাত্র স্কুল। স্কুলটি পরিচালনা করতে যেমন প্রধান শিক্ষকের হিমশিমে পরতে হচ্ছে তেমনি শিক্ষার্থীদের কোন লেখা-পড়া হচ্ছেনা।

কদমতলি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয় বিহীন এলাকায় বিদ্যালয় নির্মান প্রকল্পে এ বিদ্যালটি স্থাপন করা হয়। কিন্তু শিক্ষক না থাকার কারনে যে কারনে বিদ্যালয়টি স্থপন করা হয়েছে তার কিছুই হচ্ছেনা। প্রায় সময় দাপ্তরিক কাজে আমাকে উপজেলা সদরে সময় দিতে হয়। তখন বিদ্যালটি অভিভাবকহিন হয়ে থাকে। এতে করে শিক্ষার্থীদের কোন শিক্ষাও দেওয়া যাচ্ছেনা। অভিভাবকরাও প্রতিদিনেই শিক্ষক আনার জন্য আমাকে চাপ দিচ্ছে।

কৈজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে ৫২৪ জন শিার্থী রয়েছে। শ্রেণিকে পড়াতে অন্তত ১০ জন শিক প্রয়োজন হলেও আছেন মাত্র দুই জন। বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে আমি যখন ব্যাস্থ থাকি ওই সময় দুইজন শিক্ষককে একসঙ্গে তিনটি শ্রেণিতে পড়াতে হয়।

ভাঙ্গানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী প্রায় দুইশ’। দুইজন সহকারি শিক্ষক থাকলেও বর্তমানে এক জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক গাজীউল হক চৌধুরী বলেন, উপজেলা সদর থেকে তুলনামূলক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় কোনো শিকই এখানে বেশি দিন থাকেন না। অপরদিকে প্রধান শিকদের মাসিক সভা, প্রতিবেদন তৈরি ও দাপ্তরিক কাজে ব্যস্থ থাকতে হয়। সহকারী শিকেরা পড়ান। প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিকেরা এ দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাঁদের একসঙ্গে পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ ছাড়াও বিভিন্ন সভায় যোগ দিতে হয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষকের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে পাঠানো হয়েছে। আশাকরি অল্প দিনের মধ্যেই বিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই বিদ্যালয়গুলো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করব।



Loading...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};