ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
1157
‘আব্বু এখন আসতে পারবো না’
Published : Friday, 20 April, 2018 at 5:56 PM
‘আব্বু
এখন আসতে পারবো না’ ‘১০ লক্ষ টাকার ঋণ আব্বুর কাঁধে আছে। কি করে আসবো। আব্বু এখন আসতে পারবো না।’ - গত দু’দিন আগে এভাবেই দেশে আসার বিষয়ে ছেলে সজিবের আবদারের জবাব দিতে গিয়ে ১৬ এপ্রিল সৌদি আরবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এমরানুল হক সোহেল এসব কথা বলেছিল। আর সন্তানদের সাথে স্বামীর এ সব কথোপকথন তুলে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সোহেলের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার।
তাহমিনা আক্তার জানান, সেদিন বা”চারা তাদের আব্বুকে দেশে আসতে বলে। কিš‘ ঋণের টাকা শোধ করে তবেই দেশে আসবেন বলে সন্তানদের আশ্বাস দিয়েছিলো তাদের বাবা এমরানুল হক সোহেল। পরে ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে হাসি মুখে বিদায় নিয়েছিলো।  কিš‘ সে বিদায়ই হয়ে গেলো শেষ বিদায়।
সৌদি আরবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মরহুম আবদুল হকের চার ছেলের মধ্যে নিহত দুই ছেলে এমরানুল হক সোহেল ও ইমামুল হক মুন্নার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এক পরিবারের দুই জনকে হারিয়ে তাদের মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারি হয়ে আছে। তাদের সান্তনা জানাতে আসা এলাকার লোকজনও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। এদিকে নিহত সোহেল ও মুন্নার মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগীতা কামনা করেছেন তাদের পরিবার ও এলাকাবাসী।
গতকাল বৃহস্পতিবার সোহেল ও মুন্নাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তাদের মা সেলিনা বেগম। কথা বলার ক্ষমতা হারিয়েছেন, ছেলে হারানোর শোকে মুর্ছা যা”েছন মা সেলিনা বেগম। ইনিয়ে বিনিয়ে বিলাপ করেই চলছেন ছোট বোন রাশেদা বেগম। ৮ বছরের একটি ছেলে সজিব এবং ২ বছরের কন্যা সন্তান মারুফাকে কোলে নিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সোহেলের সহধর্মীনী তাহমিনা আক্তার। সেই সাথে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে পুরো পরিবার এখন হতাশা আর শোক সাগরে নিমজ্জিত।
শোকে স্তব্ধ নিহত সোহেলের সহধর্মীনি তাহমিনা আক্তার জানান, গত দুদিন আগে স্বামীর সাথে কথা হয় আমার। সে বা”চাদের সাথে কথা বলে। বা”চারা তাদের আব্বুকে দেশে আসতে বললে তার আব্বু বলে, ‘১০ লক্ষ টাকার ঋণ আব্বুর কাঁধে আছে। কি করে আসব। আব্বু এখন আসতে পারবো না।’ তারপর হাসিখুশি ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে বিদায় নেন।
তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর লাশের কাছে এখনও দূতাবাসের কেউ যায় নাই। আমি সরকারের কাছে সহায়তা চাই, তিনি যেন আমার স্বামীকে দেশে আনার ব্যব¯’া করেন। আমার স্বামীর মুখ আমি শেষবারের মত যেন দেখতে পাই।
এক পাশে ইনিয়ে বিনিয়ে বিলাপ করে চলেছেন নিহত সোহেল ও মুন্নার ছোট বোন রাশেদা বেগম। তিনি বলেন, আমার ভাইদের টাকায় এই সংসার চলতো। প্রতি মাসে ভাইয়েরা টাকা পাঠালে কিস্তির টাকা পরিশোধ করে। ২০ হাজার টাকা করে কিস্তি দিতে হয় মাসে। ভাইয়েরা তো আমরারেও সহায়তা করছে। এখন তো আমার দুই ভাই আর পৃথিবীতে নাই। এখন এই সংসার কে চালাইবো, আমার মাকে কে দেইখ্যা রাখবো। এখন কে দেখবো আমাদের?
নিহতদের ভাই একরামুল হক ফয়সাল জানান, আমার বড় ভাই সোহেল সে গত ১৬ বছর ধরে সৌদি আরবে আছে। আমার ভাইয়ের লাশের কাছে এখনও বাংলাদেশ দূতাবাসের কেউ যায়নি। সেখানকার মানুষজন বলছে ৪ লক্ষ টাকা দিলে আমার ভাইয়ের লাশ পাঠাবে। কিš‘ আমাদের কাঁধে অনেক টাকার ঋণ। আমরা এত টাকা কই পামু। দুই ভাইরে হারাইছি। সরকারের কাছে অনুরোধ আমার ভাইদের যেন দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যব¯’া করেন। 
এদিকে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে এলাকায় বইছে শোকের মাতম। পরিবারের সাথে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসীও। এলাকার প্রবীণ আরিফুর রহমান জানান, এই পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। কষ্ট করে তারা তিন ভাই দেশে গেছে। এর মধ্যে দুই ভাই মারা গেল। স্বজন হারানোর কষ্ট তাদের যেমন এখন বড় একটা ঋণের বোঝাও আছে। তাদের সব ভাইবোনেরা স্বভাবে অমায়িক ছিল আমরা এলাকাবাসি তাদের খবর শুনে বিশ্বাসই করতে পারছি না। এখন মসজিদে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দোয়া পড়া”িছ। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আর সরকারের কাছে আবেদন সরকার যেন এই পরিবারটিকে সহায়তা করেন। দুই ছেলের লাশ যেন দেশে আনার ব্যপারে সকল ব্যব¯’া নেন এবং পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তাও করেন।
জানা যায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মরহুম আবদুল হকের চার ছেলে দুই মেয়ে। এর মধ্যে বড় ছেলে এমরানুল হক সোহেল (৩৪) ও ছোট ছেলে ইমামুল হক মুন্না (২২) সৌদি আরবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। বাকি মেঝ ছেলে এমরামুল হক ফয়সাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন। সেঝ ছেলে এমরানুল হক সোহাগ সৌদী আরবে থাকেন। নিহত সোহাগের সজিব নামের ৮ বছরের এক ছেলে ও মারুফা নামের ২ বছরের এক মেয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, দুই সহোদর এমরানুল হক মুন্না ও ইমামুল সোহেলসহ নিহত ৭ বাংলাদেশী সৌদি আরবের হোলাইফা শহর এলাকায় চাকরি করতেন। ১৭ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতের খাবার শেষে তারাসহ একই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন সাতজন। বুধবার ভোরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে ওই কক্ষের ৭ জনই প্রাণ হারান। নিহত অপর তিনজনের মধ্যে ২ জনের বাড়ি নোয়াখালী ও একজনের বাড়ি ফেনী বলে জানা গেছে।



Loading...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};