ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
63
বইয়ের আস্তানায় স্বাগত
Published : Monday, 12 February, 2018 at 12:00 AM
জুবায়ের ইবনে কামাল ||
দলবল মিলে খানিকটা গল্পগুজব করে পড়া যায় না গুরুগম্ভীর কোনো পরিবেশে। বই নিয়ে যারা একটু মেতে থাকতে পছন্দ করো, তাদের জন্য আছে বিশেষ কিছু আস্তানা। পাড়ার সুমন ভাই বেশ শৌখিন। কাজকর্ম না করলেও তাঁকে আপাতত বেকার বলা যাচ্ছে না। কারণ তিনি বই পড়েন। দেশ-বিদেশের হরেক বইয়ের কালেকশন তাঁর বুকশেলফে। প্রায়ই বলেন, বইগুলো নাকি তাঁকে ডাকে, রীতিমতো ধমকায়ও ‘পড়তে আয়! পড়তে আয়!’
কিন্তু সুমন ভাই তাঁর নিজের বাসায় বই পড়ে শান্তি পান না একফোঁটা। পড়তে বসলেই এই কাজ না হয় ওই কাজের ডাক পড়ে। মাঝেমধ্যে তাঁর ইচ্ছা করে বিদেশি লেখকের ইংরেজিতে লেখা পুরনো কোনো বই পড়তে। কিন্তু হাতের কাছে নেই তা। ইতিহাস পড়তে ইচ্ছা করলে চোখের সামনে হাজির হয় ভবিষ্যতের সায়েন্স ফিকশন। বুকশেলফে শিশুতোষ বই আছে ঠিকই, কিন্তু উগান্ডার রূপকথা কোথায় পাই? মহা ঝামেলা! সুমন ভাইকে তাই সাহায্য করতেই হয়। এগিয়ে এলাম আমি আর দোলন। শুরু হলো অভিযান। এমন জায়গা খুঁজে বের করতে হবে, যেখানে বই আছে হাজার হাজার। পড়া যাবে ইচ্ছামতো। দেওয়া যাবে সিরিয়াস টাইপের আড্ডাও। পড়া শেষে মনে ধরলে বইটা কিনেও নিতে পারব। শুরু হলো অ্যাডভেঞ্চার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে যাত্রা শুরু। চারুকলা অনুষদ পার হয়ে জাতীয় জাদুঘরের আগে একটি ভবন চোখে পড়ল। ভেতরে ঢুকে দেখলাম সারি সারি বই। যেন বইয়ের ছোটখাটো একটা সাগর। সুমন ভাই জানলে নির্ঘাত বিছানাপত্তর নিয়ে হাজির হবেন। লোভ সামলাতে পারলাম না। আমি আর দোলন দুটি বই নিয়ে বসেই পড়লাম। দোলন বেশ জোরেশোরেই বলল দ্যাখ দ্যাখ, রাশিয়ান লোকগাথা! খেয়াল করলাম, দোলনের কথাটা একটু জোরেই শোনাল। কারণ, আশপাশের সবাই চুপ। সবাই আমাদের দিকে তাকাল ভ্রু কুঁচকে। পাশে বসে থাকা এক বড়ভাই ভারী গলায় বললেন, এটা পাবলিক লাইব্রেরি। চুপচাপ পড়তে হয়। ভদ্র বালকের মতো পড়া শেষ করে উঠে বের হলাম দুজন।
শাহবাগ দিয়ে সোজা হাঁটতে হাঁটতে এলাম বাংলামোটর এলাকায়। হাতের বাঁয়েই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। শুনেছি, এখানেও বই পড়া যায়। ঢুকে পড়লাম। সরু গলি দিয়ে কিছুদূর এগোতে হলো। আগে আসা হয়নি। লিফটে উঠে দেখলাম, স্কুলপড়ুয়া এক শিশুর হাতে বইয়ের ক্যাটালগ। লিফটের সপ্তম তলায় নামল ও। পিছু নিলাম তার। ঢুকেই আবার ধাক্কা। থরে থরে বই। চকচকে সব মলাট। এটার নাম ‘বাতিঘর’। দেশের ঐতিহাসিক স্থান লালবাগ কেল্লার আদলে বানানো হয়েছে এর অন্দরসজ্জা। পাঠকরা ইচ্ছামতো পড়তে পারবে এখানে। চেয়ারগুলো সাজানো হয়েছে মোগল নকশার মতো করে। হুট করে যেন অতীতে ফিরে গেলাম। বই দেখার ফাঁকে সেখানে কর্মরত কয়েকজনের কাছে জেনে নিলাম কিছু তথ্য। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে  লাধিক বই! বই পড়ার পাশাপাশি অনেককে দেখলাম চায়ে চুমুক দিচ্ছে। কফির ব্যবস্থাও আছে দেখছি। তবে বইয়ের চেয়ে বড় খাবার আর কী আছে! তাই চা, কফি আর বিস্কুটই যথেষ্ট মনে হলো।
দুপুর গড়িয়েছে। ভাবলাম, ধানম-ি গিয়ে ভালোমন্দ কিছু খাওয়া যাবে। তা আর হলো না! ধানম-ি গিয়ে চোখ আটকে গেল আরেকটি ভবনে। এটাও বই গেলার জায়গা, মানে বুক ক্যাফে। নাম ‘বেঙ্গল বই’। তিনতলার পুরোটাজুড়ে চমৎকার সব স্থাপত্যশৈলী ও খোলামেলা পরিবেশ। নিচতলায় সব ধরনের পাঠকের জন্য আছে পুরনো ম্যাগাজিন ও বই। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলাজুড়ে দেশি-বিদেশি বইয়ের সমাহার। অসুস্থ যারা, তাদের জন্য হুইলচেয়ারে চলাফেরার ব্যবস্থা আছে। দেয়ালজুড়ে অনবদ্য সব চিত্রকর্ম। ইট-পাথরের বাইরেও আছে সবুজের হাতছানি। গাছতলা বা বাগানে বসে বই হাতে আড্ডার যথার্থ স্থান।
এক ফাঁকে জেনে নিলাম কিছু তথ্য। আপাতত বাংলাদেশের ২৫টি ও ভারতের ১৫টি প্রকাশনার বই রয়েছে এখানে। দেশের যেকোনো বই কেনা যাবে ২০ শতাংশ ছাড়ে। ভারতীয় বই কিনতে হলে গুণতে হবে গায়ের দামের দ্বিগুণ টাকা।
বেঙ্গল বই থেকে বেরিয়ে এলিফ্যান্ট রোড ধরে হাঁটছি। এই রোডের ২৩০ নম্বর বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়ালাম। তিন হাজার স্কয়ারফুটের বিশাল পরিসরে পাওয়া গেল বইয়ের আরেক জগৎ দীপনপুর। চা-কফির বাইরেও কিছু বাড়তি আছে এখানে। প্রয়োজনীয় বই খুঁজে না পেলে অর্ডার দিয়ে গেলে তোমার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পছন্দের বই। সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ বা বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য এখানে আছে ‘দীপনতলা’। মনের সঙ্গে পেটও ভরবে। পাওয়া যায় নানা পদের নাশতাও। শিশু-কিশোরদের জন্য আছে আলাদা বিভাগ দীপান্তর। ওরা সেখানে পড়ার পাশাপাশি আঁকিবুকি ও খেলতে পারবে।
সন্ধ্যায় ফেরার আগে গেলাম শান্তিনগর। সেখানেও আছে অতিকায় বুক শপ পিবিএস ওরফে পাঞ্জেরী বুক শপ। শান্তিনগর মোড় থেকে দেিণ শখানেক গজ গেলেই পাওয়া যাবে। বই পড়ার ব্যবস্থা ছাড়াও আছে স্টেশনারি, সিডি-ডিভিডি ও অন্যান্য শিা উপকরণ। বরাবরের মতো শিশুদের জন্য আলাদা কর্ণারও আছে। আছে খাবারদাবারও। পিবিএসের বাড়তি সুনামটা হলো, বাইরের বেস্ট সেলারগুলো প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এখানে চলে আসে।
ফিরে আসার পর মাথার মধ্যে শুধু বই-ই ঘুরছে। বইপাগল সুমন ভাইকে তো জানাবই; কিন্তু সমস্যাটা হলো, আমাকে কে যেন ডাকছে পড়তে আসো! পড়তে আসো!


Loading...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};