ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
397
দ্বিধাদ্বন্দ্বে হতাশ বিএনপির নেতাকর্মীরা
স্টাফ রিপোর্টার।।
Published : Sunday, 11 February, 2018 at 10:59 PM
দ্বিধাদ্বন্দ্বে হতাশ বিএনপির নেতাকর্মীরাদ্বিধাদ্বন্দ্বে হতাশ হয়ে পড়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজার পর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিলেও পাঁচটি ধারায় বিভক্ত দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে কোন দিক নির্দেশনা না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। গত কয়েক দিনের ধরপাকড়ে আতঙ্কিত নেতারা এখন গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। নাম মাত্র ছবি তোলার জন্য মিছিল করেই আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন তারা। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমানকে দলের দায়িত্ব দেয়ায় অখুশি দলের অনেক সিনিয়র নেতাও দলের চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে কার্যকর কর্মসূচি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবর্তে দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানের পরিবর্তে দেশে সক্রিয় কোন সিনিয়র নেতাকে দলের দায়িত্ব দেয়া হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করা সম্ভব হতো।
জানা গেছে, বিএনপিতে এখন পাঁচটি ধারা। নেতৃত্বের টানাপোড়েন-দ্বিধাদ্বন্দে¦ হতাশ বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারেক রহমান লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার ঘটনার পর গেপ্তার আতঙ্কে আছেন। আতঙ্কে আছে সেখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরাও। ফলে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অনেকটা ধীর চল নীতি নিয়ে এগুচ্ছে। খালেদা জিয়া কারাগারে আর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হলে দলে যে ৫টি ধারা রয়েছে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যাবে। দলের এই দু:সময়ে নেতৃত্ব নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের অনেকেই এখনো দলের সর্বেসর্বা হিসেবে মানছেন খালেদা জিয়াকে। এছাড়া খালেদার অনুপস্থিতিতে কেউ কেউ যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানকেই মানছেন দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে। তবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়াও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যরিস্টার মওদুদ  আহমদ ও রুহুল কবীর রিজভীকে কেন্দ্র করেও তৈরি হয়েছে আরও তিনটি বলয়। মির্জা ফখরুল এক কথা বললে রুহুল কবির রিজভী বলছেন আরেক কথা। মিডিয়ার মাধ্যমে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে সহজেই। মওদুদ আহমদকে ঘিরে সক্রিয় আরেকটি চক্র। অপর দিকে শনিবার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতিত্ব করায় দলে তার গুরুত্ব বেড়েছে অন্যভাবে। আর দলের এই দু:সময়ে অনেকে নিজেদেরকে আবার রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের।

দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল করেছিল। এতে অনেকটা জনবিচ্ছিন্নও হয়ে পড়েছে দলটি। সাংগঠনিক অবস্থাও নড়বড়ে। জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকায় গেলো চার বছর জনগণের কাছাকাছি যাওয়ারও খুব একটা সুযোগ পায়নি দলটি। ফলে দুর্বল হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক শক্তিও। এতে বেড়েছে অর্ন্তকোন্দলও। দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় আগামী নির্বাচন নিয়ে দলের পক্ষে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা নিয়েও শঙ্কিত তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। যে কারণে খালেদা জিয়া কারান্তরিণ হওয়ার পর জোরালো কোন আন্দোলনেও নামতে পারেনি বিএনপি।

দলীয় সূত্র জানায়, লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি, জ্বালাও পোড়াওসহ বিভিন্ন সময় খালেদা জিয়ার নেয়া ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বেকায়দায় পড়ে বিএনপি। সর্বশেষ খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার মাত্র একঘণ্টার মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতবিরোধ প্রকাশ্য হয়। একাধিক নেতা সংবাদ সম্মেলন ডেকে  একেক রকম বক্তব্য দিয়েছেন। এতে বিভ্রান্ত হয়েছেন নেতাকর্মীরা। খালেদার অনুপস্থিতিতে তারেক জিয়াকেও অনেকে মেনে নিতে পারছেন না দলের প্রধান হিসেবে। তারেকের নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি তুলছেন অনেকেই। বিশেষ করে দলের সিনিয়র নেতারা কোনভাবেই নেতা মানতে পারছেন না তারেককে।

বিএনপির দলীয় ঘোষণায়ও রয়েছে বিভ্রান্তির ছাপ। ৭ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া রায় পরবর্তী আন্দোলনের কথা বললেও, মধ্যরাত নাগাদ রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিএনপির সিলপ্যাডের একটি ঘোষণায় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকতে বলা হয়। ফলে দলীয় কমান্ডে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপিতে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলও দিয়েছেন বিভ্রান্তিকর নির্দেশনা। দলীয় প্রধানের বিপক্ষে গিয়ে তিনি নেতা কর্মীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেন।

দলীয় চেয়ারপারসন ও বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ফারাকে বিভ্রান্ত ছিল নেতাকর্মীরা। তারা রায় পর্যন্ত ও পরবর্তীতে কোন দলীয় দিক নির্দেশনা পায়নি। তাহলে কি দলে চেয়ারপারসন বিদ্বেষী মনোভাব গড়ে উঠল? বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে জনমনে এমন প্রশ্নও উঠেছে।

খালেদা জিয়ার সাজার পর উদভ্রান্ত দিকনির্দেশনার জন্যই দিকভ্রষ্ট ছিল বিএনপির কর্মীরা। সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজপথে খুব একটা দাঁড়াতে পারেনি। ৯ তারিখের বিক্ষোভ সমাবেশও ছিল বিক্ষিপ্ত। বায়তুল মোকাররমের সামনে ৩-৫ মিনিটের বিক্ষোভ করে চলে যান মির্জা ফখরুল। ফখরুল চলে যাওয়ার পর নেতাকর্মীরাও ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যান।

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিতর্কের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছেন। সরকারি দলের সাথে সখ্যতা গড়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাচ্ছেন এ নেতা। চতুর্মুখী বিতর্কের পালে আবদ্ধ এখন বিএনপি। বারংবারের ভুল সিদ্ধান্ত দলটিকে সাংগঠনিকভাবে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে, একইভাবে জনসম্পৃক্ত হওয়া থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার সাজাকে তার দলের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিকভাবে দেখলেও সচেতন নাগরিকরা তা দেখছেন ক্ষমতার অপব্যবহারের পরিণতি হিসেবে। ‘দুর্নীতিবাজ যতোই ক্ষমতাবান হোন না কেন, আইনের উর্ধ্বে নন তিনি’- এই রায়ের মাধ্যমে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়।




Loading...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};