ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
56
অপরিণামদর্শিতার চড়া মাশুলই হল এই করুণ ও ন্যাক্কারজনক পরিণতি
Published : Sunday, 11 February, 2018 at 12:00 AM
 
অপরিণামদর্শিতার চড়া মাশুলই হল এই করুণ ও ন্যাক্কারজনক পরিণতিসংশয়ের বীজ অঙ্কুরিতে হয়েছিল আগেই। সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছিল স্পিন বান্ধব উইকেটে লঙ্কা বধের পরিকল্পনা করতে দেখেই। ইতিহাস আর পরিসংখ্যান যতই পক্ষে থাকুক, এই শেরে বাংলায় গত ১৮ মাসে শেষ দুই টেস্টে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর রেকর্ড যতই আশারবাণী শোনাক না কেন- কঠিন বাস্তবতা হলো এশিয়ার বাইরের দল মানে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে টার্নিং ট্র্যাকে পর্যদুস্ত আর নাজেহাল করা আর ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কাকে বধ করা এক নয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে জাগো নিউজের এক প্রতিবেদনে ঠিক এমন কথাই লিখা হয়েছিল। ‘ইংলিশ আর অসিদের মত লঙ্কানদেরও কি স্পিনে বধ করা সম্ভব?’- শীর্ষক শিরোনামের ঐ প্রতিবেদনে পরিষ্কার বলা ছিল, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড এমন স্পিন বান্ধব পিচে খেলে অভ্যস্ত নয়। তারা শতভাগ স্পোর্টিং না হয় ফাস্ট পিচে খেলে খেলে বড় হয় এবং সারা বছর ঘরের ক্রিকেট এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে এমন উইকেটে। তাই অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ড ভারত উপমহাদেশে এসে বার বার খাবি খায়। ইতিহাস সে সাক্ষীই দিচ্ছে।

খুব বেশি পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। ঢাকার এই মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গত ১৭ মাসে ইংল্যান্ড (২০১৬ সালের অক্টোবরে), আর অস্ট্রেলিয়া (গত বছর আগস্টে) টেস্টে টাইগারদের সাথে পারেনি। হারের তেতো স্বাদ নিয়ে দেশে ফিরে গেছে। সেই জয় দুটিকে সাফল্যের আলোকবর্তিকা ভেবে এবার শ্রীলঙ্কার সাথে আবার টার্নিং পিচে মাঠে নামার পরিকল্পনা।

অথচ একবারের জন্য মাথায় আসেনি, স্পিন বান্ধব উইকেটে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে মোকাবিলা করা, তাদের হারানো আর একই পিচে লঙ্কানদের সাথে খেলা এবং তাদের ঘায়েল করা এক নয়। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্ডিমাল আর রোশেন সিলভার গড়া লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ খালি চোখে অবশ্যই ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার মত সমৃদ্ধ নয়। তারকাও ঠাসাও নয়।

ইংলিশ উইলোবাজ অ্যালিস্টার কুক, বেন ডাকেট, জো রুট, মঈন আলি, বেন স্কোট আর ডেভিড ওয়ার্নার ও স্মিথ এবং ম্যাক্সওয়েলদের নাম ডাক অনেক বেশি। বিশ্ব ক্রিকেটে তারা সবাই রীতিমত তারকা বলেই বিবেচিত। সে তুলনায় লঙ্কানদের নাম ডাক অনেক কম। কারো গায়ে সে অর্থে তরকার লেবেল আঁটা নেই; কিন্তু তারা স্পিন সহায়ক পিচে অজি ও ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের চেয়ে চেয়ে অনেক দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং পটু। যারা এই ধরনের উইকেটে খেলে খেলেই বড় হয়েছেন। হাত পাকিয়েছেন।

তাই তো আগেরদিন রোশেন সিলভা পরিষ্কার বলে গিয়েছিলেন, ‘শেরে বাংলায় যে উইকেটে খেলা হয়েছে, সে উইকেট আমাদের দেশের মতই। আমরা এ ধরনের উইকেটে খেলেই বড় হয়েছি। এমন উইকেটের খেলার ধরণ কি? তা আমাদের খুব ভাল জানা।’

আসলেই তাই। শ্রীলঙ্কার বেশিরভাগ পিচই এমন। তাই তো তাদের বোলিং লাইনআপে সব সময় ধীর স্থির ব্যাকরণ মেনে খেলা ব্যাটসম্যান বেশি। আর স্পিনারের আধিক্যও থাকে। এত গেল ব্যাটসম্যানদের কথা।

এবার আসা যাক স্পিনারদের প্রসঙ্গে। ইংলিশ দলে এক নম্বর স্পিনার ছিলেন মঈন আলি (অফ ব্রেক বোলার) আর আদিল রশিদ (লেগ স্পিনার)। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার ছিলেন নাথান লায়ন (অফ স্পিনার) ও অ্যাস্টন অ্যাগার (বাঁ-হাতি স্পিনার)। বলার অপেক্ষা রাখে না, একমাত্র নাথান লায়ন ছাড়া বাকি কেউই সে অর্থে বড় মাপের স্পিনার নন। কারো বলে খুব বেশি বিপজ্জনক টার্নও ছিল না। তারপরও অজি অফব্রেক বোলার নাথান লায়ন সর্মাধিক সমীহ আদায় করে নিয়েছিলেন। তাকে খেলতে রীতিমত কষ্ট হয়েছে টাইগারদের। সে তুলনায় রঙ্গনা হেরাথ, দিলরুয়ান পেরেরা, লক্ষ্ম সান্দাকান আর আকিলা ধনঞ্জয়ার মিশেলে গড়া লঙ্কান স্পিন অ্যাটাক অনেক বেশি সমৃদ্ধ। বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ধারালো।

স্পিন সহায়ক পিচ পেলে এই চারজন যে তামিম, ইমরুল, মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস আর সাব্বিরের স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল ব্যাটিংয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন, তাদের ভাল খেলে বড় ইনিংস সাজানোর পথ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে- এমন ধারণাই হয়ত মাথায় আসেনি স্বাগতিক টিম ম্যানেজমেন্টের মাথায়। সেটা মাথায় আসলে নিশ্চয়ই এমন টার্নিং উইকেটে লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্ট খেলার চিন্তা হতো না। যা স্পষ্টতই অপরিনামদর্শিতার সামিল।

শতভাগ স্পিন বান্ধব উইকেটে অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের মত বড় দলকে হারানো গেলেও লঙ্কানরা যে এই ধরনের উইকেটে টাইগারদের চেয়ে ভাল, সে বোধ ও উপলব্ধিও হয়ত ছিল না। শ্রীলঙ্কার বেশির ভাগ পিচই এমন। তাই তো তাদের বোলিং লাইনআপে সব সময় ধীর-স্থির ব্যাকরণ মেনে খেলা ব্যাটসম্যান বেশি। আর স্পিনারের আধিক্যও থাকে।

সেই বোধ-উপলব্ধি না থাকা এবং অদুরদর্শিতারি কারণেই শেষ পর্যন্ত এক করুণ পরিনতির মুখে পড়তে হলো টিম বাংলাদেশকে। ২১৫ রানের ব্শিাল ব্যবধানে হারতে হলো মাহমুদউল্লাহর দলকে।

গত তিন দিন প্রতি মুহূর্তে মনে হয়েছে শেরে বাংলার যে পিচে খেলা হয়েছে, তাতে চান্ডিমাল বাহিনী মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের চেয়ে ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিং- তিন শাখায় ঢের ভাল এবং অভ্যস্ত। আসলেই তাই। যে পিচে তামিম ইকবালের মত ব্যাটসম্যান দুই ইনিংসে দু'অংকেই পৌঁছাতে পারেননি, মুমিনুল হকের মত ফর্মের চুড়োয় থাকা উইলোবাজ নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ, ইমরুল, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস ও সাব্বির ব্যর্থতার মিছিল করেছেন, সেখানে কুশল মেন্ডিস, চান্ডিমাল আর রোশেন সিলভারা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন এ ধরনের পিচে কেমন ব্যাটিং করতে হয়।

আজ টেস্ট শেষে টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর লঙ্কান বোলিং ট্রাম্পকার্ড রঙ্গনা হেরাথ অকপটে স্বীকার করলেন, শেরে বাংলার এ পিচে যত পরিপাটি ব্যাটিং টেকনিকই থাকুক না কেন, এখানে টিকে থেকে লম্বা ইনিংস সাজানো কঠিন। এখানে খেলা এক কথায় কঠিন। উইকেট রক্ষার পাশাপাশি রানের চাকা সচল রাখার কাজ একসঙ্গেই চালিয়ে যেতে হবে।

আগের দিন বাংলাদেশ অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ অকপটে স্বীকার করেছেন, লঙ্কাপন বোলাররা তাদের চেয়ে অনেক বেশি মাপা লেন্থ ও লাইনে বল ফেলেছেন। তাদের লক্ষ্য ও নিশানা ছিল অনেক ভাল। তারা ধারাবাহিকভাবে বেশি সময় জায়গামত বলও ফেলেছেন অনেক বেশি। আর তাদের বল টার্নও করেছে বেশি।

এমন টার্নিং পিচে লাগসই টেকনিক অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশন লঙ্কানদের অনেক ভাল জানা। অর্থাৎ এ ধরনের টার্নিং উইকেটে করণীয় কাজ কি? সেগুলো লঙ্কানরা ভাল জানেন। তাই তারা সঠিক সময়ং সঠিক কাজটি করতে পেরেছেন। সোজা কথা, সেটাই পারেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। আর সে কারণেই বোলিং ভাল হলেও লঙ্কানদের আয়ত্বে রাখা সম্ভব হয়নি।

ছোট্ট পরিসংখ্যানে পরিষ্কার হবে কোথায় কোথায় পিছিয়ে ছিল টাইগাররা- প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়েও শেষ চার উইকেটে আরও ১১০ প্লাস রান যোগ করেছে চান্ডিমালের দল। আর বাংলাদেশ সেখানে ৩ রানে হারিয়েছে শেষ ৫ উইকেট। দুই ইনিংস মিলে লঙ্কানরা হাঁকিয়েছেন তিনটি ফিফটি (কুশল মেন্ডিস প্রথম ইনিংসে ৬৮), আর রোশেন সিলভা (৫৬ ও ৭০)। সেখানে বাংলাদেশের একজন ব্যাটসম্যানও পঞ্চাশ বহুদুরে, চল্লিশের ঘরেও পৌঁছুতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে মিরাজের ৩৮‘ই সর্বোচ্চ।

এই যে উইকেটের আচরণের সাথে মানিয়ে নিয়ে কাজের কাজ করতে না পারা, সেটাই আসলে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। তাই তো ২১৫ রানের বিরাট ব্যবধানে হার। ঘরের মাঠে আবার সিরিজ পরাজয়। ভক্ত ও সমর্থকদের আফসোস-অনুশোচনার মাত্রাটা অনেক বেশী- স্পিন বান্ধব উইকেটে লঙ্কানদের সামর্থ্য বেশি, তারা এ উইকেটে টাইগারদের চেয়ে অনেক বেশি অভ্যস্ত, করণীয় কাজগুলোও ভাল জানে। তা কি আগে চিন্তা করা যেত না? কি হতো ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেটে খেললে? চট্টগ্রামের মত ড্র‘ই হতো না হয়। এমন ন্যাক্কারজনক পরাজয় ও করুণ পরিণতি তো আর ঘটতো না।’



Loading...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};