ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
37
রবির আলোয় শান্তিনিকেতনে একদিন
Published : Wednesday, 6 December, 2017 at 12:00 AM
মোঃ শফিকুর রহমান ||
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- এই মহাপুরুষের জন্ম না হলে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসই হয়ত অপূর্ণ থেকে যেত। তাঁর সমগ্র জীবনের সাহিত্য চর্চার শান্তিনিকেতন এ সোনালি অধ্যায়। তাই বলা হয়ে থাকে রবীন্দ্রনাথের কাছে শান্তিনিকেতন ঋণী আর রবীন্দ্রনাথ ঋণী শান্তিনিকেতনের কাছে। স্বয়ং বিশ্বকবির যেখানে চার দশকেরও অধিককাল এখানে অবস্থান সেই স্থানটা দর্শন না করাটা আমার মতো নিবিড় সাহিত্যপ্রেমির জন্য চরম দূর্ভাগ্যেরই ছিল বৈকি। রবীন্দ্রনাথ তো নিজেই বলে গিয়েছেন-
 “বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে”........
আমার অবস্থাও ছিল তেমনটাই। ভারতের বহু জায়গায় পা পড়েছে কেবল যাওয়া হয়নি রবীন্দ্রনাথের বোলপুরের শান্তি নিকেতনে। সে আফসোসের পরিসমাপ্তি ঘটার জন্য ২৩ শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার বন্ধু জোহা, আবাসন ব্যবসায়ী কবির ভাই ও রোজী আপা সহ কলকাতার চৌকস গাড়িচালক উদয়ের মাইক্রোতে করে সাত-সকালে শান্তিনিকেতনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। বর্ধমানের হাইওয়ে রোডের পাশে বসে হালকা শীতের আমেজে শক্তিঘরের লেংচা হোটেলে সুস্বাদু লেংচা খেয়ে সাড়ে তিন ঘন্টায় দৃষ্টিনন্দন পথ পেরিয়ে আরাধ্য জায়গা শান্তিনিকেতনে পৌছালাম। শান্তিনিকেতন- বিশ্বভারতীর সৌন্দর্য আর গাম্ভীর্য ভাষায় ব্যক্ত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। পিপাসু মনে সহকারি গাইড সজল বিশ্বাসের পিছু পিছু হাঁটতে লাগলাম আর তার মুখে শুনা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জায়গার বর্ণনা যতটুকু সম্ভব টুকে নিলাম। কলকাতা জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের “প্রিন্স” দ্বারকানাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠপুত্র দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬২ খৃস্টাব্দে রায়পুরের জমিদার ভূবনমোহন সিংহের আমন্ত্রণে রায়পুরে ব্রাহ্ম উপাসনার জন্য এসে পথে দুটি ছাতিম গাছ দেখে গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ ও আত্মার শান্তি পেয়েছিলেন। এ জায়গাটি দেখে মুগ্ধ হয়ে রায়পুরের জমিদারের কাছ থেকে ১ টাকার বিনিময়ে ২০ বিঘা জমি মৌরুসি পাট্টা নেন। সে কালের সেই ছাতিম গাছ দুটি মারা গেলে তিনি সেই জায়গায় দুটি ছাতিম চারা রোপন করেন। সেই ছাতিম তলা বর্তমানে ঘেরা আছে যেখানে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। দক্ষিণ দিকে গেটে “তিনি আমার প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ আত্মার শান্তি” লেখা আছে। ছাতিম গাছকে কেন্দ্র করেই  শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী গড়ে উঠেছে। তাই শান্তিনিকেতনের ছাতিমতলা বিখ্যাত। প্রতি তিন বৎসর অন্তর বিশ্বভারতীর গ্র্যাজুয়েটদের সনদ প্রদান করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং সনদের সাথে সপ্তপর্ণি দেয়া হয়। তার কারণ ছাতিম গাছকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী গড়ে উঠেছে। তাই শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে মানসপত্রের সঙ্গে ছাতিম পাতাও দেয়া হয়। এখানেই দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ির অনুরূপে একটি বাড়ি তৈরি করেন এবং নামকরণ করেন শান্তিনিকেতন। বর্তমানে শান্তি নিকেতনের চৌহর্দ্দি দাঁড়িয়েছে ৩৬০০ বিঘা। উত্তরায়ণ কমপ্লেক্স- রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন সময়ে বাস করা গৃহ সমূহকে উত্তরায়ন নাম দেয়া হয়েছে। বাড়িগুলি যথাক্রমে- ‘বিচিত্রা’, ‘রবীন্দ্রভবন’, ‘উদয়ন’, ‘শ্যামলী’, ‘কোনার্ক’, ‘পুনশ্চ’, ‘উদীচী’, ‘মৃন্ময়ী’। আছে ‘মালঞ্চ বাড়ি’। এই বাড়িটির উদ্যানের আয়তন ২০ বিঘা। উত্তরায়নের মধ্যে প্রাসাদতূল্য বাড়িটির নাম উদয়ন। ১৯১৯ সালে আরম্ভ হয়ে নাতিদীর্ঘ ৯ বছরে বাড়িটির কাজ সমাপ্ত হয়। এই বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেশ বিদেশের বহু বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ সাক্ষাৎ করেছেন। এই বাড়ি থেকেই রবীন্দ্রনাথ ১৯৪১ সালের ২৫ শে জুলাই অসুস্থ হয়ে কলকাতায় চলে যান এবং আর কোনদিন শান্তিনিকেতনে ফেরা হয়নি তাঁর। পুনশ্চ, শ্যামলী, সেজুঁতি নামে রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থও আছে। দেহলি (মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালা)- আ¤্রকুঞ্জের ঠিক দক্ষিণ কোনে একটি ছোট্ট দোতলা বাড়ি আছে সেটির নাম দেহলি। রবীন্দ্রনাথ যখন শান্তিনিকেতনে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন তখন এই বাড়িটি তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃনালিনী দেবীর নামানুসারে এটি মৃনালিনী আনন্দ পাঠশালা নামে পরিচিত। চার বছর থেকে ছয় বছর শিশুদের জন্য গান ছবি আঁকা ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া এই পাঠশালার উদ্দেশ্য। সিংহসদন- রায়পুরের জমিদার সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহের অর্থ সাহায্যে সিংহসদন তৈরি হয়। সিংহসদনের উপরে একটি ঘড়ি বিদ্যমান যা তিন দিক থেকে দেখা যায়। পাঠভবন ও বিদ্যাভবন কাসের জন্য সময় সূচিত করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। ১৯৪০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া রবীন্দ্রনাথকে ডি.লিট উপাধি দেবার অনুষ্ঠানটি সিংহসদনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শমীন্দ্র শিশু পাঠাগার- রবীন্দ্রনাথের ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথের নামে এই পাঠাগারটি। এখানে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি অবধি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য গ্রন্থাগার। শিশু বয়সেই শমীন্দ্রনাথ এমন একটি পাঠাগারের পরিকল্পনা করে তার সূচনা করেছিলেন বলেই পাঠাগারটি তাঁর নামে উৎসর্গীকৃত। ব্ল্যাক হাউস- দেখলাম ব্ল্যাক হাউস, মাটির তৈরি আলকাতরার প্রলেপ দেয়া কলাভবনের ছাত্রাবাসটি শিল্পাচার্য নন্দলালবসু ও রামকিংকর বেজের যুগ্ন তত্বাবধানে দেয়ালগুলি অলংকৃত করেন। কবি এখানে বসেই লিখেছিলেন ছোটদের সহজপাঠ্য বই। তালধ্বজ বাড়ি- একটি তালগাছকে কেন্দ্র করে একটি গোলাকৃতি খড়ের চালের বাড়ি আছে। এটিকে তালধ্বজ বাড়ি বলে ডাকা হয়। তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে এই কবিতাটি বিশ্বকবি এখানে বসেই লিখেছিলেন। রবীন্দ্র মিউজিয়াম
গুরুদেবের ব্যবহৃত পাঁচটি বাড়ি, ব্যবহৃত গাড়ি, কবির ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী দেশ-বিদেশ থেকে প্রাপ্ত নানা অর্ঘ্য যেগুলি গ্যালারিতে সাজানো আছে নোবেল প্রাইজ ইত্যাদি। আ¤্রকুঞ্জ- শান্তিনিকেতন বাড়ির দক্ষিণে অনেক আমগাছ যুক্ত জায়গাটির নাম “আ¤্রকুঞ্জ”। এখানে যে বেদীটি আছে বর্তমানে সেইখানে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন (কনভোকেশন) উৎসব অনুষ্ঠিত হয় এবং বেদীর আশেপাশে কাঁকর বিছানো জায়গাগুলিতে পাঠ ভবনের কাস হয়। ১৯১৩ সালের ১৩ নভেম্বর নোবেল পুরস্কর পাওয়ার পর ভারত থেকে গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শান্তিনিকেতনে এসে রবীন্দ্রনাথকে এই আ¤্রকুঞ্জেই সংবর্ধনা ও সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এবং স্বস্ত্রীক গান্ধীজিকে এই আ¤্রকুঞ্জেই সংবর্ধনা দিয়েছিলেন।  শান্তিনিকেতনের অন্যান্য বাড়ি- ‘বেনুকুঞ্জ’ ‘দিনান্তিকা’ ‘সন্তোষালয়’ ‘চীনাভবন’ ‘হিন্দিভবন’ ‘দ্বিজবিরাম’ ‘রতনকুটি’ ‘শিল্পসদন’ ‘নন্দন’ ‘চৈতি’ ‘সিংহসদন’
ছাত্রাবাস- ‘সন্তোষালয়’ ‘অনামিকা’ ‘অপূর্ব’ ‘কদমতলা’ ‘কলাভবন’ বিদ্যাভবন’ ‘পাঠভবন’ ‘নন্দসদন’ ‘শান্তিশ্রী’ ‘পল্লীশিক্ষাভবন’ ‘গোষ্ঠবাড়ি’ ইত্যাদি
ছাত্রীনিবাস- ‘শ্রীসদন’ ‘বিড়লা’ গোয়েঙ্কা’ ‘প্রতিমা’ ‘দশচক্র’ ‘কবরী’ ‘মাধবী’ ‘পূরবী’ ‘মাধুরীলতা’ ‘কাদম্বরী’ ‘বিনয় ভবন’ ‘চীপকুঠি’ ‘মৃনালিনী ছাত্রী নিবাস। শ্রীসদনে শ্রীমতী ইন্দিরাগান্ধী এখানে থেকেই পড়াশুনা করেছেন। এই ছাত্রীনিবাসের সামনে একটি ¯œানরত মহিষমুর্তি দন্ডায়মান। এই শিল্পকর্মটি রামকিংকর বেজ মহাশয়ের। রবীন্দ্রনাথ ১৯১৯ সালে ব্রহ্মবিদ্যালয় থেকে বিশ্বভারতীতে রূপান্তর করেন। রবীন্দ্রনাথ এই নামের ব্যাখ্যায় বলেছেন-
* সকলের জন্য ভারতের যে বাণী- আমরা বলি বিশ্বভারতী।
* রবীন্দ্রনাথের ভারত ভাবনা ও বিশ্ব ভাবনার মিলিত রূপ বিশ্বভারতী।
* যেখানে বিদ্যা আহরণ ও জ্ঞান চর্চার জন্য বিচিত্র মানব আসিয়া একটি নীড় বাঁধিবে।
* যেখানে বিশ্ব একটি নীড়ে আশ্রয় লাভ করে।
* বিশ্বের উৎপাদিত সমস্ত বিদ্যা অনুশীলনের কেন্দ্র ।
বিশ্বভারতী থেকে পড়াশুনা শিখে যে সব ব্যক্তিবর্গ বিশ্বময় খ্যাতি অর্জন করেছেন তার মধ্যে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিপুত্র, বিশ্বভারতীর প্রথম উপাচার্য, ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, সত্যজিত রায় অস্কার পুরস্কার বিজেতা, অধ্যাপক অমর্ত্য সেন নোবেল পুরস্কার বিজেতা শ্রী সুধীর রঞ্জন দাস, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, কনিকা বন্দোপাধ্যায়, শান্তিদেব ঘোষ বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী, রামকিংকর বেইজ বিখ্যাত ভাস্কর অন্যতম। যাকে আধুনিক ভারতীয় “ভাস্কর্যের জনক” বলা হয়। শান্তিনিকেতন নিয়ে কবির অনুভূতি-
“শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়কে বিশ্বের সঙ্গে ভারতের যোগসূত্র স্থাপন করতে হবে। ঐখানে সর্বজাতির মনুষ্যত্ব চর্চার কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। স্বজাতিক সংকীর্ণতার যুগ শেষ হয়ে আসছে। ভবিষ্যতের জন্য যে বিশ্বজাতিকে মহামিলনযজ্ঞের প্রতিষ্ঠা হচ্ছে, তার প্রথম আয়োজন ঐ বোলপুরের প্রান্তরেই হবে। এই জায়গাটিকে সমস্ত জাতিগত ভূগোল বৃত্তান্তের অতীত করে তুলবে- এই আমার মনে আছে। সব মানবের প্রথম জয় ধ্বজা ঐখানে রোপন হইবে। পৃথিবী থেকে স্বাদেশিক অভিমানের নাগপাশ বন্ধন ছিন্ন করাই আমার শেষ বয়সের কাজ”।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। শান্তিনিকেতনের “আমার কুঠির” থেকে আমাদের কলকাতা প্রত্যাবর্তনের যাত্রা শুরু হলো সূর্যাস্তের সায়ন্তিকা আলোতে শান্তি নিকেতনে সারাদিনের দেখা স্মৃতিগুলো উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে আলোকিত করতে শুরু করল মনে প্রাণে। (২৩ শে নভেম্বর ২০১৭ শান্তিনিকেতন দেখে লেখা)
লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শফিকুর রহমান



Loading...

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};