ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
97
অনুভূতি: আমার দেখা সিনেমা
Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 05.12.2017 12:26:23 AM
অনুভূতি: আমার দেখা সিনেমাশান্তিরঞ্জন ভৌমিক ||
১৯৫৮ সালের অক্টোবরের কোনো একদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছায়াবাণী বা অন্য নামও হতে পারে সিনেমা হলে প্রথম সিনেমা দেখার সুযোগ পাই। সিনেমাটির নাম ছিল ‘মা ও ছেলে’। বিকাশ রায় ও সন্ধ্যাদেবী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। বিকাশ রায় অভিনয় ভালো করলেও সিনেমায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যাচারী সেজন্য তখন থেকে কেন জানি তাঁর প্রতি ঘৃণা অনুভব করতাম। কেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা দেখার সুযোগ হলো? আমার বড় কাকা সে বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তরে তিতাস নদীর পাড়ে বকাইল গ্রামে বিয়ে করেছেন। দ্বিরাগমন উপলক্ষে শ্বশুর বাড়ি গেছেন, তাই শালাÑশালী ও আমরা যারা সঙ্গী ছিলাম দল বেঁধে সিনেমা দেখতে গিয়েছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আমাদের বাড়ির এক কাকা সাধনা ঔষধালয়ে ম্যানেজার ছিলেন। তিনি কাকীমাসহ বাসা বাড়িতে থাকতেন, তাঁর মাধ্যমেই সিনেমা দেখার ব্যবস্থা হয়। আমাদের জন্য সিনেমা হলের পেছনে সীটের ব্যবস্থা হয়, সেজন্য বাড়তি টাকা গুণতে হয়েছে। আমি সামনে বসে দেখতে বায়না ধরলাম, আমার জানা ছিল না- সামনে যারা বসে সিনেমা দেখে, তারা অল্প পয়সায় দেখতে সুযোগ পায়। আর সত্তরের দশকের ‘সুজন সখী’ ছবিটি হলে বসে শেষ সিনেমা দেখেছি। বলে রাখি- আমি কোনোকালেই সিনেমা খোর বা সিনেমাপোকা ছিলাম না। তবে...
১৯৬১ সালে মার্চ মাসে মেট্রিক পরীক্ষা দিতে এসে দ্বিতীয়বার সিনেমা দেখার সুযোগ পাই। আমাদের পরীক্ষা সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চারদিনে আটটি অর্থাৎ বাংলা ১ম ও ২য় পত্র, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্র, অংক, ভূগোল। কুমিল্লা শহরের তখন তিনটি সিনেমা হল- লিবার্টি, রূপকথা ও রূপালী। সে সময় কান্দিপাড়ের লিবার্টিতে ‘শিল্পী’ রাজগঞ্জের রূপকথায় ‘পথে হলো দেরি’ ও চকবাজার  রূপালীতে হিন্দি সিনেমা ‘আন’ চলছিল। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা দিয়েই প্রথমে রূপকথায় ৬টা থেকে ৯টা, তারপর লিবার্টিতে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সিনেমা দেখলাম। মাঝে হোটেলে ভাত খেয়েছিলাম কীনা মনে নেই পরের দিন শুক্রবার ৩টা থেকে রূপালীতে, ৬টা থেকে রূপকথায় এবং ৯টা থেকে লিবার্টিতে সেই সিনেমাগুলো দেখেছিলাম। শনিবার আবার এভাবেই তিনটি সিনেমা দেখলাম এবং রবিবার বাড়ি চলে আসি। পরীক্ষা কেমন দিয়েছি, তার চেয়েও সিনেমার গল্পই ছিল বেশ কয়েকদিন মুগ্ধতায় বিচরণ। তখনই সুচিত্রা-উত্তম জুটির নাম এবং ‘পথে হলে দেরি’ সিনেমায় তাঁদের রোমান্টিক অভিনয় আমাকে স্বপ্নাতুর করে তুলেছিল। মেট্রিক পাশ করে যখন কলেজে ভর্তি হলাম- কলেজের কাছে লিবার্টি সিনেমা হল। ২টা বাজলেই মাইকে সিনেমার জনপ্রিয় গানগুলো বাজানো হতো, মন তখন কাস থেকে নিমিষে উড়ে চলে যেতো সিনেমা হলের আঙ্গিনায়। তখন মনে মনে ভাবতাম-পড়াশোনা করে কি লাভ। যদি সিনেমা হলের টিকেট চ্যাকার হতে পারতাম, তবে প্রাণভরে মনভরে সিনেমা দেখে দেখে জীবনকে সার্থক করতে পারতাম। তাতো হবার নয়। কলেজে পড়ি। কুমিল্লার সিনেমা হলে ভারতীয় বাংলা ছবি, হিন্দি ছবি, পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দু ছবি, পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ছবি প্রদর্শিত হয়। আমি ভারতীয় বাংলা ছবি দেখতেই আগ্রহী ছিলাম। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর ভারতীয় ছবি আসা বন্ধ হয়। উচ্চ মাধ্যমিক ও ¯œাতক শ্রেণিতে পড়ি, মাঝে মাঝে সিনেমা দেখি। মাঝে মাঝে বললাম এজন্য যে, সে আগ্রহ নিয়ে সিনেমা হলে যেতাম, বাবার দেয়া কষ্টার্জিত টাকার কথা মনে পড়লে একটা অপরাধ বোধ এসে ঝাঁকিয়ে বসত মনে ভিতরটা কেঁপে উঠত। কিন্তু সুচিত্রা-উত্তমের সিনেমা হলে মনকে তখন দাবিয়ে রাখতে কষ্ট হতো। কীভাবে পয়সা বাঁচাতাম, তা বলতে এখন লজ্জা পায়। টিফিন করা বন্ধ করেছি, রিক্সায় চড়া বন্ধ করেছি, ধোপার কাছে কাপড় দেয়া বন্ধ করেছি, ¯œানের সময় সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছি। কারণ, সুচিত্রা-উত্তমের অভিনিত একই সিনেমা যে পালিয়ে ৫/৬ বার দেখেছি, তা ভাবতে ভালো লাগে, অবাকও হই। নতুন জামাটা উত্তম কুমারের গায়ের জামার মতো, চুলকাটা ‘ইউ-ছাট’ এমন কি সিগেরেট খাওয়াটাও তাঁরই মতো অর্থাৎ ডেমি’ উত্তম সাজার মহড়া চলেছে অনেকদিন। এখন ভাবি- তা কি বয়সের ধর্ম, না তাঁদের চেহারার লালিত্য বা অভিনয়ের কারিশমা?
পরিণত বয়সে এসে স্মৃতিকাতরতায় আপ্লুত হতে মন চাইছে। আমি পড়ে যতটুকু না মনে রাখতে পারি, শুনে অনেক শ্রুতিধর হতে পারি একটু বেশি। সেজন্যই হয়ত বা সিনেমার সংলাপ এক সময় অনর্গল বলতে পারতাম এবং যথাযথ অভিনয় সদৃশ। কোনো কোনো সিনেমা মনে দাগ কেটে গেছে। দীপ জ্বেলে যাই, চন্দ্রনাথ, সপ্তপদী, গৃহদাহ, অভয়া-শ্রীকান্ত, সাত পাঁকে বাঁধা, শ্যামলী, রাইকমল, জলসাঘর, সবার উপরে, অগ্নিপরীক্ষা, পথে হলো দেরি, মায়ামৃগ- কত বলব। একেকটি সিনেমা দেখেছি, এক ধরনের ঘোরে কাটিয়েছি কয়েকদিন। তখন আমার মাঝে আমি থাকতাম না, এক স্বপ্নময় আবেশে চলেছি, যা বাস্তবের ধারে কাছে স্থান পেতো না। শুনেছি- পাঠকের মৃত্যু হয়, এখন অনুভব করি- সিনেমা দর্শকেরও অপমৃত্যু ঘটে। তিনঘন্টা সিনেমা হলে বসে যেকোনো সিনেমা দেখা- এখন? অসম্ভব। এমন কি বাসায় টেলিভিশনে কোনো সিনেমা দেখালে শেষ পর্যন্ত কিন্তু বসে থাকি না থাকতে পারিনা- সুচিত্রা-উত্তমের সিনেমা হলেও। তাহলে কী সিনেমা দেখায় আমার অপমৃত্যু হলো।
বর্তমান প্রজন্মের যারা তাদেরও সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে শুনিনি। কোনো কোনো সিনেমা বয়:ধর্মে তাদের রুচি বা আগ্রহের উছিলায় ভিসিআর বা ভিসিপির মাধ্যমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দেখে হয়ত। হয়ত বললাম এজন্য যে, সেসব সিনেমা তাদের মনে কতটা দাগ বা স্পর্শ করে, তা বুঝা যায় না। সিনেমা যে আমাদের সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম মাধ্যম, সাহিত্যের বাস্তব রূপায়ন, স্বপ্নময় জীবনকে অবলোকন করার প্রয়াস- তার প্রতিফলন এখন দেখা যায় না।  কেবলমাত্র বিনোদন বিষয়টি প্রাধান্য পায় এবং সাময়িক। সিনেমা অনেক বার্তা বহন করে, জীবনকে ভালবাসতে শিক্ষা দেয়া, নিজেকে আয়নার মতো দেখতে সুযোগ করে দেয়, তা অবশ্যই অন্যরকম। অবশ্যই বলব- এখন এবং তখন- এদের মধ্যে বিরাট ফারাক। তখন যে সিনেমা নির্মিত হয়েছে- যা এক অর্থে কান্তিক, কবি হলেন পরিচালক। আমরা হয়ত শরৎচন্দ্রের ‘গৃহদাহ’ পড়েছি, কিন্তু তা যখন সিনেমায় দেখি, তখন সঙ্গত কারণেই মনে আসে- শরৎচন্দ্র কী এভাবে চিন্তা করেছিলেন? এই কাহিনীর ভিত্তি নির্ভর পরিক্রমায় পরিচালক যে জীবন্ত প্রতিভা উপস্থাপন করে দর্শককে তাক লাগিয়ে দিলেন, এই বোধের জাগরণ কিন্তু বর্তমান কালের সিনেমায় দেখা যায় না। শরৎচন্দ্র তাঁর ‘দেবদাস’ উপন্যাসটিকে দুর্বল ও প্রকাশযোগ্য না বলে অনেকদিন ফেলে রেখে দিয়েছিলেন। অথচ ‘দেবদাস’ আজ পরিচালকদের ক্যারিশমায় দর্শকপ্রিয় শাশ্বত সৃষ্টি হিসেবে বিবেচ্য। কাজেই সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, জীবনেও অনুষঙ্গ। তাই ভাল লাগার, ভালবাসার- সিনেমা যে দেখি না তা অস্বীকার করি না। কিন্তু বিশেষ বয়সের অনুভূতি কিন্তু ভোঁতা হয়ে গেছে। যাক। তারপরও সিনেমা তো সিনেমাই।

অনুভূতি: আমার দেখা সিনেমা
শান্তিরঞ্জন ভৌমিক
১৯৫৮ সালের অক্টোবরের কোনো একদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছায়াবাণী বা অন্য নামও হতে পারে সিনেমা হলে প্রথম সিনেমা দেখার সুযোগ পাই। সিনেমাটির নাম ছিল ‘মা ও ছেলে’। বিকাশ রায় ও সন্ধ্যাদেবী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। বিকাশ রায় অভিনয় ভালো করলেও সিনেমায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যাচারী সেজন্য তখন থেকে কেন জানি তাঁর প্রতি ঘৃণা অনুভব করতাম। কেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা দেখার সুযোগ হলো? আমার বড় কাকা সে বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তরে তিতাস নদীর পাড়ে বকাইল গ্রামে বিয়ে করেছেন। দ্বিরাগমন উপলক্ষে শ্বশুর বাড়ি গেছেন, তাই শালাÑশালী ও আমরা যারা সঙ্গী ছিলাম দল বেঁধে সিনেমা দেখতে গিয়েছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আমাদের বাড়ির এক কাকা সাধনা ঔষধালয়ে ম্যানেজার ছিলেন। তিনি কাকীমাসহ বাসা বাড়িতে থাকতেন, তাঁর মাধ্যমেই সিনেমা দেখার ব্যবস্থা হয়। আমাদের জন্য সিনেমা হলের পেছনে সীটের ব্যবস্থা হয়, সেজন্য বাড়তি টাকা গুণতে হয়েছে। আমি সামনে বসে দেখতে বায়না ধরলাম, আমার জানা ছিল না- সামনে যারা বসে সিনেমা দেখে, তারা অল্প পয়সায় দেখতে সুযোগ পায়। আর সত্তরের দশকের ‘সুজন সখী’ ছবিটি হলে বসে শেষ সিনেমা দেখেছি। বলে রাখি- আমি কোনোকালেই সিনেমা খোর বা সিনেমাপোকা ছিলাম না। তবে...
১৯৬১ সালে মার্চ মাসে মেট্রিক পরীক্ষা দিতে এসে দ্বিতীয়বার সিনেমা দেখার সুযোগ পাই। আমাদের পরীক্ষা সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চারদিনে আটটি অর্থাৎ বাংলা ১ম ও ২য় পত্র, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্র, অংক, ভূগোল। কুমিল্লা শহরের তখন তিনটি সিনেমা হল- লিবার্টি, রূপকথা ও রূপালী। সে সময় কান্দিপাড়ের লিবার্টিতে ‘শিল্পী’ রাজগঞ্জের রূপকথায় ‘পথে হলো দেরি’ ও চকবাজার  রূপালীতে হিন্দি সিনেমা ‘আন’ চলছিল। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা দিয়েই প্রথমে রূপকথায় ৬টা থেকে ৯টা, তারপর লিবার্টিতে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সিনেমা দেখলাম। মাঝে হোটেলে ভাত খেয়েছিলাম কীনা মনে নেই পরের দিন শুক্রবার ৩টা থেকে রূপালীতে, ৬টা থেকে রূপকথায় এবং ৯টা থেকে লিবার্টিতে সেই সিনেমাগুলো দেখেছিলাম। শনিবার আবার এভাবেই তিনটি সিনেমা দেখলাম এবং রবিবার বাড়ি চলে আসি। পরীক্ষা কেমন দিয়েছি, তার চেয়েও সিনেমার গল্পই ছিল বেশ কয়েকদিন মুগ্ধতায় বিচরণ। তখনই সুচিত্রা-উত্তম জুটির নাম এবং ‘পথে হলে দেরি’ সিনেমায় তাঁদের রোমান্টিক অভিনয় আমাকে স্বপ্নাতুর করে তুলেছিল। মেট্রিক পাশ করে যখন কলেজে ভর্তি হলাম- কলেজের কাছে লিবার্টি সিনেমা হল। ২টা বাজলেই মাইকে সিনেমার জনপ্রিয় গানগুলো বাজানো হতো, মন তখন কাস থেকে নিমিষে উড়ে চলে যেতো সিনেমা হলের আঙ্গিনায়। তখন মনে মনে ভাবতাম-পড়াশোনা করে কি লাভ। যদি সিনেমা হলের টিকেট চ্যাকার হতে পারতাম, তবে প্রাণভরে মনভরে সিনেমা দেখে দেখে জীবনকে সার্থক করতে পারতাম। তাতো হবার নয়। কলেজে পড়ি। কুমিল্লার সিনেমা হলে ভারতীয় বাংলা ছবি, হিন্দি ছবি, পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দু ছবি, পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ছবি প্রদর্শিত হয়। আমি ভারতীয় বাংলা ছবি দেখতেই আগ্রহী ছিলাম। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর ভারতীয় ছবি আসা বন্ধ হয়। উচ্চ মাধ্যমিক ও ¯œাতক শ্রেণিতে পড়ি, মাঝে মাঝে সিনেমা দেখি। মাঝে মাঝে বললাম এজন্য যে, সে আগ্রহ নিয়ে সিনেমা হলে যেতাম, বাবার দেয়া কষ্টার্জিত টাকার কথা মনে পড়লে একটা অপরাধ বোধ এসে ঝাঁকিয়ে বসত মনে ভিতরটা কেঁপে উঠত। কিন্তু সুচিত্রা-উত্তমের সিনেমা হলে মনকে তখন দাবিয়ে রাখতে কষ্ট হতো। কীভাবে পয়সা বাঁচাতাম, তা বলতে এখন লজ্জা পায়। টিফিন করা বন্ধ করেছি, রিক্সায় চড়া বন্ধ করেছি, ধোপার কাছে কাপড় দেয়া বন্ধ করেছি, ¯œানের সময় সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছি। কারণ, সুচিত্রা-উত্তমের অভিনিত একই সিনেমা যে পালিয়ে ৫/৬ বার দেখেছি, তা ভাবতে ভালো লাগে, অবাকও হই। নতুন জামাটা উত্তম কুমারের গায়ের জামার মতো, চুলকাটা ‘ইউ-ছাট’ এমন কি সিগেরেট খাওয়াটাও তাঁরই মতো অর্থাৎ ডেমি’ উত্তম সাজার মহড়া চলেছে অনেকদিন। এখন ভাবি- তা কি বয়সের ধর্ম, না তাঁদের চেহারার লালিত্য বা অভিনয়ের কারিশমা?
পরিণত বয়সে এসে স্মৃতিকাতরতায় আপ্লুত হতে মন চাইছে। আমি পড়ে যতটুকু না মনে রাখতে পারি, শুনে অনেক শ্রুতিধর হতে পারি একটু বেশি। সেজন্যই হয়ত বা সিনেমার সংলাপ এক সময় অনর্গল বলতে পারতাম এবং যথাযথ অভিনয় সদৃশ। কোনো কোনো সিনেমা মনে দাগ কেটে গেছে। দীপ জ্বেলে যাই, চন্দ্রনাথ, সপ্তপদী, গৃহদাহ, অভয়া-শ্রীকান্ত, সাত পাঁকে বাঁধা, শ্যামলী, রাইকমল, জলসাঘর, সবার উপরে, অগ্নিপরীক্ষা, পথে হলো দেরি, মায়ামৃগ- কত বলব। একেকটি সিনেমা দেখেছি, এক ধরনের ঘোরে কাটিয়েছি কয়েকদিন। তখন আমার মাঝে আমি থাকতাম না, এক স্বপ্নময় আবেশে চলেছি, যা বাস্তবের ধারে কাছে স্থান পেতো না। শুনেছি- পাঠকের মৃত্যু হয়, এখন অনুভব করি- সিনেমা দর্শকেরও অপমৃত্যু ঘটে। তিনঘন্টা সিনেমা হলে বসে যেকোনো সিনেমা দেখা- এখন? অসম্ভব। এমন কি বাসায় টেলিভিশনে কোনো সিনেমা দেখালে শেষ পর্যন্ত কিন্তু বসে থাকি না থাকতে পারিনা- সুচিত্রা-উত্তমের সিনেমা হলেও। তাহলে কী সিনেমা দেখায় আমার অপমৃত্যু হলো।
বর্তমান প্রজন্মের যারা তাদেরও সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে শুনিনি। কোনো কোনো সিনেমা বয়:ধর্মে তাদের রুচি বা আগ্রহের উছিলায় ভিসিআর বা ভিসিপির মাধ্যমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দেখে হয়ত। হয়ত বললাম এজন্য যে, সেসব সিনেমা তাদের মনে কতটা দাগ বা স্পর্শ করে, তা বুঝা যায় না। সিনেমা যে আমাদের সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম মাধ্যম, সাহিত্যের বাস্তব রূপায়ন, স্বপ্নময় জীবনকে অবলোকন করার প্রয়াস- তার প্রতিফলন এখন দেখা যায় না।  কেবলমাত্র বিনোদন বিষয়টি প্রাধান্য পায় এবং সাময়িক। সিনেমা অনেক বার্তা বহন করে, জীবনকে ভালবাসতে শিক্ষা দেয়া, নিজেকে আয়নার মতো দেখতে সুযোগ করে দেয়, তা অবশ্যই অন্যরকম। অবশ্যই বলব- এখন এবং তখন- এদের মধ্যে বিরাট ফারাক। তখন যে সিনেমা নির্মিত হয়েছে- যা এক অর্থে কান্তিক, কবি হলেন পরিচালক। আমরা হয়ত শরৎচন্দ্রের ‘গৃহদাহ’ পড়েছি, কিন্তু তা যখন সিনেমায় দেখি, তখন সঙ্গত কারণেই মনে আসে- শরৎচন্দ্র কী এভাবে চিন্তা করেছিলেন? এই কাহিনীর ভিত্তি নির্ভর পরিক্রমায় পরিচালক যে জীবন্ত প্রতিভা উপস্থাপন করে দর্শককে তাক লাগিয়ে দিলেন, এই বোধের জাগরণ কিন্তু বর্তমান কালের সিনেমায় দেখা যায় না। শরৎচন্দ্র তাঁর ‘দেবদাস’ উপন্যাসটিকে দুর্বল ও প্রকাশযোগ্য না বলে অনেকদিন ফেলে রেখে দিয়েছিলেন। অথচ ‘দেবদাস’ আজ পরিচালকদের ক্যারিশমায় দর্শকপ্রিয় শাশ্বত সৃষ্টি হিসেবে বিবেচ্য। কাজেই সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, জীবনেও অনুষঙ্গ। তাই ভাল লাগার, ভালবাসার- সিনেমা যে দেখি না তা অস্বীকার করি না। কিন্তু বিশেষ বয়সের অনুভূতি কিন্তু ভোঁতা হয়ে গেছে। যাক। তারপরও সিনেমা তো সিনেমাই।



Loading...

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};