ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
358
‘ঘুণাক্ষরেও বুঝিনি উনি রফিক আর আমি সালাম’
Published : Sunday, 3 December, 2017 at 11:17 AM
‘ঘুণাক্ষরেও বুঝিনি উনি রফিক আর আমি সালাম’নিজস্ব প্রতিবেদক ||

একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন রফিক, সালাম। আবার সেই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যে দুই প্রবাসী অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছেন তাদের নামও রফিক ও সালাম।

কিন্তু কাজ করতে গিয়ে তাদের কখনও মনে হয়নি বাংলা ভাষার জন্য জীবন দেয়া রফিক ও সালামের নামেই তাদের নাম। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হওয়ার পেছনের গল্প তুলে ধরে এমনটাই জানিয়েছেন তাদের একজন আবদুস সালাম।

পাকিস্তানি শাসকদের উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টার মধ্যে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে রফিক, সালাম, জব্বার, বরকত, সফিউরসহ কয়েকজন তরুণ শহীদ হন।

১৯৯৮ সালে কানাডার ভ্যানকুভার শহরে বসবাসরত দুই বাংলাদেশি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম প্রথম তখনকার জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিলেন।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। রফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। ইউনেস্কোর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার ১৮ বছর পূর্তি ও রফিকুল ইসলামের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বন্ধু রফিকুল ইসলামের স্মৃতিচারণ ও ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পেছনের গল্প তুলে ধরেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস করার জন্য প্রথমে রফিক ভাই একা একা জাতিসংঘে একটা চিঠি দিয়েছিলেন। তিনি উত্তরটা যে রকমভাবে আসবে আশা করেছিলেন, সেই অনুযায়ী উত্তরটা আসেনি। আমরা ফ্যামিলি ফ্রেন্ডস। তিনি বাসায় এসে আমাকে বললেন, সালাম ভাই একটা কাজ করে ফেলেছি। বলি কি কাজ? তিনি বলেন, আমি তো জাতিসংঘকে একটি চিঠি লিখেছি যে একুশে ফেব্রুয়ারিকে মাতৃভাষা করা হোক।’

‘আমি বললাম, চিঠি লিখলেন জানলাম না। তিনি বললেন, লিখে ফেলেছি আর কি। এখন চিঠির জবাব তো এভাবে আসছে। খুব একটা পজেটিভ না। কি করা যায়।’

আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি ওনাকে বললাম, ঘাবড়াবেন না। দুইজনে মিলে এই কাজটা করব। আমি তাকে উৎসাহ দিলাম। এরপর দেখলাম আমরা দুইজন একই নৌকায় অবস্থান করছি। তখন আমাদের কোন অফিস ছিল না। অর্গানাইজেশন তখনও আমরা করিনি। টাকা-পয়সা শুধু আমার আর ওনার। আমাদের সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না। আমরা নিজেরা নিজেরাই আলাপ-আলোচনা করতাম। কখনও ওনার বাসায় কাজ, কখনও আমার বাসায় কাজ।’

‘এরপর আমরা কানাডিয়ান হাইকমিশন ও কানাডিয়ান ফরেন অফিস, জাতিসংঘে তখন যে স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন মিস্টার করিম, ওয়াশিংটনে যে রাষ্ট্রদূত ছিলেন কেএম শাহাবুদ্দিন, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করি। পরে এটা নিয়ে বেশিদূর এগোনো গেল না।’
 

আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা তখন ১০ জনকে আমাদের গ্রুপে নিয়ে আসলাম। সেই গ্রুপের নাম দেয়া হলো, ‘দ্য মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভারস অব দ্য ওয়ার্ল্ড সোসাইটি’। আমি ও রফিক ভাই ফিলিপিনো, জার্মান, চাইনিজ, ইংলিজ, এদের বাসায় গিয়ে গিয়ে এক্সপ্লেইন করলাম, সাইন নিলাম। এরপর তা পাঠিয়ে দিলাম। তারপর আর আমি কি বলতে চাই, এরপর তো ইতিহাস। কী করে কী হলো তা আপনারা জানেন।’

তিনি বলেন, ‘রফিক ভাইকে সবাই পছন্দ করত, তার মুখে সবসময় একটা হাসি লেগে থাকত। তিনি যে জিনিসটা বিশ্বাস করতেন সেটা করতে চাইতেন।’

‘আমি আর রফিক ভাই যখন একসঙ্গে কাজ করছি তখন কিন্তু আমরা ঘুণাক্ষরেও বুঝিনি উনি রফিক আর আমি সালাম। এটা কিন্তু আমরা বুঝতেও পারিনি। ১৯৯৯ সালে ঘোষণার পরে বাংলাদেশে আসার পর তখন হেডলাইন হলো কাকতালীয় ব্যাপার আবার সেই রফিক-সালাম।’ আবদুস সালাম বলেন, ‘তখন বললাম, রফিক ভাই এসব কি? রফিক ভাই বললেন, তাই তো সালাম ভাই এটা তো আমরা খেয়ালই করিনি। আসলে কোন কাজ যদি করতে চান, আপনাকে ফোকাস করতে হবে আপনি কোথায় যাচ্ছেন। আপনি যাদেরকে নিয়ে কাজটি করছেন, আমি কী পাব, আর উনি কী পাবেন। কার নাম কতটুকু হবে বা কখন কতটুকু সম্মান পাব। যে মুহূর্তে এই জিনিসটি কারও মনের মধ্যে আসবে, সেই কাজ কোনদিন সফল হবে না, সফল হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘হিপোক্রেসি যদি ঢুকে যায়, ইনসিনস্যারিটি যদি ঢুকে যায় বা নামের জন্য যদি কোন কাজ করা হয় তাহলে সেই কাজ আমি মনে করি সফল হয় না।’

‘রফিক ভাই কাজের লোক ছিলেন। তিনি সবসময় মানুষের মাঝে থাকতে পছন্দ করতেন। শেষের দিকে তার ব্রেইনটি অত নিতে পারেনি’ বলেন আবদুস সালাম।

উপস্থিত সবার উদ্দেশে আবদুস সালাম বলেন, ‘আপনারা যদি কোন কাজ করতে চান, মাদার তেরেসার একটা কথা আমি সবসময় বলি, এটা মনে রাখবেন। উনি বলেছিলেন, দেয়ার আর থিংস দ্যাট ইউ ক্যান ডু, দেয়ার আর থিংস দ্যাট আই ক্যান ডু। বাট টুগেদার উই ক্যান ডু গ্রেট থিংস। অর্থাৎ কিছু কিছু জিনিস আছে আপনি করতে পারেন। কিছু কিছু জিনিস আছে যা আমি করতে পারি। কিন্তু আমরা দু’জন মিলে অনেক বড় কিছু করতে পারি।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসে চলে যান। দ্য মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভারস অব দ্য ওয়ার্ল্ড সোসাইটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রয়াত রফিকুল ইসলামকে নিয়ে একটি স্মরণিকা উন্মোচন করা হয়। বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের সহযোগিতায় এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, দ্য মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভারস অব দ্য ওয়ার্ল্ড সোসাইটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি ও লেখিকা সেলিনা হোসেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্বজিৎ ঘোষ, কবি কাজী রোজী, কবি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম আব্দুল মোমেন, বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান এমকে বাশার, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী বক্তব্য দেন।


Loading...

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};