ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
60
আজ বিশ্ববাসীর প্রামাণ্য ঐতিহ্যিক স্মারক
Published : Saturday, 11 November, 2017 at 12:00 AM
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ-----------
আজ বিশ্ববাসীর প্রামাণ্য ঐতিহ্যিক স্মারকড. আলী হোসেন চৌধুরী ||
বাঙালি জাতির ভাবমূর্তিগত বৈশ্বিক উত্থানে গৌরব ও সম্মানের আরেকটি মর্যাদার ঘটনা ঘটলো। সম্প্রতি জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্যিক প্রামাণ্য স্মারক’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। বাঙালি জাতি হিসেবে তার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে অর্জনগুলো সূচিত হয়েছে তার মধ্যে এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশাল গৌরবের নতুন একটি মাত্রা যুক্ত হলো। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি শুধু মাত্র একটি বক্তৃতা নয়, শুধু মাত্র ক্ষোভ প্রকাশ আর উত্তেজনা নয়। এ ভাষণে একটি জাতির উত্তরণ ও উদ্দীপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বিকশিত জাতি সত্তার নবতর ঐক্য ও সংহতি কে সামনে নিয়ে আসে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল এক ঐতিহাসিক জনসভায় ১৯ মিনিটের ভাষণে বাঙালি জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্বাপর অবস্থা ব্যাখ্যা করেন। তিনি এ ভাষণে স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের সার্বিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম যে যৌক্তিক তার উপযুক্ত ব্যাখ্যাও তিনি প্রদান করেন। তিনি সরাসরি বলেছেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” তিনি তাঁর ঘোষণার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে বাঙালি জাতির বঞ্চনা, নির্যাতন নিপীড়ন, অত্যাচার, হত্যা, খুনের ইতিহাস প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি শত্রুর মোকাবেলা করার জন্য যার যা কিছু আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছেন। হঠকারিতা মূলক কোনো উগ্র সিদ্ধান্ত, কোনো উগ্র কথা তিনি বলেননি। তিনি পাক সেনাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন “তোমরা আমাদের ভাই, তোমরা ব্যারাকে ফিরে যাও কেউ তোমাদের কিছু বলবেনা” এভাবে দৃঢ় ধীরোদাত্ত অথচ বলিষ্ঠ ও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে তাঁর এ ভাষণ তিনি সমাপ্ত করেন। তিনি যা বলেছেন সুস্পষ্ট, যা বলেছেন সরল বাক্যে। তাঁর কণ্ঠ নির্গত শব্দাবলি দৃঢ় স্থির বহুচিন্তিত পরিকল্পিত পরম আত্ম বিশ্বস্ত চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে। যা সামগ্রিকভাবে ছিলো তেজোদীপ্ত। তাঁর এ পরিশীলিত বাক্য ব্যবহারে সমগ্র বিষয়ে আলোকপাত ঘটিয়েছেন। তাঁর এ ভাষণে সমগ্র বাঙালিকে এক ও অভিন্ন রূপে বিস্ময়কর ভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলো। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ এক বিস্ময়। বঙ্গবন্ধুর এ তেজোদীপ্ত দৃঢ়কণ্ঠ বাণী বজ্রকণ্ঠ রূপে চি?ি?ত হয়ে সারা বাংলা ছড়িয়ে পড়ে।
বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ যুগান্তর সৃষ্টি করে। উৎকণ্ঠিত জাতির কাছে সেদিন এটি ছিলো চূড়ান্ত পথ নির্দেশ। একটি জাতির উত্থান পর্বে এমনি ভাষণ কী গভীর প্রণোদনা সৃষ্টি করে।’ কতোটা ঐক্যবদ্ধ করে, কতোটা প্রাণ সঞ্চারী হয়ে ওঠে, কতোটা শক্তির আধার হয়ে ওঠে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। মরণকে পণ করে জীবন কে উৎসর্গ করার মহানব্রত কে বুকে নিয়ে এগিয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা। সবাই দেশমাতৃকার জন্য প্রাণ বিসর্জনের প্রস্তুতি, কী অবাক করা উদ্বেলতা। ভাষণটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিলো অসম সাহসিকতার তীব্র প্রাণপ্রবাহ। এ ভাষণ যেনো সম্মোহন। আত্মসম্মোহনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির চূড়ান্ত আত্মউন্মোচন ঘটে। আজ অহংকারের সাথে মাথা উচুঁ করে তার অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে পারে বাঙালি জাতি। একটি স্বাধীন দেশ, একটি পতাকা, আর সার্বভৌম মানচিত্র আজ বিশ্ব বাঙালির শ্লাঘার ঠিকানা।
কালের বিচারে বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ হাজার বছরের বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাসে নব অভ্যুদয়। একটি জাতির সর্বোচ্চ প্রতিবাদ সর্বোচ্চ উত্থান, সর্বোচ্চ আহবান। পূর্বাপর বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় গৌরবদীপ্ত। বাঙালির সংগ্রারে ইতিহাসে বিজয় গৌরব গাথাঁয় সোনার গাঁয়ে বার ভূইয়া ও ইসা খাঁর ইতিহাস যেমন আছে তেমনি আসে তীতুমীরের নাম, ফকির ও সন্ন্যাস বিদ্রোহ, তে ভাগা আন্দোলন, সাঁওতাল বিদ্রোহ, অগ্নিযুগে বিপ্লবী তৎপরতা। সংগ্রামী বাঙালির বিকশিতও ঐক্যবদ্ধ রূপ ধারণ করতে অবদান রেখেছেন নেতাজি সুভাষ বোস, বাঙালির জাগরণে ভূমিকা রেখেছেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, শের এ বাংলা এ কে ফজলুল হক, কমরেড মুজফ্ফর আহমেদ, মাওলানা ভাসানী, শ্রী মণি সিংহ। এভাবে বহু নেতার কর্মতৎপরতা ও তাদের আত্মনিবেদনে ক্ষুদ্র বৃহৎ নানা আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সংগ্রামী বাঙালির ইতিহাস রচিত হয়। আত্মিকভাবে বাঙালির অন্তর্গত দিক কে নাড়িয়ে দেন বাঙালির কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে বাঙালি চেতনায় একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তুতিও নির্মিত হয়। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতি সত্তার পরিপূর্ণ ঐক্য ও আত্মশক্তি স্ফুরণ ঘটাতে পেরেছিলেন। বহুবছর তাঁর নানামুখী কর্মকা- দুর্বার চেতনার প্রাণকেন্দ্র রূপে চি?িত হয়ে ওঠে। বাঙালির স্বাধীনতা
দুর্লঘ্য নয়, এক অপরিমিত শক্তির উৎস কেন্দ্র হয় এ ভাষণ। তিনি তাঁর এ ভাষণের এক জায়গায় বলেছেন ‘আমরা যখন মরতে শিখেছি কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবেনা;’ ভাষণের প্রতিটি বাণী হয়ে যায় অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। বাঙালি জাতির নিজস্ব একটি অবস্থান দাঁড়ায় বৈশ্বিক পরিম-লে। কারণ বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে ১৯৫২ সালে বাঙালি বিশ্ববাসীকে জানান দেয় বাঙালি জাতি সত্তার অস্তিত্ব। বাঙালি সমীহ অর্জন করে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অন্যান্য জাতির কাছে। তার অনেক আগে ১৯১২ সালে সাহিত্যে নোবেল অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতিকে বিশ্ব সভায় পরিচয় ঘটান। বলা যায় আন্তর্জাতিক বলয়ে বাঙালি ও বাংলা ভাষার এটাই ব্যাপকভাবে ইংরেজিসহ পৃথিবীর অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ হতে থাকে তেমনি বাঙালির কবি কাজী নজরুলের কবিতা ও বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়। এমনটি কবি জসিম উদ্দিনের কবিতা ও ইংরেজি অনুবাদ হয় বিদেশি পাঠকের জন্য, ফলে বাঙলা ভাষা এবং বাঙালির জীবন ভাবনা সমাজ মনস্কতা সামগ্রিক জীবনাচার দেশের বাইরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষেত্রে হলেও পরিচয় লাভ করেন। ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠার লড়াই বাঙালি ও বাংলাকে ব্যাপক পরিচিতি ঘটায় সমগ্র বিশ্বে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা পূর্বেই বিস্তৃতি ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতি সংঘের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাঙলা ভাষা ও বাঙালির মর্যাদায় এক নতুন গৌরবদীপ্ত মাত্রা যুক্ত করেন। যেসব দেশ যারা বাংলা ভাষা সম্পর্কে ধারণা ছিলোনা সেদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ তাদের অপূর্ণতাকে পূর্ণ করে। বিশ্বসভায় বাংলা ভাষা ও বাঙালির গৌরবগাথাঁ রচনা থেমে থাকেনি ক্রমেই অগ্রসর হয়েছে নতুন নতুন প্রেক্ষাপটে যুক্ত হয়েছে আরো গৌরবের মুকুট। বাঙলার ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বিশাল এক কাজ করেছেন ১৯৯৯ সালে। তিনি কানাডা প্রবাসী ছিলেন। তাঁর পদক্ষেপে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে ঘোষিত হয়। জাতিসংঘভুক্ত বিশ্বের ১৮৮ দেশে (এ সংখ্যা বর্তমানে বাড়তেও পারে)। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে পালিত হচ্ছে। এর মূল উদ্যোক্তা কুমিল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম এবং তাঁকে সহযোগিতা করেছে চট্টগ্রামের ছেলে আবদুস সালাম।
গত কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো ঘোষণা করলো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ‘বিশ্বঐতিহ্যের সম্পদ’ রূপে বিবেচিত এবং সংরক্ষিত। এটা এক বড় আনন্দ। বিশাল গৌরব, বাঙালি জাতির জন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বাঙালি জাতির উদগাতা এক অবিসংবাদিত নেতা তাই যেন প্রতিষ্ঠিত হলো বিশ্ব দরবারে। ৭ই মার্চের ভাষণ শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধ নয়। এ ভাষণ একটি জাতির বীরত্ব ব্যাঞ্জক উত্থান। এ ভাষণ বিশ্বের বঞ্চিত, নিপীড়িত, পরাধীন যে কোনো জাতির উৎসাহের এবং উদ্দীপনার প্রণোদনা। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবদ্দশায় নানাবিধ ত্যাগ তিতিক্ষা আর সংগ্রামের ইতিহাস সৃষ্টি করে বাঙালি জাতিকে যা দিয়ে গেছেন তার কোনো তুলনা হয়না। তেমনি তাঁর মৃত্যুর পরও তিনি এ জাতির গৌরবকে অহংকারকে আরো বড় ধরনের উত্তরণে পৌঁছে দিলেন তিনি এ জাতির জন্য আশির্বাদ হয়ে জন্মেছিলেন এ কথা নিশংসয়িত ভাবে বলা যায়। বিশ্বের সমস্ত বাঙালির জন্য শ্লাঘার বিষয় স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়  হয়ে দীপ্যমান হবে সমস্ত বিশ্বের মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ বাঙালি ও তার মুক্তির সংগ্রাম অবিস্মরণীয় ইতিহাস। শত শত বছর লালিত হবে, পঠিত হবে, চর্চিত হবে।
লেখক: ট্রেজারার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা।



Loading...

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Loading...
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};