ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
83
যে স্মৃতি ধূসর হয়নি
Published : Saturday, 11 November, 2017 at 12:00 AM
যে স্মৃতি ধূসর হয়নিশওকাত আহসান ফারুক ।।
৪৩.
নুরউদ্দিন আবাদ মাহামুদ
নাসির মামার কাছ থেকে আরো কিছু স্মৃতি ঝালাই করে নেই।
মামা তখন এন.এস.এফ সেক্রেটারি।
আবাদ নুরউদ্দিন মাহমুদ, আবাদ মিয়া নামেই কুমিল্লায় অধিক পরিচিত, কুমিল্লা সদর থেকে নির্বাচিত এম.এন.এ। ভীষণ দাপুটে লোক, সবাই বলে শের এ আবাদ।
কথিত আছে, যৌবনে চট্টগ্রাম গিয়ে আজাদী পত্রিকার গাড়ি বিক্রয়ে সংবাদ দেখে, ফোন করে গাড়ি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন, বিক্রেতা আবাদ মিয়াকে আসতে বলেন। গাড়ি দেখে আবাদ মিয়ার পছন্দ হয়।
- আমি কি একটু চালিয়ে দেখতে পারি, গাড়িটা কেমন।
বিক্রেতা শিওর বলে চাবি হাতে তুলে দেন, শের এ আবাদ সেই গাড়ি নিয়ে কুমিল্লা এসে পরেন।
#
শের এ আবাদ
ভীষণ সুপুরুষ, চলাফেরায় আভিজাত্য, কুমিল্লা দরোগা বাড়ির সন্তান। সাংস্কৃতিক পরিবেশ বেড়ে উঠা, গোমাস্তা পুরের জমিদার, সোনা মিয়ার ছেলে।
ত্রিপুরার কুমিল্লা শহরসহ চান্দিনা, বুড়িচং, চৌদ্দগ্রাম, লক্ষীপুর পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিলো গোমস্তাপুরের জমিদারী।
খেলার মাঠ, টাউন ক্লাব, নাটক থিয়েটারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। নিজে ছিলেন দক্ষ বিলিয়ার্ড খেলোয়াড়। আমার বাসার পাশে পুলিশ লাইনে ই.পি.আর হেড কোয়াটারের ভেতর ছিলো 'কুমিল্লা সুটিং ক্লাব'।
সেই ক্লাবে, ফজলে রাব্বী ভাইয়ের সাথে নিয়মিত দেখেছি আবাদ মিয়াকে, গুড সুটার, খোলা জীপে চলাফের করেন।
প্রেসিডেন্ট আয়ুব খানের সাথে আবাদ মিয়ার ঘনিষ্ঠতা প্রকট। রাষ্ট্রিয় সফরে অনেক বার আয়ুব খানের সাথে বিদেশ সফরে গিয়েছেন। সেই সময় পাকিস্তানের,  দেশের প্রভাবশালী নেতা।
আবাদ মিয়ার বড় বোনের ছেলে, মঞ্জুরুল ইসলাম সানামের সাথে বন্ধুত্ব আছে বিধায় অনেক বার গিয়েছি সেই বাড়িতে। সাথে কাজী ছোটন, ইমদাদুল হক মূসা, এজাজ রসুল কাওসার, নজরুল ইসলাম, দেখেছি আভিজাত্যের ছাপ।
আবাদ মিয়ার চাচতো ভাইয়ের ছেলে, গিয়াস কামাল চৌধুরী, বেলাল চৌধুরী সেই দারোগা বাড়িতে বড় হয়েছে।
গিয়াস কামাল চৌধুরী জিলা স্কুল ও ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশুনা করেছে।
বিপরীত পাশের বাড়িটা ছিলো, সাট্টুর দুলাভাই এডভোকেট মাহফুজ রহমান, মোনেম দুলাভাইয়ের বাড়ি, খান বাহাদুর সিদ্দীকুর রহমানের ছেলে। হেদায়েত হেদু ও আমি সেই বাড়িতে আপার হাতের পান নিয়মিত খেয়েছি। এখনো সেই স্বাদ লেগে আছে।
#
আমোদ
ফজলে রাব্বী ভাই কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আমোদ পত্রিকার সম্পাদক। আমাকে চিনেন, দেখা হলে বলেন, তোমার মা শেফালী কেমন আছে। আম্মাকে নাম ধরেই ডাকেন। নানা কুমিল্লায় এসে যখন মোক্তারি শুরু করেন রাব্বী ভাইদের বাসায় ভাড়াটে, আম্মার জন্ম মোগলটুলীর সেই বাড়িতে। আবাদ মিয়া ও রাব্বী ভাই কুমিল্লা সুটিং ক্লাবের উদ্যোক্তা।
জনহিতকর কাজে নিজেদের সর্বদা নিয়োজিত  ছিলেন।
#
সম্প্রিতি
সময় ৬২ সাল, একদিন ছাত্রলীগের ছেলেরা আবাদ মিয়ার পালিত ভাগিনা নেসিমকে চৌধুরীকে' টাউন হলে বেদম প্রহার করে, সৈয়দ রেজাউর রহমান, আফজল খানসহ অনেকেই সেখানে  ছিলেন।
নেসিম থানায় কেস টুকে দেয়। আফজল খানসহ অনেকের নামে ওয়ারেন্ট, শহরে উত্তেজনা। সবাই নাসির মামাকে ধরে।
নাসির তুমিই পারবে, একমাত্র আবাদ মামাকে সমাল দিতে, আবাদ মামা তোমার কথা রাখবে।
মামা আমতা আমতা করে মোসলেউদ্দি মামাসহ, এলেন দারোগা বাড়িতে।
- আবাদ মামা সকালে টাউন হলে নিজেদের মাঝে ভুলবোঝা বুঝি হয়ে গেছে, আমরা সবাই  একসাথে চলি, নেসিম, রেজা, আফজল, মোসলেহ্উদ্দিন, মুকুল।
- নাসির তুমি গোবিন্দপুর  খান বাড়ির আফজলের নামে সুপারিস করতে এসেছো, তুমি কি তাদের চেননা, ওরা কেমন।
- মামা, গোবরেও পদ্মফুল ফুটে, আফজল ভালো ছেলে, ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছি, মামা এবারের মতো ঝামেলা  শেষ করে দেন, নেসিমের সাথে আমরা মিটমাট করে নেবো।
- তুমি এসেছো বলে বলে মেনে নিলাম, যাও থানায় আমি ফোন করে দেই।
সেই সময় হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন' নিয়ে, সারা দেশে ছাত্র আন্দোলন চলছে। যে যেই দলই করুক দিনশেষে সবাই একই আড্ডায়। খুবই সম্প্রিতির শহর  আমাদের কুমিল্লা।
#
ওয়ালাইকুম সালাম
সকালে আবাদ মিয়ার বাড়ির সামনে ভিড়, বিভিন্ন তদবির নিয়ে এসেছে।
এখনো যেমন জন প্রতিনিধীর বাড়ির সামনে যেমন ভিড় থাকে, ভখন এতোটা ছিলো না।
কেউ এসেছে মারামারির বিচার চাইতে।
কেউ এসেছে জমির সংক্রান্ত ঝামেলা নিয়ে।
কারো বউ পালিয়েছে।
কেউ এসেছে হাসপাতালে রোগী টাকা সাহায্য নিতে।
কেউ এসেছে ছেলেকে রাতে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে, ওসিকে বলতে হবে।
- তোর কি হয়েছে।
- হুজুর পোলাডারে গতরাতে পুলিশে তুইল্লা নিছে, তার কোন দোষ নাই নাইট শো দেইখ্যা  বাড়ি আইতেছিলো, এখন থানায়, ওসিরে কইয়া দেন, ফোন কইরা।
- এই নেসিম ওসিরে না,  ডিসিরে ফোন লাগা, তোর ছেলের নাম কি,
- মোহম্মদ সফিক।
যথারীতি নেসিম ডায়েল করে, মামা ডিসি সাহেব লাইনে।
- ওয়ালাইকুম সালাম, ভালো আছি, হাহাহা, রাতে ক্লাবে দেখা হবে। ডিসি সাহেব এস.পি সাহেবকে বলেদেন ওসিরে যেন বলে দেয়, আমার এলাকার ছেলে সফিক নির্দোষ, রাতে টহল পুলিশ তুলে নিয়েছে।
ওয়ালাইকুম সালাম।
- যা বলে দিয়েছি, ছেলেকে রাতে ঘুরাফেরা করতে দিবিনা।
মজার বিষয় সেই টেলিফোনে কোন কানেকশন ছিলো না। এমনি ক্যারিশমা ছিলো। এভাবে নিয়মিত অনেক টেলিফোনে তিনি করেন। সবাই খুশী হয়ে বিদায় নেয়।
শুধু খুব জরুরী ফোনগুলো, পরে করে দিতেন, নিজের রুমে  এসে।
এতই ক্যারিশমা ছিলো, সেই সময়ে নুরউদ্দিন আবাদ মাহমুদ, আবাদ মিয়ার।
এখনো চলে তদবির যুগে যুগে এর কোন পরিবর্তণ হয়নি।
#
বাতিঘর
চট্টগ্রামের কুতবদিয়া দ্বীপে বাড়ি প্রফেসার গোলাম সোবহান
সম্ভবতঃ ১৯৬০ সালের ঘুর্নিঝড়ে স্যারের বাড়িঘর সাগরের ভেসে যায়। কুতুবদিয়ার নাম তখই জানি। বইয়ে পড়েছি কুতুবদিয়া বাতিঘর আছে। সেই বাতিঘরের মানুষ কুমিল্লা এসে ভিক্টোরিয়া কলেজে রসায়ন বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন, বিভাগীয় প্রধান।
আমাদের আপন লোক, ছেলে খোরশেদ আমার ভাল বন্ধু।
জৈব রসায়ন পড়ান, বেনজিন রিং পড়াচ্ছিলেন। সব জৈব পদার্থের মূলে থাকে সেই রিং স্যারের কাছে জেনেছি, জৈব রসায়নের ব্যাপকতা কথা বেশ ভালো করে বুঝিয়েছেন।
বিজ্ঞান ভবনের গ্যালারিতে আমাদের ক্লাশ, প্রায় ৫০০ ছাত্র এক সেকশনে, সময় ১৯৭০ সাল।
কথপোকথন হতেই পারে, একদিন পেছনের বেঞ্চে বসে কেউ কেউ কথা বলছে, স্যারের নজরে এলো। এমন আরো হয়েছে, সেদিন স্যার নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেননি।
রেগে আগুন, ভাষা সপ্তমে চরে গেলো।
ছেলেটার নাম মনে নেই, স্যার রেগে আগুন, বদমেজাজি শুনেছি সেদিন দেখেছি।
তিরস্কার, ভৎসনা ডাস্টার ছুড়ে দেয়া কোনটাই বাদ যায়নি।
এ' সেকশনে ক্লাশ নেবেন না বলে চলে যান।
আমরা কথাদেই, ক্লাশে আর কখনো হৈ চৈ করবো না, তারপর স্যারের রাগ নেমে আসে, ক্লাশ নেয়া শুরু করেন।
এতই মুডি ছিলেন, এমনিতে সবার সাথে হেসেই কথা বলেন,  কেউ কিছু না বুঝলে ক্লাশ শেষে টিচার্স রুমে দেখা করতে বলেন।
সবই ঠিকঠাক তবুও হঠাৎ!
#
ইমপিচম্যান্ট
ঘটনাকাল ১৯৬২/৬৩ মুরাদনগরের রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএসসি ফাইনাল ইয়ারে রসায়ন ক্লাশে তিরস্কৃত হন, কথা বলার অপরাধে।
ভৎসনা, সপ্তমে চলে গিয়েছে, সচেতন যুবক দুদিন পরে গ্রেজুয়েট হবে, আত্ম সম্মানে লেগেছে। বাস্ টেমপার লস্। ক্লাশের সবাইকে সংঘটিত করে, শ্লোগান দিয়ে ক্লাশ বর্জন করেন, গোলাম সোবহান কে কলেজ থেকে বহিস্কারের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যান।
নাসির উদ্দিন আহম্মদ, মামা তখন কলেজের ভারপ্রাপ্ত জিএস।
- নাসির তুমি সব ব্যবস্থা করো আমি সাধারন ছাত্রের সাক্ষর নিয়েছি, এরকম বদমেজাজি টিচারের ইমপিচম্যান্ট চাই। গভর্নিং বডির কাছে রিপোর্ট করবো, ক্লাশে গালাগালি।
- রফিক মাথা ঠান্ডা করো আমি দেখছি।
মামা সব দেখে কি করবে ভাবছে, চলে এলেন বাসায়, বাবার কাছে।
- দুলাভাই আমি কি করবো, রফিক খেপে গেছে, ছাত্র ছাত্রীদের সাক্ষর নিয়েছে, স্যারের ইমপিচম্যান্ট চায়।
বাবা সেই রিপোর্ট দেখে নিজের কাছে রেখে দিয়ে বলেন,
- নাসির তুমি যাও আমি দেখছি, আমাদের সময়ও এমন হয়েছে, তাই বলে, ইমপিচম্যান্ট, হতে পারে না, স্যার সাদা মনের মানুষ, তবে মাঝে মাঝে রেগে যায়, তখন মুখে য়া আসে তাই বলে, আমরা সবসময় এগুলো ইগনোর করে এসেছি। আমি রফিককে বুঝিয়ে বলবো।
এ'দিকে সারা কলেজে খবর রটে গেছে, গোলাম সোবহানের বিরুদ্ধে, রিপোর্ট চলে গেছে উপরে।
প্রফেসার শফিকুর রহমান তখন কলেজের অধ্যক্ষ।
#
বতিঘরের মানুষ গুলো
নসির মামা কেবিনেট রুমে বসে আছে, রসায়ন বিভাগে বেয়ার এসে খবর দেয় স্যার আপনাকে ডাকছে, ভাবছে, দুলাভাই আবার ডাকছে কেন?
আবার কি হলো, গিয়ে দেখেন বাবা ও গোলাম সোবহান স্যার বসে আছে, আর কেউ নেই।
- নাসির তুমি কলেজের জিএস, আমার ইমপিচম্যান্টে তুমিও জড়িয়েছো? তোমাদের সাথে আমার পারিবারিক সম্পর্ক।
আলী হোসেন আমার সবচেয়ে কাছের লোক, আমি আলী হোসেনকে ইলিয়টগঞ্জ থেকে ডেকে এনে চাকুরী দেই। আমার  আজ এটাও দেখতে হলো, ভেবেছো কি আমি নিজেই রিজাইন করবো, থাকবো না কুমিল্লা।
- স্যার, আপনি শান্ত হোন, এরকম কিছুই ঘটেনি, দুলাভাই, সব সামাল দিয়েছেন, তিনি না থাকলে জানিনা কোন দিকে ব্যপার গড়াতো, আমার কাছ থেকে সব রিপোর্ট সেদিনই দুলাভাই নিয়ে গেছে, জমা দেবার সুযোগ দেয়নি।
রফিককে ডেকে বুঝিয়ে বলেছে, রফিক দুলাভাইয়ের কথা রেখেছে। বাবা  তখন নিজের কাছে গচ্ছিত  রাখা সেই কাগজপত্র বের করে, স্যারের হাতে দেন।
স্যার বিস্মিত হয়ে আলী হোসেনকে বুকে জড়িয়ে নেন, আশ্বস্ত হলেন।
- জানি নাসির তুমি আমার বিপক্ষে যাবে না।
নিজেকে আড়াল করে রুমাল দিয়ে স্নেহের দু'ফোটা জল মুছলেন।
বাবা নিজের শিক্ষকের একটুও মর্জাদাহানী হতে দেয়নি।
অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান, অন্যান্য  শিক্ষক, রফিকুল ইসলাম মিয়া, ও ছাত্র নেতাদের সাথে লিয়াজো করে অত্যান্ত বিচক্ষণতার সাথে, সেই ইমপিচম্যান্ট সামাল দিয়েছেন।
সব সময় দেখিছি, যে কোন প্রতিকূল অবস্থা ধৈর্য সহকারে সমাল দিতে।
কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মনিন্দ্র চন্দ্র দেব। ম্যাথমেটিকসে গোল্ড মেডেলিষ্ট, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, স্যার পরীক্ষা শতভাগ নম্বর পেয়েছিলেন, সেই রেকর্ড  কেউ ভাঙতে পারেনি।
মনোহরপুরের সেই বড় বাড়িটা চোখের সামনে ভাসছে, মনেআছে গেটে দূটো সিংহের মূর্তি ছিলো। অনেক গিয়েছি বাবার সাথে। '৬৫ যুদ্ধের পর চলে যান কলিকাতা। যাবার সময় মনিন্দ্র দেব স্নেহের ছাত্রকে  ৪ টি বড় কাঠের চেয়ার, একটি টেবিল, একটি ছোট কাঠের বই  রাখার আলমারি দিয়ে বলেছেন আলী হোসেন তোমার ছেলে মেয়েরা এই চেয়ার টেবিলে বসে লেখাপড়া করবে, নিজের বানানো বার্মাটিকের,  আমার নিজের ব্যবহৃত, তোমার কাছে যতেœ থাকবে।
সেই চেয়ার টেবিল গুলো এখনো কুমিল্লার বাসায় আছে।
মনিন্দ্র চন্দ্র দেব সেই সময়, সোবহান স্যারের বিপদের সময় বেশ সহযোগিতা করেছেন।
ফিজিক্সের পিকে রায়, সেকান্দর আলী, শওকত আলী, মোবাশ্বের আলী, লায়লা নুর, সফিকুর রহমান, ফজলুল হক, শমসের আলী, সবাইকে কাছ থেকে দেখেছি, সাদামনের শিক্ষকদের।
#
নির্মল আড্ডা
কলেজের শিক্ষক গন নিয়মিত বাসায় আসতেন, হোন্ডা চালিয়ে বাংলার নুরুল ইসলাম, নানুয়া দীঘির পাড় থেকে রসায়নের ফজলুর রহমান, কমার্সের মোহম্মদ তোহা, আলী হয়দার চৌধুরী, রসায়নের ওয়াহিদুজ্জমান, ম্যাথের রজ্জব আলী, রসায়নের সুলতান আহম্মেদ, ইংরেজির এন জি রায়, অংকের কে কে রায়, কমার্সের সিদ্দিকুর রহমান, বাংলার জমির উদ্দিন ও বদরুল হাসান, ইতিহাসের মমিনুল হক, রসায়নে সিরাজুল ইসলাম, ইসলামের ইতিহাসের আমার খালু হারুনুর রশিদ, রসায়নে দেলোয়ার হোসেন, ইউনুস, ফিজিক্সের আবদুস সালাম, ইংরেজির লুৎফুর রহমান স্যার এ'কজনের মুখগুলো বেশ মনে পরছে। মনে হয় এখোন আড্ডা দেয় আমাদের ঝাউতলার টিনের ঘরে।
সবার সাথেই দেখেছি বাবার আন্তরিক সম্পর্ক। কখনো উচ্চ কন্ঠে কথা বলতে শুনিনি, নুরুল ইসলাম স্যার বাবাকে ঠান্ডা মিয়া, বলেও সম্বোধন করতে শুনেছি।
ফজলুল করিম স্যার কলেজের পুরনো শিক্ষক, এখন ভাইস প্রিন্সিপাল, সহপাঠী  এনামুল করিম রঞ্জুর বাবা। মোগলটুলিতে বাসা মাকে ছোটবেলা থেকে চিনে। আমাকেও বেশ স্নেহ করেন, বাবাকে জামাই বলেই ডাকেন।
সেদিন গোলাম সোবহান স্যারের ব্যপারে তিনি যথেষ্ট  ভালো ভুমিকা রেখেছেন।
মাঝে মাঝে এসেছেন বাবার বন্ধু রসায়নের অধ্যাপক, প্রিন্সিপাল এমএ করিম।
বাসায় ছুটির দিনে ব্রিজ কম্পিটিশন কলিগদের সাথে, প্রায়ই চলে। মনে হয় এখনি কল দিবে কেউ।
ফোর নোট্রাম।
বাবা সেই সময় ডিগ্রি কলেজ ছাত্রাবাসের সহকারী সুপার।
বাতিঘরে মানুষগুলো সেই সময়ে আমাদের এভাবেই আলোকিত করেছে।
কুমিল্লা সত্যিই বাতিঘর, আমরা আলোকিত।
#
চলবে।





Loading...

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Loading...
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};