ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
90
পাসপোর্ট আইনের খসড়া তৈরি
Published : Thursday, 12 October, 2017 at 12:00 AM
প্রত্যাহার করা হবে পাঁচ বছর
সাজাপ্রাপ্তের পাসপোর্ট
গুরুতর অপরাধ বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের কারণে পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তির পাঁচ বছরের কারাদ- হলে তার পাসপোর্ট ফিরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব রেখে পাসপোর্ট আইনের খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ও দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে পাসপোর্ট না দেয়ারও বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়া আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ পাসপোর্ট আইন, ২০১৭’।
খসড়ায় বলা হয়েছে, পাসপোর্ট আইন বা এ-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আদেশ বা সিদ্ধান্তের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তবে সরকারের আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল চলবে না। কিন্তু সরকার তার এ ধরনের আদেশ নিজ কর্তৃত্বে বা আবেদনকারীর আবেদনক্রমে পুনর্বিবেচনা করতে পারবে। খসড়ার এ অংশটি বিভ্রান্তিকর বা অস্পষ্ট কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, তেমন হলে বিধিতে তা স্পষ্ট করা হবে।
পাসপোর্ট ও ট্রাভেল ডকুমেন্ট-বিষয়ক প্রচলিত আইন যুগোপযোগী করার জন্য এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় আইনে পরিণত করার জন্য পাসপোর্ট আইনের খসড়া করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা। বর্তমানে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশের মাধ্যমে। বিভিন্ন সময় নির্বাহী আদেশে সরকার পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিধিনিষেধও জারি করেছে। খসড়া আইনে এসব বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, পাসপোর্টের আবেদনকারী যদি দালাল আইন নামে পরিচিত ‘দ্য বাংলাদেশ কোলাবোরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল) অর্ডার’-এর অধীনে দ-প্রাপ্ত হন তাহলে তাঁকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির যেসব সদস্য পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করে এবং নিজেরাও সরাসরি অপরাধ সংঘটিত করে তাদের বিচারের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি ওই আদেশ জারি করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই আইনের আওতায় মামলা হয়েছিল দুই হাজার ৮৮৪টি। ওই সব মামলায় মৃত্যুদ-, যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল ৭৫২ জনের। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর দালাল আইন বাতিল করার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদেরও কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
‘দি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ তথা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের অধীনে দ-প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামেও পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু না করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে খসড়া আইনে। মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, যদি আবেদনকারী মানি লন্ডারিং, মানবপাচার, মাদকদ্রব্য বা অস্ত্রোপচার ব্যবসায় জড়িত থাকার যুক্তিসংগত প্রমাণ মেলে তাহলে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে না। সুরক্ষা সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা সরকার যদি বুঝতে পারে পাসপোর্টের আবেদনকারী বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অখ-তার বিরুদ্ধে কোনো কাজে জড়িত হবেন তাহলে তাঁকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে না। সরকার কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ তথ্য জানতে পারে।
এই বিধান বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করার হাতিয়ারে পরিণত হবে কি না জানতে চাইলে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে সরকারের কাছেও এ ধরনের একটি হাতিয়ার থাকা দরকার। কারণ বিভিন্নজন বিভিন্ন সময় বিদেশে নানা ধরনের সভা-সেমিনারে অংশ নিয়ে দেশবিরোধী বক্তব্য-বিবৃতি দেয়। এসব বন্ধ করার জন্য এ বিধান জরুরি বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তারা।
খসড়া আইন অনুযায়ী, কয়েকটি কারণে পাসপোর্ট অধিদপ্তর পাসপোর্ট আটক বা প্রত্যাহার করতে পারবে। পাসপোর্টে মৌলিক কোনো তথ্য গোপন করলে বা ভুল তথ্য দেওয়া হলে পাসপোর্ট প্রত্যাহার করার এখতিয়ার পাসপোর্ট অধিদপ্তরের থাকবে। কোনো পাসপোর্টধারী পাসপোর্ট গ্রহণ করার পর কোনো গুরুতর অপরাধ বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের কারণে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদ-ে দ-িত হন তাহলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তাঁর পাসপোর্ট প্রত্যাহার করতে পারবে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, একজনের ভিন্ন নামে একাধিক পাসপোর্ট থাকলে ন্যূনতম এক বছর বা সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদ- এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদ- হবে। পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশে গেলে বা যাওয়ার চেষ্টা করলে তারও একই সাজার বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়। এ ছাড়া পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য দিলে, অন্যের পাসপোর্ট ব্যবহার করলে এ শাস্তি ভোগ করতে হবে।
খসড়া মতে, যদি কেউ পাসপোর্ট পাচার করে অর্থাৎ অন্যের বা নিজের পাসপোর্ট বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে পাচারের বা অন্য কোনো অপরাধ করার জন্য প্রেরণ করে তাহলে তার ন্যূনতম দুই বছর এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদ- হবে। সেই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদ- হবে।
খসড়া আইনে বিচারকাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার কাজ শেষ করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আরো ৬০ দিন সময় নিতে পারবেন। তবে এ-সংক্রান্ত একটি ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদন পাঠাতে হবে মহানগর দায়রা জজ বা জেলা ও দায়রা জজের কাছে।




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};