ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
1479
মিড ডে মিল: শিক্ষা বিস্তারে এক বিকাশমান হাতিয়ার
মো: জাহাংগীর আলম
Published : Tuesday, 10 October, 2017 at 12:36 AM, Update: 10.10.2017 7:49:46 PM
মিড ডে মিল: শিক্ষা বিস্তারে এক বিকাশমান হাতিয়ারসামাজিক বিকাশের জন্য আর্থিক পুঁজির বাইরেও প্রয়োজন সামাজিক পুঁজির যা হলো সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সুশীল আচরন, মানবিক গুণাবলী ইত্যাদি-যার বিনিয়োগ আমাদের বাহ্যিক উন্নয়নকে মেরুদন্ডের মত টেকসইভাবে ধরে রাখে। আর সামাজিক পুঁজি অর্জনের সর্বোত্তম পন্থা হলো শিক্ষা। সামাজিক, পারিবারিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও হয়ে ওঠেছে সামাজিক পুঁজি অর্জনের অনন্য মাধ্যম।  কিন্তু শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সুস্থ শিক্ষার্থী। সুস্থ দেহ-মনের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো অপুষ্টি। ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী, সেইভ দ্যা চিলড্রেনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে অপুষ্টির দিক থেকে শীষে অবস্থান করা দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে বারবার। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর ১৯৯৯ সালের Nutrition Country Profile শীর্ষক সমীক্ষামতে বাংলাদেশের প্রায় ৫৪% প্রাক-বিদ্যালয়গামী শিশু অপুষ্টির শিকার  ছিল। সেইভ দ্যা চিলড্রেনের ২০১৫ সালের Malnutrition in Bangladesh, Harnessing Social Protection for the Most Vulnerable প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে যে ৬ মিলিয়ন শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। সরকার ও আন্তার্জাতিক দাতা সংস্থাসমূহের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিশু  অপুষ্টির হার ১৯৯৭ সালের ৫৫% থেকে বর্তমানে ৩৬% এ নেমে এসেছে (Critical Issues in Child and Maternal Nutrition, BIDS, 2017) । অপুষ্টিতে ভোগা দরিদ্র শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার হার কম ও অর্জিত শিক্ষার মান নাজুক হওয়ায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচীর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথম মিড-ডে মিল প্রবর্তন করা হয় বরগুনা জেলার বামনা উপজেলা ও জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায়। পরবর্তীতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ নানা পক্ষের সার্বিক প্রচেষ্টায় মিড ডে মিল কার্যক্রমটি আলোর মুখ দেখতে পায়।
বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার কেবল শিক্ষার্থীদের অপুষ্টির হাত থেকেই রক্ষা করেনা, বরং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।প্রথমত, অপুষ্টি দূর করা মানেই একজন সুস্থ সবল শিক্ষার্থী, যার শিক্ষার্জনের স্পৃহা, সক্ষমতা অপুষ্টিতে ভোগা শিক্ষার্থীর চাইতে অনেক বেশী। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের বহু পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তাদের কাছে শিক্ষার্জনের ব্যাপারটি দুসাধ্য। কিন্তু যখন সেই পরিবারের একটি সন্তান স্কুলে গিয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি তৃপ্তি সহকারে খেতে পারছে তখন  সেই সন্তানটিকে আর  পরিবারের বোঝা মনে হচ্ছেনা। ফলে স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তৃতীয়ত, পুষ্টিসমৃদ্ধ সুস্থ শিশু মানেই আগামী দিনের সুস্থ, বিকশিত, সচেতন নাগরিক যারা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ সামাজিক পূঁজি গঠনে মূল্যবান ভূমিকা রাখবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়,জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন-এ তিন পক্ষের উদ্যোগে সরকারী অর্থায়নে বাংলাদেশের ৯২ টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে । এ কার্যক্রমের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৭৫ গ্রাম ওজনের বিস্কুটের প্যাকেট দেয়া হয় ,যা পুষ্টিমান সমৃদ্ধ ।
    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এ কার্যক্রমের সুফল সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। পুষ্টি সমৃদ্ধ বিস্কুট শিক্ষার্থীদের নিয়মিতও সময়মত স্কুলে উপস্থিত হতে উদ্বুদ্ধ করে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করে। এ কার্যক্রমের আওতাভূক্ত স্কুলগুলোতে স্কুল ফিডিং বহির্ভূত স্কুলগুলোর তুলনায় উপস্থিতির হার বেশী। দেখা গেছে স্কুল ফিডিং এর ফলে এলাকার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের উন্নতি  ঘটেছে এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ বিস্কুট সরবরাহ শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া হ্রাস পেয়েছে।    

তবে এ কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অনুদানের অভাব, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু সব সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে যুগে যুগে কেবল সদিচ্ছাই যে জয়লাভ করেছে তার প্রমাণ রয়েছে এ কার্যক্রমটিতেও। গত ৭ নভেস্বর, ২০১৫ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় 'সবাই মিলে মিড-ডে মিল' শিরোনামে একটি ফিচার প্রকাশিত হয় যাতে ওঠে আসে নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের চারভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সহযোগিতায় সফল মিড ডে মিল কর্মসূচীর রূপকথা। সেখানে নিজেদের উদ্যোগে গড়ে ওঠে বিদ্যালয়ের সভাপতির দান করা জমিতে পেঁপের বাগান আর পুকুরে হাঁস চাষ। যে অর্থ দিয়ে পরিচালিত হয় একটি সফল মিড ডে মিল। ১০ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে কেরানীগঞ্জের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের  নিজের লেখায় উঠে আসে তাদের স্থানীয় উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া মিড ডে মিলের গল্প। এমন অজস্র সফল গল্প রয়েছে সারা দেশের আনাচে-কানাচে। অর্থ্যাৎ, সদিচ্ছা থাকলে আমরা স্থানীয় পর্যায়ের ছোট ছোট উদ্যোগ মিলিয়ে একসময় বৃহৎ জাতীয় অর্জন হিসেবে দেখতে পারি এ কার্যক্রমটিকে।
বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় বিদ্যালয় ম্যনেজিং কমিটির সদস্যমন্ডলী, বিদ্যোৎসাহীগণ, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকগণের সম্মিলিত সহযোগিতা ও অর্থায়নে মোট ৪৪৩টি বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচী চালু রয়েছে যার সুবিধাভোগী হলো ৭২,৯৭৯ জন শিশু। এর ফলে উক্ত বিদ্যালয়সমূহে ঝরে পড়ার হার হ্রাস, উপস্থিতির হার বৃদ্ধিসহ লেখাপড়ায় মনোযোগ বেড়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) এর মানসম্মত ও সুষম শিক্ষার যে লক্ষ্যমাত্রা বিশ্ববাসী স্থির করেছেন সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশীদার আমরাও। ক্ষুধা ও অপুষ্টিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন সৃজনের মাধ্যমেই সম্ভব অর্জন মানসম্মত সার্বজনীন শিক্ষা যা এগিয়ে নিয়ে যাবে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে।

লেখক:
মো: জাহাংগীর আলম
জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা।




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};