ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
81
প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা ও অর্জন
Published : Monday, 9 October, 2017 at 12:00 AM
প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা ও অর্জনমোস্তফা হোসেইন ||

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরলেন শনিবার। আওয়ামী লীগ ঘটা করে তাকে সংবর্ধনা জানিয়েছে বিমান বন্দরে। হাজার হাজার মানুষ নৌকা ও ব্যানার নিয়ে দুই পাশে দাঁড়িয়ে নেত্রীকে সংবর্ধনা জানিয়েছে। সুন্দরই লেগেছে সেই দৃশ্য। দৃষ্টিকটু ছিলো দুর্ভোগের চিত্রও। দুটি ধারাই বাস্তব।

এরমধ্যে হিসাব চলছে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যে তৎপরতা চালিয়েছেন তার ফলাফল নিয়েও। প্রথাগতভাবে বিরোধী শিবির থেকে এই সফরকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। তবে এটা ঠিক, বিরোধী শিবির থেকে উত্থাপিত মন্তব্যগুলো দেখে মনে হতে পারে তারা সমালোচনা করার জন্যই সফরকে ব্যর্থ হিসেবে গণ্য করছে।

এমন একসময় তিনি আমেরিকায় গেলেন যখন দেশ প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় দিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। আর তাদের মিয়ানমারে ফেরৎ পাঠানোর জন্য বিশ্বসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যও এই সফরকে কাজে লাগানো ছিলো অপরিহার্য। বলতে দ্বিধা নেই সেই কাজটি তিনি ভালোভাবেই করতে পেরেছেন। তার বক্তব্যের অধিকাংশ জায়গাজুরে ছিলো রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ। মিয়ানমারে তাদের জীবন বিপন্ন হওয়া এবং বাংলাদেশে মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি তিনি খোলামেলাই বলেছেন। বলেছেন বাংলাদেশের জন্য কষ্টকর হলেও ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। বিশ্বের বেশ কিছু ক্ষমতাধর রাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন। এবং তার ভূমিকার জন্য সেখানেই তাকে মাদার অব হিউমিনিটি হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। একইসময় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকটি ছিলো উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানানো হয় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য যেন আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হচ্ছে তা বন্ধ করতেও আহ্বান জানানো হয়।

সেই আলোকেই মিয়ানমারের নেত্রী অং শান সু চির দফতরের একজন মন্ত্রীও বাংলাদেশ সফর করে গেছেন অতি অল্প সময়ের মধ্যেই। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পরিকল্পনাও হয়েছে সেই সুবাদে। জাতিসংঘে অবস্থানকালেই জাতিসংঘের মহাসচিব মিয়ানমার সমস্যা সমাধানে বিশ্বসমাজকে উদাত্ত আহ্বান জানান। একইসময়েই ইউনেস্কো ও শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনও অত্যন্ত জরুরী সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে দাতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিস্থিতির বর্ণনা করেন। সবাই তার গৃহীত পদক্ষেপে প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গটি আবারো প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বিশ্বসমাজে উপস্থাপিত হলো। অন্তত বিশ্ববাসী জানতে পেরেছে, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি এখন আর কাগুজে হিসাবেই স্থির নেই। ধীরে ধীরে তা এখন বাস্তবে রূপ লাভ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সরকারি সহযোগিতা এবং বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। জলবায়ূ পরিবর্তন জনিত কারণে বাংলাদেশ যে বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেই বিষয়টি আগে থেকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্ব ফোরামে তোলে ধরা হচ্ছে। তিনি সেই বিষয়টিও আবার জানিয়ে দিয়েছেন তার বক্তৃতায়।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়নচিত্র ফুটিয়ে তোলার সর্বোত্র চেষ্টা করে সফল হয়েছেন এটা দেশ বিদেশের মানুষ লক্ষ্য করেছে। একইসময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার দুরদৃষ্টি সম্পন্ন মনোভাবও ফুটে ওঠে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য তাঁর উদাত্ত আহ্বান, ফিলিস্তিনীদের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। তার এই মনোভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির প্রতিফলন দেখা গেছে।

মিয়ানমারের সমস্যার দায় পড়ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। শুধু তাই নয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে অবৈধ হেলিকপ্টার চালানোর পরও তিনি সেখানে মিয়ানমারের প্রতি কোনো আক্রমানত্বক ভাষা ব্যবহার না করে শান্তিপূর্ণ পথকে বেছে নিয়েছেন। দেশে ফেরার পরও তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এটা বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। দশ লাখ মানুষের বোঝা কাঁধে নিয়ে এই মুহূর্তে কারো সঙ্গে সংঘাতে গেলে যে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে সেটা বোঝা যায় সহজেই। এই পরিস্থিতিতে তিনি মিয়ানমারকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আহ্বান জানিয়ে শান্তির দূতের মতো কাজই করেছেন বলা যায়।

মিয়ানমারের নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে জাতিসংঘের দাতা সংস্থাগুলোসহ বিশ্বসমাজ যেভাবে এগিয়ে এসেছে তাতে মনে করা যায় বাংলাদেশ পররাষ্ট্র বিষয়ক কর্মকা-ে মোটামুটি সফল হিসেবে দাবি করতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের দুইবার শরনার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শনের বিষয়টি। তাদের এই পরিদর্শনের পর নিজ নিজ দেশে প্রতিবেদন পাঠানোর মাধ্যমে বিষয়টির গুরুত্ব বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় বর্ণিত বিষয়গুলো তাই প্রমাণিত হয়।

আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ফুটে উঠেছে তার সংক্ষিপ্ত অথচ গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ মাধ্যমে। এখন অপেক্ষার পালা সেগুলো কার্যকর হওয়ার দিকে।

লেখক- সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক।

মুঠোফোন -০১৯১৮১৮৮৯৪৮

 



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};