ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
82
ড.আখতার হামিদ খান এক কিংবদন্তী নায়ক
Published : Monday, 9 October, 2017 at 12:00 AM
সালাহ উদ্দিন আহমেদ ||

ইঅজউ- এর পূর্ণ নাম ইধহমষফবংয অপধফবসু ভড়ৎ জঁৎধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ।  বাংলায় বাংলাদেশ পল্লী  উন্নয়ন একাডেমী, বার্ড (ইঅজউ) নামেই তার পরিচিতি। কুমিল্লা শহর হতে ১০ কিলোমিটার এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা বাইপাস নন্দনপুর হতে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই আর শালবন পাহাড়ের পাদদেশে কোটবাড়ীর নয়নাভিরাম সৌন্দর্যম-িত সবুজ গ্রামীণ পরিম-লে ১৫৬ একর জমির উপর একাডেমীর অবস্থান।

পল্লীর জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন বিষয়ক গবেষণা ও প্রয়োগিক গবেষণা পরিচালনা এবং গবেষণা লব্দ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োগের জন্য সরকারের  কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৫৯ সালে এই একাডেমী যাত্রা শুরু করে। কুমিল্লা পদ্ধতির জনক, কুমিল্লাবাসীর শ্রদ্ধেয়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ, পা-িতে বিদগ্ধ, পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত, বিশ্ব নন্দিত সমাজ বিজ্ঞানী ড. আখতার হামিদ খান এই একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

এ মহান ব্যক্তি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই ভারতের উত্তর প্রদেশের বেরিলীর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৩৪ সালে তদানীন্তন বৃটিশ ভারতের সর্বোচ্চ সম্মানজনক ‘আইসিএস’ চাকুরী লাভ করেন। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে দুর্যোগ আক্রান্ত মানুষের সাহায্যের বিষয়ে বৃটিশ সরকারের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে নীতিগত ভাবে মত পার্থক্যের কারণে লোভনীয় আইসিএস চাকরি হতে তিনি ইস্তফা প্রদান করেন। অতঃপর ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তাঁর জীবন কেটেছে বড় বিচিত্রভাবে । তিনি কখনো তালামিস্ত্রী, কখনো কাঠ মিস্ত্রী, কখনো পত্রিকার সম্পাদক, কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পদে চাকরি করেন। ১৯৫০ সালে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত হন।  অধ্যক্ষ হয়েই তিনি সম্পৃক্ত হলেন দেশের মাটি ও মানুষের সাথে। এ দেশের গরিব কৃষক, তাদের সন্তানদের শিক্ষা, জীবনের দুঃখজনক অকাল  সমাপ্তি, দুর্ভিক্ষ, ফসলহানি ইত্যাদি সমস্যাগুলো তিনি প্রত্যক্ষ করেন এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ এ সত্যটি তিনিই সর্বপ্রথম উপলদ্ধি করেছিলেন। এ সত্যটি মাথায় রেখে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন করলেন ‘কুমিল্লা পদ্ধতি’। ছয়টি উপাদান দিয়ে তিনি এই পদ্ধতি গঠন করেনঃ (১) থানা ট্রেনিং এবং ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (টিটিডিসি) যা বর্তমানে উপজেলা কমপ্লেক্স, (২) রুরাল ওয়ার্ক্স প্রোগ্রাম যা বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), (৩) থানা ইরিগেশেন প্রোগ্রাম (টিআইপি) যা বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সাথে সম্পৃক্ত (বিএডিসি), (৪) থানা সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ এসোসিয়েশন, যা বর্তমানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, (৫) ইমাম প্রশিক্ষণ যা বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং (৬) পরিবার পরিকল্পনা যা বর্তমানে পরিকল্পনা অধিদপ্তর নামে পরিচিত। কুমিল্লা পদ্ধতি এদেশের গরিব জনসংখ্যার ভাগ্য উন্নয়নে একটি বাস্তব ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং  একই সঙ্গেঁ আন্তর্জাতিকভাবে কুমিল্লা পদ্ধতি মানব কল্যাণে অবস্থান রাখতে শুরু করে। যার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৩ সালে ফিলিপাইন সরকার তাঁকে “ম্যাগসেসে” পুরস্কারে ভূষিত করে। ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ষ্টেট ইউনিভার্সিটি তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ ডিগ্রিতে ভূষিত করে। এভাবে তিনি বিশ্বনন্দিত, বিশ্বখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানী সংস্কারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ড. খান এর সুনাম আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে। এতগুণের অধিকারী হয়েও তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। তিনি সবসময় পাজামা/পাঞ্জাবী পরতেন। বেশি সময় হেঁটেই পথ চলতেন। জরুরি হলে সাইকেল ব্যবহার করতেন। তিনি সারা দিন অফিস করে রাতে বা যখন সময় পেতেন তখনই গ্রামে চলে যেতেন সাধারণ মানুষের কাছে। গ্রামে গিয়ে তিনি মানুষের সাথে মাটিতে বসে খেতেন। গ্রামে গেলে বা কোন সভায় তাঁকে চেয়ারে বসতে কেউ কখনও দেখেনি। তিনি গ্রামে গিয়ে বলতেন, ‘আমি কিছু বলতে আসিনি, আমি এসেছি আপনাদের নিকট থেকে কিছু শিখতে’।

জীবনের কোন পর্যায়ে তিনি অন্যের বশ্যতা মেনে নেননি, নিতেও পারেননি। কোনদিন অর্থলোভে প্রলুব্ধ হননি। তাঁর প্রশাসন ছিল চোখে পড়ার মত। তাঁকে কখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে দেখা যায়নি। যে কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত যেন তাঁর মনেই গেঁথে থাকতো। প্রশাসক হিসাবে  তাঁর দু’ একটি ঘটনা নিম্নরূপঃ পাকিস্তান আমলে কোন এক সময়ে জেলা প্রশাসকগণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য এই একাডেমীতে আসেন। প্রশিক্ষণ সময়ে একজন অভিযোগ করলেন যে, কক্ষ থেকে তাঁর চরষড়ঃ  কলম চুরি হয়ে গেছে।  ড. খান সাহেব এ অভিযোগ শুনার পর মন্তব্য করলেন আমার একাডেমীর লোক চোর নয়। আপনি ভাল করে খুঁজে দেখেন। পরবর্তীতে কলম খুঁজে পাওয়া গেল অভিযোগকারীর বিছানার নিচে।  তখন তাঁকে ডেকে পাঠালেন। তাঁর কলম হাতে দিয়ে বলেন আপনাকে একাডেমীতে আরো দু’ সপ্তাহ থাকতে হবে। আপনার কক্ষ আপনাকে প্রতিদিন পরিস্কার করতে হবে। কারণ হিসেবে তাকে বললেন-আপনি জেলার একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আপনি নিজেই ভুল করে অন্যকে চোর বানালেন, এটা আপনার শাস্তি।

অপর একটি ঘটনা। একডেমী ক্যাফেটেরিয়াতে সেলফ সার্ভিস (নিজের খাওয়া  নিজে নেয়া) ব্যবস্থা তখনকার প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রমধর্মী ব্যবস্থা বিধায় একাডেমীতে আগত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশিক্ষণার্থী /পরিদর্শকগণ তা সহজভাবে গ্রহণ করতে চাইতো না। কিন্তু  ড. খান সাহেব এ ব্যাপারে কাঠোর ও আপোষহীণ মনোভাব গ্রহণ করেন। ড. খান নিজে কখনো সেলফ সার্ভিস পদ্ধতি ভঙ্গ করেননি বরং উচ্চ পদমর্যাদার যে কোন কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে নিজের খাবার নিজেই টেবিলে বহন করে নিয়ে যেতেন। ক্যাফেটেরিয়াতে একটা মন্তব্যরেজিষ্ট্রার ছিল। এতে অনেকে সেলফ সার্ভিস সর্ম্পকে মন্তব্য করতেন। ড. খান মাঝে মধ্যে রেজিষ্ট্রারের    মন্তব্য দেখে তাঁর নিজের জবাব/ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতেন এবং তা সংশ্লিষ্টদের নিকট পাঠানের ব্যবস্থা করতেন। একবার ইপিসিএস প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে কেউ মন্তব্য করেছিলেন ঊাবৎুঃযরহম ঙশ, নঁঃ ংড়সবঃযরহম রহ ঃযব ঈধভবঃবৎরধ ঝযড়ঁষফ নব রসঢ়ৎড়াবফ। ড. খান এ মন্তব্য দেখে তাঁর জবাব /প্রতিক্রিয়া পার্শে¦ এভাবে বর্ণনা করলেন ‘ুড়ঁৎ পড়হফঁপঃ ঝযড়ঁষফ ধওংড় নব রহঢ়ৎড়াবফ’ এবং এ মন্তব্যের কপি প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট প্রেরনের ব্যবস্থা করলেন।

ড. খান পটুয়াখালীর মহকুমা হাকিম। তাঁর কোর্টে এক মা তার ছেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দাখিল করেন। মায়ের অভিযোগ, ছেলে তার খোঁজ খবর রাখেনা। তার খাওয়া দাওয়ার প্রতিও উদাসীন। ছেলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে, মা অশ্রুসজল, খান সাহেব সবশুনে রায় দিলেন “ছেলের পেটে দশটা ইট বেঁেধ তাকে কোর্টের বারান্দায় দশবার আসা যাওয়া করতে হবে”। রায়মত ছেলেটার পেটে ইট বাঁধা হলো ঠিকই কিন্তু ছেলেটা ক’বার বারান্দার হেঁটে হাপিয়ে যায়। আর হাঁটা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা। খান সাহেব তাকে বললেন, তোমার মা এমনিভাবে তোমাকে দশ মাস পেটে ধারণ করে সংসারের ঝামেলা সহ্য করে চলাফেরা করেছিল। তুমি সে মাকে ভরণ-পোষণ দিতে অবজ্ঞা করছো, তোমাকে শাস্তি পেতেই হবে। ছেলের এরূপ অবস্থা দেখে মা কেঁদে ফেলেন এবং খান সাহেবের নিকট হাতজোড় করে ছেলেকে মাপ করার জন্য প্রার্থনা করেন। ছেলে মাকে কোনদিনও অবজ্ঞা করবেনা বলে প্রতিজ্ঞা করায় মুচলেখার মাধ্যমে ছেলেকে মাপ করে দেয়া হয়।  তাঁর বিচার ছিল বাস্তবমুখী।

মন মানসিকতার দিক দিয়ে তিনি ছিলেন মানব দরদী ও সমাজ হিতৈষী। দেশে তখন দুর্ভিক্ষ চলছে। না খেয়ে ও অসুস্থতায় লোকজন রাস্তা ঘাটে মরে যাচ্ছে। এমনি সময়ে একদিন ড. খান উঁচু বর্ণের হিন্দু আরদালীকে সাথে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে দেখেন খালের পাড়ে একটি লোক অসুস্থতায় কাতরাচ্ছে। অসুস্থ লোকটিকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার জন্য খান সাহেব আরদালীকে হুকুম দিলেন। কিন্তু  আরদালী কিছুতেই অসুস্থ লোকটিকে ধরতে  রাজী হলেন না। কারণ অসুস্থ লোকটি জাতে মেথর বা নিচু বর্ণের । ফলে  তাকে স্পর্শ করলে ওর জাত যাবে। তখন খান  সাহেব অসুস্থ লোকটিকে কাঁধে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেন।

অপর এক ঘটনায় ড. খানের মধ্যে মানবিক আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। একদিন অসহায় সম্বলহীন এক ভয়ংকর বসন্তরোগী অসহ্য যন্ত্রণায় রাস্তার পার্শে¦ গড়াগড়ি খাচ্ছিল। আকস্মিকভাবে ড. খান তখন ঐ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনা তাঁর চোখে পড়ামাত্র তিনি গাড়ি থেকে নেমে এসে নিজে কোলে করে ঐ বসন্ত রোগীকে গাড়িতে বসিয়ে স্থানীয় সদর হাসপাতালে পৌঁছে দিলেন। বসন্ত রোগী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ধর্ণা দিয়েছিলেন।

বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ছাত্র/শিক্ষক সমন্বয়ে গঠিত রিলিফ কমিটির কার্য কলাপ পরিচালনার দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নিতেন। একবার  তিনি  কিছু গুঁড়ো দুধ, আটার বস্তা আর বিস্কুট নিয়ে গাড়িতে করে রিলিফ ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বন্যার পানিতে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় গাড়ি থেকে তিনি পানিতে নেমে এক বস্তা আটা তাঁর কাঁধে উঠিয়ে স্কুলের রিলিফ ক্যাম্পে নিয়ে গেলেন।

ড. খান এর অনমনীয় ব্যক্তিত্ব, অকুতোভয়তা, প্রবল সাহসিকতা ও স্বাধীনচেতা মনোবৃত্তি ছিল তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য। একদিনের এক ঘটনা। ড. খান ক্লাস নিচ্ছিলেন। এমন সময় কলেজের একজন কর্মচারী এসে ড. খানকে বললেন, “স্যার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মোঃ আইয়ুব খান আপনার কাছে টেলিফোন করেছেন”। ড. খান একটু থেমে বললেন-বলে দিন এখন তিনি ক্লাস নিচ্ছেন। এক ঘন্টা পরে তিনি যেন টেলিফোন করেন। ড. খানের এরূপ কথা শুনে ছাত্ররা সবাই অবাক হয়ে গেল। এটা সম্ভব ছিল এক মাত্র ড. খানের মত বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারীর পক্ষেই।

অপর একটি ঘটনা। একাডেমীতে একদিনের একটি প্রাদেশিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সারা পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক সকল কর্মকর্তা এ সম্মেলনে যোগদান করেন। সকাল ১০ টায় অডিটরিয়ামে গভর্নরের সম্মেলন উদ্বোধন করার কথা ড. খান গভর্নরকে রিসিভ করার জন্য সকাল ১০টার কিছু পূর্বে বিমান বন্দরে গিয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু সময়মত তিনি না আসায় ড. খান বিমান বন্দর হতে একাডেমীতে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে বেলা ১১ টার সময় গভর্নর একাডেমীতে এসে পৌঁছাল ড.খান তাঁকে একাডেমীর কারপোর্চে (গাড়ি বারান্দা) রিসিভ করেন।

ড. খান এর মত সৎ লোক এ দুনিয়াতে ক’জন আছে তা জানা নেই। তাঁর মত সততা ও মহানুভবতার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়ায় উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা জন্য ড.আখতার হামিদ খানকে নিয়োগ দেয়া হয় এবং এ কাজের জন্য তাঁকে এক লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক/বেতন দেয়া হবে। তিনি বলেন আমি কুমিল্লাতে কাজ করেছি মাসিক ২৩০০/- টাকা পারিশ্রমিক/ বেতনে। আমি কুমিল্লা থেকেই বগুড়ার কাজ করবো এবং এ কাজের জন্য তিনি মাসিক এক লক্ষ টাকার পরিবর্তে ২৩০০/- টাকা দাবি করেন। কিন্তু সরকার ও প্রশাসনের সাথে মতানৈক্যের কারণে কিছু দিন পর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান।

একবার গরমের সময় পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে প্রশাসনিক ভবন ও অন্যান্য দালান কোঠার কাজ চলছিল তাঁরই তত্ত্বাবধানে। জনৈক ঠিকাদার কাজের তদারকীর জন্য ড. খানকে নিতে এলেন  রানীর দিঘির পূর্ব কোন তাঁর বাসা থেকে। ঠিকাদার কিছুক্ষণ ড্রইং  রুমে অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় ঠিকাদার শুনতে পেলেন  তাঁর সহধর্মীণির কথা । তাঁর স্ত্রী বলছিলেন বাসায় গরমে থাকা যাচ্ছে না। তিনটি কক্ষের জন্য তিনটি বৈদ্যুতিক পাখার প্রয়োজন। ড. খান উত্তরে বলেছিলেন, ‘এখন আমার হাতে টাকা নেই। বেতন পেয়ে নিয়ে আসব। ঠিকাদার তাঁদের কথোপকথন শুনে পরদিন তিন কক্ষের জন্য তিনটি পাখা এনে ফিট করে দিয়ে আসেন। বাসায় এসে বিষয়টি ড. খান জানতে পেরে কাউকেই কিছু বললেন না। এক মাস পর উক্ত ঠিকাদারকে ডেকে পাঠালেন এবং পাখাগুলো ফেরৎ দিয়ে পাখাগুলোর ভাড়া বাবদ ৩০০/- টাকা দিয়ে দিলেন এবং তার এ উপকারের জন্য তিনি কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।

ড. আখতার হামিদ খান ছিলেন পল্লী উন্নয়নের অপরাজেয় শিল্পী, শিল্পী তুলি দিয়ে ছবি আঁকেন। ভাস্কর শিল্পী শিল্প তৈরী করেন হতুড়ি বাটাল দিয়ে। ড. খান ছিলেন অন্য এক জগতের শিল্পী।  পল্লী উন্নয়নের শিল্পী। গ্রামের মাটি ও মানুষকে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক অপরূপ শিল্প, যার নাম পল্লী উন্নয়ন। পল্লী উন্নয়নের তিনি পথিকৃৎ। তাঁর এ কৃত কর্মের জন্য তিনি চির অমর হয়ে থাকবেন কুমিল্লাবাসী  তথা উপমাহাদেশ ও সারা বিশ্বের মেহনতি মানুষের হৃদয়ে। এ সভ্য দুনিয়া যতদিন থাকবে ততদিন এ মহা মানব কিংবদন্তীর স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে। তাঁর আঠারোতম জন্ম দিবসে আমরা গভীরভাবে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।

লেখকঃ সেকশন অফিসার (পিআরএল), বার্ড, কুমিল্লা

তথ্য সূত্র ঃ আখতার হামিদ খান স্মারক গ্রন্থ

 



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};