ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
41
মননে নজরুল: অন্তরালে বানান সমস্যা
Published : Tuesday, 12 September, 2017 at 12:00 AM
মননে নজরুল: অন্তরালে বানান সমস্যাশান্তিরঞ্জন ভৌমিক ||
বিগত ২৭ আগস্ট ২০১৭ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী যথা মর্যাদায় পালন করা হয়। কুমিল্লায় সকাল ৯টায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নজরুল সঙ্গীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪টায় ‘চেতনায় নজরুল স্মৃতি স্তম্ভ’-এ পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও দোয়া মোনাজাত করা হয় এবং ৪-১৫মি: আলোচনা, পুরস্কার বিতরণ, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও নাটক ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। আসলে এ দিনটি আমরা অর্থাৎ জানি কবিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বিষয়টি কেন জাতি প্রথাগত হয়ে গেছে, আন্তরিকতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়, যা কাম্য নয়। আমাদের উপলব্ধিটা যে ভোঁতা হয়ে গেছে। কেন নজরুলকে জানব, কেন নজরুলকে পড়ব, কেন নজরুলের আদর্শকে অনুসরণ করব- এ বিষয়টি যেন উদযাপনে উপস্থিত থেকে যায়। নজরুলকে বহু বিশেষণে বিশেষায়িত করি, আবেগ দিয়ে অনেক কথা বলেও ফেলি, কিন্তু কোথায় যেন ফাঁক থেকে যায়। তাঁর অমর সাহিত্য ও সঙ্গীতকে মাথার উপর রেখে কবিকে বাঙালি কেন স্মরণ করবে তা কি ভেবে দেখেছি? বলে থাকি- নজরুল বাংলা ভাষাকে ভালবাসতেন, বাঙালিকে ভালবাসতেন, বাংলাদেশকে (অখ-) ভালবাসতেন- এ কথা যখন উচ্চারণ করি, তখন কি ভাবি যে তিনি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা? তিনি স্বপ্নদ্রষ্টা বলেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনিমুক্ত বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বীরবেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১৯৭২ সালের ২৪মে বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা কাজী নজরুল ইসলামকে যথা মর্যাদায় জাতীয় কবি হিসেবে স্বাধীন বাংলাদশে নিয়ে আসেন। তিনি আজীবন হিন্দু-মুসলমানের মিলন প্রত্যাশী ছিলেন, তিনি  বাঙালি চিনতেন। তিনি বলতেন ‘বাংলার বাঙালী’। তিনি বলতেন ‘জয় বাংলা’। আর এই ‘জয় বাংলা’ হলো বাঙালি জাতির স্বাধীনতা লাভের ইষ্টমন্ত্র। তা উপলব্ধি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিটির যে অমোঘ শক্তি, অপ্রতিরুদ্ধ চিরঞ্জয়ী অভিযাত্রা- আমরা অনেকেই বুঝতে চাই না, জানতে চাই না। এমন কি কেউ কেউ তার উচ্চারণ করতে ভয় পায়। এই ভীতুদের নিয়েই আমাদের ঘর-সংসার, সাহস করে দু’পা এগিয়ে যাই, আবার কী ভেবে এক পা পিছিয়ে পড়ি। আবার ভাবি- ভয় কেন, কাকে ভয়? থাক সে সব কথা।
বলছিলাম- জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে কখনও কখনও হোঁচট খাই। এবার কবির পাদমূলে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ জ্ঞাপন করতে গিয়ে একটি মাত্র স্তবকে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলী’ লেখা দেখে এতটাই কষ্ট পেয়েছি। তাই কেউ শুনুক বা মানুক তাতে ব্যক্তিগত যতই কষ্ট থাকুক না কেন, অন্তত বহু প্রচলিত নি¤েœর কয়েকটি বানান সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য আমার বিনীত আবেদন।
বানান সমস্যা
আজকাল সাহিত্য সম্মেলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত সম্মেলন, ধর্মসভা, পূজা-পার্বণ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিরতণ, আগমন ও বিদায় অনুষ্ঠান, স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, কবর-মাজারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, বিয়ের চিঠিতে মেয়ের নামের আগে বিশেষণ লিখন প্রভৃতি বিবিধ ও বিচিত্র অনুষ্ঠান উপলক্ষে লিখিত নিমন্ত্রণ পত্রে, অভিনন্দন পত্রে, পুষ্পের স্তবকে, নামের আগে যথাক্রমে ‘সুধী’র স্থলে ‘সুধি’, ‘সংবর্ধনা’র স্থলে ‘সম্বর্ধনা’, ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’র স্থলে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলী’ এবং শ্রীমতী’র স্থলে ‘শ্রীমতি’, মুসলমান হলে ‘জনাব’ বা বেগম’-এর স্থলে ‘জনাবা’ লিখতে প্রায়শ দেখা যায়। এ ব্যাপারে লেখকদের ভুল লেখার জন্য সচেতন বা সংশোধন করতে গেলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ বলেন- সংস্কৃত বানানের পরিবর্তে বাংলা বানান এরূপ হবে। কেউ বলেন- বাংলা একভাবে লিখলেই হলো। কেউ আবার নিজের মতো ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থাকতে চান।
আসলে হয়তো ঐ বিশেষ শব্দের বানানটি কখনোই মন দিয়ে শেখা হয়নি। অথবা বানানের দিকে একেবারেই মনোযোগ দেয়া হয়নি। মনোভাবটা এ-রকম যে, আমার মাতৃভাষা আমার যেমন খুশি তেমন লিখব, শুদ্ধ না-হয়ে যাবে কোথায়? একেবারে মূঢ়তার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত। বানান সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দিলেও অভিধান খোলার কষ্ট স্বীকার না করা। আবার মুখে যেমন বলি, ঠিক তেমনি উচ্চারণের বানান লেখা। এটা বিশুদ্ধ জ্ঞান পাপীদের লক্ষণ, শিক্ষিত লোকেরাই এই স্বেচ্ছাচার বেশি করেন এবং এদের মধ্যে কবি-সাহিত্যিক-অধ্যাপক সবাই কম বেশি আছেন। ফলে বানান ব্যাপারে আমাদের দীনতা সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এজন্যই একটু আলোচনার প্রয়োজন মনে করি।
১.প্রথমেই ‘সুধী’ শব্দের বানান প্রসঙ্গে আলোচনা করছি। লক্ষ্য করা গেছে ‘সুধী’ এবং ‘সুধি’-এ দু’য়ের মধ্যে কোন বানানটি শুদ্ধ অর্থাৎ ব্যাকরণ সম্মত সে বিষয়ে অধিকাংশ নিমন্ত্রণকারীর মনে কোনো সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় ‘সুধী’ বা ‘সুধি’ দু’বানানই নির্বিচারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এখন প্রশ্ন, সঠিক বানান তবে কোনটি- ‘সুধী’ না ‘সুধি’? ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ধরলে শুদ্ধ বানান দাঁড়ায় ‘সুধী:’। পুং এবং স্ত্রী দু’লিঙ্গেই প্রথমার একবচনে  সম্বোধনে ‘সুধী’ শব্দের রূপ ‘সুধী:’। সুতরাং নিমন্ত্রণের পাত্র পুরুষ বা স্ত্রী লোক যেই হোন না কেন, ‘সুধী’ শব্দের বানানে হ্রস্ব-ই-কার হবার কোনো কারণ নেই। তবে ‘সুধী’ শব্দের সম্বোধনে বিসর্গ থাকলেও বাংলাতে তার প্রয়োজন হয় না।
‘সুধী’ শব্দের গঠিত নিয়ে আলোচনা করা যায়। ‘সু’ অর্থাৎ শোভনা বা উৎকৃষ্টা, ‘ধী:’ অর্থাৎ বৃদ্ধি: যস্য স:- ‘সুধী:’ (বহুব্রীহি সমাস, অর্থ- শোভন বা উৎকৃষ্ট বুদ্ধি যার)। সুধী, সুবুদ্ধি, বিদ্বান, জ্ঞানী- সমার্থক শব্দ।
দীর্ঘ-ঈ-কারান্ত পুংলিঙ্গ ‘সুধী’ শব্দের প্রথমা ও সম্বোধনের একবচনের রূপ- ‘সুধী:’। প্রাতিপাদিক- সুধী। আবার ‘ধী:’ শব্দ দীর্ঘ-ঈ-কারান্ত স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ। অর্থাৎ উভয় লিঙ্গেই বাংলায় ‘সুধী’ শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু  কীব লিঙ্গে ‘সুধী’ শব্দের প্রথমার একবচনের রূপ- ‘সুধি’। সম্বোধনে আবার দু’টি রূপ- ‘সুধি’ ও ‘সুধে’। সুতরাং যাঁরা নিমন্ত্রণ পত্রে সম্বোধনে ‘সুধি’ বা ‘সুধে’ ব্যবহার করেন, তাঁরা কীবলিঙ্গ হিসেবে নিমন্ত্রিত অতিথিকে সম্বোধন করে থাকেন, যা অশোভনীয়।
কারণ ‘সুধি’ শব্দে সম্বোধন করায় তাঁরা হয়ত জানেন না যে, এক হ্রস্ব-ই-কারের আঁচড়ে তাঁরা নিমন্ত্রণপাত্রের পুরুষত্ব বা নারীত্বকে অস্বীকার করে বসেছেন। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকেই শুদ্ধ এবং সম্মানজনক শব্দ ‘সুধী’র বিকৃতিরোধে আন্তরিক হওয়া জরুরি।
২. ‘সংবর্ধনা’ শব্দটি অভিনন্দন পত্রে, বক্তৃতায়, ব্যানারে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। শব্দটি সম্মানসূচক। কিন্তু ‘সংবর্ধনা’ বানান নিয়ে আমাদের বিভ্রান্তি আছে। শব্দটি বিশেষ্য পদ। কোথাও কোথাও ‘সংবর্ধনা’ শব্দটির বানান ‘সম্বর্ধনা’ দেখা যায়। ‘সংবর্ধনা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সসম্মান অভ্যর্থনা, সম্মাননা। ব্যুৎপত্তি হচ্ছে সম্-বৃধ্+ন+আ। তৎসম শব্দ। বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী তৎসম শব্দের বানান অবিকৃত থাকবে।
‘সংবর্ধনা’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ আলোচনা করা যেতে পারে। নিয়মটা হচ্ছে-‘স্পর্শ-বর্ণ- পরে থাকলে, পদের অন্ত:স্থিত ‘ম’, যে বর্গের বর্ণ পরে থাকে সেই বর্গের পঞ্চম বা নাসিক্য বর্ণে পরিণত হয়; বিকল্পে এই নাসিক্য বর্ণকে অনুস্বার- রূপেও লেখা যায়। সম্+বর্ধনা= সংবর্ধনা। এখানে অনেকে মনে করেন সম্Ñবর্ধনা হবে ‘সম্বর্ধনা’। ব্যাকরণের নিয়মে তা অবশ্যই সায় দেয় না। ড: সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন- “সংবাদ, কিংবা, প্রিয়ংবদা, বশংবদ, স্বয়ংবরা, সংবরণ’ ইত্যাদি শব্দ, প্রাচীন সংস্কৃত উচ্চারণে ও লিখনে অনুস্বার-যুক্ত হইত। কিন্তু বাঙ্গালায় অন্ত:স্থ-ব-এর প্রাচীন ড (বা ঠ) ধ্বনি পরিবর্তিত হইয়া বর্গীয় ব বা ন হইয়া গিয়াছে, এবং এই  ন- এর প্রভাবে পড়িয়া পূর্ববর্তী অনুস্বার ম্ হইয়া গিয়াছে এবং তদনুসারে বাঙ্গালা অক্ষরে বানানেও বহুল: ‘সম্বাদ, কিম্বা, প্রিয়ম্বদা, বশম্বদ,স্বয়ম্বরা, সম্বরণ’ দৃষ্ট হয়। ‘ং ব’ স্থলে ‘ম্ব’ লেখার কারণ- এই উচ্চারণে পরিবর্তন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এখনও বাঙ্গালায় সংস্কৃত-ভাষার রীতি- অনুরারে ‘ং ব’ দিয়া এই- সকল শব্দ লেখা অধিকতর শিষ্ট-রীতি সম্মত বলিয়া বিবেচিত হওয়ায় ‘ং ব’ লেখাই ভাল।” এ ক্ষেত্রে ‘সংবর্ধনা’ শব্দটির বানানও সমর্থনযোগ্য বলে মনে করি।
৩. ‘অঞ্জলি’ শব্দটি ইদানিং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষত অভিনন্দন পত্রে, ব্যানারে এবং ফুলের স্তবকে। এই শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ মনে করে অথবা অজ্ঞতার কারণে অনেকেই ‘অঞ্জলি’র পরিবর্তে ‘অঞ্জলী’ অর্থাৎ ‘শ্রদ্ধাঞ্জলী লিখে থাকেন। মূলত ‘অঞ্জলি’ শব্দটি পুংলিঙ্গ। অন্জ+অলি=অঞ্জলি, বিশেষ্যপদ। অর্থ হচ্ছে- যুক্ত করে দেবতাকে যে ফুল বা জল নিবেদন করা হয়; দেবোদ্দেশে উৎসৃষ্ট বস্তু (গীতাঞ্জলি): কর- পুট, আঁজলা (অঞ্জলি ভরিয়া জল পান)। দীর্ঘ-ঈ-কার দিয়ে লিখলে সঠিক অর্থ হয় না।
৪. ‘শ্রীমতী’ শব্দটি ‘শ্রীমৎ’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গে তা-ই হয়। শ্রীমৎ অর্থাৎ পূজনীয় (সাধু-সন্ন্যাসীর নামের পূর্বে ব্যবহৃত হয়)। কিন্তু ‘শ্রীমতী’ বলতে ‘সুন্দরী’, কুমারী ও সধবার নামের পূর্বে ব্যবহার্য শব্দ বিশেষ। বৈষ্ণব শাস্ত্রে ‘শ্রীমতী’ বলতে রাধিকা অর্থাৎ শ্রীরাধা-কে বুঝায়। একসময় বিধবার নামের পূর্বে ‘শ্রীমত্যা’ লেখা হতো। দেখা যায়, বর্তমানে চিঠিপত্রে ‘শ্রীমতী’ বানান বিকৃতি করে ‘শ্রীমতি’ লেখা হয়। কেন লিখে কাউকে জিজ্ঞাসা করলে নিজের মতো ব্যাখ্যা করে, সম্বোধনে বা বানান সহজীকরণের কথা বলে। তাদের জানা উচিত- ‘শ্রীমতী’ শব্দটি তৎসম শব্দ, তা অবিকৃত থাকবে- এটাই বাংলা বানানের রীতি বা নিয়ম। সুতরাং ‘শ্রীমতি’ লিখলে অবশ্যই ভুল হবে।
আলোচনা প্রেক্ষিতে উল্লেখ করতে হয়, এখন ‘জনাব’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গে ‘জনাবা’ লিখতে দেখা যায়। ‘জনাব’ বিদেশি শব্দ, অর্থ সুশ্রী বা শোভন, বিশেষত সম্মানসূচক। কিন্তু ‘জনাবা’ শব্দটির অর্থ ‘শুকুরী’। অনেকে অর্থ না জানার ফলে এরূপ অসম্মানসূচক শব্দটি কোনো মহিলার নামের পূর্বে বসিয়ে তাকে অসম্মান করে বসেন। ‘জনাব’ শব্দটি উভয় লিঙ্গ হিসেবে পুরুষ-নারীর নামের পূর্বে বসানো যায়, নারী বা মহিলার নামের পূর্বে ‘জনাব’ শব্দ ব্যবহারে কারো আপত্তি থাকলে ‘বেগম’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারেন। তবু না জেনে ভুল বা অসম্মানকর শব্দ ব্যবহার না করাই বাঞ্চনীয়।
৫. ইদানিং দেখা যায়, কৃতি ও কৃতী শব্দটির ব্যবহার নিয় এক ধরনের হীনমন্যতা রয়েছে। চিঠিপত্রে বা লেখায় অনেকেই ‘কৃতি সন্তান’, ‘কৃতি লেখক’ এরূপ লিখে থাকে। ‘কৃতি’ শব্দের অর্থ কার্য, সম্পাদিত কর্ম। নির্মাণ, রচনা বা নির্মিত বস্তু, যতœ, চেষ্টা, সাধনা ইত্যাদি। আর ‘কৃতী’ শব্দের অর্থ- নিপুণ, কর্মকুশল, কার্যক্ষম অথবা মহৎ কাজে সফলতা লাভ করে খ্যাত হয়েছে এমন। কৃতকার্য যেমন কৃতী ছাত্র, কৃতী লেখক, কৃতী সন্তান ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে কৃতি ও কৃতী শব্দ ব্যবহারে স্বেচ্ছাচার করা ঠিক হবে না। ‘কৃতি’ শব্দ দিয়ে খ্যাতিমানকে বিশেষায়িত করলে তাঁকে অপমানই করা হয় না ছোটও করা হয়।



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};