ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
269
দেবীদ্বারে এবার প্রতিবন্ধী কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
Published : Sunday, 13 August, 2017 at 12:00 AM, Update: 13.08.2017 12:54:59 AM
দেবীদ্বারে এবার প্রতিবন্ধী কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগএবিএম আতিকুর রহমান বাশার :
দেবীদ্বার উপজেলা বিহামন্ডল স্কুলের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী গণধর্ষণের রেশ না কাটতেই আরো এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী(১৬) গণধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে গত ৪ আগষ্ট (শুক্রবার) দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের মরিচা গ্রামের মরম আলী সরকার বাড়িতে।
চান্দিনা উপজেলার কঙ্গাই গ্রাম থেকে দেবীদ্বার উপজেলার মরিচা গ্রামে ফুফার বাড়িতে বেড়াতে এসে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ওই কিশোরী(১৬) ৪ বখাটে কর্তৃক রাতভর গণধর্ষণের শিকার হয়। প্রতিবেশী মহিউদ্দিন সরকার’র স্ত্রী সালমা বেগম(২৪) নামে এক গৃহবধূ ধর্ষকদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী(১৬)কে তার ফুফার বাড়ি থেকে ফুসলে এনে নিজ ঘরে রেখে ওই গণধর্ষণের সুযোগ করে দেয় বলে ধর্ষিতা কিশোরী ও তার ফুফাতো বোন রাবেয়া আক্তার জানান।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দেবীদ্বার থানার  অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশে উপ-পরিদর্শক (এস,আই) মোরশেদ আলম একদল পুলিশ নিয়ে শুক্রবার (১১ আগষ্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় অভিযান চালিয়ে টাকার বিনিময়ে ধর্ষণে সহযোগীতাকারী মহিউদ্দিন সরকার’র স্ত্রী সালমা বেগম(২৪) এবং ধর্ষকদের না পেয়ে ধর্ষক সোহাগ(২৮)’র পিতা ও রাজামেহার ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নূরজাহান বেগম(৫০)’র স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঞা(৫৮)কে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার থেকে একদল সাংবাদিক শনিবার সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থল যেয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যা পান। স্থানীয় মাতব্বর মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ হারুন-অর-রশীদ, ভিক্টিমের ফুফা সালাম সরকার, মরিচা সায়েদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়’র পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মোঃ কামরুল ইসলাম ক্ষোভের সাথে বলেন, এঘটনা অত্যন্ত দুঃখ জনক। আমরা ঘটনা তদন্ত স্বাপেক্ষে সঠিক তথ্য উদঘাটন পূর্বক অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
ধর্ষিতা কিশোরীর ফুফাতো বোন রাবিয়া জানান, মেয়েটি তাদের এখানে বেড়াতে আসার পর থেকে রাতে তার সাথেই ঘুমায়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় প্রতিবেশী সালমা বেগম তাদের বাড়িতে এসে রাবিয়াকে জানায়, বাড়িতে সে একা, তার স্বামী ড্রেজারের কাজ করতে চলে গেছেন, ৩/৪দিন বাড়িতে আসবেনা। তাই তার মামাতো বোনকে রাতে তার সাথে থাকার জন্য নিয়ে যেতে চায়। আমি (রাবিয়া) আপত্তি না করে আমার মামাতো বোনকে সালমার সাথে যেতে দেই। পরে জানতে পারি টাকার বিনিময়ে সালমা তার মামাতো বোনকে ৪ বখাটে ধর্ষকের হাতে তুলে দেয়। ঘটনার পর গণধর্ষণে সহযোগীতাকারী সালমা বেগম ধর্ষিতা কিশোরীকে একটি ৫শত টাকার নোট দেখিয়ে বলে তোর ২শত টাকা আর আমার ৩শত টাকা। ২শত টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এবং এ বিষয়ে কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে পর দিন ৫ আগষ্ট (শনিবার) সকালে তাকে নিজ বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বাড়িতে যেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে জিজ্ঞাসাবাদে সে তার ভাবী ও সৎ মাকে ঘঠনাটি অবহীত করে।
শনিবার (১০ আগষ্ট) সন্ধ্যায় ধর্ষিতার মা চান্দিনা উপজেলার কঙ্গাই থেকে মেয়েকে নিয়ে এসে মরিচা গ্রামের স্থানীয় মাতব্বরদের নিকট বিচার প্রার্থী হন। ওই দিন বিকেল পর্যন্ত ধর্ষক সোহাগ এবং মোমেন এলাকায় ছিল, পরে তারা আত্মগোপন করে।
ধর্ষিতা জানায়, ঘটনার দিন দু’জন ছেলে ভাবী (সালমা)কে বলেছিল ওরা রাতে আসবে। গভীর রাতে জানালা খুলে কাঠি দিয়ে গুতিয়ে আমাদের ঘুম থেকে জাগায়। ভাবী(সালমা) দরজা খুলে দিয়ে তাদের (সোহাগ ও মোমেন)কে বসতে বলে, পরে মাদুর কাঁথা বিছিয়ে দিলে ওরা আমাকে খাট থেকে জোর করে নিচে নামিয়ে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। পরে তারা আমাকে জোর করে ঘর থেকে বের করে পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়, ওখানেও দু’জন আমার উপর নির্যাতন চালায়।
দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) মোরশেদ আলম জানান, ধর্ষকদের সহযোগী এক গৃহবধূ ও এক ধর্ষকের পিতা সহ ভিক্টিম বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী(১৬)কে থানায় নিয়ে আসি। জিজ্ঞসাবাদ চলছে। ভিক্টিমকে ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড ও ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হবে। ভিক্টিমের বক্তব্য অনুসারে এক গৃহবধূর নাম ও ৪ ধর্ষকের মধ্যে দু’জনের নাম বলতে পারে, বাকী দু’জনকে চেনেনা। ওই ঘটনায় ভিক্টিম নিজে বাদী হয়ে ৪ ধর্ষক ও ধর্ষণের সহায়তাদানের অভিযোগে এক নারী সহ ৫জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের’র প্রস্তুতি চলছে। তবে ধর্ষকদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি এক সপ্তাহ পূর্বে ঘটলেও ভিক্টিমের পক্ষ থেকে লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ পাইনি। শনিবার রাতে বিশ্বস্ত সূত্রে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপ-পরিদর্শক (এস,আই) মোরশেদ আলম সহ একদল পুলিশ পাঠাই। পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে ধর্ষকদের কাউকে না পেলেও ধর্ষনে সহযোগীতা করার অভিযোগে সালমা নামে এক গৃহবধূ এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধর্ষক সোহগের পিতা মোঃ মফিজুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসে।
উল্লেখ্য গত ১৪ জুলাই বিহারমন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী ৪ ধর্ষক কর্তৃক গণধর্ষনের শিকার হয়েছিল এক নিয়মে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী ৪ ধর্ষক কর্তৃক গণধর্ষনের শিকার হয়। গণধর্ষনের শিকার দু’কিশোরির নাম একই। ওই মামলার ২ ধর্ষক গ্রেফতার হলেও বাকী দু’জন ধরাছোয়ার বাহিরে এখনো।





সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};