ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন অ্যাপস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
36
নির্বাচনী রোডম্যাপ, ইসির সংলাপ এবং রাজনীতির গতি-প্রকৃতি
Published : Sunday, 13 August, 2017 at 12:00 AM
সময়ের প্রতিধ্বনি-----
নির্বাচনী রোডম্যাপ, ইসির সংলাপ এবং রাজনীতির গতি-প্রকৃতিমোস্তফা কামাল ||
সরকারের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নির্বাচন হলে ২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এখনো প্রায় দেড় বছর বাকি। বলা যায়, এবার বেশ আগেভাগেই নির্বাচনের আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করতে সংলাপ শুরু করেছে। লক্ষ্য সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এ ক্ষেত্রে সব দলের জন্য সমান ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। তা নিশ্চিত করতে ইসির আগাম উদ্যোগ ইতিবাচক বলে মনে করি।
অবশ্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। দুটি বড় রাজনৈতিক জোট তো সক্রিয় আছেই; এর বাইরেও নতুন নতুন জোট গঠনের নানামুখী তৎপরতা আমরা লক্ষ করছি। ইতিমধ্যেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ নামসর্বস্ব ৫৮ দলের সমন্বয়ে জোট গঠন করেছেন। এর পরপর কয়েকটি দল এই জোট থেকে বেরিয়ে যায়।
তার পরও এরশাদের জোটে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিসংখ্যক রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর বাইরে আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ কয়েকজন নেতা তৃতীয় ধারার নতুন একটা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই জোটে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ভেড়ানোর চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে তাঁদের বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। শিগগিরই এই জোট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা করছেন।  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট ভোটের হিসাবে এখনো সবচেয়ে বড়। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট। কেউ কেউ মনে করে, ভোটের হিসাবে বিএনপি-জামায়াত জোট এগিয়ে আছে। তবে আগামী নির্বাচনে যেহেতু জামায়াত দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে না, সে কারণে তারা বিএনপির সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধবে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টি ১৪ দলীয় জোটে যোগদান করে। জোট হয়ে যায় মহাজোট। ওই নির্বাচনে মহাজোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে অংশগ্রহণ করে। বিএনপি-জামায়াত জোট ওই নির্বাচন বয়কট করায় জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসে। আবার সরকারেও যোগ দেয় তারা। আসলে এখন যে সরকার পরিচালিত হচ্ছে সেটাকে ‘সর্বদলীয় সরকার’ বলা যেতে পারে।
আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট অংশ নিলে আবার হয়তো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একটি মহাজোট আমরা দেখতে পাব। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, ভোটে জেতার জন্য মহাজোট বেশ কার্যকর। আর আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচনে গেলে বিএনপি-জামায়াত জোট এগিয়ে থাকতে পারে এমন ধারণা অনেকের।
এর বাইরে তৃতীয় ধারার একটি জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। যারা আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি কোনো দলকেই ক্ষমতায় দেখতে চায় না, তারা হয়তো তৃতীয় ধারার জোটকে বেছে নেবে।
বলতে দ্বিধা নেই, জনপ্রিয়তার দিক থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান উনিশ-বিশ। তবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি বিএনপির চেয়ে অনেক বেশি। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর শক্ত কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয়। ফলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাস্ত করা কঠিন। সারা দেশে বিপুল জনসমর্থনের পাশাপাশি সাংগঠনিক কমিটিগুলো সক্রিয় থাকলে আওয়ামী লীগ আগামীতেও ভালো করবে।
বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। এটি বিএনপির নেতা-কর্মীরাও স্বীকার করবে। তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে আওয়ামী লীগের চেয়ে কম নয়। এর আগে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শুধু জনপ্রিয়তার কারণেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। তখনো বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি বলতে কিছুই ছিল না, এখনো তা নড়বড়ে।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা চেষ্টা করেও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে পারছেন না। দল পুরোপুরি এলোমেলো। কমিটি গঠন করতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। শুধু তা-ই নয়, শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই মামলায় জর্জরিত। নির্বাচনের আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাজা হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কাও আছে। অনেকে হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকে এলাকা ছাড়া। দেশান্তরিও হয়েছেন কেউ কেউ।
এ অবস্থায় নির্বাচনে গিয়ে বিএনপি সুবিধা করতে পারবে কি না সে শঙ্কাও আছে। সেই শঙ্কা আর অনিশ্চয়তা নিয়েই বিএনপির ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। তিন শ আসনে নয় শ প্রার্থীর তালিকাও চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে। সেই তালিকা নিয়ে খালেদা জিয়া ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে ছেলের সঙ্গে রয়েছেন। সেখানে তাঁরা বিএনপির নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করবেন। সেই আলোচনায় উঠে আসতে পারে, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না; নাকি তাঁরা সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দেবেন?
বিএনপির দিক থেকে এখনো সহায়ক সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়া হয়নি। কালের কণ্ঠে প্রথম এ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ নেতারা এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁরা বারবারই বলে আসছেন, আগামী নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে।  
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে, তবে নির্বাচনের সময় সরকার শুধু রুটিন কাজ করবে। এর বাইরে কিছুই করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ পৃথিবীর বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হয়। সেখানে সরকার রুটিন কাজের বাইরে কিছুই করতে পারে না। নির্বাচনকালীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পালন করে।
তবে আমাদের দেশে বিভিন্ন সময় নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকা আমরা দেখেছি। বিএনপি সরকারের আমলে মাগুরা মার্কা নির্বাচন করে ইসিকে কলঙ্কিত করেছিল বিএনপি। এ কারণে তখনকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ মাগুরা থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে এসেছিলেন। সেই থেকেই নির্বাচন কমিশন আস্থা হারায়। দাবি ওঠে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের। পরে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে বিএনপি সরকার তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানতে বাধ্য হয়।
১৯৯৬ সালে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আমরা দেশে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখলাম। ২০০১ সালেও মোটামুটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। বিপত্তি ঘটেছে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের নিয়োগের কারসাজি করায়। বিচারপতি কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য চাকরিতে বিচারপতিদের বয়স বাড়ানো হয়। বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলো বুঝতে পেরে কে এম হাসানের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। তারপর তো আমরা দেখলাম নির্বাচনই ভন্ডুল হয়ে গেল। দেশে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো। তার পরের ঘটনাপ্রবাহ সবার জানা।
নির্বাচনকালীন সরকার থাকবে, নাকি পদত্যাগ করবে সে বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে, সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই কাজটি করতে যা যা করণীয়, তা করবে নির্বাচন কমিশন। 
ইতিমধ্যেই ইসি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে। সে আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে। আসতেই হবে। কারণ সবাই চায় (সরকারও নিশ্চয়ই চায়) সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন সুসম্পন্ন হোক। এতে ক্ষমতাসীন দলের যদি কিছু ছাড় দিতে হয়, তাও দেওয়া উচিত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
নির্বাচন কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। আর তাই নির্বাচনী মাঠ যাতে উঁচু-নিচু না থাকে, সবার জন্য সমান ক্ষেত্র হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো যে পরামর্শ দেবে, তা আন্তরিকতার সঙ্গে ইসিকে গ্রহণ করতে হবে। সেই পরামর্শ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব থাকতে হবে।
সংলাপের শুরুতেই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ‘না’ ভোটের প্রবিধান রাখা উচিত। তা ছাড়া নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী নিয়োগ দেওয়া উচিত। পরামর্শগুলো সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।  
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক
mostofakamalbd@yahoo.com



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৬
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
কার্যালয়: কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন, তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়,কুমিল্লা-৩৫০০, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২৪৪৩, +৮৮০ ১৭১৮০৮৯৩০২
ই মেইল: hridoycomilla@yahoo.com, newscomillarkagoj@gmail.com,  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশান।
তৃতীয় তলা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : hridoycomilla@yahoo.com Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};